প্রভাষক
২৪ মে, ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ণ
আল্লাহর ঘর থেকে কি নিয়ে ফিরব
আল্লাহর ঘর (কাবা শরিফ বা বায়তুল্লাহ) জিয়ারত, হজ বা ওমরাহ শেষে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হওয়া উচিত একটি পরিবর্তিত বিশুদ্ধ হৃদয়, মজবুত ঈমান এবং খাঁটি তাকওয়া। এই পবিত্র সফর শুধু একটি সাধারণ ভ্রমণ নয়; এটি মানুষের আত্মিক পুনর্জন্মের যাত্রা।আল্লাহর ঘর থেকে মূলত যে আত্মিক ও বাস্তবিক উপাদানগুলো নিয়ে আমাদের ফিরে আসা উচিত, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. আত্মিক ও ঈমানি প্রাপ্তিখাঁটি ঈমান ও ইয়াকিন: হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও বিবি হাজেরা (আ.)-এর অবিচল বিশ্বাসের মতো আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা ও তাওহিদের দৃঢ়তা অন্তরে গেঁথে নিয়ে ফিরতে হবে।
তাকওয়া বা খোদাভীতি: জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহকে ভয় করার গুণ অর্জন করা, যা হজের মূল শিক্ষা।
নিষ্পাপ ও পবিত্র জীবন: কবুল হজের (হজে মাবরুর) মাধ্যমে মানুষ নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে; সেই পবিত্রতা ধরে রাখার মানসিকতা নিয়ে ফিরতে হবে।অহংকারহীন মন: কাবার সামনে সব মানুষ সমান। তাই দুনিয়ার সব কৃত্রিম আভিজাত্য ও অহংকার বর্জন করে আল্লাহর একজন সাধারণ ‘আবিদ’ বা বিনয়ী ইবাদতকারী বান্দা হয়ে ফিরতে হবে।
জীবনের নতুন দিকনির্দেশনা: নিজের নামাজ, কোরবানি, জীবন ও মৃত্যুকে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করার দৃঢ় অঙ্গীকার。
২. বরকতময় ও স্মৃতিচারণমূলক উপহারআত্মিক পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রিয়জন ও নিজের জন্য কিছু বরকতময় জিনিস নিয়ে আসা সুন্নত ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য:জমজমের পানি: এটি আল্লাহর এক মহান কুদরত ও রহমতের নিদর্শন, যা রোগ নিরাময় ও বরকতের জন্য নিয়ে আসা হয়।
আজওয়া বা সুস্বাদু খেজুর: মক্কা-মদিনার বরকতময় খেজুর সুন্নতি উপহার হিসেবে আনা যায়।অন্যান্য উপহার: খাঁটি আতর, জায়নামাজ, তসবিহ কিংবা আল-কোরআনের কপি, যা পরিবার ও বন্ধুদের আল্লাহর ঘরের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আল্লাহর ঘর থেকে ফিরে আসার পর আপনার আচার-আচরণ, ইবাদত এবং জীবনযাত্রায় যেন ইতিবাচক ও দ্বীনি পরিবর্তন প্রকাশ পায়।
৭১
১৪৫ মন্তব্য