Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ মে, ২০২৬ ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

ধৈর্যের বাতি নিভে পড়ে। মোঃ মুজিবুর রহমান

ধৈর্যের বাতি নিভে পড়ে।

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

লোভ বলে, “আজই সব চাই!
ধৈর্য বলে, “অল্প অল্পেই বরকত পাই।
চালাকির মুখে মিষ্টি হাসি,
শেষে কিন্তু কান্নাই ভাসি।

এক লোক ছিল ভারি বুদ্ধিমান,
হিসাব কষায় ছিলো ওস্তাদ খান।
তার ঘরে ছিল এক মুরগি,
ডিম দিত রোজনিয়ম মেনে নির্ভরযোগ্যই।

সকাল হলে একটা ডিম,
রাতে আবার আরেকটি সীম।
লোকটা ভাবল, “ধীরে কেন?
একদিনেই সব নেব আমি যেন!

লোভ তখন কানে কানে কয়
অপেক্ষা করা বোকাদের কাজ হয়!
পেটের ভিতর জমা আছে ঢের,
আজ কাটলেই হবে ভাগ্যের ফের!

লোকটা তখন হাসল চুপে,
স্বপ্ন আঁকে সোনার রূপে।
ভাবল মনে, “কাল নয় আজ,
এক লাফে হবো ধনীর রাজ!

ছুরি হাতে এগিয়ে গেল,
নিজের ভাগ্য নিজেই খেল।
মুরগিটাকে জবাই করে,
ডিম খুঁজে ফেরে ঘুরে ঘুরে।

কই সে ডিম? কই সে ভাণ্ডার?
সবই যেন মরীচিকার পার।
পেটের ভিতর কিছুই নাই,
উল্টো নিজের ক্ষতিই পাই।

যে মুরগিটা দিত প্রতিদিন,
সেটাই হলো আজ বিলীন।
লোভের আগুন এমন জ্বলে,
মানুষ শেষে ছাইয়ে ঢলে।

একদিনের বেশি লাভে,
হাজার দিনের সুখও যাবে।
অধৈর্য মন আগুন খায়,
ধৈর্যের ঘরেই শান্তি পায়।

চালাক লোকটা বসে কাঁদে,
শূন্য উঠান নীরব রাতে।
ডিম তো দূরে, মুরগিও নাই,
লোভের মাশুল এভাবেই পাই।

এই দুনিয়ায় কত জন,
লোভে হারায় আপনজন।
বন্ধুর টাকায় স্বপ্ন গড়ে,
শেষে নিজের জীবন পোড়ে।

কারও ব্যবসা, কারও জমি,
কারও আমানত রাতের ঘুমি।
আরো লাভ এর মিষ্টি বুলি,
শেষে বুকে দুঃখ তুলি।

অল্প লাভে খুশি যারা,
তারাই আসল সুখের ধারা।
হালাল রুজি অল্প হলেও,
বরকতের আলো ঢলেও।

লোভের চোখে ঘুম যে কম,
তৃপ্তি থাকে না কোনো সময়।
আজকে চাই, কালও চাই,
চাওয়ার শেষে শান্তি নাই।

ধৈর্য এক বিশাল নিয়ামত,
এতে মেলে সুখের জান্নাত।
যে অপেক্ষা করতে জানে,
রহমত নামে তারই টানে।

মাটির মানুষ মাটিতেই রয়,
লোভী মানুষ শান্তি না পায়।
সোনার পাহাড় পেলেও শেষে,
খালি বুকটা কাঁদে নিঃশ্বাসে।

তাই বন্ধু শোনো মন দিয়ে,
লোভকে কখনো মাথায় নিও না নিয়ে।
অল্প হলেও হালাল খাও,
সত্য পথে জীবন গড়াও।

আজ যে ডিম হাতে আসে,
সেটাই রাখো যতন পাশে।
সবকিছু একদিনে চেয়ে,
নিজের সুখটা ফেলো না হেলায়।

কারণ লোভের শেষ ঠিকানা
অশান্তি আর আফসোসখানা।
আর ধৈর্যের মিষ্টি ফল,
দুনিয়া জুড়ে অনন্ত সম্বল।

মুরগির ডিম ছোট্ট কথা,
তবু লুকায় জীবনের ব্যথা।
যে বুঝে এই গভীর মানে,
সে হারায় না লোভের টানে।



লোভ বলে, “আরো চাই!
ধৈর্য বলে, “সময় হলে সবই পাই।
চালাকি বলে, “এক লাফে ধনী হও,”
শেষে দেখেশূন্য ঘরে কান্না বও।

ছিল এক লোক বড়ই চতুর,
হিসাব কষায় মহা পটু, মহা গুরু।
ঘরে তার এক মুরগি ছিল,
ডিম দিয়ে সংসারটা হাসিমুখে চলত নিরবধি মিল।

সকাল বেলায় একটি ডিম,
রাত নামিলে আরেকটি সীম।
অল্প হলেও নিয়ম মেনে,
বরকত নামত ঘরের কোণে কোণে।

কিন্তু লোভের আগুন যখন
মানুষের বুকের ভিতর করে দহন,
তখন সে আর দেখে না ঠিক,
ভুল পথকেও ভাবে সে মহা দিক।

লোকটা ভাবে
প্রতিদিন একটা কেন পাব?
একদিনেই সব নিয়ে নেব!
পেটের ভিতর নিশ্চয় আছে ভাণ্ডার,
আজ কাটলেই খুলবে ভাগ্যের দ্বার!

লোভ তখন তালি মারে,
চালাকি এসে পাশে দাঁড়ায় রে।
ধৈর্য তখন দূরে বসে কাঁদে,
বুদ্ধি হারায় মানুষ লোভের ফাঁদে।

ছুরি হাতে এগিয়ে যায়,
স্বপ্ন তখন আকাশ ছায়।
মুরগিটাকে কেটে ফেলে,
ডিম খুঁজে পাগল হয়ে চলে।

কই সে ডিম? কই সে সোনা?
সবই যেন মরীচিকা বোনা।
পেটের ভিতর শূন্য পড়ে,
আফসোস শুধু বুকটা ভরে।

যে মুরগিটা ছিল রোজগার,
আজ সে শুধুই নীরব ভার।
ডিমও গেল, মুরগিও নাই,
লোভের আগুন এভাবেই খায়।

উঠানজুড়ে নীরব হাওয়া,
চোখের কোণে কান্না চাওয়া।
লোকটা বসে ভাবে রাতে
ধৈর্য ধরলেই ভালো থাকতাম হাতে।

এই পৃথিবীর কত মানুষ
লোভে হয়ে যায় সর্বনাশ।
অল্প পেয়ে তুষ্ট নয় মন,
চায় সে পুরো দুনিয়ার ধন।

বন্ধুর টাকায় স্বপ্ন বোনে,
মিষ্টি কথা বলে গোপনে।
ব্যবসা হবে! লাভই লাভ!
শেষে পড়ে দুঃখের দাব।

কারও জমি, কারও ভিটা,
কারও ঘামের সঞ্চয়টুকু খুঁটা।
লোভী মানুষ হাসে আগে,
শেষে কাঁদে অন্ধকারে ভাগে।

লোভের চোখে ঘুম কমে যায়,
তৃপ্তি কোনোদিন ধরা না পায়।
আজকে চায়, কালও চায়,
পাওয়ার পরও শান্তি নাই।

ধৈর্য মানুষকে আলো দেয়,
অল্প জিনিসেও সুখ বয়ে নেয়।
যে অপেক্ষা করতে জানে,
রহমত নামে তার ঘরে টানে।

অল্প রুজি হালাল হলে,
বরকত নামে ধীরে ধীরে দলে।
শান্তির ঘুম আসে রাতে,
সুখের ফুল ফোটে প্রভাতেতে।

আর হারামের লোভের আগুন
জ্বালিয়ে দেয় জীবনের বাগান।
মুখে হাসি থাকলেও ভাই,
বুকের ভিতর শান্তি নাই।

মুরগির গল্প ছোট্ট হলেও
শিক্ষা কিন্তু বিশাল ঢেউ।
আজও মানুষ সেই ভুল করে,
লোভের নেশায় সবই ঝরে।

কেউ চায় একদিনে নাম,
কেউ চায় রাতারাতি দাম।
কেউ চায় কষ্ট ছাড়া ধন,
শেষে হারায় বিবেক-মন।

দুনিয়ার সব সোনা পেলেও
মনের ক্ষুধা মেটে না ঢেলেও।
লোভের পেট অতল গহ্বর,
ভরতে গেলে হয় সর্বনাশ ঘোর।

তাই বন্ধু, শোনো কথা,
লোভ কখনো দেয় না ব্যথাহীন ব্যথা।
ধৈর্যের ভিত মজবুত রাখো,
হালাল পথে জীবন ঢাকো।

আজ যে অল্প হাতে আসে,
সেটাই রাখো যতন পাশে।
অল্প অল্প নদীর জলে,
সমুদ্রও একদিন দোলে।

গাছও কিন্তু একদিনে নয়,
ধীরে ধীরে বড় হয়।
ফুল ফোটে সময় হলে,
ফলও আসে ধৈর্যের দলে।

লোভের রাস্তা চকচকে ভাই,
শেষ মাথাতে অন্ধকার পাই।
সত্য পথটা কঠিন হলেও,
শেষে সুখের বাতি জ্বলেও।

তাই মুরগির ডিমের গল্প
শুধু নয় এক গ্রামের অলপ;
যেন মানুষের আয়না,
লোভ দেখালে ভাঙে চাওয়া-পাওয়া।

যে বুঝেছে এই শিক্ষা,
সে পেয়েছে জীবনের দীক্ষা।
ধৈর্যের মানুষ হারে না কভু,
বরকত থাকে তারই রূহে সবু।

লোভ বলে, “সব এখনি নাও!
জ্ঞান বলে, “নিজেকে সামলাও।
কারণ যে মানুষ ধৈর্য ধরে,
সফলতা তার হাতেই পড়ে।




***

লোভের বাজার বড়ই রঙিন,
দেখতে মিঠে, ভিতর কঠিন।
চোখে দেখায় সোনার পাহাড়,
শেষে মানুষ হয় নিঃস্ব-হতাশার।

একটা মুরগি, ছোট্ট ঘর,
ডিমে চলত সংসার ভর।
সকালবেলা ডিম যে দিত,
রাতের শেষে আশাও জিত।

অল্প আয়, তবু শান্তি,
চোখে ছিল না মিথ্যা ক্লান্তি।
ভাত ছিল কম, সুখ ছিল বেশি,
মুখে ছিলো হাসির রেশই।

কিন্তু একদিন লোভ এসে
ফিসফিস করে কানের শেষে
এভাবে কবে বড়লোক হবি?
ধীরে চললে পিছিয়েই রবি!

পেটের ভিতর ডিমের পাহাড়,
আজই কাটলে খুলবে ভাগ্যদ্বার।
একদিনেই ধনী হবি,
দুনিয়াজোড়া নামও পাবি!

মানুষ তখন স্বপ্ন দেখে,
বাস্তবতাকে দূরে রেখে।
চালাকির নেশা মাথায় চড়ে,
ধৈর্যের বাতি নিভে পড়ে।

লোকটা তখন ছুরি আনে,
লোভের আগুন বুকের টানে।
মুরগিটাকে জবাই করে,
ডিম খুঁজে ফেরে ঘরে ঘরে।

কই সে সোনা? কই ভাণ্ডার?
চারদিকে শুধু অন্ধকার।
পেটের ভিতর শূন্যতা ভাই,
লোভের শেষে এটাই পাই।

যে মুরগিটা ছিল সম্বল,
আজ সে শুধুই নীরব ছল।
ডিমও গেল, স্বপ্নও গেল,
লোভের আগুন সবই খেল।

উঠোনজুড়ে সন্ধ্যা নামে,
আফসোস শুধু বুকের থামে।
লোকটা বসে মাথা নিচু,
লোভে পড়ে হারালাম কিছু!

এই গল্প শুধু গল্প নয়,
মানুষের জীবনের পরিচয়।
আজও কত লোকের বুকে
লোভের আগুন জ্বলে সুখে।

কেউ বন্ধুকে ঠকায় ধীরে,
মিষ্টি কথা মুখের নীড়ে।
কেউ বা টাকার নেশার ঘোরে,
ভাইকে ঠেলে দেয় যে দূরে।

কেউ আমানত খেয়ে ফেলে,
কেউ প্রতারণা হাসিমুখে মেলে।
কেউ ব্যবসার নামে ছল,
শেষে জীবন হয় বিকল।

লোভী মানুষ ভাবে মনে
সবই আমার হবে গোপনে!
কিন্তু সময় বিচার করে,
সত্য একদিন সামনে পড়ে।

হালাল রুজি অল্প হলে
শান্তি নামে হৃদয়তলে।
হারাম পথে অট্টালিকা,
ভিতর ভরা ভয় আর শঙ্কা।

ধৈর্য মানুষকে বড় করে,
লোভ মানুষকে নিচে ধরে।
যে অল্প পেয়ে শুকরিয়া কয়,
তার জীবনেই বরকত রয়।

নদীও কিন্তু ফোঁটা ফোঁটা,
জমে হয়ে ওঠে গভীরতা।
গাছও ধীরে আকাশ ছোঁয়,
সময় ছাড়া ফল কি হয়?

মায়ের দোয়া, বাবার ঘাম,
একদিনে হয় না দাম।
কষ্ট ছাড়া সুখের আশা,
মরুভূমিতে বৃষ্টির ভাষা।

আজকে যারা শর্টকাট চায়,
শেষে তারাই পথ হারায়।
সহজ টাকার চকচকে রং
শেষে আনে বিষের ঢং।

লোভের হাসি প্রথম মিঠে,
শেষে কাঁদায় নিঃশব্দ চিতে।
চোখে ঘুম আর থাকে না,
মনের ভিতর শান্তি না।

ধনী হয়েও গরিব কত,
তৃপ্তিহীন বুকের ক্ষত।
আবার অল্প টাকাও যার,
শুকরিয়াতে সুখ অপার।

তাই বন্ধু, মনে রেখো,
লোভের আগুন বুকে রেখো না একো।
অল্প হলেও সত্য খাও,
হালাল পথে জীবন গড়াও।

কারণ ধৈর্যের ফল মিষ্টি বড়,
ঝড়ের পরেই শান্তি ঘর।
লোভের ফল কাঁটার মালা,
দেখতে সুন্দর, ভিতর জ্বালা।

মুরগির ডিমের ছোট্ট শিক্ষা
জীবনজুড়ে দেয় যে দীক্ষা।
একদিনে সব পেতে গিয়ে
মানুষ যেন নিজেকেই হারিয়ে নেয়ে।

আজ যে রুটি হাতে আছে,
সেটাই রাখো যতন কাছে।
অল্প সুখও বড় নিয়ামত,
এতেই লুকায় রহমত।

লোভ বলে, “সব এখনি নাও!
বিবেক বলে, “নিজেকে বাঁচাও!
ধৈর্য বলে, “সময়কে মানো,”
সত্য বলে, “মানুষ হয়ে জানো।

শেষে যারা ধৈর্য ধরে,
সফলতা যায় তাদের ঘরে।
আর যারা লোভে অন্ধ হয়,
তাদের জীবন আফসোসময়।

তাই শোনো হে মানুষ ভাই,
লোভে কখনো সুখ না পাই।
মুরগির ডিমের এই বাণী
ধৈর্যেই লুকায় জীবনের পানি।
***

লোভের গল্প পুরোনো খুব,
তবু আজও জাগে তার রূপ।
কাল বদলায়, মানুষ বদলায়,
লোভের আগুন কিন্তু একই জ্বালায়।

একটা মুরগি, ছোট্ট ঘর,
সেই ঘরজুড়ে সুখের স্বর।
সকাল হলে ডিম যে দিত,
অভাবের মাঝেও আশা জিত।

দিনে একটি, রাতে একটি,
অল্প আয়েও শান্তি ভক্তি।
ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো,
অল্প সুখও লাগত ভালো।

কিন্তু মানুষের মন যে ভাই
অল্প পেয়ে তুষ্ট না হয়।
লোভ এসে বলে কানে কানে
ধীরে গেলে পিছিয়ে জানে!

একটা ডিমে কতই বা হয়?
এভাবে কি বড়লোক কয়?
পেটের ভিতর ডিমের পাহাড়,
আজ কাটলেই খুলবে দ্বার!

লোকটা তখন স্বপ্ন বোনে,
সোনার সুখের মিথ্যা ক্ষণে।
চোখে তখন টাকার নেশা,
বিবেক পড়ে দূরে বসা।

ধৈর্য তখন কাঁদে চুপে,
লোভ নাচে মনের রূপে।
চালাকি এসে আগুন জ্বালে,
মানুষ তখন সত্য ভোলে।

ছুরি হাতে দাঁড়ায় শেষে,
লোভের হাসি মুখের পাশে।
মুরগিটাকে জবাই করে,
ডিম খোঁজে সে অন্ধ ঘোরে।

কই সে সোনা? কই সে ধন?
চারপাশে শুধু শূন্য মন।
পেটের ভিতর কিছুই নাই,
নিজের ক্ষতিই ফিরে পাই।

যে মুরগিটা ছিল সম্বল,
আজ সে শুধু স্মৃতির জল।
ডিমও গেল, স্বপ্নও গেল,
লোভের আগুন সবই খেল।

উঠোনজুড়ে নীরব হাওয়া,
চোখে তখন আফসোস চাওয়া।
লোকটা বসে ভাবে রাতে
অপেক্ষাই ছিল সুখের হাতে!

এই যে গল্প মুরগির ভাই,
এটা শুধু গল্প না তাই।
প্রতিদিনই এই পৃথিবীতে
ঘটে এমন শত রীতিতে।

কেউ বন্ধুকে ঠকায় হেসে,
মিষ্টি কথা ভালোবেসে।
কেউ আমানত মেরে খায়,
কেউ প্রতারণায় সুখ পায়।

কেউ ব্যবসার নামে ছল,
শেষে নিজের জীবন বিকল।
কেউ শর্টকাট পথে হাঁটে,
শেষে পড়ে অন্ধ রাতে।

লোভী মানুষ ভাবে মনে
সবকিছুই হবে গোপনে!
কিন্তু সময় বড় বিচারক,
সত্য সামনে আনে নির্ভীক।

হালাল রুজি অল্প হলেও
বরকতের আলো জ্বলেও।
হারাম পথে অট্টালিকা,
তবু ভিতর ভয়-শঙ্কা।

ধৈর্যের ফল নদীর মতো,
ধীরে চলে, গভীর কত।
লোভের সুখ মরীচিকা,
দেখতে মিঠে, ভিতর ফাঁকা।

গাছও কিন্তু ধীরে বাড়ে,
ফল আসে ঠিক সময় রে।
বীজ বুনে যে অপেক্ষা করে,
ফসল হাসে তারই ঘরে।

নদীও ফোঁটা ফোঁটা জলে
সমুদ্র হয়ে ওঠে দলে।
অল্প অল্প সত্য পথে
সফলতা আসে নীরব রথে।

আজকে যারা সহজ চায়,
শেষে তারাই কষ্ট পায়।
রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন
অনেক সময় আনে শূন্য।

লোভের হাসি প্রথম মিঠে,
শেষে কাঁদায় নিঃশব্দ চিতে।
চোখে ঘুম আর থাকে না,
মনের ভিতর শান্তি না।

ধনী হয়েও গরিব কত,
তৃপ্তিহীন বুকের ক্ষত।
আবার যার অল্প রুটি,
তবু তার মুখে সুখের জ্যোতি।

তাই বন্ধু, মনে রেখো
লোভের আগুন বুকে রেখো না একো।
অল্প হলেও সত্য খাও,
মানুষ হয়ে মাথা উঁচু রাখাও।

কারণ ধৈর্যের ফল মিষ্টি বড়,
ঝড়ের পরেই শান্তি ঘর।
লোভের ফল কাঁটার মালা,
দেখতে সুন্দর, ভিতর জ্বালা।

মুরগির ডিমের এই শিক্ষা
জীবনজুড়ে দেয় যে দীক্ষা।
একদিনে সব নিতে গিয়ে
মানুষ যেন না যায় হারিয়ে।

আজ যে সুখ তোমার হাতে,
যত্ন রেখো দিনের রাতে।
অল্প সুখও বড় নিয়ামত,
এতেই লুকায় রহমত।

লোভ বলে, “এখনই নাও!
বিবেক বলে, “নিজেকে বাঁচাও!
ধৈর্য বলে, “সময়কে মানো,”
সত্য বলে, “মানুষ হয়ে জানো।

শেষে যারা ধৈর্য ধরে,
সফলতা যায় তাদের ঘরে।
আর যারা লোভে অন্ধ হয়,
তাদের জীবন আফসোসময়।

তাই শোনো হে মানুষ সবাই,
লোভে কখনো শান্তি নাই।
মুরগির ডিমের ছোট্ট বাণী
ধৈর্যেই লুকায় জীবনের পানি।

মন্তব্য করুন