সহকারী অধ্যাপক
২৫ মে, ২০২৬ ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
দুই বন্ধুর গতিবিধি -মোঃ মুজিবুর রহমান
দুই বন্ধুর গতিবিধি
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
দুই বন্ধু ছিল পাশাপাশি,
একই মাঠে হাঁটা,
একই ঘাটে মাছ ধরা আর
একই রোদে পাঁকা।
একজন ছিল সহজ-সরল,
মনটা নদীর পানি,
আরেকজন মুখে মধু,
ভেতরভরা টানি।
“দোস্ত রে তুই আমার আপন,
তোরে ছাড়া কে?”
এইসব মিষ্টি কথার আড়াল
ছিল কত ফাঁকে!
সরল বন্ধু বিশ্বাস কইরা
দিলো জমির টাকা,
“কিছুদিন রাখ, ব্যবসা হবে”
বলে দিলো ফাঁকা।
চালাক বন্ধু হিসাব কইরা
কাগজ বানায় ঢের,
স্বাক্ষরের পর স্বাক্ষর নেয়,
হাসে ভেতর ফের।
দিন যায়, মাস যায় পরে
বছর গেল কই,
সরল বন্ধু খুঁজতে গেলে
পায় না টাকার বই।
একদিন রাতে ছেঁড়া লুঙ্গি
হাঁটুতে লাগে হাওয়া,
“ফরফর” শব্দ শুনে তার
চোখে নামে ছায়া।
পেটের ভেতর ক্ষুধার আগুন,
ঘুম যে আসে না,
আকাশপানে তাকিয়ে ভাবে—
“আল্লাহ! বিচার না?”
ওদিকে সেই চালাক বন্ধু
বড়লোকের রাজা,
ঈদ আসিলে বাজারজুড়ে
তারই কত সাজা।
সাদা পাঞ্জাবি, আতর গায়ে,
পায়ে বিদেশি জুতা,
গরুর হাটে গেলে লোকে
দেখে চমক খুঁটা।
“এইবার নেব বিশাল গরু!
হাটে হব নামি!”
পকেটভরা টাকার গরম
চোখে উঠে দামি।
হাটের মাঝে গরুর ডাক আর
মানুষভরা ভিড়,
চালাক লোকের বুকের ভেতর
অহংকারের নীড়।
গরুর মালিক দামটা বলল,
সে হাসিয়া কয়—
“এই টাকাটা গুনে নাও ভাই,
কমতি কিছু নয়।”
হাত ঢুকাইল পকেটেতে—
মুখটা হইল সাদা!
টাকা নাই রে! পকেট কাটা!
ভাগ্য দিল বাঁধা!
চারদিকে সে দৌড়ায় শুধু,
“আমার টাকা কই?”
লোকজন হাসে, কেউবা বলে,
“কান্দলে লাভ হয়?”
যে অন্যেরে ঠকায় দুনিয়ায়,
চালাকি করে বেশ,
সময় আসলে হিসাব মিলে
নিঃশব্দ পরিবেশ।
ঠিক তখনই হাটের পথে
ধুলা উড়ায় ধীর,
সরল বন্ধু ফিরতেছে রে
একটা গরু নিয়া নীর।
গরুটা তার বড় না হলেও
বরকতে ভরা প্রাণ,
চোখে তার আজ শান্তির ছায়া,
মুখে শুকরিয়া গান।
চালাক বন্ধু অবাক হইয়া
তাকায় তারে চুপ,
যারে ঠকায় ভেবেছিলো সে
আজ সে দাঁড়ায় রূপ।
সরল বন্ধু কাছে আইসা
হাসল মৃদু করে—
“বন্ধু রে ভাই, দুনিয়ার বিচার
সবসময়ই ঝরে।
মানুষ ঠকায় টাকা পাওয়া
বড় লাভ না রে,
হকের কান্না আকাশ ফুঁড়ে
ফিরে আসে ঘরে।
অন্যের চোখের জলের দামে
ঈদের সুখ না রয়,
হারাম টাকায় বড় গরুতে
বরকত কভু নয়।”
হাটের মানুষ থামল সবাই,
নীরব হলো পথ,
কারো মুখে দীর্ঘশ্বাস আর
কারো মনে রথ।
চালাক বন্ধু মাথা নিচু,
চোখে জলের রেখা,
জীবনভরা চালাকিতে
শেষে কীইবা দেখা!
রাতের বেলা প্রাসাদ ঘরে
ঘুম যে আসে না,
সিন্দুকভরা টাকা থাকলেও
শান্তি থাকে না।
আর যে মানুষ অল্প নিয়েও
হালাল পথে রয়,
ছেড়া লুঙ্গি পরেও তার
মনের ভেতর জয়।
এই দুনিয়া পরীক্ষাখানা,
দেখে রাখে সব,
কার হাতে কী আমানত আর
কার অন্তরে রব।
বন্ধুত্ব যদি হয় স্বার্থের,
শেষে ভাঙে বাঁধ,
লোভের আগুন পুড়িয়ে ফেলে
সুখের সবই সাধ।
তাই রে মানুষ, হকটা রাখিস,
ভাঙিস না বিশ্বাস,
একদিন ঠিক হিসাব হবে,
থামবে মিথ্যা হাস।
সরলতা দুর্বল না রে,
এটা মনের জোর,
সত্য মানুষ শেষমেশ পায়
সম্মানেরই ঘোর।
চালাকিতে সাময়িক সুখ,
দেখতে লাগে মিঠা,
শেষ বিকেলে বিবেক কিন্তু
জ্বালায় আগুন চিটা।
ঈদের চাঁদও সাক্ষী থাকে,
রাতের তারা কয়—
“অন্যের হক মাইরা খাইলে
কখনো শান্তি নয়।”
***
গ্রামের পথে কাশফুল দোলে,
নদীর জলে ঢেউ,
দুইটা বন্ধু বড় হইছিল
একই ছায়ার ঢেউ।
একজনের মন ছিল সাদা
ভোরের শিশির পানি,
আরেকজন চালাকিতে ভরা,
হিসাবি তার টানি।
একই সাথে স্কুলে যাওয়া,
একই মাঠে বল,
একই পুকুর সাঁতার কাটা,
একই গ্রামের দল।
কালের চাকা ঘুরতে ঘুরতে
বয়স বাড়ে ধীরে,
একজন শুধু সত্য আঁকড়ে,
অপরজন ভিড়ে।
চালাক বন্ধু মিষ্টি মুখে
বলত কত কথা—
“দোস্ত তুই তো আপন মানুষ,
তোরে ছাড়া ব্যথা!”
সরল বন্ধু বুক খুলিয়া
বিশ্বাস দিল ঢালি,
ভাবল বন্ধু প্রাণের আপন,
মনে নাইকো কালি।
জমির টাকা, গরুর টাকা,
ঘামের কষ্ট ধন,
সবই দিলো বিশ্বাস কইরা
বন্ধুর হাতে গোপন।
চালাক বন্ধু কাগজ বানায়,
স্বাক্ষর নেয় চুপে,
আইনের ভাষা, হিসাব-খাতা
রাখে নিজের রূপে।
কয়েক বছর যাইতে না যাইতেই
বদলাইলো দৃশ্য,
একজনের অট্টালিকা,
অপরজন নিঃস্ব।
চালাক বন্ধু গাড়ি চড়ে,
বাজার করে রোজ,
লোকজন তার সামনে পিছে
করত কত খোঁজ।
আর যে বন্ধু ঠকছিল আগে
সেই মানুষটা হায়,
দিনে কামলা, রাতে ক্ষুধা,
কষ্ট বুকে গায়।
রাতের শেষে ছেঁড়া লুঙ্গি
হাঁটুতে লাগে ঝড়,
“ফরফর” শব্দ শুনে তার
ঘুম পালায় ঘর।
টিনের চালে বৃষ্টি পড়লে
চোখে নামে জল,
ভাবত মনে—
“হায়রে দুনিয়া!
কই ন্যায়ের ফল?”
তবুও সে বদদোয়া না করে
রবের দিকে চায়,
“হক যদি হয় আমার আল্লাহ,
একদিন ফিরায়।”
ঈদের আগে গ্রামের মাঝে
লাগল খুশির ঢেউ,
গরুর হাটে মানুষ নামে
দিগন্তজোড়া ঢেউ।
চালাক বন্ধু আতর মাখে,
পাঞ্জাবিতে ভাঁজ,
সাথে থাকে দালাল-পিয়ন,
চোখে অহং সাজ।
হাটের মাঝে বুক ফুলায়ে
হাঁটে রাজা সেজে,
লোকজন কয়—
“এই লোকটার
টাকার শেষ কই যে!”
একটা বিশাল কালো গরু
দেখে মনে টান,
শিং দুটাতে রঙিন ফিতা,
গলায় মোটা দান।
দাম শুনিয়া হাসল সে আর
বলল বুক ফুলায়—
“এই গরুটা আজকেই নেব,
টাকা আমার দায়!”
হাত ঢুকাইল পকেটেতে—
মুখটা হইল নীল!
চারদিকে সে তাকায় শুধু,
বুকের ভিতর ঢিল।
টাকা নাই রে! পকেট কাটা!
চোখে অন্ধকার,
যে মানুষটা অন্যেরে ঠকায়
তারই এই যে হার।
হাটের মাঝে ছোটাছুটি,
ঘামে ভিজে গা,
লোকজন কয়—
“কী হইছে ভাই?”
সে তো পায় না ঠাঁই।
যেই টাকাতে গরু কিনে
দেখাইত বড় ভাব,
সেই টাকাই উধাও হইয়া
ভাঙল মনের চাপ।
ঠিক তখনই ধুলার পথে
একটা দৃশ্য আসে,
সরল বন্ধু গরু লইয়া
হাসতেছে উদাসে।
গরুটা খুব রাজকীয় না,
তবু শান্ত চাহনি,
হালাল রুজির বরকতে ভরা
সুখের যেন বাহনি।
চালাক বন্ধু স্তব্ধ হইয়া
তাকায় শুধু চুপ,
ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেলে
কেমনে বদলায় রূপ!
সরল বন্ধু ধীরে কইল—
“বন্ধু শুনো ভাই,
মানুষ ঠকায় বড়লোকের
সুখ বেশিদিন নাই।
হকের টাকা আগুনসম,
পুড়ায় অন্তরখান,
অন্যায়ের সুখ দেখলে যত
শেষে থাকে টান।
আমি আজও ছেঁড়া লুঙ্গি
পইড়া ঘুমাই রাতে,
তবু আমার বুকের ভিতর
আগুন নাই গোপনে।
আর তোমার ঐ দালানবাড়ি,
সিন্দুকভরা ধন,
শান্তি যদি না-ই থাকে
কি লাভ সেই মন?”
চারপাশের মানুষ তখন
নীরব হইয়া রয়,
কারো চোখে শিক্ষার ছাপ,
কারো মনে ভয়।
ঈদের চাঁদ আকাশ থেইকা
দেখে গ্রামের পথ,
কে হালাল আর কে প্রতারক—
রয় না কিছু গোপ।
চালাক বন্ধু মাথা নিচু
চোখে জমে লাজ,
একটা জীবন চালাকিতে
ভাঙল সুখের সাজ।
রাত গভীরে প্রাসাদ ঘরে
ঘুম আসে না তার,
হিসাব-খাতার পাতার মাঝে
শুনে হাহাকার।
আর যে মানুষ কষ্ট পেয়ে
রাখে সত্য আঁকড়ে,
আল্লাহ তার ভাঙা ঘরেও
শান্তি রাখে জাগ্রে।
লোভের নেশা নদীর স্রোতে
ভাসায় মানবতা,
বন্ধুত্বও বিক্রি হয়ে যায়
টাকার মিথ্যা ব্যথা।
তাই রে মানুষ, মনে রাখিস—
হক মাইরা খাস না,
কারো চোখের জলের উপরে
সুখের ঘর বাঁধিস না।
সত্য পথে চলতে গেলে
কষ্ট আসতে পারে,
তবু শেষে সম্মান ফোটে
ফুলের মতো দ্বারে।
চালাকির সেই মিথ্যা জৌলুস
একদিন যায় থেমে,
সরল মনের মানুষগুলো
বাঁচে সবার প্রেমে।
এই গল্পটা গ্রামের পথে
আজও মানুষ কয়—
“অন্যায়ের ধন পাহাড় হলেও
শেষে শান্তি নয়।”
***
ধনের ক্ষেতে বাতাস লাগে,
বাঁশবাগানে সুর,
দুইটা বন্ধু চলত আগে
একই পথের নূর।
একই চায়ের দোকানটাতে
বিকেল হতো কাট,
একই নদীর ঘাটে বসে
করত কত মাত।
একজন ছিল বুকটা খোলা
সাদাসিধা প্রাণ,
অপরজন চোখে হাসি,
ভেতরে শয়তান।
মুখে বলত—
“দোস্ত রে তুই
আমার বুকের ভাই,”
সুযোগ পাইলে হিসাব কইরা
সবই নিতে চায়।
সরল বন্ধু দিনমজুরি,
জমায় টাকাপয়সা,
মায়ের দোয়া, বউয়ের আশা,
কষ্টভরা ভাসা।
একদিন সেই চালাক বন্ধু
চোখে স্বপ্ন আঁকে—
“দোস্ত, চল না ব্যবসা করি,
টাকা দে আমার হাতে।”
বিশ্বাস কইরা সরল মানুষ
দিলো সবই তারে,
ভাবল বুঝি ভাগ্য এবার
হাসবে নিজের দ্বারে।
কাগজ লিখে, সই করাইয়া
চালাক বন্ধু হাসে,
ভেতরে ভেতর লোভের সাপটা
ফণা তুলে ভাসে।
দিন গড়াইয়া মাস যায় পরে,
বছর যায় যে কই,
সরল বন্ধু টাকা চাইলে
অজুহাতের বই।
“আজকে না রে, কালকে দিব,”
কাল যে আসে না,
বন্ধুত্বের নামটা শুধু
ঠোঁটের মাঝেই রইল না।
চালাক বন্ধু বাড়ি তোলে,
ফ্ল্যাট কিনে ঢাকায়,
ঈদ আসিলে গরুর হাটে
রাজাদের মতো যায়।
পাঞ্জাবিতে আতরের ঘ্রাণ,
হাতে মোটা ঘড়ি,
মানুষ দেখে বলে—
“বাহ্!
ভাগ্য খুলছে বড়ই!”
আর যে বন্ধু ঠকছিল আগে
তার অবস্থা ক্ষীণ,
রাতে শুইলে ছেঁড়া লুঙ্গি
হাঁটু ছুঁয়ে রিনঝিন।
“ফরফর” শব্দ কানে বাজে
ঘুম যে আসে না,
ক্ষুধার জ্বালা বুকের ভেতর
চোখে ঝরে ঘাম।
বউটা চুপে চোখ মুছিত,
ছেলেটা চায় ভাত,
তবুও মানুষ আল্লাহ ডাইকা
চলত দিনের রাত।
বলত শুধু—
“হক মাইরা যে
খায় সে কেমনে রয়?
রবের কাছে বিচার দিলে
একদিন ফল হয়।”
ঈদের আগে মহাবাজার,
মানুষ ঢেউয়ের ঢল,
হাম্বা হাম্বা ডাকের মাঝে
উঠে কোলাহল।
চালাক বন্ধু বুক ফুলায়ে
ঘুরে গরুর হাট,
দামি গরুর গলায় ঝোলে
রঙিন মালার পাট।
একটা গরু পছন্দ হইল
বিশাল তার শিং,
দাম শুনিয়া হেসে উঠল—
“নিয়া যামু কিং!”
পকেটে হাত দিতেই হঠাৎ
চেহারা তার ফ্যাকাশে,
টাকা নাই রে! পকেট কাটা!
সব গেছে এক নিশ্বাসে!
চোখের সামনে অন্ধকার আর
মাথার ভেতর ঝড়,
যেই টাকাতে অহংকার ছিল
সেই টাকাই পর।
দৌড়ায় শুধু হাটের মাঝে—
“ভাইরে টাকা কই?”
লোকজন কেউ হাসতেছে,
কেউবা করত ভয়।
ঠিক তখনই ভিড় ঠেলিয়া
আসে এক পরিচয়,
সরল বন্ধু গরু লইয়া
হাসিমুখে রয়।
গরুটা তার সাদা-কালো,
চোখে শান্তি ঢেউ,
হালাল রুজির বরকতে যেন
চাঁদের মতো নেউ।
চালাক বন্ধু তাকায় চুপে,
বুকটা কাঁপে ধীর,
আজকে যেন নিজের চোখে
দেখে নিয়তির নীর।
সরল বন্ধু কাছে আইসা
নরম গলায় কয়—
“বন্ধু রে ভাই, অন্যের হক
মাইরা শান্তি নয়।
হারাম টাকায় বড় গরু
কিনলে লাভ কি বল?
অন্যায়ের ধন আগুন হইয়া
পুড়ায় অন্তরতল।
আমি গরিব, ছেঁড়া লুঙ্গি
তবু শান্তি আছে,
রাতে শুইলে বিবেক আমার
আগুন হইয়া নাচে না কাছে।
আর তোর আছে দালানকোঠা,
গাড়ি, সোনা, ধন,
তবু কেন তোর চোখের নিচে
ঘুমহারা সেই মন?”
হাটের মানুষ দাঁড়ায় থমকে,
চুপ হয়ে যায় পথ,
কেউবা ভাবে—
“সত্য কথার
এত গভীর রথ!”
ঈদের চাঁদ আকাশ থেইকা
দেখে নিচের দৃশ্য,
কার টাকাতে বরকত নামে,
কার জীবন নিঃস্ব।
চালাক বন্ধু মাথা নিচু,
চোখে জলের রেখা,
চালাকির ঐ রাজপ্রাসাদ
মুহূর্তেই হয় ফাঁকা।
সেই রাতে তার ঘুম আসেনা
নরম বিছানাতে,
হিসাব-খাতার পাতাগুলো
জ্বলে আগুন রাতে।
আর যে মানুষ সত্য পথে
কাঁদে নিরবে চুপ,
আল্লাহ তার ভাঙা ঘরেও
রাখেন রহম রূপ।
লোভের নেশা মরিচিকার
মতো ডাকে দূরে,
মানুষ তখন বন্ধুকেও
বিক্রি করে সুরে।
তাই রে মানুষ, হকটা রাখিস,
ভাঙিস না বিশ্বাস,
বন্ধুত্বের নামের আড়াল
করিস না সর্বনাশ।
একদিন ঠিক হিসাব হবে
এই দুনিয়ার পরে,
কার চোখেতে কান্না ছিল
কারা হাসত ঝরে।
সরল মানুষ দুর্বল না রে,
ওরা নদীর ঢেউ,
নরম হলেও সত্য শক্তি
ভাঙতে পারে ঢেউ।
চালাক মানুষ ক্ষণিক হাসে,
দেখায় বাহাদুরি,
শেষ বিকেলে বিবেক তাহার
করায় ভীষণ জ্বুরি।
আজও নাকি গ্রামের বুড়ারা
চায়ের আড্ডায় কয়—
“অন্যায়ের ধন পাহাড় হলেও
শেষে শান্তি নয়।”
৭১
১৪৫ মন্তব্য