Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ মে, ২০২৬ ০৬:৪৫ অপরাহ্ণ

নতুন পে-স্কেল: স্বস্তি নাকি নতুন চাপ— কী বদলাবে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনে

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর আবারও নতুন পে-স্কেলের আলোচনায় সরগরম প্রশাসন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হতে পারে—এমন খবরে সচিবালয় থেকে জেলা প্রশাসন, স্কুল-কলেজের শিক্ষক থেকে মাঠ প্রশাসনের কর্মচারী—সবখানেই চলছে হিসাব-নিকাশ।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলে অধিকাংশ গ্রেডে মূল বেতন বা বেসিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। আবার ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য শতভাগ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির গুঞ্জনও রয়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা।


কেন আবার পে-স্কেলের প্রয়োজন পড়ল

সবশেষ জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর গত এক দশকে দেশের অর্থনীতি যেমন বদলেছে, তেমনি পাল্টেছে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষাব্যয়, পরিবহন খরচ এবং নিত্যপণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু একই হারে বাড়েনি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন।

বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন, বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক কর্মচারীকে মাসের শেষ দিকে ঋণ বা ধারনির্ভর হতে হচ্ছে। ফলে নতুন পে-স্কেলকে তাঁরা দেখছেন জীবনযাত্রার চাপ সামাল দেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে।


কারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের ওপর। প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র বলছে, নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য বেসিক বেতন দ্বিগুণ করার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এটি বাস্তবায়ন হলে একজন ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে। একইভাবে ১১তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এতে একদিকে যেমন সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে বাজারে ভোগব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।


সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন সরকারের জন্য সহজ হবে না। কারণ এতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল কার্যকর করতে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে শুধু ব্যয় বাড়ানো হলে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়লে অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহও বাড়বে, যা বাজারকে কিছুটা চাঙা করতে পারে।


বেসরকারি খাতে বাড়ছে তুলনা

নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনার আরেকটি বড় দিক হলো সরকারি ও বেসরকারি চাকরির বেতনের পার্থক্য। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সরকারি চাকরিতে নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকলেও বেসরকারি খাতে বেতন তুলনামূলক বেশি। তবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এই ব্যবধান কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে বেসরকারি চাকরিজীবীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—যখন মূল্যস্ফীতির চাপে সব শ্রেণির মানুষ কষ্টে আছে, তখন শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় আকারের বেতন বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক।


এখন সবার চোখ বাজেটের দিকে

যদিও এখনো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা দেয়নি, তবে বাজেট সামনে রেখে প্রশাসনে এর প্রস্তুতি দৃশ্যমান। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজেট ঘোষণার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।

এখন সরকারি চাকরিজীবীদের বড় প্রশ্ন একটাই—আসলেই কি বেতন ৫০ শতাংশ বাড়বে, নাকি নিম্ন গ্রেডে মিলবে শতভাগ বৃদ্ধি? সেই উত্তর মিলতে পারে আগামী বাজেটেই।

মন্তব্য করুন

ব্লগ