Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ মে, ২০২৬ ১০:২২ অপরাহ্ণ

স্বামী স্ত্রী - মোঃ মুজিবুর রহমান

 

স্বামী স্ত্রী
মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

স্বামী যদি হয় ছায়া, স্ত্রী তবে ঘরের আলো,
দুজন মিলে গড়ে ওঠে সুখের জীবনের ভালো।
একজন যদি কাঁদে চুপে, অন্যজন মুছে চোখ,
ভালোবাসা এমন হোকভাঙবে না কোনো শোক।

রাগের আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে লাভ কি বলো ভাই?
কঠিন কথার আঘাত পেলে হৃদয় জ্বলে যায়।
সংসার মানে যুদ্ধ নয়, নয়তো ক্ষমতার দম্ভ,
সংসার মানে হাত ধরা আর বিশ্বাসের বন্ধ।

স্বামী যদি ক্লান্ত হয়ে ফেরে দিনের শেষে,
স্ত্রীর মায়া শান্তি হয়ে জড়িয়ে থাকুক পাশে।
স্ত্রী যদি হয় কষ্টভরা হাজার চিন্তায় নীরব,
স্বামীর স্নেহ বলুক তখন—“আমি আছি নিরবধি সব।

হে আল্লাহ! দাও সে হৃদয়, কোমল মায়াভরা,
যেখানে নেই অপমানের তীর কিংবা ধরা-ছোঁয়া জ্বরা।
দাও এমন ভাষা, যেথায় থাকে শ্রদ্ধার সুবাস,
ভালোবাসার নরম ডানায় ভরে উঠুক বাস।

হযরত  আর -এর ঘর
ছিল না ধনে রত্নে ভরা, ছিল না সুখের পাহাড়,
তবু সেখানে শান্তি ছিল, ছিল আখিরাতের নূর,
অল্প ভাতে তৃপ্তি ছিল, ভালোবাসা ভরপুর।

তাঁদের ঘরে ছিল না অহংকারের কালো দেয়াল,
ছিল না আমি বড় বলা, ছিল না দম্ভের জাল।
ছিল শুধু দায়িত্ববোধ আর মমতার আলো,
একজন অন্যজনকে বুঝত নিঃশব্দ ভালো।

স্বামী বলুক
তোমার কষ্ট আমারও কষ্ট, তোমার হাসি প্রাণ,”
স্ত্রী বলুক
তোমার পাশে আছি আমি, যতই আসুক টান।

সংসার শুধু টাকা দিয়ে টিকে থাকে না ভাই,
ভালোবাসা, ধৈর্য, দোয়াএসবও লাগেই তাই।
বাড়ি বড় হলেই শুধু সুখের ঠিকানা নয়,
শান্তিময় একটি হৃদয়ই আসল পরিচয়।

কঠিন কথা আগুন হয়ে পোড়ায় গভীর মন,
নরম কথা বৃষ্টির মতো আনে শীতল ক্ষণ।
তাই তো বলি, রাগ এলে চুপ থাকাই উত্তম,
একটু ধৈর্য বাঁচিয়ে দিতে পারে ঘর অনুপম।

স্ত্রী কোনো দাসী নয়, স্বামীও নয় প্রভু,
দুজন হলো জীবনেরই সমান পথের রবু।
একজন যদি ভুল করে, অন্যজন ধরুক হাত,
ক্ষমার মাঝে ফুটে ওঠে ভালোবাসার প্রভাত।

হে আল্লাহ!
যে ঘরে আজ কান্না বাজে, সেখানে দাও শান্তি,
যে মনে আজ রাগের আগুন, সেখানে দাও কান্তি।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কগুলো করো রহমতে ভরা,
ভালোবাসা, ঈমান, দয়ায় হোক জীবন গড়া।

যে স্ত্রী রাত জেগে রাখে সন্তানেরে বুকে,
তার চোখেতে রেখো তুমি জান্নাতেরই সুখে।
যে স্বামী ঘাম ঝরিয়ে আনে পরিবারের হাসি,
তার রিজিকে দাও বরকত, দূর করো সর্বনাশী।

ঝগড়া যেন দীর্ঘ না হয়, অভিমান না বাড়ে,
শয়তানের সেই ফাঁদগুলো দূরে দূরে সাড়ে।
একটু মায়া, একটু ধৈর্য, একটু নরম বাণী,
এসব দিয়েই টিকে থাকে সুখের ঘরখানি।

স্বামী যদি ভুলে যায় স্ত্রীর হৃদয় ভাঙে কেমন,
স্ত্রী যদি না বোঝে স্বামীর ক্লান্ত নীরব জীবন
তবে সংসার শুকিয়ে যায় মরুভূমির মতো,
ভালোবাসা হারিয়ে গিয়ে বাড়ে শুধু ক্ষত।

তাই আসো আজ প্রতিজ্ঞা করি অন্তরের গভীরে
অপমান নয়, সম্মান দেব একে অন্য ধীরে।
রাগ নয়, করব দোয়া; কষ্ট নয়, দেব স্নেহ,
মানবতার আলোয় গড়ব ভালোবাসার গৃহ।

হে আল্লাহ!
যে ঘরে আজ বিচ্ছেদের ভয়, সেখানে দাও মিল,
যে মুখে আজ কঠিন ভাষা, সেখানে দাও নীল
শান্ত আকাশের কোমলতা, মায়ার মিষ্টি ছায়া,
স্বামী-স্ত্রীর হৃদয়জুড়ে দাও জান্নাতের মায়া।

দাও এমন সংসার, যেখানে
ভাত কম হলেও শান্তি থাকে,
কাপড় পুরোনো হলেও
ভালোবাসা নতুন থাকে।
কষ্ট এলেও হাত না ছাড়ে,
অভাব এলেও মন না হারায়,
দুনিয়ার ঝড় এলেও
দুজন মিলে পাশে দাঁড়ায়।

কারণ
সংসার টিকে থাকে না রূপে, টিকে থাকে না ধনে,
সংসার টিকে থাকে শুধু পবিত্র ভালোবাসার মনে।
যেখানে আছে আল্লাহভীতি, দয়া, ক্ষমা আর শ্রদ্ধা,
সেই ঘরেই নেমে আসে জান্নাতি প্রশান্তি সদা।



স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন শুধু
এক ছাদের নিচে থাকা নয়,
সম্পর্ক হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের,
দুঃখের সাথে সান্ত্বনার,
ঝড়ের সাথে আশ্রয়ের পরিচয়।

যেখানে স্বামী স্ত্রীর চোখের জল বোঝে,
স্ত্রী স্বামীর নীরব কষ্ট পড়ে নেয়,
সেই ঘরেই তো রহমতের ফেরেশতা
শান্তির সুবাস ছড়িয়ে দেয়।

হে আল্লাহ!
যে সংসারে আজ অভিমান জমে পাহাড়,
যেখানে কথার আঘাতে ভাঙে হৃদয়ের দেয়াল,
সেই ঘরে দাও তুমি রহমতের বৃষ্টি,
ভালোবাসার আলোয় ভরে উঠুক প্রতিটি দৃষ্টি।

হযরত   -এর ঘরের মতো
সরল হোক প্রতিটি সংসার,
অল্পে তুষ্টি, বেশি ভালোবাসা,
কম চাওয়া, বেশি আদর।

তাঁদের ঘরে অভাব ছিল,
তবুও ছিল না অভিযোগের ঝড়,
ছিল ধৈর্যের দীপশিখা,
ছিল পরস্পরের প্রতি অকৃত্রিম কদর।

আজ কত ঘরে বড় বড় আসবাব,
তবু নেই শান্তির ঘুম,
কারণ সেখানে ভালোবাসা শুকিয়ে গেছে,
অহংকার করেছে ভীষণ ভিড়।

স্বামী যদি রাগে আগুন হয়ে যায়,
স্ত্রী যেন হয় শীতল নদী,
স্ত্রী যদি কষ্টে নীরব থাকে,
স্বামী যেন বোঝে তার অব্যক্ত ব্যথাবোধই।

একটি সংসার টিকে থাকে না
শুধু টাকার ভারে,
বরং টিকে থাকে
একটু শ্রদ্ধা,
একটু ক্ষমা,
একটু মায়া আর
অনেকখানি ধৈর্যের দ্বারে।

হে আল্লাহ!
যে স্বামী স্ত্রীর সম্মান রক্ষা করে,
তাকে দাও উত্তম প্রতিদান।
যে স্ত্রী স্বামীর দুঃখে পাশে থাকে,
তার হৃদয় ভরিয়ে দাও ঈমান।

সংসার মানে জয়-পরাজয় নয়,
সংসার মানে আমরা হয়ে বাঁচা।
একজন পড়ে গেলে
অন্যজন হাত বাড়িয়ে তোলা,
একজন কাঁদলে
অন্যজন নীরবে চোখ মুছিয়ে দেওয়া।

কঠিন ভাষা তীরের মতো,
হৃদয়ে গেঁথে থাকে,
আর কোমল কথা ফুলের মতো
নীরব সুখ এনে দেয় ফাঁকে ফাঁকে।

তাই তো বলি
রাগ এলে একটু থেমে যেও,
কষ্ট এলে দোয়া করো,
ঝগড়া বাড়লে নরম হয়ে
একটু ভালোবাসা ধরো।

স্বামী কোনো রাজা নয়,
স্ত্রীও নয় দাসী,
দুজনই জীবনের পথিক,
একই নৌকার মাঝি।

যেখানে দুজন একসাথে
সিজদায় মাথা রাখে,
সেখানে শয়তানের কুমন্ত্রণা
ধীরে ধীরে হার মানে।

হে আল্লাহ!
আজ কত স্ত্রী নিরবে কাঁদে,
কত স্বামী বুকের ভেতর ব্যথা লুকায়,
তুমি তাদের অন্তরে দাও শান্তি,
ভালোবাসার দরজা খুলে যায়।

যে স্বামী সংসারের জন্য
রোদে পুড়ে ঘাম ঝরায়,
তার ক্লান্ত হাতে দাও বরকত।
যে স্ত্রী পরিবার আগলে রাখে
নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে,
তার জীবনে দাও রহমতের নরম জ্যোৎস্নার আভাস।

অভিমান যেন রাত পেরিয়ে
ঘৃণায় রূপ না নেয়,
একটু ক্ষমা, একটু মায়া
সব অশান্তি দূরে ঠেলে দেয়।

দেখো
ভাঙা ঘর জোড়া লাগে না সহজে,
কঠিন কথার ক্ষত শুকায় না দ্রুত,
তাই ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখো
সম্মানের কোমল সুতোয় যুক্ত।

স্বামী বলুক
তুমি ছাড়া ঘর অসম্পূর্ণ।
স্ত্রী বলুক
তোমার সুখেই আমার শান্তি।
দুজন মিলেই বলুক
আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের জীবনের কান্তি।

হে রব!
দাম্পত্য জীবনে দাও হালাল সুখের ছায়া,
হারাম দৃষ্টি শয়তানের ফাঁদ থেকে বাঁচাও মায়া।
যে ঘরে আজ অশান্তির ধোঁয়া,
সেখানে দাও কুরআনের আলো।
যে মনে আজ কষ্টের ভার,
সেখানে দাও ধৈর্যের ভালো।

দাও এমন ভালোবাসা
যেখানে অপমান নেই,
অবিশ্বাস নেই,
শুধু আছে মমতা আর বিশ্বস্ততা।

দাও এমন সংসার
যেখানে স্ত্রী হবে স্বামীর শান্তির নীড়,
স্বামী হবে স্ত্রীর নিরাপদ ছায়া।
সন্তানেরা বড় হবে
স্নেহ, আদব আর ঈমানের মায়ায়।

কারণ
ভালোবাসাহীন প্রাসাদও অন্ধকার,
আর ভালোবাসাভরা ছোট ঘরও জান্নাতসম।
যেখানে পরস্পরের প্রতি সম্মান থাকে,
সেখানেই নেমে আসে আল্লাহর রহম।

তাই আসো
অহংকার নয়, বিনয় বেছে নিই,
কঠোরতা নয়, কোমলতা ছড়িয়ে দিই।
দোষ খোঁজা নয়,
একজন অন্যজনকে বুঝতে শিখি।

হে আল্লাহ!
প্রতিটি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে দাও
 
-এর সংসারের মতো
ভালোবাসা, ত্যাগ, ধৈর্য আর বরকতের আলো।
আমিন।




***

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক মানে
শুধু এক ঘরে থাকা নয়,
সম্পর্ক মানে
একজনের ক্লান্ত বিকেলে
অন্যজনের শান্ত ছায়া হয়ে রই।

একজন যদি ভেঙে পড়ে,
অন্যজন শক্ত হয়ে দাঁড়ায়,
একজন যদি নীরবে কাঁদে,
অন্যজন চোখের ভাষা পড়ায়।

হে আল্লাহ!
যে ঘরে আজ কষ্টের দীর্ঘশ্বাস,
যেখানে কথার আঘাতে আহত বিশ্বাস,
সেই ঘরে নামিয়ে দাও রহমতের নূর,
দাও ভালোবাসা, দাও ধৈর্য ভরপুর।

হযরত   -এর সংসারের মতো
হোক প্রতিটি ঘর শান্তিময়,
অল্পে তুষ্টি, গভীর মায়া,
সততা আর ঈমানময়।

তাঁদের জীবনে ছিল কষ্ট,
ছিল না দুনিয়ার বিলাস,
তবু ছিল না পরস্পরের প্রতি
অভিযোগের দীর্ঘ নিশ্বাস।

ছিল ভালোবাসা, ছিল শ্রদ্ধা,
ছিল দায়িত্বের আলো,
একজন অন্যজনের সুখে
নিজের কষ্ট ভুলে ভালো।

আজ কত ঘরে উঁচু প্রাসাদ,
দামী আসবাব, ঝলমলে সাজ,
তবু সেখানে শান্তি নেই,
কারণ হৃদয় হয়েছে লাজ।

রাগের ভাষা আগুনের মতো
পুড়িয়ে দেয় সংসার,
আর নরম কথা শিশির হয়ে
মুছে দেয় অন্ধকার।

স্বামী যদি ক্লান্ত হয়ে
ফিরে আসে দিনের শেষে,
স্ত্রীর মুখের কোমল হাসি
হোক শান্তির পরশ এসে।

স্ত্রী যদি কষ্ট চেপে
নীরবে রাত কাটায়,
স্বামী যেন মমতা দিয়ে
তার চোখের জল শুকায়।

সংসার মানে প্রতিযোগিতা নয়,
কে বড়, তার হিসাব নয়,
সংসার মানে
তুমি কষ্টে আছো?”
এই প্রশ্নটুকুই হৃদয়ের জয়।

হে আল্লাহ!
যে স্বামী স্ত্রীর মর্যাদা রাখে,
তার জীবনে দাও বরকত।
যে স্ত্রী স্বামীর দুঃখ ভাগ করে নেয়,
তার হৃদয়ে দাও জান্নাতের নরম রহমত।

ঝগড়া যেন দীর্ঘ না হয়,
অভিমান যেন পাথর না গড়ে,
একটু ক্ষমা, একটু মায়া
ভাঙা সম্পর্ক জোড়া করে।

একটি ঘর তখনই জান্নাতসম হয়,
যখন সেখানে অপমান নেই,
অবিশ্বাস নেই,
আছে শুধু শ্রদ্ধা আর বিশ্বস্ততা।

স্বামী কোনো অত্যাচারী নয়,
স্ত্রীও নয় অবহেলার পাত্র,
দুজনই একে অপরের আমানত,
দুজনই ভালোবাসার যাত্রা।

যেখানে স্বামী স্ত্রীর হাতে
সম্মানের ফুল তুলে দেয়,
যেখানে স্ত্রী স্বামীর ক্লান্ত বুকে
শান্তির ছোঁয়া ছড়িয়ে দেয়
সেই ঘরেই ফেরেশতারা
রহমতের দোয়া নিয়ে নেমে আসে।

হে রব!
আজ কত স্ত্রী চোখের জল লুকিয়ে হাসে,
কত স্বামী বুকভরা কষ্ট নিয়েও চুপ থাকে পাশে,
তুমি তাদের অন্তরে দাও ধৈর্যের আলো,
ভালোবাসার নদী বইয়ে দাও ভালো।

যে স্বামী রোদে পুড়ে
পরিবারের সুখ খোঁজে,
তার রিজিকে দাও বরকত।
যে স্ত্রী নিজের স্বপ্ন ভেঙে
সংসারের প্রদীপ জ্বালে,
তার জীবনে দাও রহমতের জ্যোৎস্না অবিরত।

অহংকার যেন ঘরে না ঢোকে,
কঠিন ভাষা যেন হৃদয় না পোড়ায়,
ভালোবাসার নরম ছায়ায়
দাম্পত্য জীবন ভরে যায়।

স্বামী বলুক
তোমার সম্মান আমার সম্মান।
স্ত্রী বলুক
তোমার শান্তিই আমার শান্তি।
দুজন মিলে বলুক
আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের জীবনের কান্তি।

হে আল্লাহ!
যে ঘরে আজ অশান্তির ঝড়,
সেখানে দাও কুরআনের আলো।
যে হৃদয়ে আজ রাগের আগুন,
সেখানে দাও ধৈর্যের ভালো।

দাও এমন সংসার
যেখানে কম আয়েও সুখ থাকে,
অল্প খাবারেও তৃপ্তি থাকে,
পুরোনো কাপড়েও লজ্জা নয়,
ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে থাকে।

দাও এমন সম্পর্ক
যেখানে কেউ কাউকে ছোট করে না,
কেউ কাউকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পায় না,
বরং দুজন মিলে
দুনিয়ার কষ্টের বিরুদ্ধে লড়ে যায়।

কারণ
ভালোবাসা ছাড়া ধনসম্পদও শূন্য,
আর মায়াভরা ছোট্ট ঘরও অমূল্য।
যেখানে দয়া, ক্ষমা আর শ্রদ্ধা থাকে,
সেখানেই আল্লাহর রহমত নেমে আসে।

তাই আসো
রাগের বদলে ধৈর্য শিখি,
অভিমানের বদলে ক্ষমা,
অহংকারের বদলে বিনয়,
কঠিন কথার বদলে মায়া।

হে আল্লাহ!
প্রতিটি স্বামী-স্ত্রীর হৃদয়ে দাও
 
-এর সংসারের মতো
ত্যাগ, ভালোবাসা, বিশ্বস্ততা আর শান্তির আলো।
আমিন।


***

ভালোবাসা মানে শুধু
হাসিমুখে পাশাপাশি থাকা নয়,
ভালোবাসা মানে
ঝড় এলেও হাত না ছেড়ে
একই আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে রই।

স্বামী যদি হয় ক্লান্ত পথিক,
স্ত্রী তবে শান্তির নীড়,
স্ত্রী যদি হয় আহত হৃদয়,
স্বামী তবে সান্ত্বনার ভিড়।

হে আল্লাহ!
যে সংসারে আজ কান্নার শব্দ,
যেখানে কষ্ট লুকিয়ে থাকে নীরবতায়,
সেই ঘরে দাও রহমতের আলো,
ভালোবাসা ফুটুক মায়ার ছায়ায়।

হযরত   -এর সংসারের মতো
হোক প্রতিটি ঘর পবিত্র,
অল্পে সুখ, ধৈর্যে শান্তি,
শ্রদ্ধায় ভরা প্রতিটি চরিত্র।

তাঁদের ঘরে ছিল না
দুনিয়ার বিলাসী আয়োজন,
তবু ছিল ভালোবাসা,
ছিল জান্নাতি প্রশান্তির স্পন্দন।

এক মুঠো ভাত ভাগ করে
তাঁরা হাসিমুখে খেতেন,
দুঃখ এলে পরস্পরের চোখে
সান্ত্বনার আলো দেখতেন।

আজ কত ঘরে দামী আসবাব,
তবু নেই হৃদয়ের সুখ,
কারণ সেখানে অভিমান বড়,
ভালোবাসা হয়েছে নিঃশব্দ দুঃখ।

কঠিন ভাষা আগুন হয়ে
জ্বালিয়ে দেয় সম্পর্কের বন,
আর কোমল কথা শিশির হয়ে
শান্ত করে ক্লান্ত মন।

স্বামী বলুক
তোমার অশ্রু আমারও ব্যথা,”
স্ত্রী বলুক
তোমার ক্লান্তি আমারও চিন্তা।

সংসার মানে কে জিতল
তার হিসাব রাখা নয়,
সংসার মানে
দুজন মিলে হার না মানার পরিচয়।

একজন যদি ভুল করে,
অন্যজন তাকে বুঝিয়ে দিক,
রাগ নয়, অপমান নয়,
মায়া দিয়ে পথ দেখাক ঠিক।

হে আল্লাহ!
যে স্বামী স্ত্রীর সম্মান রাখে,
তাকে দাও উত্তম প্রতিদান।
যে স্ত্রী স্বামীর পাশে থাকে,
তার হৃদয় ভরাও ঈমান।

ঝগড়া যেন দীর্ঘ না হয়,
অভিমান যেন রাত না পেরোয়,
একটু ক্ষমা, একটু ভালোবাসা
সব অন্ধকার দূরে সরায়।

স্বামী কোনো শাসক নয়,
স্ত্রীও নয় অবহেলার নাম,
দুজনই একে অপরের আমানত,
দুজনই ভালোবাসার দাম।

যেখানে স্বামী স্ত্রীর হাতে
সম্মানের ফুল তুলে দেয়,
যেখানে স্ত্রী স্বামীর ক্লান্ত মনে
শান্তির বাতাস বয়ে দেয়
সেই ঘরেই নেমে আসে
রহমতের ফেরেশতা ধীরে।

হে রব!
আজ কত মানুষ সংসারে থেকেও একা,
কত হৃদয় নীরবে ভাঙে,
তুমি তাদের জীবনে দাও
ভালোবাসার নতুন রাঙে।

যে স্ত্রী রাত জেগে
সন্তানের ঘুম পাহারা দেয়,
তার চোখে দাও জান্নাতের নূর।
যে স্বামী কষ্ট করে
পরিবারের মুখে হাসি ফোটায়,
তার রিজিকে দাও অফুরন্ত সুর।

অহংকার যেন হৃদয়ে না বাসে,
কঠিনতা যেন মায়াকে না হারায়,
দাম্পত্য জীবনের প্রতিটি ক্ষণে
ভালোবাসা নতুন ফুল হয়ে ফুটে যায়।

স্বামী বলুক
তোমাকে সম্মান করা আমার দায়িত্ব।
স্ত্রী বলুক
তোমার সুখেই আমার প্রশান্তি।
দুজন মিলে বলুক
আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের জীবনের কান্তি।

হে আল্লাহ!
যে ঘরে আজ অশান্তির ধোঁয়া,
সেখানে দাও কুরআনের আলো।
যে হৃদয়ে আজ কষ্টের পাহাড়,
সেখানে দাও ধৈর্যের ভালো।

দাও এমন সংসার
যেখানে কম আয়েও সুখ থাকে,
অল্প খাবারেও তৃপ্তি থাকে,
পুরোনো ঘরেও শান্তি থাকে,
ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে থাকে।

দাও এমন সম্পর্ক
যেখানে অপমান নেই,
প্রতারণা নেই,
আছে শুধু বিশ্বস্ততা আর দয়া।

যেখানে দুজন মিলে
সিজদায় মাথা রাখে,
সেখানে শয়তানের সব কুমন্ত্রণা
ধীরে ধীরে হার মেনে থাকে।

কারণ
ভালোবাসাহীন প্রাসাদও শূন্য,
আর মায়াভরা ছোট ঘরও অমূল্য।
যেখানে ক্ষমা, শ্রদ্ধা আর মমতা থাকে,
সেখানেই আল্লাহর রহমত নেমে আসে।

তাই আসো
রাগের বদলে ধৈর্য শিখি,
কঠিন কথার বদলে মায়া,
অহংকারের বদলে বিনয়,
দূরত্বের বদলে হৃদয়ের ছায়া।

হে আল্লাহ!
প্রতিটি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে দাও
আলী ফাতেমার সংসারের মতো
ত্যাগ, বিশ্বস্ততা, দয়া, ধৈর্য আর জান্নাতি শান্তির আলো।
আমিন।


মন্তব্য করুন

ব্লগ