Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ মে, ২০২৬ ০৬:০৬ অপরাহ্ণ

পরকালে বিশ্বাস - মোঃ মুজিবুর রহমান

পরকালে  বিশ্বাস  

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

পরকালের ভয় যার অন্তরে জাগে,
সে মানুষটা ভালোবাসা বিলায় অনুরাগে।
তার মুখে থাকে না অহংকারের ভাষা,
মানুষের দুঃখে জাগে সহানুভূতির আশা।

সে জানেএকদিন হিসাব হবে সব,
কারো হক নষ্ট হলে বাড়বে কঠিন রব।
তাই তো সে আত্মীয় ডাকে আপন করে,
রাগ-অভিমান ভাসিয়ে দেয় চোখের নরম জলে।

যে আল্লাহ আখেরাতে রাখে দৃঢ় বিশ্বাস,
সে ভাঙে না কখনো সম্পর্কের নিঃশ্বাস।
দূরের চাচা, ফুফু, খালা কিংবা ভাই,
সবার প্রতি মমতা তার অন্তরে ঠাঁই।

আত্মীয় ভুল করলেও ছিঁড়ে না সে বাঁধন,
ক্ষমার মাঝে খুঁজে ফেরে জান্নাতের সাধন।
কত কষ্ট পেলেও বলে
রবের জন্য সহ্য করি, এটাই তো ভালো চলে।

অভাবী আত্মীয় এলে ফিরিয়ে দেয় না দর,
নিজের কম থাকলেও খুলে দেয় অন্তর।
কারণ সে জানে দানের চেয়ে বড়,
আত্মীয়ের হক আদায়ে সওয়াব বহুগুণ ঘর।

হাসিমুখে খোঁজ নেয় অসুস্থ মানুষের,
বৃদ্ধ চাচার পাশে বসে শুনে মনের খবর।
মায়ের দিকের মামা, বাবার দিকের ভাই,
সবাইকে নিয়ে তার হৃদয় ভরে যায়।

সে জানেরক্তের এই সম্পর্কগুলো,
আল্লাহর রহমতের অমূল্য দান হলো।
যে তা ছিন্ন করে অহংকারের বশে,
বরকত হারিয়ে ফেলে জীবনের শেষে।

প্রতিবেশীর প্রতিও যার ঈমানি দরদ,
তার ঘরে থাকে না বিদ্বেষের পর্দা।
দেয়ালের এপাশ-ওপাশ শুধু ইট নয়,
মানবতার বন্ধনও সেখানে রয়।

রাতে যদি পাশের ঘরে কান্নার শব্দ ওঠে,
মুমিন হৃদয় ঘুমিয়ে থাকে না নীরব রথে।
দরজায় কড়া নাড়ে মায়াভরা হাতে,
কোনো কষ্ট আছে নাকি?”—জিজ্ঞেস করে সাথে।

নিজে ভালো খেয়ে যদি পাশের ঘরে ক্ষুধা,
তবে কেমন করে দাবি করে ঈমানের শুদ্ধতা?
রাসুলের শিক্ষা তো মমতার আলো,
প্রতিবেশীর অধিকারে গড়ুক জীবন ভালো।

যার জিহ্বা থেকে মানুষ নিরাপদ নয়,
তার নামাজ-রোজায়ও পূর্ণ শান্তি কয়?
কঠিন কথা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, অপমানের আগুন,
এসব দিয়ে জ্বলে ওঠে সম্পর্কের শোকধুন।

তাই মুমিন কথা বলে নরম মিষ্টি সুরে,
মানুষ যেন শান্তি পায় তার ব্যবহার ঘিরে।
সামান্য হাদিয়া দিলেও বাড়ে ভালোবাসা,
হৃদয়ের দূরত্ব মুছে গড়ে মায়ার ভাষা।

বিপদে আগে ছুটে যায় প্রকৃত প্রতিবেশী,
স্বার্থ ছাড়া পাশে থাকে ভালোবাসা মেশি।
মৃত্যু হলে জানাজাতে কাঁধ দেয় নীরবে,
অসুস্থ হলে দেখতে যায় আন্তরিক তরে।

এই তো ইসলামমানবতার দীন,
ভালোবাসা, দয়া, ক্ষমা যার মূল রঙিন।
শুধু তসবিহ গোনা নয়, নয় বড় বুলি,
মানুষের হক আদায়েই সফলতার ঝুলি।

পরকালের বিশ্বাস যদি সত্যিই থাকে প্রাণে,
তবে কেন ঘৃণা রাখি আপন মানুষের টানে?
কেন ভাইয়ে ভাইয়ে বিভেদ জমে রয়?
কেন প্রতিবেশী দেখে হৃদয় কাঁদে না কই?

এসো আজ বদলাই অন্তরের দৃষ্টি,
মমতা দিয়ে গড়ি মানবতার সৃষ্টি।
আত্মীয়ের সাথে রাখি ভালোবাসার সেতু,
প্রতিবেশীর হক আদায়ে হই সত্য নেতা।

হে আল্লাহ! তুমি দাও এমন কোমল মন,
যেখানে থাকবে না হিংসা-অহংকারের ক্ষণ।
আত্মীয়তার বন্ধন করো আরও দৃঢ়,
প্রতিবেশীর হক আদায়ে করো আমাদের দৃঢ়।

মানুষ যেন মানুষকে আপন ভেবে চায়,
দুঃখে-সুখে পাশে থেকে ভালোবাসা বিলায়।
পরকালের সফলতা হোক সবার ঠিকানা,
মানবতার আলোয় ভরে উঠুক এই দুনিয়া।



পরকালের বিশ্বাস মানবতার বন্ধন

পরকালের ভয় যার অন্তরে জাগে,
সে মানুষটা মানুষকে ভালোবাসে অনুরাগে।
তার চোখে মানুষ শুধু স্বার্থের পাত্র নয়,
প্রত্যেক হৃদয় যেন আমানতরবেরই পরিচয়।

সে জানেএকদিন মিজানের পাল্লায়,
ওজন হবে প্রতিটি কথা, প্রতিটি আচরণমালায়।
কে কাঁদল তার কারণে, কে পেলো শান্তি,
সবই লেখা থাকবেকোনো কিছু নয় ভ্রান্তি।

তাই সে আত্মীয় ডাকে মমতার ভাষায়,
ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগায় ভালোবাসার আশায়।
রাগে যদি দূরে যায় আপন কোনো ভাই,
তবুও সে বলে—“ক্ষমা করি, ফিরে আয়।

চাচা-ফুফু, খালা-মামা, দাদা কিংবা চাচাতো,
সব সম্পর্ক রাখে সে হৃদয়ের কাছাকাছি যত।
কারণ সে জানেরক্তের এই টান,
আল্লাহর দেওয়া অমূল্য এক দান।

আত্মীয় কটু কথা বললেও ধৈর্য ধরে রয়,
প্রতিশোধ নয়, ক্ষমাতেই তার হৃদয় জয়।
নিজে কষ্ট পেলেও সম্পর্ক ভাঙে না,
পরকালের আশায় সে ভালোবাসা ছাড়ে না।

গরিব আত্মীয় এলে ফিরিয়ে দেয় না দর,
সামান্য থাকলেও খুলে দেয় অন্তর।
কারণ সে জানেদান যদি আপন জনে যায়,
দুই দিকের সওয়াব তখন আমলনামায় ঠাঁই পায়।

অসুস্থ খালার খোঁজ নেয়, বৃদ্ধ চাচার পাশে বসে,
একটু সান্ত্বনা দেয় মায়াভরা হাসি হেসে।
কবরের ঘুম একদিন সবারই হবে ঠিক,
তাই তো সে মানুষের হক আদায়ে থাকে নিরবধিক।

সে জানেআত্মীয়তার সম্পর্ক আরশে ঝুলে রয়,
যে তা ছিন্ন করে, রহমত থেকেও দূরে সরে যায়।
কত মানুষ নামাজ পড়ে, তবু শান্তি পায় না,
কারণ আত্মীয়ের কান্না তার পিছু ছাড়ে না।

প্রতিবেশীর প্রতিও যার ঈমানি অনুভব,
তার ঘর থেকে ছড়ায় মমতার সুবাস সব।
দেয়ালের ওপাশে যদি ক্ষুধার কান্না বাজে,
মুমিন হৃদয় তখন নিশ্চুপ থাকতে লাজে।

নিজে মজাদার খাবার খেয়ে দরজা বন্ধ করে,
পাশের ঘরে অভাব কেমন ঈমান ধরে?
রাসুলের শিক্ষা তো দয়ার নদী বহায়,
প্রতিবেশীর হক আদায়ে জান্নাতের পথ দেখায়।

যার আচরণে প্রতিবেশী থাকে আতঙ্কে,
তার ইবাদতও পড়ে যায় ভয়ানক সংকটে।
কঠিন কথা, অপমান, ঝগড়া আর অহংকার,
এসব দিয়ে অন্ধকার হয় হৃদয়ের দ্বার।

তাই প্রকৃত মুমিন কথা বলে ধীরে,
মানুষ যেন শান্তি পায় তার কাছে ফিরে।
সামান্য হাদিয়া দিলেও ভালোবাসা বাড়ে,
হিংসা-বিদ্বেষ ধীরে ধীরে দূরে সরে যায় কাঁদে।

রাতে যদি পাশের ঘরে অসুস্থ কেউ রয়,
মুমিন আগে ছুটে যায়, মানবতা তখন কয়
এটাই তো ইসলাম, এটাই দীন,
মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ঈমানের রঙিন।

কারো মৃত্যু হলে জানাজায় আগে যায়,
বিপদে-আপদে প্রতিবেশীর হাতটা ধরায়।
স্বার্থ ছাড়া পাশে থাকা বড় ইবাদত,
এতেই লুকিয়ে আছে রবের অসীম রহমত।

পরকালের বিশ্বাস শুধু মুখের বুলি নয়,
বিশ্বাস মানুষকে বিনয়ী হতে কয়।
যে আখেরাত মানে, সে জুলুম করতে পারে না,
অন্যের হক মেরে সুখে থাকতে জানে না।

আজ কত ঘরে ঘরে সম্পর্ক ভাঙার সুর,
অহংকারের আগুনে পুড়ে যায় হৃদয়পুর।
ভাইয়ে ভাইয়ে বিভেদ, প্রতিবেশীর সাথে দ্বন্দ্ব,
এসব যেন দূর হয় ভালোবাসার ছন্দ।

এসো আমরা মানুষ হই কুরআনের আলোয়,
ভালোবাসা ছড়িয়ে দিই পৃথিবীরই তলায়।
আত্মীয়ের হক রাখি, প্রতিবেশীর মান,
এতেই তো ফুটে ওঠে প্রকৃত মুসলমান।

নামাজের কাতারে শুধু দাঁড়ালেই হবে না,
মানুষের কান্না মুছে না দিলে শান্তি রবে না।
ইবাদতের সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে প্রাণে,
যখন মানুষ নিরাপদ থাকে আমাদের টানে।

হে আল্লাহ! তুমি আমাদের অন্তর নরম করো,
হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার সব দূরে সরাও।
আত্মীয়তার বন্ধন করো আরও মজবুত,
প্রতিবেশীর হক আদায়ে দাও অন্তরকে সুবোধ।

আমাদের ঘর হোক শান্তি আর মায়ার ঠিকানা,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক দুনিয়ার প্রতিটা খানা।
পরকালের সফলতা হোক সবার শেষ ঠিকানায়,
মানবতার আলো জ্বলে উঠুক প্রতিটি হৃদয়-মহল্লায়।


***

আখেরাতের বিশ্বাস মানবতার কবিতা

আখেরাতের ভয় যার অন্তরে জাগে,
সে কখনো মানুষ পোড়ায় না রাগে।
তার হৃদয়ে থাকে মায়ারই নদী,
মানুষের দুঃখে কেঁদে ওঠে নিরবধি।

সে জানেএকদিন মাটির ঘর ছেড়ে,
দাঁড়াতে হবে রবের আদালতে গিয়ে পড়ে।
সেখানে চলবে না দম্ভ আর পরিচয়,
মানুষের হকই হবে আসল পরিচয়।

তাই তো সে আত্মীয়তার বাঁধন রাখে,
রাগ এলেও সম্পর্ক ভাঙতে না শেখে।
চাচা-ফুফু, খালা-মামা, ভাই কিংবা বোন,
সবাইকে ঘিরেই তার ভালোবাসার মন।

কেউ যদি কষ্ট দেয়, তবুও সে চুপ,
ক্ষমা দিয়ে নিভিয়ে ফেলে বিবাদের রূপ।
কারণ সে জানেক্ষমার মাঝেই জয়,
আল্লাহর রহমতও ক্ষমাশীলের সাথেই রয়।

আত্মীয় দরিদ্র হলে পাশে গিয়ে দাঁড়ায়,
নিজের সুখ কমিয়ে হলেও সহায়তা বাড়ায়।
কারণ সে শুনেছে নবীর মধুর বাণী
আত্মীয়কে দান করলে দ্বিগুণ সওয়াব আনি।

কত মানুষ আছে, নামাজ পড়ে ঠিক,
কিন্তু আত্মীয়ের সাথে আচরণ অমানবিক।
মুখে তাসবিহ, অন্তরে হিংসার আগুন,
এভাবে কি মিলবে জান্নাতের সুবাস গুণ?

পরকালে বিশ্বাসী মানুষ এমন হয় না,
মানুষের কান্না শুনে নিশ্চুপ রয় না।
বৃদ্ধ চাচার খোঁজ নেয়, অসুস্থ খালারও,
একটু হাসি দিয়েই ভরে দেয় ভালোবাসার ঢেউ।

আত্মীয়তার সম্পর্ক আরশেতে ঝুলে রয়,
যে তা ছিন্ন করে, রহমত থেকেও ক্ষয়।
রিযিকে বরকত চায় যদি কোনো প্রাণ,
তবে আত্মীয়তার হক আদায় করুক অবিরাম।

প্রতিবেশীর হকও ইসলামে অতি বড়,
শিক্ষা এনেছেন নবী বিশ্বজোড়া ঘর।
যার আচরণে প্রতিবেশী কষ্ট পায়,
তার ইবাদতও ভয়ানক প্রশ্নে হারায়।

প্রতিবেশী শুধু দেয়ালের ওপাশে থাকা নয়,
সুখে-দুঃখে পাশে থাকা মানবতার পরিচয়।
রাতে যদি শোনা যায় কান্নার ধ্বনি,
মুমিন হৃদয় তখন ঘুমায় কেমনি?

নিজে পেটপুরে খেয়ে দরজা বন্ধ করে,
পাশের ঘরে ক্ষুধা কেমন অন্তরে?
রাসুলের উম্মত তো দয়ার প্রতীক,
প্রতিবেশীর হক আদায়ে হওয়া চাই সঠিক।

সামান্য হাদিয়াও ভালোবাসা বাড়ায়,
বিদ্বেষের অন্ধকার হৃদয় থেকে সরায়।
এক বাটি তরকারি, একটু মিষ্টি হাসি,
এসবেই গড়ে ওঠে সম্পর্কের বাতাসি।

কঠিন ভাষা, অপমান আর গালি,
মানুষের হৃদয়ে বসায় দুঃখের ডালি।
তাই মুমিন কথা বলে নরম সুরে,
মানুষ যেন শান্তি পায় তার কাছে ফিরে।

অসুস্থ হলে দেখতে যায় আন্তরিক মনে,
বিপদ এলে ছুটে আসে সবার আগমনে।
কারো মৃত্যু হলে জানাজায় দাঁড়ায়,
মানবতার আলো তখন চারিদিকে ছড়ায়।

আজ কত ঘরে সম্পর্ক ভাঙনের সুর,
অহংকারের আগুনে জ্বলছে হৃদয়পুর।
টাকার জন্য ভাইয়ে ভাইয়ে বিভেদ,
স্বার্থের দেয়ালে হারিয়ে গেছে স্নেহবোধ।

কোথায় সেই মায়া? কোথায় সেই টান?
কোথায় আত্মীয়তার মধুর সম্মান?
কোথায় প্রতিবেশীর দরদমাখা ডাক?
কেন আজ হৃদয়গুলো এত নিষ্ঠুর ফাঁক?

এসো আবার ফিরি নবীর শিক্ষায়,
মানবতার আলো জ্বালি পৃথিবীর দিশায়।
আত্মীয়ের সাথে রাখি ভালোবাসার সেতু,
প্রতিবেশীর পাশে থাকি সত্যিকার বন্ধু।

নামাজ-রোজার সাথে দরকার সুন্দর মন,
মানুষের হক আদায়েই পূর্ণ হয় জীবন।
শুধু সিজদা নয়, শুধু দীর্ঘ দোয়া নয়,
মানুষের শান্তিতেও আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়।

যে মানুষ অন্যকে নিরাপদ রাখে,
আল্লাহও রহমতের ছায়া দেন তাকে।
যে মানুষ ভালোবাসা বিলায় অবিরাম,
তার জীবনেই নেমে আসে শান্তির কালাম।

হে আল্লাহ! তুমি দাও এমন অন্তর,
যেখানে থাকবে না অহংকারের ঘর।
আত্মীয়তার বন্ধন করো অটুট,
প্রতিবেশীর হক আদায়ে করো দৃঢ় সুমধুর।

আমাদের মুখে দাও কোমল ভাষা,
মানুষের মনে জাগুক ভালোবাসা।
ঘৃণা-বিদ্বেষ দূরে যাক চিরদিন,
মানবতার সুবাসে ভরে উঠুক জমিন।

পরকালের সফলতা হোক সবার আশা,
মানুষের কল্যাণেই কাটুক জীবনের ভাষা।
আল্লাহর সন্তুষ্টি হোক জীবনের ধন,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক প্রতিটি আপনজন

***

পরকালের বিশ্বাস, আত্মীয়তার বন্ধন প্রতিবেশীর হক

পরকালের ভয় যার অন্তরে জাগে,
সে মানুষটা দয়ার সাগর হয়ে জাগে।
তার চোখে মানুষ শুধু দুনিয়ার ভিড় নয়,
প্রতিটি প্রাণই যেন আল্লাহর আমানত হয়।

সে জানেএকদিন কবর হবে ঠিকানা,
শেষ হবে দম্ভ, শেষ হবে বাহানা।
সেদিন টাকা-পয়সা, ক্ষমতা, পরিচয়,
মানুষের হক ছাড়া কিছুই কাজে নয়।

তাই তো সে আত্মীয়তার সেতু গড়ে রাখে,
ভাঙা সম্পর্ক ভালোবাসা দিয়ে ঢাকে।
রাগে-অভিমানে দূরে গেলেও কেউ,
মুমিন হৃদয় ডাকে—“ফিরে আয় নিকট ঢেউ।

চাচা-ফুফু, খালা-মামা, ভাই কিংবা বোন,
সবাইকে নিয়েই তার আপন ভুবন।
রক্তের বাঁধন কেবল দুনিয়ার নয়,
আল্লাহর রহমতেরও এক নিদর্শন হয়।

আত্মীয় কটু কথা বললেও ধৈর্য ধরে,
ক্ষমার ফুল ফোটায় বুকেরই অন্তরে।
কারণ সে জানেক্ষমাশীল প্রাণ,
রবের কাছেই পায় সর্বোচ্চ সম্মান।

অভাবী আত্মীয় এলে ফিরিয়ে দেয় না দর,
নিজের কম থাকলেও খুলে দেয় অন্তর।
এক মুঠো ভাত হলেও ভাগ করে খায়,
কারণ সে জানে সওয়াব হারায় না কভু হায়।

অসুস্থ চাচীর পাশে বসে সান্ত্বনা দেয়,
বৃদ্ধ মামার গল্প শুনে সময় কাটায়।
কবরের নিঃসঙ্গ ঘুম একদিন সবারই হবে,
তাই তো সে মানুষের হক রাখে ভেবে ভেবে।

সে জানেআত্মীয়তার সম্পর্ক আরশেতে ঝুলে,
যে তা ছিন্ন করে, রহমত যায় ভুলে।
কত মানুষ ইবাদতে রাত জাগে ঠিক,
তবু আত্মীয়ের চোখে সে অমানবিক।

নামাজ পড়ে, তসবিহ গোনে হাজার বার,
কিন্তু আত্মীয়ের সাথে আচরণ অন্ধকার।
এমন ইবাদত কি শান্তি এনে দেয়?
মানুষের কান্না কি আসমানে না যায়?

প্রতিবেশীর হকও ইসলামে বড় দান,
শিক্ষা এনেছেন নবী করীম মহান।
দেয়ালের এপাশ-ওপাশ শুধু ঘর নয়,
মানবতার সম্পর্কও সেখানে রয়।

রাতে যদি পাশের ঘরে কান্না শোনা যায়,
মুমিন হৃদয় কি নিশ্চুপ থাকতে চায়?
দরজায় গিয়ে জিজ্ঞেস করে ধীরে
ভাই, কোনো কষ্ট আছে নাকি তোমার ঘিরে?”

নিজে পেটপুরে খেয়ে দরজা বন্ধ করা,
আর পাশের ঘরে ক্ষুধা কেমন ধারা?
রাসুলের উম্মত তো মায়ার প্রতীক,
প্রতিবেশীর হক আদায়েই ঈমান হয় ঠিক।

যার আচরণে প্রতিবেশী কষ্ট পায়,
তার আমলও ভয়ংকর প্রশ্নে হারায়।
কঠিন ভাষা, অপমান, অহংকারের আগুন,
এসবেই জ্বলে ওঠে সম্পর্কের শোকধুন।

তাই মুমিন কথা বলে নরম মিষ্টি সুরে,
মানুষ যেন শান্তি পায় তার কাছে ফিরে।
একটু হাসি, সামান্য হাদিয়া, মায়াভরা ডাক,
এসবেই দূর হয় হৃদয়ের ফাঁক।

এক বাটি তরকারি ভাগ করে দিলে,
সম্পর্কের ফুল ফুটে মানুষের মিলে।
ছোট ছোট ভালোবাসা জমে একদিন,
মানবতার বাগান হয় রঙিন।

অসুস্থ প্রতিবেশী হলে দেখতে যায়,
বিপদ এলে সবার আগে পাশে দাঁড়ায়।
কারো মৃত্যু হলে জানাজায় কাঁধ দেয়,
এভাবেই তো সত্যিকার মানবতা বেঁচে রয়।

পরকালের বিশ্বাস শুধু মুখের বুলি নয়,
বিশ্বাস মানুষকে বিনয়ী হতে কয়।
যে আখেরাত মানে, সে জুলুম করতে পারে না,
অন্যের হক মেরে শান্তিতে থাকতে জানে না।

আজ কত ঘরে ঘরে সম্পর্ক ভাঙার সুর,
অহংকারের আগুনে পুড়ছে হৃদয়পুর।
টাকার জন্য ভাইয়ে ভাইয়ে বিভেদ,
স্বার্থের দেয়ালে হারিয়েছে স্নেহবোধ।

কোথায় সেই আত্মীয়তার মধুর ডাক?
কোথায় সেই প্রতিবেশীর মায়াভরা হাক?
কেন আজ মানুষ মানুষকে ভয় পায়?
কেন ভালোবাসা শুকিয়ে যেতে চায়?

এসো আবার ফিরি নবীর শিক্ষার পথে,
মানবতার আলো জ্বালি জীবনরথে।
আত্মীয়ের সাথে রাখি মমতার সেতু,
প্রতিবেশীর পাশে হই সত্য বন্ধু।

শুধু দীর্ঘ সিজদা করলেই হবে না,
মানুষের কান্না মুছাতে না পারলে চলবে না।
ইবাদতের সৌন্দর্য তখনই ফুটে প্রাণে,
যখন মানুষ নিরাপদ থাকে আমাদের টানে।

যে মানুষ ভালোবাসা বিলায় অবিরাম,
তার জীবনেই নামে শান্তির কালাম।
যে মানুষ অন্যকে দেয় নিরাপদ স্থান,
তার জন্যই রহমতের দরজা হয় উন্মুক্ত মহান।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তর নরম করো,
হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার দূরে সরাও।
আত্মীয়তার বন্ধন করো অটুট দৃঢ়,
প্রতিবেশীর হক আদায়ে করো হৃদয় সমৃদ্ধ।

আমাদের মুখে দাও কোমল ভাষা,
মানুষের মনে জাগুক ভালোবাসা।
ঘৃণা-বিদ্বেষ দূরে যাক চিরদিন,
মানবতার সুবাসে ভরে উঠুক জমিন।

পরকালের সফলতা হোক সবার আশা,
মানুষের কল্যাণেই কাটুক জীবনের ভাষা।
আল্লাহর সন্তুষ্টি হোক জীবনের ধন,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক প্রতিটি আপনজন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ