সহকারী অধ্যাপক
২৬ মে, ২০২৬ ০৬:৩১ অপরাহ্ণ
"যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে- তুমি তার সাথে সম্পর্ক জোড়া লাগাও” - মোঃ মুজিবুর রহমান
"যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে-
তুমি তার সাথে সম্পর্ক জোড়া লাগাও”
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
কেউ যদি ভাঙে সম্পর্ক, তুমি তবু হাত বাড়াও,
রাগের আগুন নিভিয়ে দিয়ে ভালোবাসার বাতি জ্বালাও।
যে তোমাকে দূরে ঠেলে দেয় অহংকারের দেয়াল তুলে,
তুমি তারই খোঁজ নিও আবার নরম হৃদয় খুলে।
যে তোমাকে দেয়নি কিছু, কৃপণতায় ফিরিয়েছে মুখ,
তুমি তবু দাও তাকে হাসি, দাও সহমর্মিতার সুখ।
কারণ দান শুধু সম্পদ নয়, দান মানে মায়ার ছোঁয়া,
এক ফোঁটা আন্তরিক ভালোবাসাও বদলে দিতে পারে দুনিয়া।
যে তোমার নামে অপবাদ তোলে, আঘাত দেয় বারবার,
তুমি তবু প্রতিশোধে নয়, ক্ষমায় হও অটল পাহারাদার।
কারণ প্রতিশোধ আগুন বাড়ায়, ক্ষমা আনে শান্তির বৃষ্টি,
ক্ষমার মাঝেই লুকিয়ে থাকে আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি।
মানুষ আজ সম্পর্ক ভাঙে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতে,
ভাইয়ে ভাইয়ে দূরত্ব বাড়ে স্বার্থ আর রাগের দৃষ্টিতে।
কেউ কারো খবর নেয় না, ব্যস্ত শুধু হিসাব কষায়,
কে কত লাভ পেল শেষে, কে কতটুকু ঠকালো হায়!
এমন সময় নবীর বাণী ডাকে মমতার সুরে,
“ভেঙে যেও না, জোড়া লাগাও”—মানবতার নূরে।
যে তোমাকে কষ্ট দিল, তার জন্যও দোয়া করো,
অন্ধকারে হারিয়ে গেলে আলো হয়ে পাশে ধরো।
আত্মীয় যদি দূরে সরে অভিমানী পথ বেছে,
তুমি আগে সালাম দিও, ভালোবাসা রেখো মিছে না রেখে।
কারণ সম্পর্ক ভাঙা সহজ, ধরে রাখা বড় কঠিন,
ধৈর্যের মাঝেই লুকিয়ে থাকে মুমিন জীবনের রত্নচিন।
প্রতিবেশী যদি কখনো তিক্ত কথায় হৃদয় ভাঙে,
তুমি তবু খোঁজ নিও তার অসুখ হলে নীরব রাঙে।
ক্ষুধার রাতে দরজায় গিয়ে একটু খাবার দিয়ে এসো,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা নাও বসো।
বন্ধু যদি বিশ্বাস ভেঙে স্বার্থ নিয়ে দূরে যায়,
তুমি তবু মানবতার পথ ছেড়ে প্রতারণায় নেমো না হায়।
কারণ চালাকি সাময়িক জেতে, সত্য শেষে জয়ী হয়,
অহংকারের অট্টালিকা একদিন ধুলাতেই ক্ষয়।
ক্ষমা করা দুর্বলতা নয়, এটি শক্ত হৃদয়ের পরিচয়,
যে ক্ষমা করতে পারে সত্যি, তার মনেই শান্তি রয়।
ঝড়ের মাঝেও যে হাসে, রাগের বদলে মায়া বিলায়,
মানুষ তাকে ভুলে গেলেও আল্লাহ তাকে ভুলে না যায়।
আজ পৃথিবী ক্লান্ত বড় ঘৃণা আর প্রতিহিংসায়,
মানুষ মানুষকে আঘাত করে কথায়, কাজে, নিষ্ঠুর ছায়ায়।
এমন যুগে দরকার আবার নবীর স্নিগ্ধ আহ্বান,
ক্ষমা, দয়া, ভালোবাসায় গড়ে উঠুক নতুন প্রাণ।
যে বাবা-মার খোঁজ নেয় না ব্যস্ততার অজুহাতে,
সে যেন শেখে দায়িত্ব কাকে বলে জীবনের প্রভাতে।
যে সন্তান বৃদ্ধ পিতাকে ফেলে রাখে অবহেলায়,
সে কি জানে দোয়ার দরজা কোথায় খুলে নিরালায়?
স্বামী যদি স্ত্রীর সাথে রূঢ় আচরণ করে ক্ষণে ক্ষণে,
স্ত্রী যদি তিরস্কারে আগুন জ্বালে প্রতিটি কথার বনে,
তবে সংসারে শান্তি কোথায়? কোথায় সুখের নীড়?
ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ক্ষমাই পারে ঘরকে করতে ধীর।
নবীর শিক্ষা নদীর মতো—স্বচ্ছ, গভীর, কল্যাণময়,
যে হৃদয়ে এ শিক্ষা থাকে, সে কখনো অমানবিক নয়।
সে কাঁদতে জানে অন্যের দুঃখে, হাসতে জানে ভাগ করে,
সে মানুষের ক্ষতি নয়, উপকার করে অন্তর ভরে।
চলো তবে আজ প্রতিজ্ঞা করি অন্তর হবে প্রশস্ত,
রাগের বদলে ধৈর্য রাখব, আচরণ হবে নম্র-সুস্থ।
যে দূরে গেছে তাকে ডাকি, যে কাঁদে তাকে সান্ত্বনা দিই,
মানুষ হয়ে মানুষের তরে ভালোবাসার আলো জ্বালাই।
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তর করো ক্ষমাশীল ও উদার,
হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দাও, করো না হৃদয় পাথরভার।
যারা কষ্ট দেয় তাদেরও যেন হেদায়েতের পথে চাই,
নবীর দেখানো সুন্দর পথে চলার তাওফিক দাও সবাই।
আত্মীয়তার বন্ধনগুলো আবার হোক দৃঢ় ও মধুর,
প্রতিবেশীর মুখে ফুটুক শান্তির নির্মল নূর।
বন্ধুত্ব হোক স্বার্থহীন, ভালোবাসা হোক পবিত্র,
ক্ষমা আর দয়ার ছায়ায় ভরে উঠুক পৃথিবী চরিত্র।
যেদিন মানুষ শিখবে আবার
“ভাঙার বদলে জোড়া লাগানো”,
সেদিন ঘরে ঘরে ফুটবে শান্তি,
মুছে যাবে হৃদয়ের কাঁদানো।
যেদিন মানুষ প্রতিশোধ ছেড়ে
ক্ষমার আলো জ্বালাবে প্রাণে,
সেদিন এই পৃথিবীটাও
জান্নাতের সুবাস পাবে টানে।
ভেঙে যাওয়া সম্পর্কগুলো কাঁদে নীরব অন্ধকারে,
মানুষ আজ মানুষ হারায় সামান্য স্বার্থের ভারে।
একটু কথার ভুলে আজ ভাই হয় ভাইয়ের পর,
রক্তের বাঁধন ছিন্ন করে দূরে সরে যায় ঘর।
কেউ অভিমানে দরজা বন্ধ করে রাখে দিনের পর দিন,
কেউ অহংকারে ভুলে যায় আত্মীয়তার রঙিন ঋণ।
কেউ প্রতিশোধের আগুন বুকে জমিয়ে রাখে রাত,
কেউ ভালোবাসার বদলে দেয় কষ্ট, অপবাদ, আঘাত।
এমন কঠিন সময়েই নবীর স্নিগ্ধ ডাক শোনা যায়,
ক্ষমা, দয়া আর মমতার আলো হৃদয় জুড়িয়ে যায়।
তিনি বলেন—
“যে ছিন্ন করে, তুমি জোড়া লাগাও ভালোবাসার বাঁধন,
যে বঞ্চিত করে, তাকে দাও দয়ার নির্মল চাদরখান।”
কী অপূর্ব শিক্ষা এতে! কী বিশাল হৃদয়ের দান!
এ যেন মরুভূমির বুকে রহমতের শীতল পান।
মানুষ যেখানে বদলার নেশায় আগুন জ্বালায় প্রাণে,
ইসলাম সেখানে শান্তির ফুল ফোটাতে শেখায় টানে।
তুমি যদি রাগের বদলে ধৈর্যের প্রদীপ জ্বালাও,
শত্রুতার কালো মেঘ সরিয়ে মায়ার বৃষ্টি নামাও,
তবে কঠিন হৃদয়ও একদিন গলবে নিশ্চয়ই,
অন্ধকার রাত শেষে যেমন সূর্য হাসে নবময়ী।
যে আত্মীয় খবর নেয় না বছরের পর বছর,
তুমি তবু ঈদের সকালে পাঠাও ভালোবাসার খবর।
যে ভাই তোমার হক মেরে মুখ ফিরিয়ে নেয় দূরে,
তুমি তবু সালাম দিও আন্তরিকতার সুরে।
কারণ সম্পর্ক রাখা শুধু হাসি-আনন্দের কাজ নয়,
কষ্টের মাঝেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই প্রকৃত পরিচয়।
যে ভাঙনের মাঝেও জোড়া লাগায় ভরসার সেতু,
আল্লাহর কাছে সেই মানুষই সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু।
যে তোমাকে দেয়নি কিছু, ফিরিয়েছে শূন্য হাতে,
তুমি তবু দাও তাকে সহানুভূতি মানবতার প্রভাতে।
দান মানে শুধু অর্থ নয়, দান মানে সুন্দর ভাষা,
একটি হাসি, একটি খোঁজও দূর করতে পারে নিরাশা।
আজ মানুষ টাকার পিছে ছুটতে গিয়ে ভুলে যায়,
মায়ার চেয়ে বড় কিছু যে পৃথিবীতে আর না পাই।
ধনসম্পদ সবই রবে এই দুনিয়ার ধূলির তলে,
মানুষের ভালোবাসাটাই কিয়ামতে কাজে চলে।
যে তোমার নামে অপবাদ দেয় মানুষের আড্ডাখানে,
তুমি তবু তার জন্য দোয়া করো নীরব প্রাণে।
কারণ প্রতিশোধ ক্ষণিক জিতে, পরে আনে বিষাদ,
ক্ষমা কিন্তু অন্তরে আনে প্রশান্তির ইবাদত।
ক্ষমা করা সহজ নয়, লাগে বিশাল ধৈর্যের মন,
লাগে নিজের রাগকে জিতার শক্ত ইমানি পণ।
যে পারে কষ্ট চেপে রেখে হাসিমুখে ক্ষমা করতে,
আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়ান দুনিয়া ও আখিরাতে।
আজ স্বামী-স্ত্রীর মাঝেও বাড়ে অহংকারের দেয়াল,
ভালোবাসা শুকিয়ে গিয়ে ঘরে নামে বিষণ্ন কাল।
স্বামী যদি কঠোর ভাষায় স্ত্রীর হৃদয় ভাঙে,
স্ত্রী যদি তিরস্কারের আগুন প্রতিদিনই জ্বালায় রাঙে,
তবে সংসারের শান্তি কোথায়? কোথায় সুখের নীড়?
ক্ষমা ছাড়া সম্পর্কগুলো হয়ে যায় বড় নিঃস্ব, স্থির।
একটু নরম কথা, একটু আন্তরিক আচরণ,
ভেঙে যাওয়া হৃদয়ও জুড়ে দেয় অতি সহজে তখন।
বাবা-মা বৃদ্ধ হলে আজ কত সন্তান ভুলে যায়,
যে হাতে মানুষ হয়েছিল সে হাতই কাঁদতে চায়।
নবীর শিক্ষা বলে—সেবা করো মমতার সাথে,
জান্নাতের সুবাস মেলে মা-বাবারই পায়ের পথে।
প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত হলে নিজে কেমন ঘুমাও বলো?
নিজের ঘরে আলো জ্বেলে পাশের ঘর অন্ধকার রাখো?
নবীর উম্মত হতে হলে শিখতে হবে এই বাণী—
মানুষের দুঃখে পাশে দাঁড়ানোই বড় ইমানি।
বন্ধুত্ব যদি হয় শুধু স্বার্থ আর লেনদেনের খেলা,
তবে সে বন্ধন ভেঙে যাবে ঝড় এলে অবহেলা।
সত্যিকারের বন্ধু সে-ই, কষ্টে যে হাত ধরে রয়,
ভুল করলে শুধরে দেয়, বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে কয়—
“ভয় পেয়ো না, আমি আছি”, এই কথাটাই বড় দান,
এমন বন্ধুত্বেই থাকে জান্নাতি ভালোবাসার প্রাণ।
আজ সমাজজুড়ে বাড়ছে শুধু প্রতারণা আর চালাকি,
সরল মানুষ ঠকে গিয়ে বুকের ভিতর রাখে ফাঁকি।
তবু মুমিন প্রতিশোধে নয়, ন্যায়ের পথেই চলে,
কারণ আল্লাহ সবই দেখেন গোপন রাতের তলে।
অহংকারের প্রাসাদ যত উঁচু হোক না কেন,
একদিন সময়ের ঝড়ে ধুলায় মিশে যাবে যেন।
কিন্তু যে মানুষ ক্ষমা করে, ভালোবাসা বিলায়,
মানুষের দোয়ার ভিতর সে অনন্তকাল বাঁচায়।
হে মানুষ! কষ্ট পেলে পাথর হয়ো না অন্তরে,
ক্ষমার নদী বইতে দাও তোমার জীবনের ঘরে।
যে তোমাকে ঘৃণা করে, তুমি তাকে দোয়া দাও,
যে অন্ধকারে হারিয়ে যায়, তুমি তাকে আলো দেখাও।
হয়তো তোমার একটি আচরণ বদলে দেবে মন,
একটি ক্ষমাই ফিরিয়ে আনবে হারানো আপনজন।
একটি সালাম মুছে দিতে পারে বছরের দূরত্ব,
একটি মায়া জাগিয়ে তুলতে পারে মৃত মানবত্ব।
চলো তবে নবীর পথে জীবনটাকে সাজাই,
হিংসা-বিদ্বেষ দূরে ঠেলে ভালোবাসার আলো জ্বালাই।
আত্মীয়তার বন্ধনগুলো আবার করি দৃঢ়,
ক্ষমা আর দয়ার বাগানে ফুটুক শান্তির নূর।
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তর করো প্রশস্ত আকাশসম,
যেন কষ্ট পেয়েও ক্ষমা করি, না হই প্রতিশোধে মগ্ন।
যেন ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগাতে পারি হাসিমুখে,
যেন দুঃখ দিয়েও কেউ না থাকে আমাদের রাগের সুখে।
হে দয়াময়!
আমাদের ঘরে ঘরে দাও রহমতের সুবাস,
স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোনে দাও ভালোবাসার আভাস।
প্রতিবেশীর হক আদায়ে দাও আন্তরিক প্রাণ,
ক্ষমা, দয়া আর মানবতায় ভরে উঠুক জাহান।
যেদিন মানুষ শিখবে আবার
ভালোবাসা দিতে নিঃস্বার্থ মনে,
সেদিন পৃথিবী বদলে যাবে
রহমতের কোমল স্পন্দনে।
যেদিন মানুষ প্রতিশোধ ছেড়ে
ক্ষমার প্রদীপ জ্বালাবে ঘরে,
সেদিন অশান্ত পৃথিবীটাও
শান্তির জান্নাত হবে ধীরে ধীরে।
***
নবীর বাণী হৃদয়জুড়ে রহমতের এক নূর,
ভাঙা মনকে জোড়া লাগায়, দূর করে সব দূর।
যেখানে মানুষ বদলা নিতে আগুন জ্বালায় বুকে,
সেখানে তিনি শিখিয়েছেন—ভালোবাসো সুখে-দুঃখে।
“যে ছিন্ন করে সম্পর্ক, তুমি তারে কাছে টানো,
যে তোমাকে বঞ্চিত করে, তবু তাকে ভালোবাসো জানো।
যে তোমার প্রতি জুলুম করে অন্যায়ের বিষ ঢালে,
তুমি তবু ক্ষমার ছায়া দিও শান্ত হৃদয় কূলে।”
এ শিক্ষা শুধু মুখের কথা, কাব্যের কোনো ছন্দ নয়,
এ শিক্ষা মানব জীবনের শ্রেষ্ঠতম পরিচয়।
যে মানুষ এ বাণী বুকে ধারণ করে নীরব রাতে,
তার অন্তরে জান্নাত ফুটে আল্লাহর রহমত সাথে।
আজকে মানুষ কষ্ট পেলে সাথে সাথে বদলা চায়,
একটু কথার আঘাত পেয়ে সম্পর্ক ভেঙে যায়।
ভাইয়ে ভাইয়ে মামলা-মোকদ্দমা জমে বছরের পর বছর,
সন্তান ভুলে বৃদ্ধ পিতাকে, আত্মীয় হয় পর।
স্বার্থ ছাড়া মানুষ এখন সম্পর্ক রাখে কই?
লাভের অঙ্ক না মিললে আপন মানুষও আর নয়।
বন্ধুত্ব আজ টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায়,
মুখে মিষ্টি কথা বলেও অন্তরে বিষ ঢালায়।
এমন সময়ে নবীর শিক্ষা বৃষ্টির মতো নামে,
শুকিয়ে যাওয়া মানবতা আবার প্রাণ ফিরে পায় থেমে।
তিনি শিখিয়েছেন—
রাগকে জিতাই আসল জিহাদ, ধৈর্য আসল শক্তি,
ক্ষমা করাই মহানতার সবচেয়ে সুন্দর ভক্তি।
যে আত্মীয় খবর নেয় না বছরের পর বছর,
তুমি তবু তার দোরগোড়ায় রাখো মায়ার ঘর।
ঈদের চাঁদ উঠলে আগে সালাম পাঠাও তুমি,
হয়তো তোমার একটি ডাকেই গলে যাবে জমি।
যে ভাই তোমার সম্পদ নিয়ে ফিরিয়ে নেয় মুখ,
তুমি তবু তার অসুখ হলে পাশে দাঁড়াও সুখ।
কারণ মুমিন প্রতিশোধে নিজের মর্যাদা হারায় না,
ক্ষমা করে আল্লাহর কাছে সম্মানের আসন পায় না?
দান মানে শুধু ধনসম্পদ হাতে তুলে দেওয়া নয়,
একটু মমতা, একটু খোঁজও মানুষের বড় আশ্রয়।
কত মানুষ টাকার ভিড়ে ভালোবাসা পায় না আর,
একটি আন্তরিক বাক্যও তাদের করে অশ্রুধার।
যে তোমাকে অপমান করে সবার সামনে দাঁড়িয়ে,
তুমি তবু তার জন্য দোয়া করো হাত তুলে।
কারণ বদলা নিলে আগুন শুধু বাড়তেই থাকে,
ক্ষমা করলে শান্তির পাখি হৃদয় আকাশে ডাকে।
ক্ষমা করা সহজ কাজ নয়, লাগে বিশাল প্রাণ,
নিজের রাগকে বন্দী রাখা বড় ইমানি জ্ঞান।
যে পারে ক্রোধ গিলে নিয়ে নরম ভাষায় হাসতে,
আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়ান দুনিয়া আখিরাতে।
আজ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও অহংকারের দেয়াল,
একটু রাগে ভেঙে যায় কত সুখের রঙিন জাল।
স্বামী যদি কঠোর ভাষায় স্ত্রীর চোখে জল আনে,
স্ত্রী যদি তিরস্কারে বিষ ঢালে প্রতিটি টানে,
তবে কিভাবে শান্তি নামে সংসারের উঠোনে?
ভালোবাসা শুকিয়ে যায় অভিমানের আগুনে।
একটু ধৈর্য, একটু ক্ষমা, একটু নরম কথা,
এগুলোই সংসারটাকে জান্নাত করে যথা।
বাবা-মায়ের কষ্ট ভুলে যারা ব্যস্ত নিজের সুখে,
তারা কি জানে জান্নাত লুকায় মায়ের পায়ের নিচে?
বৃদ্ধ বাবার কাঁপা হাতে একদিন ছিল ভরসা,
আজ তাকে একা ফেলে রাখে স্বার্থের নির্লজ্জ ভাষা।
প্রতিবেশী ক্ষুধায় থাকলে পেট ভরে খেও না,
পাশের ঘরের কান্না শুনে নিশ্চিন্তে ঘুমিও না।
নবীর উম্মত হতে হলে শিখতে হবে আগে,
মানুষের দুঃখ নিজের মনে অনুভব করা লাগে।
বন্ধু যদি ভুল করে যায়, তাকে শুধরে দিও,
তার বিপদে হাত বাড়িয়ে পাশে গিয়ে দাঁড়িও।
বন্ধুত্ব মানে স্বার্থ নয়, নয় কেবল লেনদেন,
বন্ধুত্ব মানে কষ্ট ভাগে একসাথে থাকা যেন।
আজ সমাজজুড়ে চালাকি আর ধোঁকার বড় বাজার,
সরল মানুষ ঠকে গিয়ে কাঁদে বারংবার।
তবু সত্য একদিন জিতবেই আলোর মতন,
মিথ্যার অট্টালিকা ভাঙবে সময়েরই ক্ষণ।
অহংকারের মুকুট পরে কেউ বড় হয় না কভু,
নম্র হৃদয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় রত্নভূ।
যে মানুষ কাঁদতে জানে অন্যের দুঃখ দেখে,
সেই মানুষই আলো ছড়ায় মানবতার রেখে।
চলো তবে আজকে আমরা বদলে ফেলি মন,
রাগের বদলে ভালোবাসা হোক হৃদয়ের ধ্বনন।
যে দূরে গেছে তাকে ডাকি আন্তরিক আহ্বানে,
যে কাঁদে তাকে সান্ত্বনা দিই মানবতার টানে।
চলো ভুলে যাই পুরোনো সব প্রতিশোধের কথা,
ক্ষমার ফুল ফুটিয়ে তুলি জীবনেরই ব্যথা।
একটি সালাম, একটি হাসি, একটি মমতার হাত,
ফিরিয়ে আনতে পারে আবার হারিয়ে যাওয়া প্রভাত।
হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তর করো সাগরের মতো বিশাল,
যেন কষ্ট পেয়েও না জাগে প্রতিহিংসার জাল।
যেন সম্পর্ক ভাঙার আগে হাজারবার ভাবি,
যেন ক্ষমার আলোয় জীবন সাজিয়ে নিতে পারি।
হে দয়াময় রব!
ভাইয়ে ভাইয়ে দাও মহব্বত, স্বামী-স্ত্রীর প্রেম,
প্রতিবেশীর হক আদায়ে দাও ঈমানি নেম।
বন্ধুত্ব হোক জান্নাতি, স্বার্থহীন ও পবিত্র,
ক্ষমা আর ভালোবাসায় ভরে উঠুক চরিত্র।
যেদিন মানুষ শিখবে আবার
অন্যের দুঃখ বুঝতে প্রাণে,
সেদিন পৃথিবী বদলে যাবে
রহমতের স্নিগ্ধ টানে।
যেদিন মানুষ রাগ ভুলে
ক্ষমার প্রদীপ জ্বালাবে ঘরে,
সেদিন এই পৃথিবীটাও
জান্নাতের সুবাসে ভরে।
***
ভাঙা সেতুর ওপার থেকে কেউ যদি না আর ডাকে,
তুমি তবু ভালোবেসে দাঁড়াও তারই ফাঁকে ফাঁকে।
কারণ মুমিন হৃদয় কভু ঘৃণায় পাথর হয় না,
নবীর শেখানো মায়ার পথে দয়া কখনো ক্ষয় না।
যে আত্মীয় অভিমান নিয়ে দূরে সরে যায় চুপে,
তুমি তবু খোঁজ নিও তার নীরব বিকেল রূপে।
হয়তো তোমার একটি সালাম, একটি কোমল বাণী,
বরফ গলা নদীর মতো ফিরিয়ে আনবে টানি।
মানুষ এখন রাগের বশে সম্পর্ক ভাঙে হেসে,
কথার আঘাত বিষের মতো বুকের ভিতর শেষে।
একটু ভুল বোঝাবুঝিতে আপন হয়ে যায় পর,
স্বার্থের দেয়াল তুলতে তুলতে অন্ধ হয়ে ঘর।
ভাইয়ে ভাইয়ে জমে ওঠে হিসাবি দূরত্ব ভার,
মায়ের চোখে জমে থাকে না বলা অশ্রুধার।
বন্ধুত্বও লেনদেনের অঙ্ক কষে রাতদিন,
ভালোবাসার সরল ভাষা হারিয়ে গেছে বিলীন।
এমন যুগে নবীর বাণী শীতল বৃষ্টিধারা,
অন্ধকারে হারানো মন পায় নতুন দিশাহারা।
তিনি বলেন—
“যে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তুমি তাকে জুড়ে দাও,
যে বঞ্চিত করে তোমায়, তবু তাকে দান বিলাও।”
কী বিশাল এ হৃদয়ের শিক্ষা! কী অপরূপ দান!
এ যেন মরুর বুকে নেমে আসা রহমতের পান।
মানুষ যেখানে বদলার নেশায় জ্বালায় বিষের আগুন,
ইসলাম সেখানে শান্তির ফুল ফোটায় প্রতিক্ষণ।
যে তোমাকে অপমান করে জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে,
তুমি তবু তার জন্য দোয়া করো হাত তুলে।
কারণ প্রতিশোধ মুহূর্ত জিতে পরে কাঁদায় প্রাণ,
ক্ষমা কিন্তু অন্তরে আনে প্রশান্তির সম্মান।
ক্ষমা করা দুর্বলতা নয়, সাহসীদের কাজ,
রাগকে জিতে হাসতে পারাই মুমিন হৃদয়ের সাজ।
যে পারে ক্রোধ চেপে রেখে নরম ভাষায় বলতে,
আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়ান দুনিয়া আখিরাতে।
আজ সংসার ভাঙে শুধু কঠিন কথার তাপে,
একটু ধৈর্য না থাকাতে সুখ হারিয়ে মাপে।
স্বামী যদি রাগের বশে তীরের মতো কথা কয়,
স্ত্রীর চোখের নীরব কান্না আকাশ ছুঁয়ে রয়।
স্ত্রী যদি অভিমানের আগুন জ্বালায় ক্ষণে ক্ষণে,
ভালোবাসার বাগান শুকায় নীরব বিষণ্ন বনে।
অথচ একটু মমতা দিলে বদলে যেত ঘর,
ক্ষমা দিয়ে জুড়ে যেত শত ভাঙা অন্তর।
বৃদ্ধ বাবা দরজাতে আজ সন্তানেরই পথ চায়,
মায়ের কাঁপা হাতটি নীরব দোয়া হয়ে রয়।
যে সন্তান ব্যস্ত হয়ে ভুলে যায় সেই ঋণ,
সে কি জানে জান্নাত লুকায় মায়ের পদতল বিন।
প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত রেখে ঘুমিও না নিশ্চিন্তে,
মানুষ হয়ে মানুষের দুঃখ বুঝতে শেখো অন্তে।
নবীর উম্মত হতে হলে হৃদয় হতে হবে নরম,
অন্যের ব্যথা নিজের মতো অনুভব করাই ধর্ম।
বন্ধু যদি ভুল পথে যায়, তাকে শুধরে দিও,
ঝড়ের দিনে তার পাশে গিয়ে সাহস বুকে নিও।
বন্ধুত্ব মানে স্বার্থ নয়, নয় কেবল সুবিধা,
বন্ধুত্ব মানে আঁধার রাতে হাতে হাতের বিদ্যা।
আজ সমাজে চালাকিরই যেন বড় বাজার,
সরল মানুষ ঠকে গিয়ে বুক ভাসায় অশ্রুধার।
তবু সত্য সূর্যের মতো উঠবেই একদিন,
মিথ্যার যত প্রাসাদ গড়ে ভেঙে যাবে বিলীন।
অহংকারের মুকুট পরে বড় হওয়া যায় না,
নম্র হৃদয় ছাড়া কভু আল্লাহর প্রেম পাওয়া না।
যে অন্যের কষ্ট দেখে নীরবে চোখ ভেজায়,
সেই মানুষই মানবতার আলো পৃথিবী জ্বালায়।
যে তোমাকে ফিরিয়ে দিল শূন্য হাতে বারবার,
তুমি তবু দাও তাকে ভালোবাসার উপহার।
দান মানে শুধু ধন নয়, দান মানে মায়া,
একটি খোঁজ, একটি হাসি দূর করতে পারে ছায়া।
হয়তো তোমার একটি ক্ষমা বদলে দেবে মন,
একটি সালাম ফিরিয়ে আনবে হারানো আপনজন।
একটি নরম আচরণে জমাট বরফ গলে,
শুকনো হৃদয় ফুলের মতো ফুটে ওঠে ফলে।
চলো তবে আজকে আমরা নবীর পথে চলি,
ঘৃণার বদলে ভালোবাসার বীজ হৃদয়ে তুলি।
যে দূরে গেছে তাকে ডাকি আন্তরিক আহ্বানে,
যে কাঁদে তাকে সান্ত্বনা দিই মানবতার টানে।
চলো ভুলে যাই পুরোনো সব প্রতিশোধের ভাষা,
ক্ষমার ফুলে ভরে তুলি জীবনের নিরাশা।
হিংসা-বিদ্বেষ মুছে গিয়ে ফুটুক শান্তির নূর,
মানুষ হোক মানুষেরই ভালোবাসার সুর।
হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তর করো আকাশসম উদার,
যেন কষ্ট পেয়েও না জাগে প্রতিহিংসার ভার।
যেন ভাঙা সম্পর্কগুলো জুড়ে দিতে পারি,
ক্ষমা আর মায়ার আলোয় জীবন সাজিয়ে ধরি।
হে দয়াময় রব!
ভাইয়ে ভাইয়ে দাও মহব্বত, আত্মীয়তায় নূর,
স্বামী-স্ত্রীর ঘরে ঘরে দাও শান্তির সুর।
প্রতিবেশীর হক আদায়ে দাও আন্তরিক প্রাণ,
ক্ষমা, দয়া, ভালোবাসায় ভরে উঠুক জাহান।
যেদিন মানুষ শিখবে আবার
অন্যের দুঃখ বুঝতে প্রাণে,
সেদিন পৃথিবী ভরে উঠবে
রহমতের কোমল টানে।
যেদিন মানুষ রাগ ভুলে
ক্ষমার বাতি জ্বালাবে ঘরে,
সেদিন এই অশান্ত ধরায়
জান্নাতের সুবাস ভরে।
৭১
১৪৫ মন্তব্য