Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ মে, ২০২৬ ০৪:৫০ পূর্বাহ্ণ

তাহাজ্জুদের অশ্রুভেজা রাত - মোঃ মুজিবুর রহমান

তাহাজ্জুদের অশ্রুভেজা রাত

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

নিভৃত রাতের শেষ প্রহরে
ঘুমিয়ে থাকে দুনিয়া ঘরে,
তারারাও তখন নীরব হয়ে
চেয়ে থাকে আকাশ ভরে।

সেই নির্জনে কেউ একজন
অজু করে জাগে চুপে,
সিজদাতে মাথা নত করে
কাঁদে রবের প্রেমের রূপে।

না আছে লোক দেখানো কিছু,
না আছে কোনো বাহবা,
শুধু আল্লাহ শুনছেন তখন
ভাঙা হৃদয়ের ভাষা।

তাহাজ্জুদের সেই কান্নাতে
কাঁপে গুনাহ পাহাড়সম,
রহমতের দরজা খুলে
নামে নূরের অবিরাম।

রাতের আঁধার সাক্ষী থাকে
এক মুমিনের আর্তনাদে,
হে আল্লাহ গো, মাফ করে দাও,
ডুবেছি কত অপরাধে।

যে মানুষটি দিনে হয়তো
হাসে সবার মাঝখানে,
সেই মানুষই রাতের শেষে
কাঁদে একা মোনাজাতে।

তখন নয়নে জল ঝরে,
হৃদয় হয় খুবই নরম,
মনে পড়ে মৃত্যুর কথা,
কবর, হাশর, পুলসিরাত ভীষণ।

কেউ দেখে না তার ইবাদত,
কেউ জানেও না খবর,
তবু আসমানে ফেরেশতারা
লিখে রাখে তারই কদর।

আল্লাহ তখন ডাকতে থাকেন
আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী?
আছে কি কেউ দুঃখে কাতর?
আছে কি কোনো অভাবগ্রস্ত?”

কত সৌভাগ্য সেই বান্দার
যে শুনে সেই ডাকে,
ঘুমের মায়া ত্যাগ করে সে
দাঁড়ায় আল্লাহর পাকে।

সিজদাভেজা কপাল দেখে
রহমত নেমে আসে,
জীবনভরা কালো মেঘও
শান্ত হয়ে যায় পাশে।

তাহাজ্জুদ এক নীরব শিক্ষা
ধৈর্য, তাওবা, ভালোবাসা,
নামাজে হৃদয় শেখে
রবের প্রতি পূর্ণ ভরসা।

যে মানুষটি তাহাজ্জুদ পড়ে
সে শুধু নামাজি নয়,
তার অন্তরে জেগে ওঠে
আখিরাতের গভীর ভয়।

সে জানে দুনিয়া ক্ষণিকের,
সবই একদিন ফুরাবে,
ধন-সম্পদ, অহংকার সব
মাটির নিচে হারাবে।

তাই তো সে রাত জেগে জেগে
চায় না দুনিয়ার মান,
শুধু চায় রবের সন্তুষ্টি
আর জান্নাতের সম্মান।

কেউ পড়ে সালাতুল হাজত
প্রয়োজন পূরণের আশায়,
কেউ পড়ে তাওবার সালাত
চোখের জলে নিরালায়।

কেউ বা পড়ে ইস্তিগফারের
অশ্রুভেজা আবেদন,
হে আল্লাহ গো, তুমি ছাড়া
নেই তো আমার আপনজন।

সব ইবাদতের মূল যে হলো
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ,
যে নিয়তেই নফল পড়ি
থাকুক তাতে খাঁটি ভাব।

রাতের শেষে তাহাজ্জুদ যেন
হৃদয় জাগার আহ্বান,
নামাজে বদলে যেতে
পারে মানুষের প্রাণ।

কত পাপী হয়েছে ওলি
রাতের কান্নার তরে,
কত অন্ধ হৃদয় জেগে
আলো পেয়েছে ভোরে।

তাহাজ্জুদ এক নূরের সোপান,
আল্লাহর দিকে যাত্রা,
যেখানে বান্দা খুঁজে পায়
জীবনের আসল মাত্রা।

হে আল্লাহ গো, তাওফিক দাও
শেষ রাতে জেগে উঠি,
ঘুমের চেয়ে তোমার প্রেমে
ডুবে থাকি প্রতি ক্ষণটি।

আমাদের চোখ অশ্রু দিও
তোমার ভয় আর প্রেমে,
সিজদাভেজা জীবন কাটুক
তোমার রহমতের ছায়াতে।

হাশরের সেই কঠিন দিনে
সহজ করো হিসাব,
তাহাজ্জুদের উসিলায় দিও
জান্নাতের উত্তম বাব।

যখন সবাই ঘুমে বিভোর
আমরা যেন জাগি,
তোমার দরবারে কাঁদতে কাঁদতে
ক্ষমার আলো মাগি।

হে দয়াময়, কবুল করো
আমাদের সব দোয়া,
তাহাজ্জুদের নূর দিয়ে দিও
অন্তরখানি ছোঁয়া।

আমিন।

তাহাজ্জুদ : নিভৃত রাতের নূরানী আর্তি

ঘুমিয়ে পড়ে নিস্তব্ধ ধরা,
নিভে আসে কোলাহল,
চাঁদের আলো জানালাতে
ছড়িয়ে দেয় শান্তি জল।

তারারাও যেন থেমে গিয়ে
চেয়ে থাকে আকাশ ভরে,
কেউ একজন উঠে দাঁড়ায়
রাতের শেষের অন্ধকারে।

না কোনো দম্ভ, না বাহাদুরি,
না আছে লোক দেখানো,
শুধু রবের সন্তুষ্টির তরে
অন্তরখানি কাঁদানো।

অজুর জলে ধুয়ে ফেলে
দিনভর গুনাহের ধূলি,
সিজদাতে সে মাথা রেখে
বলে প্রভু, আমি ভুলি।

ক্ষমা করো হে দয়াময়,
আমি বড় অপরাধী,
তোমার দয়া ছাড়া প্রভু
নেই তো আমার গতি।

তাহাজ্জুদ শুধু নফল নয়,
এক প্রেমের ভাষা,
বান্দা যখন রবকে ডাকে
ভাঙা হৃদয় আশা।

ফরজের পরে শ্রেষ্ঠ সালাত
নবীজির সে বাণী,
যে নামাজে জাগে অন্তর
আর কাঁদে প্রাণখানি।

রাতের শেষে নিরব ঘরে
যখন সবাই ঘুমায়,
মুমিন তখন অশ্রু ঝরায়
রবের রহমত চায়।

কেউ পড়ে সালাতুল হাজত
চাপা দুঃখের ভারে,
কেউ পড়ে ইস্তিগফারের সালাত
ক্ষমা পাওয়ার দ্বারে।

কেউ বা তাওবার অশ্রু নিয়ে
সিজদাতে যায় নত,
হে আল্লাহ গো, ফিরিয়ে নাও
ভুলে যাওয়া এই পথ।

সব ইবাদতের মূল যে শুধু
আল্লাহর সন্তুষ্টি,
নিয়ত যদি খাঁটি থাকে
জীবন পায় পবিত্রতা সৃষ্টি।

তাহাজ্জুদের নীরব রাতে
কত ইতিহাস গড়ে,
কত পাপী ওলি হয়েছে
কান্নাভেজা প্রহরে।

যে হৃদয় ছিল পাথর কঠিন
গুনাহে ছিল ভরা,
সেই হৃদয় নরম হয়েছে
রবের প্রেমে সরা।

সেই রাতে ফেরেশতারা
লিখে রাখে নাম,
যারা ঘুম ছেড়ে জেগে ওঠে
করতে আল্লাহর সালাম।

আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী?”
ডাকে আসমানের রব,
আছে কি কেউ দুঃখে কাতর?
আমি মিটাব সব।

এই ডাক শুনে যে জেগে ওঠে
সে বড় সৌভাগ্যবান,
দুনিয়ার চেয়ে তার কাছে
প্রিয় হয় রহমান।

তাহাজ্জুদগুজার বান্দাদের
আল্লাহ করেন প্রিয়,
তাদের নামে জান্নাত জুড়ে
নূরের বালাখানা দিয়ো।

যার ভিতর বাহির দেখা যায়
স্বচ্ছ জান্নাত ঘর,
রাতের ইবাদতের বদলায়
হবে যারাই অধিকার।

হাশরের সেই ভয়াল দিনে
যখন কাঁপবে প্রাণ,
তাহাজ্জুদের সিজদাগুলো
দেবে শান্তির টান।

মানুষ যখন দিশেহারা
হিসাব নিয়ে ভীত,
তখন নেককার রাতজাগারা
হবে রহমতে সিক্ত।

তাদের ডেকে বলা হবে
এসো আমার প্রিয়জন,
হিসাব ছাড়া প্রবেশ করো
জান্নাতেরই অঙ্গন।

আহা! কত মহান সে মর্যাদা
কত বড় সে দান,
রাতের আঁধার কাঁদার তরে
মিলবে চির সম্মান।

তাহাজ্জুদ মানুষকে শেখায়
দুনিয়া ক্ষণিক পথ,
আখিরাতই আসল ঠিকানা
বাকিটুকু সব রথ।

ধন-সম্পদ, মান-অভিমান
একদিন যাবে ফুরায়,
কবরের মাটি নীরব হয়ে
সব অহংকার চুরায়।

তাই মুমিন রাত জেগে জেগে
খোঁজে নূরের দিশা,
রবের প্রেমে কাঁদতে কাঁদতে
ভরে তোলে হৃদপিশা।

তাহাজ্জুদ এক প্রশান্ত নদী
ক্লান্ত আত্মার তরে,
যেখানে গেলে অন্তরখানি
শান্ত হয়ে যায় রে।

নামাজে হৃদয় শেখে
সবর আর তাকওয়া,
মানুষ শেখে বিনয়, মায়া,
ক্ষমা আর দোয়া।

যে ঘরে রাতে তাহাজ্জুদ হয়
সে ঘর নূরে ভরে,
রহমতের ছায়া নেমে আসে
অদৃশ্য শান্তি ধরে।

স্বামী-স্ত্রী, সন্তান সবাই
যদি জাগে এই রাতে,
পরিবারে নেমে আসে
বরকত অগণিতে।

হে আল্লাহ গো, তাওফিক দাও
শেষ রাতে জাগিবার,
ঘুমের চেয়ে তোমার প্রেমে
হৃদয় ডুবাইবার।

সিজদাভেজা কপাল দিয়ে
ক্ষমা যেন পাই,
গুনাহভরা এই জীবনটা
নূরের পথে যাই।

হে রব! যখন কবর হবে
নিভৃত অন্ধকার,
তাহাজ্জুদের অশ্রুগুলো
করুক আলো অপার।

হাশরের সেই কঠিন মাঠে
যখন থাকবে ভয়,
তোমার রহমত ছায়া হয়ে
আমাদের সাথে রয়।

আমাদের দাও খাঁটি নিয়ত,
দাও ইখলাস ভরা মন,
সব ইবাদত কবুল করো
হে দয়াময় রহমান।

রাতের শেষে ফজর হাওয়ায়
যখন আলো হাসে,
তাহাজ্জুদের কান্নাগুলো
শান্তি হয়ে ভাসে।

যে মানুষটি রাতের শেষে
রবের দরজায় কাঁদে,
দুনিয়ার সব ঝড়-তুফানও
হার মানে তার সাধে।

তাহাজ্জুদ এক নূরের পথ,
একটি জান্নাতি ডাক,
যে শুনে সে সফল হবে
মুছে যাবে সব হাহাকার।

আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।

***

তাহাজ্জুদের নূরভেজা প্রহর

দুনিয়া যখন ঘুমের কোলে
নিস্তব্ধতায় ডুবে যায়,
চাঁদের আলো মেঘ সরিয়ে
রাতের বুকে নূর ছড়ায়।

নিভে আসে কোলাহল সব,
থামে ব্যস্ত নগরী,
ঠিক তখনই কেউ একজন
জাগে প্রেমে বিভোরি।

অজুর জলে ধুয়ে ফেলে
দিনের গুনাহ-মলিনতা,
সিজদাতে সে কাঁদতে থাকে
খুঁজে রবের নৈকট্যতা।

না কোনো লোক দেখানো,
না প্রশংসার আশা,
শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির তরে
ভাঙা হৃদয়ের ভাষা।

তাহাজ্জুদ শুধু নামাজ নয়,
এক নূরানী ডাক,
বান্দা যখন রবকে ডাকে
খুলে রহমতের ফাঁক।

ফরজের পরে শ্রেষ্ঠ এবাদত
রাসূলের পবিত্র বাণী,
রাতের অন্ধকারে কাঁদে
যে মুমিনের প্রাণখানি।

সেই রাতে আসমান জুড়ে
রহমতের দরজা খোলে,
ক্ষমার বৃষ্টি ঝরে পড়ে
অশ্রুভেজা চোখের তলে।

আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী?”
রবের আহ্বান ভাসে,
আছে কি কেউ দুঃখে কাতর?
এসো আমারই পাশে।

কত ভাগ্য সেই মানুষটির
যে শুনে সেই ডাক,
ঘুমের মায়া দূরে ঠেলে
রবের পথে হাঁট।

তার সিজদাভেজা কপাল দেখে
ফেরেশতারা হাসে,
তার নাম লিখা হয় নূরে
আসমানেরই খাতায় পাশে।

সে কাঁদে কবরের ভয়ে,
সে কাঁদে হাশরের তরে,
সে কাঁদে পাপের বোঝা নিয়ে
নিভৃত রাতের ঘোরে।

হে আল্লাহ গো, আমি পাপী,
ভুলে গেছি কত পথ,
তোমার দয়া ছাড়া আমার
নেই তো কোনো রথ।

কেউ পড়ে সালাতুল হাজত
দুঃখভার নামাতে,
কেউ পড়ে সালাতুত তাওবাহ
ক্ষমা পেতে রাতে।

কেউ পড়ে ইস্তিগফারের সালাত
অশ্রুভেজা মনে,
হে রব আমার, তুমি ছাড়া
কেউ নেই আপনজনে।

সব ইবাদতের মূল যে শুধু
রবের সন্তুষ্টি,
নিয়ত যদি খাঁটি থাকে
জীবন পায় পবিত্র সৃষ্টি।

তাহাজ্জুদের কান্না কত
অন্ধ হৃদয় জাগায়,
কত পাপী সেই অশ্রুতে
ওলির মর্যাদা পায়।

যে হৃদয় ছিল কালো মেঘে
অহংকারে ভরা,
রাতের শেষে তাহাজ্জুদে
হয় নরম সারা।

মুমিন তখন বুঝতে শেখে
দুনিয়া ক্ষণিক ছায়া,
আজ যে রাজা কাল সে হবে
মাটির নিচের মায়া।

ধন-সম্পদ, নাম-যশ সব
একদিন হবে শেষ,
শুধু নেক আমল রবে সাথে
কবরেরই পরিবেশ।

তাই তো মুমিন রাত জেগে
রবের রহমত চায়,
জীবনভরা ভুলের বোঝা
অশ্রু দিয়ে ধোয়ায়।

তাহাজ্জুদ এক প্রশান্ত নদী
ক্লান্ত প্রাণের তরে,
যেখানে গেলে হৃদয়খানি
শান্তি খুঁজে পায় রে।

নামাজে শেখা যায়
সবর, শোকর, তাকওয়া,
মানুষ শেখে বিনয়, মায়া,
ক্ষমা আর দোয়া।

যে ঘরে রাতে তাহাজ্জুদ হয়
সে ঘরে নূর নামে,
ফেরেশতারা রহমত নিয়ে
ভিড় জমায় সে থামে।

স্বামী-স্ত্রী, সন্তান মিলে
যদি জাগে শেষ রাতে,
সেই পরিবার জান্নাতি সুখ
পায় রহমতের ছায়াতে।

হে দয়াময়! তাওফিক দাও
শেষ রাতে জাগিবার,
ঘুমের চেয়ে তোমার প্রেমে
অন্তর ডুবাইবার।

আমাদের চোখ অশ্রু দিও
তোমার ভয় আর প্রেমে,
সিজদাভেজা জীবন কাটুক
রহমতেরই নেমে।

হাশরের সেই ভয়াল দিনে
যখন থাকবে ভয়,
তাহাজ্জুদের সিজদাগুলো
শান্তির ছায়া হয়।

যখন কবর অন্ধকারে
থাকবে নিঃসঙ্গ প্রাণ,
তখন যেন তাহাজ্জুদের নূর
হয় আলো অবিরাম।

হে আল্লাহ! কবুল করো
আমাদের সব দোয়া,
গুনাহভরা অন্তরখানি
করো নূরে ছোঁয়া।

যে রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে
আমরা যেন জাগি,
তোমার দরবারে কাঁদতে কাঁদতে
ক্ষমার আলো মাগি।

তাহাজ্জুদ এক জান্নাতি ফুল,
এক আসমানি সুবাস,
যে হৃদয়ে ফুটে ওঠে
সেখানে নামে উল্লাস।

রাতের শেষে ফজরের হাওয়ায়
যখন আলো হাসে,
তাহাজ্জুদের অশ্রুগুলো
শান্তি হয়ে ভাসে।

হে রব! তুমি দাও আমাদের
ইখলাস ভরা মন,
সব ইবাদত কবুল করো
হে দয়াময় রহমান।

আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন। 🤲

***

তাহাজ্জুদের নূরঝরা মোনাজাত 

রাত গভীর
চারিদিকে নীরবতা,
ঘুমে ডুবে আছে জনপদ,
নিভে গেছে ব্যস্ততার প্রদীপ।
শুধু আকাশের বুকজুড়ে
চাঁদের ম্লান আলো
আর কিছু জেগে থাকা তারা
অপলক চেয়ে থাকে পৃথিবীর দিকে।

ঠিক তখন
কেউ একজন ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়,
অজুর জলে ধুয়ে ফেলে
দিনভর জমে থাকা গুনাহের ধুলো,
তারপর নিভৃত ঘরের কোণে
সিজদায় লুটিয়ে পড়ে।

না কোনো মানুষের বাহবা,
না কোনো প্রশংসার প্রত্যাশা,
শুধু রবের সন্তুষ্টির আশায়
এক ভাঙা হৃদয়ের কান্না।

তাহাজ্জুদ শুধু নামাজ নয়
এক আকাশছোঁয়া ভালোবাসা,
এক নীরব আত্মসমর্পণ,
এক মুমিন হৃদয়ের
রহমতের দরজায় কড়া নাড়া।

সেই সিজদাভেজা রাতে
বান্দা বলে

হে আমার রব!
সারাদিন মানুষকে হাসি দিয়েছি,
কিন্তু অন্তরে ছিল কত ক্ষত,
আজ তোমার কাছেই খুলে বলি
আমার সব গোপন ব্যথা।

হে দয়াময়!
মানুষের চোখে আমি ভালো,
কিন্তু তুমি তো জানো
আমার অন্তরের অন্ধকার।

তুমি ছাড়া আমার আর কে আছে?
কার দরজায় যাবো আমি?”

তার কণ্ঠ কেঁপে ওঠে,
চোখ ভিজে যায় অশ্রুধারায়,
আর আসমানের দরজাগুলো
রহমতের আলোয় খুলে যায়।

সেই রাতে আল্লাহ ডাকেন

আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী?
আমি তাকে ক্ষমা করব।
আছে কি কোনো দুঃখভারাক্রান্ত?
আমি তার দুঃখ দূর করব।
আছে কি কোনো অভাবী বান্দা?
আমি তার প্রয়োজন পূরণ করব।

কত সৌভাগ্য সেই হৃদয়ের
যে এই ডাকে সাড়া দেয়!
ঘুমের মায়া ভেঙে
যে দাঁড়িয়ে যায় রবের সামনে।

তাহাজ্জুদ শেখায়
দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী,
আখিরাতই চিরস্থায়ী।

এই দুনিয়ার অহংকার,
বাড়ি-গাড়ি, সম্পদ, সম্মান
সব একদিন মাটির নিচে
নিঃশব্দে হারিয়ে যাবে।

কিন্তু রাতের আঁধারে
ফেলা এক ফোঁটা অশ্রু
আল্লাহর দরবারে
অমূল্য হয়ে থাকবে।

কত পাপী তাহাজ্জুদের কান্নায়
ওলির মর্যাদা পেয়েছে,
কত অন্ধ হৃদয়
এই নামাজে আলো খুঁজে পেয়েছে।

যে মানুষটা দিনে
মানুষের কাছে শক্ত,
সে- রাতে আল্লাহর কাছে
সবচেয়ে দুর্বল হয়ে কাঁদে।

তাহাজ্জুদের সিজদা
মানুষকে বিনয় শেখায়,
ক্ষমা শেখায়,
ধৈর্য শেখায়,
আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা শেখায়।

কেউ পড়ে সালাতুল হাজত
দুঃখ দূর হওয়ার আশায়,
কেউ পড়ে সালাতুত তাওবাহ
গুনাহ মাফের আকুতি নিয়ে,
কেউ পড়ে সালাতুল ইস্তিগফার
অশ্রুভেজা হৃদয়ে।

কিন্তু সব ইবাদতের মূল তো একটাই
আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি।

নিয়ত যদি খাঁটি হয়,
চোখের জল যদি সত্য হয়,
তবে সেই রাত
বান্দার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

যে ঘরে তাহাজ্জুদের কান্না ওঠে
সে ঘরে রহমত নামে,
ফেরেশতারা নূরের ডানা মেলে
বরকতের ছায়া বিছিয়ে দেয়।

স্বামী-স্ত্রী যদি একসাথে জাগে,
সন্তানদের জন্য দোয়া করে,
তবে সেই পরিবারে
শান্তির নদী প্রবাহিত হয়।

তাহাজ্জুদ এক নূরের সফর
যেখানে হৃদয় ধুয়ে যায়,
আত্মা পবিত্র হয়,
আর মানুষ নিজের রবকে
নতুন করে চিনতে শেখে।

হে আল্লাহ!
আমাদেরও তাওফিক দাও
শেষ রাতে জেগে উঠার।

ঘুমের চেয়ে
তোমার প্রেমকে বেশি ভালোবাসার।

আমাদের চোখে দাও
তাওবার অশ্রু,
আমাদের হৃদয়কে করো নরম,
আমাদের সিজদাকে করো কবুল।

হে দয়াময়!
যেদিন কবর হবে অন্ধকার,
সেদিন তাহাজ্জুদের নূর
আমাদের আলো হয়ে থাকুক।

যেদিন হাশরের ময়দানে
সবাই ভয় আর আতঙ্কে কাঁপবে,
সেদিন তোমার রহমতের ছায়ায়
আমাদের স্থান দিও।

আমাদের নাম লিখে দিও
সেই সৌভাগ্যবানদের দলে
যাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে পৃথক থাকে,
যারা রাতের শেষে
তোমার দরবারে কাঁদে।

হে রব্বুল আলামিন!
আমাদের সব নফল ইবাদত,
সব দোয়া,
সব কান্না,
সব সিজদা
তোমার দরবারে কবুল করে নাও।

তাহাজ্জুদের নূরে
আমাদের জীবন ভরে দাও।

আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।






Top of FormBottom of Form

মন্তব্য করুন