সহকারী অধ্যাপক
২৭ মে, ২০২৬ ০৬:০০ অপরাহ্ণ
কাবিল ও হাবিল (লোভ, ঈর্ষা ও মানবতার শিক্ষা) মোঃ মুজিবুর রহমান
কাবিল ও হাবিল
(লোভ, ঈর্ষা ও মানবতার শিক্ষা)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
আদি পিতা আদম যখন
এলো দুনিয়ার বুকে,
মানবজাতির প্রথম ঘর
গড়ল সুখের মুখে।
হাওয়া মায়ের স্নেহের ছায়া,
ভালোবাসার বাঁধন,
সন্তান নিয়ে সুখের নীড়ে
ছিল শান্তির সাধন।
দুইটি ভাই ছিল তখন—
হাবিল আর কাবিল,
একজন ছিল নম্র-শান্ত,
আরেক জনে গাফিল।
হাবিল ছিল সরল প্রাণের,
আল্লাহভীরু ভাই,
সত্য-ন্যায়ের পথে চলা
ছিল যার বড় ঠাঁই।
কাবিল কিন্তু হৃদয়জুড়ে
রাখত লোভের বাসা,
অহংকারে অন্ধ হয়ে
হারায় ভালোবাসা।
যমজ বোনের রূপের মোহে
জাগল মনের আগুন,
আল্লাহর সেই বিধান ভুলে
করল বিদ্রোহ গুণ।
আদম তখন বললেন ডেকে—
“আল্লাহরই ফয়সালা,
কোরবানি দাও নিষ্ঠা ভরে,
মিটুক মনের জ্বালা।”
হাবিল দিল সেরা দুম্বা
খুশি মনে হাসি,
আল্লাহরই সন্তুষ্টিতে
ছিল না কোনো ফাঁসি।
কাবিল দিল নিকৃষ্ট শস্য
অবহেলার ছলে,
মুখে ছিলো নামের ধারা
মন ছিল অন্য ফলে।
আকাশ হতে আগুন নেমে
হাবিলেরটা নিল,
কাবিল তখন রাগে-ক্ষোভে
হৃদয় ভেঙে দিল।
ঈর্ষা যখন অন্তরে ভাই
বিষের মতো জাগে,
মানুষ তখন হিতাহিত
সবই ভুলে থাকে।
কাবিল তখন হুমকি দিয়ে
বলল ক্রোধ ভরে—
“তোমায় আমি হত্যা করব
আজই এই ধরণে!”
হাবিল তখন শান্ত কণ্ঠে
বলল নরম বাণী—
“আল্লাহ শুধু কবুল করেন
মুত্তাকিদের দানই।
তুমি যদি হাতও তোলো
আমার প্রাণের পরে,
আমি কিন্তু তুলব না হাত
অন্যায়েরই তরে।
আমি চাই না রক্ত ঝরুক
ভাইয়ের হাতে ভাই,
আল্লাহর ভয় হৃদয়ে যার
সে তো জুলুম চায় না ভাই।”
কিন্তু তখন শয়তান এসে
দিলো কুমন্ত্রণা,
লোভের আগুন বাড়িয়ে দিল
হৃদয়ে অশান্তনা।
অন্ধ ক্রোধে কাবিল তখন
ভাইকে করল খুন,
মানব ইতিহাসে প্রথম
ঝরল রক্তের ধুন।
নিস্তব্ধ হলো বন ও পাহাড়,
কাঁদল আকাশ-বাতাস,
ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের মৃত্যু—
কি ভয়ংকর সর্বনাশ!
খুনের পরে কাবিল তখন
হয়ে গেল হতভম্ব,
লাশটি নিয়ে বুঝতে পারেনা
কোথায় হবে সম্ব।
দয়াময় সেই আল্লাহ তখন
পাঠালেন এক কাক,
মাটি খুঁড়ে দেখিয়ে দিল
দাফনেরই ফাঁক।
কাবিল তখন লজ্জায় কেঁদে
বলল হাহাকার—
“একটি কাকের চেয়েও আমি
হয়ে গেলাম হার!”
লোভ মানুষকে নিচে নামায়,
ভাঙে বিবেক-বোধ,
ঈর্ষা মানুষ পুড়িয়ে মারে
জ্বালিয়ে অন্তর-রোধ।
হিংসা যখন মনে জাগে
শান্তি পালায় দূরে,
ভালোবাসার ফুল শুকিয়ে
ঘৃণা ওঠে ঘুরে।
তাই হে মানুষ! লোভ ত্যাগ কর,
রাখো হৃদয় পবিত্র,
অন্যায়ের পথ ছেড়ে চলো
হও চরিত্রে চিত্র।
অল্পতেই সন্তুষ্ট যারা
তাদের জীবন সুখ,
লোভী মানুষের অন্তরে ভাই
জ্বলে দুঃখের দুখ।
ত্যাগের মাঝে মহিমা আছে,
আছে শান্তির নূর,
আল্লাহভীরু হৃদয় যাদের
তারা থাকে দূর—
হিংসা, ঘৃণা, অন্যায় থেকে,
জুলুম আর পাপ,
তাদের মুখে ফুটে সদা
ইমানেরই চাপ।
ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের ভালোবাসা
হোক মানবতার গান,
মায়া-মমতা, দয়া-ক্ষমায়
ভরে উঠুক প্রাণ।
অহংকার আর অতি লোভে
নষ্ট হয় বিবেক,
মানুষ তখন হারিয়ে ফেলে
সত্য-ন্যায়ের টেক।
হে আল্লাহ! তুমি আমাদের
রাখো সঠিক পথে,
লোভ-হিংসা দূরে সরাও
তোমার রহমতে।
আমাদের মন করো পবিত্র,
দাও তাকওয়ার আলো,
হাবিলের মত সত্যপথে
চলতে দাও ভালো।
কাবিলের সেই অন্ধ লোভ
থেকে বাঁচাও প্রাণ,
ভ্রাতৃত্ব, প্রেম, দয়া-মায়ায়
ভরুক বিশ্বজগৎখান।
আমিন।
কাবিলের লোভ ও হাবিলের ধৈর্য
মানবতার প্রথম রক্তপাতের করুণ ইতিহাস
আদি মানব আদম পিতা,
হাওয়া মায়ের ঘর,
স্নেহ-মায়ার আলো ছড়িয়ে
ছিল সুখের পর।
দুনিয়াজুড়ে শান্ত বাতাস,
ভালোবাসার গান,
মানবজাতির প্রথম ঘরে
ছিলো সুখের প্রাণ।
দুইটি ছেলে সেই পরিবারে—
হাবিল আর কাবিল,
একজন ছিল নরম হৃদয়,
আরেকজন গাফিল।
হাবিল ছিল সত্যপথের
এক উজ্জ্বল নাম,
আল্লাহভীতি, নম্র চরিত্র
ছিল তার অবিরাম।
কাবিল কিন্তু লোভে অন্ধ,
অহংকারে ভরা,
নিজের ইচ্ছা পূরণ ছাড়া
চিনত না কিছু ধরা।
একই ঘরে জন্ম নিল
দুইটি বোন সাথে,
একজন রূপে চাঁদের মতো,
আরেক সাধারণ মাতে।
আল্লাহর বিধান ছিল—
অন্য গর্ভে বিয়ে,
কিন্তু কাবিল জেদ ধরিল
নিজের বোনকেই নিয়ে।
আদম তখন দুঃখ ভরে
বললেন দুই ভাই,
“আল্লাহরই হুকুম মানো,
সত্যপথেই যাই।”
বিবাদ মেটাতে তখন তিনি
দিলেন এক নির্দেশ—
“কোরবানি দাও আল্লাহর নামে,
হোক সত্যের শেষ।”
হাবিল তখন ভালোবেসে
দিল উৎকৃষ্ট দুম্বা,
মনের মাঝে আল্লাহভীতি,
ছিল না কোনো দ্বন্দ্ব।
কাবিল দিল নিকৃষ্ট শস্য
অবহেলার তরে,
মুখে ইবাদত থাকলেও ভাই
মন ছিলো অন্য ঘরে।
হঠাৎ তখন আকাশ হতে
নামল আগুনরেখা,
হাবিলের সেই কোরবানিটি
করল কবুল দেখা।
কাবিল তখন রাগে জ্বলে
অন্তর হলো কালো,
ঈর্ষার আগুন হৃদয় পুড়িয়ে
নিভে গেল সব আলো।
লোভ যখন হৃদয়ে ঢোকে
মানুষ হয় অন্ধ,
সত্য-ন্যায়ের পথ হারিয়ে
জাগে পাপের গন্ধ।
কাবিল তখন ক্রোধে ফেটে
বলল কঠিন বাণী—
“আজই আমি হত্যা করব
তোমার জীবনখানি!”
হাবিল তখন ধৈর্য নিয়ে
বলল শান্ত স্বরে—
“আল্লাহ শুধু কবুল করেন
মুত্তাকিদের তরে।
তুমি যদি হত্যা করতে
তুলে ধরো হাত,
আমি কিন্তু তুলব না ভাই
অন্যায়েরই ঘাত।
আমি চাই না ভাইয়ের হাতে
ঝরুক ভাইয়ের রক্ত,
আল্লাহভীরু হৃদয় কখনো
হয় না অন্যায় শক্ত।”
কিন্তু শয়তানের কুমন্ত্রণায়
অন্ধ হলো মন,
অহংকার আর লোভ মিলে
করল সর্বনাশণ।
একটি পাথর হাতে নিয়ে
কাবিল নিষ্ঠুর প্রাণ,
হত্যা করল আপন ভাইকে—
কাঁদল ধরণিখান।
প্রথম রক্ত ঝরল তখন
মানব ইতিহাসে,
ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের মৃত্যু
দুঃখ রেখে আসে।
পাহাড় কাঁদে, বনও কাঁদে,
কাঁদে নীল আকাশ,
লোভের আগুন মানুষকে দেয়
শুধুই সর্বনাশ।
হত্যার পরে কাবিল তখন
হয়ে গেল হতবুদ্ধি,
লাশটি নিয়ে কোথায় যাবে
হারাল সব বুদ্ধি।
দয়াময় আল্লাহ তখন
পাঠালেন এক কাক,
মাটি খুঁড়ে শিখিয়ে দিল
দাফনেরই ফাঁক।
কাকটি দেখে কাবিল তখন
কেঁদে বলে হায়—
“একটি কাকের জ্ঞানও আমার
ভাগ্যে কেন নাই!”
অনুতাপে বুক ভরে যায়,
চোখে নামে জল,
লোভের আগুন মানুষকে ভাই
করেই দেয় বিফল।
এই কাহিনী শিক্ষা দেয়
মানবজাতির তরে—
লোভ-ঈর্ষা আগুনসম
জ্বালায় অন্তরে।
অল্পতেই সুখী যারা
তাদের মন বড়,
লোভী মানুষ শান্তি হারায়
দুঃখে জীবন ভর।
ত্যাগের মাঝে বরকত আছে,
আছে নূরের দিশা,
আল্লাহভীরু মানুষেরা
পায় জান্নাতের আশা।
হিংসা মানুষ পুড়িয়ে মারে,
অহংকারে ক্ষয়,
ভালোবাসা দূরে সরে,
নষ্ট হয় পরিচয়।
তাই হে মানুষ! লোভ ত্যাগ কর,
রাখো মন পরিষ্কার,
সত্য-ন্যায়ের পথে চললে
জীবন হবে অপার।
ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা
হোক পৃথিবীর গান,
দয়া-মায়া, স্নেহ-মমতায়
ভরুক সবার প্রাণ।
কাউকে দেখে হিংসা কোরো না,
রাখো অন্তর নরম,
অন্যায়ের পথ ছেড়ে চলো
মানো আল্লাহর ধর্ম।
যে হৃদয়ে তাকওয়া থাকে
সেই হৃদয় পবিত্র,
লোভের মাঝে ডুবে গেলে
মানুষ হয় চরিত্রহীন চিত্র।
হে মহান রব! তুমি মোদের
রাখো সঠিক পথে,
অতি লোভ আর হিংসা হতে
বাঁচাও রহমতে।
হাবিলের সেই ধৈর্য দাও,
দাও পবিত্র প্রাণ,
কাবিলের সেই অন্ধ লোভ
থেকে রক্ষা দান।
মানব হৃদয় ভরে উঠুক
ইমানেরই আলোয়,
শান্তি, প্রেম আর ভ্রাতৃত্ব থাক
প্রতিটি ঘর-বাড়োয়।
আমিন।
***
হাবিল ও কাবিল
লোভ, ঈর্ষা ও মানবতার প্রথম কান্না
আদি আসমান নীরব ছিল,
নীরব ছিল ধরা,
আদম-হাওয়ার ঘরটি তখন
সুখে ভরা সরা।
মায়ার বাঁধন, স্নেহের আলো,
ভালোবাসার নীড়,
মানবজাতির প্রথম ঘরে
ছিল শান্তির ভিড়।
দুইটি সন্তান বড় হচ্ছিল
সেই ঘরেরই কোলে,
হাবিল ছিল নম্র স্বভাব,
কাবিল রাগে দোলে।
হাবিল ছিল সাদা মনের,
ইমান ভরা প্রাণ,
আল্লাহভীতির আলো দিয়ে
ভরতো আপন প্রাণ।
কাবিল কিন্তু লোভে অন্ধ,
অহংকারে ভরা,
নিজের ইচ্ছা পূরণ ছাড়া
কিছু বুঝত না ধরা।
এক গর্ভেতে জন্ম নিল
দুইটি বোন সাথে,
একজন রূপে অপরূপা,
অন্য সাধারণ মাতে।
আল্লাহর সেই বিধান ছিল—
ভিন্ন গর্ভে বিয়ে,
কিন্তু কাবিল জেদ ধরিল
নিজের বোনকে নিয়ে।
রূপের মোহে অন্ধ হয়ে
ভুলল সত্যপথ,
লোভের আগুন জ্বলে উঠে
হারাল ন্যায়ের রথ।
আদম তখন ডাকলেন তাদের
বেদনাভরা মনে,
বললেন, “চলো আল্লাহরই
ফয়সালা মানি গুণে।
তোমরা দু’জন কোরবানি দাও
রবের সন্তুষ্টিতে,
যারটা হবে কবুল তখন
মীমাংসা হবে তাতে।”
হাবিল দিল মোটা দুম্বা
খাঁটি ভালোবাসায়,
মনের মাঝে তাকওয়া ছিল
আল্লাহর আশায়।
কাবিল দিল নিকৃষ্ট শস্য
অবহেলার ঢঙে,
বাহিরে নাম ইবাদতের
ভিতরে লোভ রঙ্গে।
হঠাৎ তখন আকাশ হতে
আগুন নেমে এলো,
হাবিলের সেই কোরবানিটি
কবুল করে নিলো।
কাবিল তখন ক্রোধে জ্বলে
অন্তর হলো কালো,
ঈর্ষার আগুন জ্বালিয়ে দিল
হৃদয়ের সব আলো।
হিংসা যখন মনে জাগে
মানুষ হয় ক্ষুদ্র,
বিবেক তখন হারিয়ে ফেলে
হয়ে পড়ে নিষ্ঠুর।
কাবিল তখন দাঁত চেপে কয়—
“মেরে ফেলব আজ!”
লোভের নেশায় ভুলে গেল
আল্লাহরই লাজ।
হাবিল তখন শান্ত কণ্ঠে
বলল ধীর বাণী—
“আল্লাহ শুধু কবুল করেন
মুত্তাকিদের দানই।
তুমি যদি হত্যা করতেও
আমার পানে চাও,
আমি কিন্তু অন্যায়ের পথে
হাত বাড়াতে নাও।
আমি ভয় পাই মহান রবকে,
রব সকলের প্রভু,
ভাইয়ের রক্ত ঝরাতে আমি
কখনো হব না কভু।”
কিন্তু তখন শয়তান এসে
কুমন্ত্রণা দিল,
অহংকার আর লোভের আগুন
আরও বাড়িয়ে দিল।
একটি পাথর তুলে নিয়ে
অন্ধ হলো প্রাণ,
নিজের ভাইকে হত্যা করে
কাঁপল বিশ্বজগৎখান।
মানবজাতির ইতিহাসে
প্রথম রক্ত ঝরে,
ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের মৃত্যু
কান্না আনে ঘরে।
আকাশ কাঁদে, বাতাস কাঁদে,
কাঁদে বন-পাহাড়,
লোভের আগুন মানুষ করে
নিষ্ঠুর অন্ধকার।
হত্যার পরে কাবিল তখন
হলো দিশেহারা,
লাশটি নিয়ে কী করবে সে
খুঁজে পায় না ধারা।
দয়াময় রব কাক পাঠালেন
শিক্ষা দেবার তরে,
কাকটি মাটি খুঁড়ে দেখায়
দাফন করার ঘরে।
কাবিল তখন মাথা নিচু
কাঁদে বুক ভাসায়ে—
“একটি কাকও জেনে গেল
আমি পারি নায়ে!”
অনুতাপের আগুন তখন
জ্বলে অন্তরজুড়ে,
কিন্তু ততক্ষণে ভাইয়ের রক্ত
মিশে গেছে ধূড়ে।
এই কাহিনী শুধু নয় ভাই
পুরোনো ইতিহাস,
আজও লোভে মানুষ করে
অসংখ্য সর্বনাশ।
টাকার লোভে ভাইয়ে ভাইয়ে
বাড়ে কত বিবাদ,
ক্ষমতার লোভে মানুষ হারায়
মানবতার সাধ।
হিংসা মানুষ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে
অন্ধকারে নেয়,
অহংকারে ভরা হৃদয়
শান্তি কখনো পায় নে।
অল্পেতে যে সন্তুষ্ট থাকে
সে-ই সুখী জন,
লোভী মানুষের অন্তর জুড়ে
জ্বলে দুঃখের বন।
ত্যাগের মাঝে শান্তি লুকায়,
আছে রহমতের নূর,
আল্লাহভীরু মানুষ থাকে
পাপের পথ হতে দূর।
তাই হে মানুষ! শিক্ষা নাও
হাবিল-কাবিল হতে,
লোভ-ঈর্ষা দূরে সরাও
জীবনেরই পথে।
ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা
হোক অন্তরের ভাষা,
ক্ষমা, দয়া, মায়া-মমতা
ছড়াক ভালোবাসা।
অন্যায়ের পথ ছেড়ে দিয়ে
সত্যপথে চলো,
আল্লাহর ভয় হৃদয়ে রেখে
মানবতাকে বলো—
“লোভ নয় ভাই, ভালোবাসাই
মানবতার মূল,
অহংকারে ধ্বংস আসে,
তাকওয়াই সঠিক কূল।”
হে মহান রব! তুমি মোদের
রাখো হেদায়েতে,
লোভ-ঈর্ষা দূরে সরাও
তোমার রহমতে।
হাবিলের সেই ধৈর্য দাও,
দাও পবিত্র মন,
কাবিলের সেই অন্ধ লোভ
থেকে করো রক্ষণ।
সত্য-ন্যায়ের আলো ছড়াক
প্রতিটি মানবপ্রাণ,
ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্বে
ভরে উঠুক জাহান।
আমিন।
***
কবিল ও হাবিল
লোভ, ঈর্ষা ও মানবতার প্রথম রক্তধারা
আদি পিতা আদম যখন
এলেন ধরার বুকে,
মানবজাতির প্রথম সকাল
হাসল সুখের মুখে।
হাওয়া মায়ের স্নেহছায়ায়
ভরল ঘরের কোণ,
ভালোবাসা, মায়া-মমতা
ছিল হৃদয়জুড়োন।
দুইটি পুত্র বড় হচ্ছিল
সেই ঘরেরই মাঝে,
হাবিল ছিল শান্ত-সরল
সত্যপথের সাজে।
কাবিল ছিল রাগে ভরা,
অহংকারে মত্ত,
লোভের আগুন বুকের ভিতর
করত তাকে ক্ষত।
হাবিল ছিল আল্লাহভীরু,
নম্রতারই ফুল,
তার চরিত্র পবিত্র ছিল,
হৃদয় ছিল কূল।
কাবিল কিন্তু রূপের মোহে
হারায় ন্যায়ের দিশা,
নিজের চাওয়া পূরণ ছাড়া
ছিল না অন্য আশা।
একই ঘরে জন্ম নিল
দুইটি বোন সাথে,
একজন ছিল অপরূপা,
অন্য সাধারণ মাতে।
আল্লাহর সেই বিধান ছিল—
ভিন্ন গর্ভে বিয়ে,
কিন্তু কাবিল জেদ ধরিল
নিজের বোনকে নিয়ে।
রূপের মোহে অন্ধ হয়ে
হারাল বিবেক-বোধ,
অহংকারে জ্বলে উঠল
অন্যায়েরই রোধ।
আদম তখন ডাকলেন দুই
সন্তান কাছে টেনে,
বললেন, “চলো আল্লাহরই
ফয়সালা আজ মেনে।”
“তোমরা দু’জন কোরবানি দাও
রবের সন্তুষ্টিতে,
যার কোরবানি কবুল হবে
মীমাংসা হবে তাতে।”
হাবিল দিল মোটা দুম্বা
খুশি ভরা প্রাণে,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি ছিল
তার সকল টানে।
কাবিল দিল নিকৃষ্ট শস্য
অবহেলার ছলে,
মুখে ইবাদত থাকলেও ভাই
মন ছিল অন্য ফলে।
আকাশ হতে আগুন নেমে
হাবিলেরটা নিল,
কাবিল তখন রাগে-ক্ষোভে
অন্তর কালো দিল।
ঈর্ষা যখন মনে জাগে
শান্তি থাকে না,
হিংসার আগুন মানুষকে ভাই
অন্ধ ছাড়া কিছু না।
কাবিল তখন ক্রোধে জ্বলে
বলল বিষের বাণী—
“আজই আমি হত্যা করব
তোমার জীবনখানি!”
হাবিল তখন ধৈর্য ধরে
বলল শান্ত স্বরে—
“আল্লাহ শুধু কবুল করেন
মুত্তাকিদের তরে।
তুমি যদি তুলো হাত ভাই
আমার প্রাণের পরে,
আমি কিন্তু তুলব না হাত
অন্যায়েরই তরে।
আমি চাই না ভাইয়ের হাতে
ঝরুক ভাইয়ের রক্ত,
আল্লাহভীরু হৃদয় কখনো
হয় না পাপশক্ত।”
কিন্তু তখন শয়তান এসে
দিলো কুমন্ত্রণা,
লোভের আগুন আরও বাড়ায়
অন্তরে অশান্তনা।
অন্ধ ক্রোধে কাবিল তখন
হারাল সব জ্ঞান,
নিজের ভাইকে হত্যা করে
কাঁদাল বিশ্বপ্রাণ।
মানব ইতিহাসে তখন
প্রথম রক্ত ঝরে,
ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের মৃত্যু
ব্যথা রেখে ঘরে।
আকাশ কাঁদে, বাতাস কাঁদে,
কাঁদে নদী-পাহাড়,
লোভের আগুন মানুষকে দেয়
অন্ধকারের ভার।
হত্যার পরে কাবিল তখন
হলো দিশেহারা,
লাশটি নিয়ে কী করবে সে
পেল না কোনো ধারা।
দয়াময় রব কাক পাঠালেন
শিক্ষা দেবার তরে,
কাকটি মাটি খুঁড়ে দেখাল
দাফন করার ঘরে।
কাবিল তখন কাঁদতে কাঁদতে
বলল আফসোস করে—
“একটি কাকও জেনে গেল,
আমি রইলাম হেরে!”
অনুতাপের আগুন তখন
জ্বলে বুকের মাঝে,
কিন্তু ততক্ষণে ভাইয়ের রক্ত
মিশে গেছে সাজে।
এই কাহিনী শুধু নয় ভাই
পুরোনো ইতিহাস,
আজও লোভে মানুষ করে
অসংখ্য সর্বনাশ।
টাকার লোভে ভাইয়ে ভাইয়ে
ভেঙে যায় সম্পর্ক,
ক্ষমতার লোভ মানুষ করে
নিষ্ঠুর আর কঠোর।
অহংকারে হৃদয় পুড়ে,
হিংসায় জ্বলে প্রাণ,
ভালোবাসার বাগান ভেঙে
হয় বিরানের টান।
অল্পেতে যে সন্তুষ্ট থাকে
সেই তো সুখী জন,
লোভী মানুষের অন্তরজুড়ে
দুঃখেরই আগুন।
ত্যাগের মাঝে শান্তি আছে,
আছে নূরের আলো,
আল্লাহভীরু হৃদয় যাদের
তাদের জীবন ভালো।
তাই হে মানুষ! লোভ ত্যাগ কর,
রাখো মন পবিত্র,
অন্যায়ের পথ ছেড়ে দিয়ে
হও চরিত্রে চিত্র।
ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা
হোক হৃদয়ের গান,
দয়া-মায়া, ক্ষমা-স্নেহে
ভরে উঠুক প্রাণ।
হিংসা নয়, হোক সহমর্মী
মানবতার হাত,
সত্য-ন্যায়ের পথে চলুক
প্রতিটি দিন-রাত।
অহংকার আর অতি লোভ
মানুষ করে ক্ষয়,
তাকওয়া, ধৈর্য, সন্তুষ্টিতেই
প্রকৃত সুখময়।
হে মহান রব! তুমি মোদের
রাখো হেদায়েতে,
লোভ-ঈর্ষা দূরে সরাও
তোমার রহমতে।
হাবিলের সেই ধৈর্য দাও,
দাও পবিত্র প্রাণ,
কাবিলের সেই অন্ধ লোভ
থেকে করো রক্ষণ।
মানব হৃদয় ভরে উঠুক
ইমানেরই আলোয়,
ভ্রাতৃত্ব, প্রেম, দয়া-মায়া
ছড়াক বিশ্বময়।
জুলুম, হিংসা, রক্তপাত আর
অন্যায়ের অবসান,
সত্য, ন্যায় আর ভালোবাসায়
গড়ুক মানবজাহান।
আমিন।
৭৩
১৪৬ মন্তব্য