সহকারী শিক্ষক
৩০ মে, ২০২৬ ০৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
আমার দেখা স্পেনের একজন অন্ধ ভক্ত
আমার দেখা স্পেনের একজন অন্ধভক্তের গল্প!
একটা সময় ছিল, যখন গ্রামের সঙ্গে আমার যোগাযোগ খুবই কম ছিল। বছরে হয়তো একবার-দুবার যেতাম, কিংবা ধান কাটার মৌসুমে। গ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক বলতে সেটুকুই। এখনও খুব একটা বদলায়নি।
সম্ভবত ২০০৬ সালের কথা। চলছে ফুটবল বিশ্বকাপ। গ্রামের এক চায়ের দোকানে খেলা দেখানো হচ্ছে। তখনকার দিনে চায়ের দোকানগুলোই ছিল ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলা। চারপাশে ভিড়, উত্তেজনা, তর্ক-বিতর্ক—সব মিলিয়ে অন্যরকম এক আবহ।
সেই সময়ই আমি অবাক হয়ে দেখেছিলাম ছোট্ট এক ছেলেকে। বয়স খুব বেশি হলে ১২-১৩। কিন্তু সে স্পেন এবং রাউল গঞ্জালেসের একনিষ্ঠ ভক্ত! আমি তো ভাবতাম, আমাদের এলাকায় স্পেনের সমর্থক বলতে হয়তো আমি একাই। কিন্তু না, সেই ছোট্ট ছেলেটি তখন থেকেই স্পেনকে হৃদয়ে ধারণ করে ফেলেছিল। যতদূর মনে পড়ে, স্পেনের জার্সি গায়ে দিয়েই সে উড়তে চেয়েছিল।
সেই ছেলেটির নাম আবু রায়হান। আমার ছোট ভাই, প্রাণের ভাই।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে বড় হয়েছে, কিন্তু তার ফুটবলপ্রেম কমেনি। বরং বেড়েছে। স্পেনের খেলা মানেই তার কাছে উৎসব। স্প্যানিশ ফুটবলের সৌন্দর্য, বল দখলে রেখে খেলার শিল্প, ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে তোলা,এসব তাকে মুগ্ধ করত। সেই মুগ্ধতা থেকেই বার্সেলোনার প্রতিও তার ভালোবাসা জন্ম নেয়। বার্সার খেলার মধ্যে সে যেন স্পেনেরই প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেত।
টিভির পর্দায় কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে বার্সেলোনা বা স্পেনের খেলা মানেই তার চোখ সেখানেই আটকে থাকত। জয়-পরাজয় নয়, খেলার সৌন্দর্যই ছিল তার ভালোবাসার মূল কারণ।
এভাবে হাঁটি হাঁটি পা পা করে কেটে গেছে প্রায় একুশ বছর। আজও আমার দেখা স্পেনের সবচেয়ে একনিষ্ঠ সমর্থকদের একজন আবু রায়হান । ফুটবল নিয়ে তার জ্ঞান, আগ্রহ আর আবেগ সত্যিই অসাধারণ। শুধু স্পেন বা বার্সেলোনা নয়, পৃথিবীর প্রায় সব বড় লিগের খোঁজখবর সে রাখে। খেলা দেখার সুযোগ পেলেই দেখে।
দিন শেষে আমি তাকে এক কথায় বলি—একজন খাঁটি ফুটবলপ্রেমী। আর স্পেনের সমর্থক হিসেবে হয়তো আমার চেয়েও বড় একজন অন্ধভক্ত।
এমন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক আজকাল খুব বেশি দেখা যায় না। তাই আবু রায়হানকে আমি শুধু ভালোবাসিই না, তার এই দীর্ঘদিনের অবিচল ভালোবাসার জন্য শ্রদ্ধাও করি। ফুটবল তার কাছে শুধু খেলা নয়, এক ধরনের প্রেম! যার সহজে বিচ্ছেদ হয়না!
৫
৫ মন্তব্য