Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ মে, ২০২৬ ০৭:২০ অপরাহ্ণ

রাজকীয় পাখি লেডি আমহার্স্ট ফেজেন্ট

লেডি আমহার্স্ট ফেজেন্ট (Lady Amherst's Pheasant) পাখিটির শারীরিক গঠন, আচরণ, খাদ্য এবং জীবনচক্র অত্যন্ত আকর্ষণীয়। নিচে এদের সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
শারীরিক গঠন ও রূপের ভিন্নতা (Sexual Dimorphism)এই প্রজাতির পুরুষ ও স্ত্রী পাখির রূপ সম্পূর্ণ আলাদা, যা পাখিজগতে এক অনন্য। 
উদাহরণ:পুরুষ ফেজেন্ট: প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পাখির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০-১২০ সেন্টিমিটার হয়, যার মধ্যে কেবল লেজই প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ। এদের মাথায় থাকে উজ্জ্বল লাল ঝুঁটি এবং ঘাড়ে সাদা-কালো ডোরাকাটা একটি বিশেষ অংশ থাকে, যা তারা মিলনের সময় ছাতার মতো মেলে ধরে। পিঠের পালক গাঢ় সবুজ ও নীল, পেট ধবধবে সাদা এবং কোমরের অংশটি হলুদ ও লাল রঙের মিশ্রণে তৈরি।
স্ত্রী ফেজেন্ট: স্ত্রী পাখি আকারে বেশ ছোট এবং এদের পুরো শরীরজুড়ে থাকে ছাই-বাদামী বা মেটে রঙের পালক। শত্রুদের হাত থেকে বাঁচতে এবং ডিম পাড়ার সময় প্রকৃতির সাথে মিশে থাকার জন্য (ছদ্মবেশ) এদের রঙ এমন অনুজ্জ্বল হয়।
প্রাকৃতি ও আচরণলাজুক ও সতর্ক: এরা চরম লাজুক স্বভাবের পাখি। ঘন জঙ্গল বা বাঁশঝাড়ে লুকিয়ে থাকতে ভালোবাসে বলে বন্য পরিবেশে এদের সহজে দেখা যায় না।
মাটিতে বসবাস: এরা মূলত মাটিতে হেঁটে বা দৌড়ে খাবার খোঁজে। ওড়ার চেয়ে এরা মাটিতে দ্রুত দৌড়াতে বেশি পছন্দ করে, তবে রাতে ঘুমানোর জন্য গাছের মগডালে আশ্রয় নেয়।
ডাক: প্রজনন ঋতুতে পুরুষ পাখি মেয়ে পাখিকে আকর্ষণ করতে এবং নিজের এলাকা রক্ষা করতে তীব্র কর্কশ ও ধাতব শব্দে ডাক দেয়।আবাসস্থল ও ভৌগোলিক বিস্তারএদের আদি নিবাস দক্ষিণ-পশ্চিম চীন এবং উত্তর মায়ানমারের পার্বত্য অঞ্চলে। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬,০০০ থেকে ১৫,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ঘন পাহাড়ি বাঁশঝাড় এবং সমশীতোষ্ণ বনাঞ্চলে এরা বাস করে। ১৮ শতকে এদের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাজ্যেও (ইউকে) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।খাদ্যাভ্যাসএরা সর্বভুক (Omnivorous) পাখি। ঋতুভেদে এদের খাদ্য তালিকা পরিবর্তিত হয়:
উদ্ভিদজাত: বাঁশের কচি অঙ্কুর, গাছের পাতা, বিভিন্ন বুনো ফল, বীজ এবং শস্যদানা।প্রাণীজাত: মাটির নিচে থাকা ছোট পোকা-মাকড়, মাকড়সা, বিটল, কেঁচো এবং অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী।
প্রজনন ও জীবনকালপ্রজনন মৌসুম: প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে এদের প্রজনন কাল শুরু হয়।
বাসা ও ডিম: স্ত্রী পাখি ঘন ঝোপের নিচে বা গাছের গুঁড়ির আড়ালে মাটিতে অগভীর গর্ত করে শুকনো পাতা দিয়ে বাসা বানায়। এরা সাধারণত ৬ থেকে ১২টি হালকা ক্রিম রঙের ডিম পাড়ে।
ইনকিউবেশন: স্ত্রী পাখি একাকী ২৩ থেকে ২৬ দিন ডিমে তা দেয়। এদের ছানারা ডিম থেকে ফোটার পরপরই চোখ খোলে এবং মায়ের সাথে হেঁটে খাবার সংগ্রহ করতে পারে।
জীবনকাল: বন্য পরিবেশে এরা সাধারণত ৬ থেকে ১০ বছর বাঁচে, তবে খাঁচায় বা সঠিক যত্নে এরা ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।খাঁচায় বা খামারে পোষার ক্ষেত্রে এরা গোল্ডেন ফেজেন্টের সাথে সহজে ক্রস ব্রিড বা জোড়া নিতে পারে। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ