সহকারী অধ্যাপক
৩১ মে, ২০২৬ ০৬:২৬ অপরাহ্ণ
মাজলুমের কান্না, জালিমের ভাবনা — মোঃ মুজিবুর রহমান
মাজলুমের কান্না, জালিমের ভাবনা
— মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মাজলুমের কষ্ট যদি
জালিম হৃদয়ে নিত,
অন্যায়ের কালো ইতিহাস
পৃথিবী থেকে মুছে যেত।
যদি সে শুনত দীর্ঘশ্বাস
অবহেলিত প্রাণের,
তবে গড়ে উঠত মানবসভ্যতা
ন্যায়ের দীপ্ত জ্ঞানের।
ক্ষমতার মোহে মানুষ যখন
বিবেক ভুলে যায়,
অন্যের চোখের অশ্রুবিন্দু
তখন আর দেখা না পায়।
যার হাতে আছে শক্তির বল,
ধন-সম্পদের জোর,
সে যদি বুঝত গরিবের ব্যথা
কমত কত বিভোর!
যে কৃষক ফসল ফলায় মাঠে
রৌদ্র-বৃষ্টি সয়ে,
তার ঘরেও সুখের বাতি
জ্বলুক আনন্দ লয়ে।
যে শ্রমিক ঘামে ভিজিয়ে শরীর
গড়ে অট্টালিকা,
ন্যায্য মজুরি পেলে তারও
হাসত জীবন-দীপিকা।
যে এতিম হারিয়েছে আশ্রয়,
হারিয়েছে স্নেহের ছায়া,
তার মুখে যদি হাসি ফুটে
সার্থক হতো মায়া।
যে বিধবা কাঁদে নীরব রাতে
অভাবের ভার বয়ে,
সমাজ যদি পাশে দাঁড়াত
আশার আলো নিয়ে।
মাহরুম যারা বঞ্চিত আজ
অধিকার থেকে দূরে,
তাদের জন্য ন্যায় প্রতিষ্ঠা
মানবতার সুরে।
নিজের জন্য সুখ চায় সবাই,
দুঃখ চায় না কভু,
তবু কেন অন্যের বেলায়
হৃদয় হয় নিরভু?
যে বিচার চায় নিজের তরে
অত্যন্ত দ্রুত গতিতে,
অন্যের বেলায় দেরি করে
কেন অন্যায় নীতিতে?
মানুষ যদি মানুষকে শুধু
মানুষ বলে জানত,
ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে
ভালোবাসার গান গাইত।
সহমর্মিতার কোমল ছোঁয়া
যদি থাকত মনে,
হিংসা-বিদ্বেষ দূরে সরে যেত
এক নিমিষে ক্ষণে।
ইতিহাসের প্রতিটি পাতায়
একই শিক্ষা রয়,
অন্যায়ের রাজ্য টেকে না কখনো
সত্যেরই জয় হয়।
অহংকারের উঁচু প্রাসাদ
একদিন ধুলায় মেশে,
বিনয়ী মানুষের সুনামখানি
চিরকাল হৃদয়ে ভাসে।
ধন-সম্পদ, যশ ও ক্ষমতা
ক্ষণস্থায়ী সবই,
মানবতার মহৎ কর্ম
অমর হয়ে রবে তবই।
জালিম যদি ভাবত একবার
মাজলুমের অশ্রুধারা,
কত রাত যে না খেয়ে কাটে
ক্ষুধার্ত মানুষেরা।
কত শিশু বইয়ের বদলে
শ্রমের বোঝা টানে,
কত স্বপ্ন ঝরে পড়ে নীরব
অবহেলার টানে।
কত বৃদ্ধ অপেক্ষাতে থাকে
সন্তানের এক ডাকে,
কত অসহায় মানুষ বাঁচে
নিঃসঙ্গতার ফাঁকে।
এসব যদি অনুভবে এসে
নাড়া দিত অন্তর,
তবে কি আর অন্যায় হতো
এত নির্মম প্রহর?
যেদিন নেতা জনগণের দুঃখ
নিজের দুঃখ ভাববে,
যেদিন বিচার সত্যের পথে
অবিচল হয়ে চলবে,
যেদিন শিক্ষক নৈতিকতার
আলো ছড়াবেন প্রাণে,
যেদিন ধনী দরিদ্রজনকে
রাখবে আপন টানে,
সেদিন হবে নতুন সকাল
মানবতার জয়,
সেদিন পৃথিবী ভরে উঠবে
শান্তি-মমতায়।
সেদিন আর কারও চোখে
অশ্রু ঝরবে না,
অধিকারহারা মানুষেরা
অবহেলিত হবে না।
সেদিন ন্যায়ের সূর্য উঠবে
প্রতিটি ঘরে ঘরে,
ভালোবাসা ফুল হয়ে ফুটবে
মানুষেরই তরে।
তাই আসুন শপথ করি
সত্যের পথে চলি,
অন্যায়ের সব প্রাচীর ভেঙে
ন্যায়ের পতাকা তুলি।
মাজলুমের কান্না শুনে
জাগুক মানব প্রাণ,
সহমর্মিতার আলোয় গড়ে
উজ্জ্বল হোক ভুবনখান।
মাজলুমের কষ্ট যদি
জালিম সত্যি বুঝত,
তবে পৃথিবীর বুকে আজ
মাজলুম খুঁজে না মিলত।
মানুষ হতো মানুষের আপন,
হৃদয় হতো বিশাল,
ন্যায়, দয়া আর ভালোবাসায়
গড়তাম পৃথিবী নির্মল।
***
মাজলুমের কান্না, জালিমের ভাবনা
মাজলুমের কষ্ট যদি
জালিম একবার ভাবত,
অন্যায়ের কালো ইতিহাস
পৃথিবী থেকে মুছে যেত।
যদি সে শুনত নীরব রাতে
অসহায়ের দীর্ঘশ্বাস,
তবে কি আর জ্বলত বুকে
অবিচারের সর্বনাশ?
যে মানুষটি ক্ষুধার জ্বালায়
কাঁদে দিনের পর দিন,
তার চোখের জল কি কখনো
দেখে স্বার্থপর মন?
যে শ্রমিক ঘামে ভিজিয়ে গড়ে
অট্টালিকার সারি,
ন্যায্য পাওনা না পেয়ে তবু
ফিরে যায় ঘরে ভারী।
যে কৃষক মাঠে সোনার ফসল
ফলায় সবার তরে,
অভাব তারই ঘিরে থাকে
জীবনের প্রতিটি ঘরে।
যে এতিম হারিয়েছে স্নেহ,
হারিয়েছে মায়ের কোল,
তার ব্যথাভরা ছোট্ট প্রাণে
কে দেয় ভালোবাসার দোল?
যে বিধবা চোখের জলে
রাতের আঁধার ভাসায়,
সমাজ যদি পাশে দাঁড়াত
আশার প্রদীপ জ্বালায়।
মাহরুম যারা অধিকারহারা,
বঞ্চনারই শিকার,
তাদের তরে ন্যায় প্রতিষ্ঠা
মানবতার অঙ্গীকার।
ক্ষমতার মোহে অন্ধ মানুষ
ভুলে যায় আপন রূপ,
অন্যের দুঃখ দেখে না আর
বন্ধ হয়ে যায় অনুভব।
নিজের বেলায় বিচার চায়,
অন্যের বেলায় নীরব,
এই স্বার্থের দেয়াল গড়ে
হয়ে ওঠে হৃদয় নির্জীব।
মানুষ যদি মানুষকে শুধু
মানুষ বলেই মানত,
ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে
ভালোবাসার গান গাইত।
সহমর্মিতার কোমল আলো
জ্বলুক প্রতিটি প্রাণে,
অপরের সুখ-দুঃখ যেন
অনুভবে ধরা জানে।
যে নেতা জনগণের সেবায়
নিবেদিত প্রাণ হবে,
জনতার সব দুঃখ-কষ্ট
নিজের মতোই লবে।
যে শিক্ষক জ্ঞানের আলোয়
গড়েন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম,
নৈতিকতার বীজ বুনে দেন
সততার শুভ অন্বেষণ।
যে বিচারক সত্যের পথে
থাকেন অবিচল দৃঢ়,
তার আদালতে ন্যায়বিচার
হয় মানবতার শির।
যে ব্যবসায়ী বিবেক নিয়ে
চলতে জানে সদা,
তার জীবনে বরকত নামে
সুখের বারতা।
যে ধনীজন গরিবের পাশে
দাঁড়ায় হৃদয় খুলে,
মানুষ তাকে ভালোবাসে
শ্রদ্ধার মালা তুলে।
অহংকারের অট্টালিকা
একদিন ধুলায় মেশে,
বিনয়ী মানুষের সুনামখানি
শত বছর হৃদয়ে ভাসে।
ধন-সম্পদ, যশের গৌরব
ক্ষণিক সময়ের খেলা,
মানবতার সৎকর্মগুলো
অমর হয়ে থাকে বেলা।
ইতিহাসের প্রতিটি পাতায়
একটি শিক্ষা রয়—
অন্যায়ের রাজ্য টেকে না,
শেষে সত্যেরই জয়।
জালিম যদি ভাবত একবার
মাজলুমের অশ্রুধারা,
কত শিশু না খেয়ে ঘুমায়,
কত কষ্ট মানুষের সারা।
কত স্বপ্ন ঝরে পড়ে
অবহেলার ধূলায়,
কত জীবন হারায় আশা
অন্যায়েরই জ্বালায়।
কত বৃদ্ধ পথ চেয়ে থাকে
সন্তানের একটি ডাক,
কত অসহায় নীরব কাঁদে
হৃদয়ে জমে থাকা ফাঁক।
এসব যদি অনুভবে এসে
নাড়া দিত অন্তর,
তবে কি আর পৃথিবী জুড়ে
চলত অত্যাচারের প্রহর?
যেদিন মানুষ বুঝবে সত্য—
ক্ষমতা নয় বড়,
অন্যের দুঃখ ভাগ করে নেওয়াই
মানবতার ঘর।
যেদিন হৃদয় বিবেকের ডাকে
সাড়া দেবে খুশি মনে,
সেদিন ন্যায় আর ভালোবাসা
ফুটবে জীবনের বনে।
সেদিন ধনী-গরিব সবাই
একই কাতারে দাঁড়াবে,
অধিকারহারা মানুষেরাও
সম্মানের স্থান পাবে।
সেদিন আর কোনো ঘরে
অশ্রুর নদী বইবে না,
অন্যায়ের কালো ছায়া
মানুষের মন ছুঁইবে না।
সেদিন ন্যায়ের সূর্য উঠবে
প্রতিটি ঘরে ঘরে,
ভালোবাসা ফুল হয়ে ফুটবে
মানুষেরই তরে।
তাই আসুন শপথ করি
সত্য ও ন্যায়ের পথে,
অন্যায়ের সব শৃঙ্খল ভেঙে
দাঁড়াই মানবতার রথে।
মাজলুমের চোখের জলে
লুকিয়ে থাকে বাণী,
সেই বাণীই শেখায় আমাদের
মানুষ হওয়ার টানি।
মাজলুমের কষ্ট যদি
জালিম সত্যি বুঝত,
পৃথিবীর বুকে আজ আর
মাজলুম খুঁজে না মিলত।
মানুষ হতো মানুষের আপন,
হৃদয় হতো উদার,
ন্যায়, দয়া আর সহমর্মিতায়
গড়তাম সুখের সংসার।
সত্যের আলো, প্রেমের ডাকে
জাগুক মানব প্রাণ,
মাজলুমহীন পৃথিবী গড়াই
হোক সবার মহাযজ্ঞ-গান
***
মাজলুমের চোখের জলে
লুকিয়ে থাকে বাণী,
সেই বাণীই শেখায় মোদের
মানুষ হওয়ার টানি।
মাজলুমের কষ্ট যদি
জালিম সত্যি বুঝত,
পৃথিবীর বুকে আজ আর
মাজলুম খুঁজে না মিলত।
মানুষ হতো মানুষের আপন,
হৃদয় হতো উদার,
ন্যায়, দয়া আর সহমর্মিতায়
ভরত সবার সংসার।
লোভ-অহংকার মুছে গিয়ে
জাগত বিবেকজ্ঞান,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে গাঁথা
হতো সারা বিশ্বপ্রাণ।
সত্যের আলো, প্রেমের ডাকে
জাগুক মানবমন,
মাজলুমহীন পৃথিবী গড়াই
হোক সবার অঙ্গীকার।
যেখানে ন্যায়ের সূর্য হাসে,
অন্যায় পায় পরাজয়,
সেই পৃথিবীর স্বপ্ন নিয়েই
মানবতার হোক জয়।
***
৭০
১৪৪ মন্তব্য