প্রভাষক
৩১ মে, ২০২৬ ০৮:২৫ অপরাহ্ণ
পিতাকে যেভাবে ধর্মের পথে ডেকেছেন নবী ইব্রাহিম (আ:)
নবী ইব্রাহিম (আ:) এবং তাঁর পিতা আজরের মধ্যকার কথোপকথনটি দাওয়াত বা প্রচারের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উদাহরণ। পবিত্র কুরআনের সূরা মারইয়ামের ৪১ থেকে ৪৮ নম্বর আয়াতে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এসেছে। নিচে প্রতিটি পর্বের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্বোধনইব্রাহিম (আ:) তাঁর পিতাকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সময় কোনো রকম অহংকার বা কঠোরতা দেখাননি। তিনি প্রতিটি কথার শুরুতে বলেছিলেন, "ইয়া আবাতি", যার অর্থ "হে আমার প্রিয় পিতা"। পিতাকে সত্যের পথে ডাকার সময় তিনি ৫টি প্রধান যুক্তি ও ভয়ের কথা তুলে ধরেন:
মূর্তির অক্ষমতা প্রকাশ: তিনি পিতাকে প্রশ্ন করেন, "হে আমার প্রিয় পিতা! আপনি কেন এমন কিছুর ইবাদত করেন যা শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো উপকারে আসে না?" (আয়াত: ৪২)
বিনম্রভাবে জ্ঞান উপস্থাপন: তিনি নিজেকে পিতার চেয়ে বড় জ্ঞানী দাবি না করে বলেন, "হে আমার প্রিয় পিতা! আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে যা আপনার কাছে আসেনি। সুতরাং আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সরল পথ দেখাব।" (আয়াত: ৪৩)
শয়তানের আনুগত্যের কুফল: তিনি সতর্ক করে বলেন, "হে আমার প্রিয় পিতা! শয়তানের দাসত্ব করবেন না। নিশ্চয় শয়তান দয়াময় আল্লাহর অবাধ্য।" (আয়াত: ৪৪)
পিতার প্রতি ভালোবাসা ও ভয়: তিনি পিতার শাস্তির আশঙ্কায় বলেন, "হে আমার প্রিয় পিতা! আমি আশঙ্কা করি যে দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আজাব আপনাকে স্পর্শ করবে, ফলে আপনি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবেন।" (আয়াত: ৪৫)
২. পিতা আজরের চরম ক্রোধ ও হুমকিপুত্রের এমন যৌক্তিক ও ভালোবাসাপূর্ণ দাওয়াত শুনে পিতা আজর নরম হওয়ার পরিবর্তে অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে ইব্রাহিম (আ:)-কে কঠোর ভাষায় হুমকি দেয়:উপাস্যদের পক্ষাবলম্বন: আজর বলে, "হে ইব্রাহিম! তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ?"পাথর ছুড়ে মারার হুমকি: সে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, "যদি তুমি বিরত না হও, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করব।"বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া:
সে শেষ কথা হিসেবে বলে, "তুমি চিরতরে আমার সামনে থেকে দূর হয়ে যাও।" (আয়াত: ৪৬)
৩. ইব্রাহিম (আ:)-এর অসীম ধৈর্য ও বিদায়পিতার এত বড় হুমকি ও দুর্ব্যবহারের মুখেও ইব্রাহিম (আ:) রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করেননি।
একজন আদর্শ সন্তানের মতো তিনি অত্যন্ত শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করেন:
শান্তির বার্তা: তিনি পিতাকে বলেন, "আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" (আয়াত: ৪৭)
ক্ষমা প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি: তিনি বলেন, "আমি আমার পালনকর্তার কাছে আপনার ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান।
"সম্পর্ক ছিন্ন না করে দূরত্ব বজায় রাখা: তিনি পিতাকে বলেন, "আমি আপনাদের থেকে এবং আপনারা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত করেন তাদের থেকে পৃথক হয়ে যাচ্ছি। আমি কেবল আমার পালনকর্তার ইবাদত করব।" (আয়াত: ৪৮)শিক্ষণীয় দিকএই ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, পিতামাতা বা মুরুব্বী স্থানীয় কেউ ভুল পথে থাকলেও তাঁদের সাথে অসম্মানজনক আচরণ করা যাবে না। সর্বোচ্চ কোমলতা, যুক্তি এবং শুভকামনা নিয়ে সত্যের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়াই হলো ইব্রাহিমী আদর্শ।
২
২ মন্তব্য