Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ মে, ২০২৬ ০৮:৫৫ অপরাহ্ণ

কতটা ধৈর্যশীল ছিলেন হযরত আইয়ুব (আ:)

হযরত আইয়ুব (আ.) ছিলেন অসীম ধৈর্যের প্রতীক। তিনি প্রায় ১৮ বছর কঠিন শারীরিক অসুস্থতা, সন্তান বিয়োগ ও চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। সব হারিয়েও তিনি কখনো আল্লাহর প্রতি অভিযোগ করেননি, বরং অবিচল থেকেছেন। পবিত্র কোরআনে তাঁকে "পরম ধৈর্যশীল" ও উত্তম বান্দা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।তাঁর ধৈর্যের কিছু প্রধান দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
সম্পদ ও সন্তান হারানো: প্রথমে তিনি তাঁর সমস্ত ধন-সম্পদ ও গবাদিপশু হারান এবং পরবর্তীতে এক দুর্ঘটনায় তাঁর সব সন্তান মারা যান। এত বড় বিপর্যয়ের পরও তিনি আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল ছিলেন।
দীর্ঘ রোগভোগ: এরপর তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন এবং তাঁর পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। এই কঠিন অবস্থায় দীর্ঘ ১৮টি বছর তিনি চরম কষ্টের মাঝেও ধৈর্য ধারণ করেন।
একাকীত্ব ও সমাজচ্যুতি: রোগ সংক্রমণের ভয়ে সমাজ ও আত্মীয়-স্বজন তাঁকে ত্যাগ করে। একমাত্র তাঁর স্ত্রী অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁর সেবাযত্ন করেন।
আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা: এত বিপদের মুখেও তাঁর মুখ থেকে কোনো অনুযোগ বের হয়নি। একদিন তাঁর স্ত্রী তাঁকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বা রোগমুক্তির দোয়া করতে বললে, তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন— "আমি কত বছর সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলাম?" স্ত্রী উত্তর দেন— "প্রায় ৮০ বছর।" তখন আইয়ুব (আ.) বলেন— "তাহলে আমি মাত্র কয়েক বছর কেন এই কষ্ট সহ্য করব না?
"পরিশেষে, তাঁর এই সুদীর্ঘ ও অপূর্ব ধৈর্যের পুরস্কার হিসেবে আল্লাহ তাআলা তাঁর সব রোগ দূর করেন, হারানো পরিবার ও ধন-সম্পদ দ্বিগুণ করে ফিরিয়ে দেন। তাঁর এই ধৈর্যের কাহিনি মানবজাতির জন্য চিরকাল এক অনন্য শিক্ষণীয় আদর্শ।
"ধৈর্যের পাহাড় হযরত আইয়ুব (আঃ)" “আর আইয়ুবের কথা চিন্তা করে— আল কুরআনে তাঁর প্রশংসা মহান আল্লাহ কুরআন মাজীদে হযরত আইয়ুব (আঃ) এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। 

মন্তব্য করুন