সহকারী অধ্যাপক
০২ জুন, ২০২৬ ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
আলহামদুলিল্লাহ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
আলহামদুলিল্লাহ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
সারাক্ষণ কেন হে মন,
দুঃখের খাতা খোলো?
এই সমস্যা, সেই যন্ত্রণা,
কত হিসাব তোলো!
কেন শুধু নিজের কষ্ট
ঘুরে ফিরে ভাবো?
চারপাশে যে কত মানুষ
দুঃখে আছে—দেখো।
হাসপাতালের করিডোরে
একটু গিয়ে দাঁড়াও,
শয্যাপাশে কাতর মানুষ
নীরবে দেখে আসো।
কেউ বা ব্যথায় রাত জাগে,
কেউ হারিয়েছে ঘুম,
কেউ অপেক্ষায় সুস্থতার,
অন্তরে বিষণ্ন ধূম।
কোনো মায়ের চোখে পানি,
সন্তান শয্যাশায়ী,
কোনো শিশু ওষুধহীন,
চেয়ে থাকে নিরুপায়ী।
রোগের সাথে লড়াই করে
কত মানুষ প্রতিক্ষণ,
তাদের দেখে নিজের কষ্ট
লাগে কত ক্ষুদ্র তখন।
একবার গিয়ে গ্রামের পথে
গরিব মানুষের কাছে,
দেখবে কত জীবন এখন
অভাবের স্রোতে নাচে।
কারো ঘরে ভাত নেই আজ,
চুলায় জ্বলে না আগুন,
ক্ষুধার জ্বালায় শিশু কাঁদে,
মলিন সকাল-বিকেল-দুপুর।
কারো মাথার উপর নেই
নিরাপদ আশ্রয়খানি,
বর্ষার জলে ভিজে থাকে
দুঃখমাখা সংসারবাণী।
কেউ খোঁজে কাজ দিনের শেষে,
পায় না রুটির দিশা,
তবু মুখে হাসি রেখে
বাঁচার করে আশা।
তখন মনটি ধীরে বলে,
"কী নিয়ে এত হাহাকার?
রবের দেওয়া অগণিত নেয়ামত
রয়েছে যে অপরিসীম আর।"
দুটি চোখে পৃথিবী দেখি,
শুনি দুটি কানে,
সুস্থ দেহে চলতে পারি
জীবনেরই টানে।
খেতে পাই, পরতে পাই,
আছে মাথার ছাদ,
কত মানুষের স্বপ্ন শুধু
এটুকু পাওয়ার সাধ।
তখন হৃদয় ভরে ওঠে
শুকরিয়ার অনুভবে,
আলহামদুলিল্লাহ ধ্বনি
ঝরে নীরব সুরে।
কৃতজ্ঞতার এই শিক্ষাটি
জীবন গড়ার মূল,
অকৃতজ্ঞতার অন্ধকারে
হারায় সুখের ফুল।
যে মানুষটি অন্যের দুঃখ
অনুভব করতে শেখে,
মানবতার শ্রেষ্ঠ আলো
তার অন্তরে থাকে।
এক মুঠো ভাত ভাগ করে দিলে
ক্ষুধার্ত কোনো প্রাণে,
আনন্দ নামে নিজের মনেও
অদৃশ্য কল্যাণে।
একটি সান্ত্বনার বাক্য যদি
দুঃখীর মনে দাও,
নিজের বুকেও শান্তির পাখি
ডানা মেলে—দেখো।
একজন বৃদ্ধ রাস্তার ধারে
অপেক্ষাতে রয়,
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে
মুছে যেতে পারে ভয়।
একটি শিশুর মুখের হাসি
ফুটলে তোমার দানে,
তোমার নিজের জীবনও যে
আলোয় ভরে প্রাণে।
মানুষ যখন মানুষ হয়ে
মানুষের পাশে দাঁড়ায়,
নিজের শত দুঃখ-কষ্ট
অনেক দূরে হারায়।
বিজ্ঞানও আজ বলে স্পষ্ট,
সত্য এ কথাটি—
সেবার মাঝে সুখের খোঁজে
জাগে নতুন গতি।
অন্যের উপকার করলে
মন হয় আরও নির্মল,
আশা-ভরসার প্রদীপ জ্বলে,
হৃদয় থাকে উজ্জ্বল।
তাই হে মন, শুধু নিজের
অভাব নিয়ে নয়,
চারপাশের মানুষের দুঃখ
বোঝার চেষ্টা করো সদয়।
যার ঘরে নেই খাবার,
তাকে দাও কিছু ভাত,
যার মনে জমেছে আঁধার,
দাও আশার প্রভাত।
যার চোখে নীরব অশ্রু,
তার পাশে গিয়ে বসো,
যার জীবন ক্লান্ত-বিধ্বস্ত,
তাকে সাহসের কথা শোনাও।
দেখবে তখন বদলে গেছে
তোমার ভাবনার রং,
অভিযোগের ভারী মেঘে
আর হবে না সঙ্গ।
দুঃখ থাকবে, কষ্ট থাকবে,
এটাই জীবনের ধারা,
তবু কৃতজ্ঞ হৃদয় নিয়ে
চলবে মানুষ সারা।
অন্যের সুখে হাসতে শিখো,
অন্যের ব্যথা বোঝো,
মানবসেবার মহাপথে
নতুন জীবনের খোঁজো।
তখন তুমি খুঁজে পাবে
অমূল্য এক জ্ঞান—
কৃতজ্ঞ হৃদয়ই পৃথিবীর
সবচেয়ে বড় ধন।
তাই প্রতিদিন জেগে উঠে
বলুক প্রাণ নির্ভয়ে—
"আলহামদুলিল্লাহ, হে প্রভু,
রাখুন মানবসেবায়।"
অন্যের মুখে হাসি ফোটাই,
এ হোক জীবনের গান,
মানবতার পথে চলুক
সকল মানুষের প্রাণ।
***
হে মন, অন্যের দুঃখ দেখো
সারাক্ষণ কেন হে মন,
নিজের কথাই ভাবো?
এই সমস্যা, সেই কষ্ট,
দুঃখের হিসাব রাখো!
কেন শুধু নিজের ব্যথা
বুকের মাঝে গোনো?
চারপাশেতে কত মানুষ
কাঁদছে—তাও কি শোনো?
হাসপাতালের শয্যাপাশে
একটু গিয়ে দাঁড়াও,
কত রোগী নিঃশব্দে আজ
মৃত্যুর সাথে লড়াও।
কেউ হারিয়েছে চলার শক্তি,
কেউ হারিয়েছে চোখ,
কেউ বা শুধু বেঁচে থাকার
করছে নীরব শোক।
কোনো মায়ের বুকের মাঝে
অশ্রু ঝরে রাত,
অসুস্থ সন্তানের মাথায়
রাখে কাঁপা হাত।
কেউ ওষুধের অভাবে আজ
ব্যথা নিয়ে রয়,
কেউ চিকিৎসার অর্থহীনতায়
হারায় বাঁচার ভয়।
তখন তুমি নিজের দুঃখ
একবার মেপে দেখো,
অভিযোগের খাতা খুলে
আর কত কথা লেখো?
বস্তির পথে হাঁটলে দেখো
ক্ষুধার্ত কত প্রাণ,
এক মুঠো ভাতের আশায়
কাটে দিনের গান।
কত শিশুর বই নেই হাতে,
নেই যে লেখার খাতা,
জীবন তাদের সংগ্রামেরই
অপূর্ণ এক গাঁথা।
কারো ঘরে নেই আলো,
নেই নিরাপদ ঠাঁই,
ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে
স্বপ্নগুলো ভাই।
কেউ খুঁজে ফেরে কাজের সুযোগ,
ফিরে আসে শূন্য হাতে,
তবু সে হার মানে না,
লড়ে যায় প্রভাত হতে রাতে।
তখন হৃদয় প্রশ্ন করে—
"কেন এত হাহাকার?
রবের দেওয়া নেয়ামতের কি
নেই কোনো হিসাব আর?"
দুটি চোখে পৃথিবী দেখি,
দুটি কানে শুনি,
সুস্থ দেহে চলতে পারি,
এও তো কত গুণী।
খাবার আছে, পোশাক আছে,
মাথার উপর ছাদ,
কত মানুষের সারাজীবন
এটুকুই বড় সাধ।
তখন অন্তর বলে ওঠে—
আলহামদুলিল্লাহ!
এত নেয়ামত পেয়েও কেন
করব শুধু আহ্-উহ্-আহা?
কৃতজ্ঞতার মিষ্টি আলো
মনকে করে ধন্য,
অভিযোগের কালো মেঘ
হয়ে যায় যে শূন্য।
অন্যের দুঃখ বুঝতে শেখো,
অন্যের পাশে দাঁড়াও,
মানবতার এই শিক্ষাটি
হৃদয় মাঝে গাঁথাও।
এক মুঠো ভাত ক্ষুধার্তকে
যদি দিতে পারো,
নিজের ভেতর শান্তির নদী
বইতে দেখবে আরও।
একটি স্নেহের কথা যদি
ভাঙা মনে দাও,
তার হাসিতে নিজের জীবন
আলোকিতই পাও।
একজন বৃদ্ধ পথের ধারে
যদি থাকে একা,
তার পাশে বসে শুনে নাও
জীবনের লেখা।
একটি এতিম শিশুর মুখে
ফুটাও যদি হাসি,
দেখবে তখন তোমার মনেও
নামবে সুখের বাতাসি।
মানুষ যখন মানুষ হয়ে
মানুষকে ভালোবাসে,
নিজের শত কষ্ট তখন
হারিয়ে যায় বাতাসে।
সেবার মাঝে সুখের বীজ,
দানের মাঝে জয়,
অন্যের মুখে হাসি ফোটানো
মানবতার পরিচয়।
নিজের দুঃখ পাহাড় মনে
যতদিনই হবে,
অন্যের দুঃখ দেখার আগে
শান্তি কোথায় রবে?
তাই হে মন, অভিযোগের
দীর্ঘ পথটা ছাড়ো,
মানুষ হয়ে মানুষেরই
কষ্টগুলো ধরো।
যার নেই খাবার, অন্ন দাও,
যার নেই বস্ত্র, বস্ত্র,
যার হৃদয়ে জমেছে আঁধার,
জ্বালাও আশার অস্ত্র।
যার চোখেতে অশ্রু ঝরে,
মুছিয়ে দাও তা,
যার জীবনটা ভেঙে গেছে,
দাও সাহসের কথা।
দেখবে তখন বদলে গেছে
জীবন দেখার ঢং,
দুঃখগুলো ছোট হয়ে যায়,
বদলে যায় সব রং।
পৃথিবী জুড়ে দুঃখ থাকবে,
থাকবে ব্যথার ঢেউ,
তবু কৃতজ্ঞ হৃদয় হলে
হার মানাবে না কেউ।
অন্যের সুখে সুখী হও,
অন্যের ব্যথা বোঝো,
মানবসেবার পুণ্যপথে
জীবনের মান খোঁজো।
তখন মন আর বলবে না—
"আমার শুধু ক্ষতি",
বলবে শুধু—
"আলহামদুলিল্লাহ,
অশেষ তোমার দান, হে স্রষ্টা মহান,
শুকরিয়া জানাই নিতি।"
মানুষ হোক মানুষের আপন,
মুছুক দুঃখের ক্ষত,
কৃতজ্ঞতা আর সেবার আলোয়
গড়ুক মানবতার রথ।
হে মন, নিজের কষ্ট নয়,
দেখো বিশ্বের প্রাণ—
অন্যের সেবায় খুঁজে পাবে
জীবনের প্রকৃত জ্ঞান।
***
অন্যের দুঃখে খুঁজে নাও নিজের শান্তি
হে মন, কেন সারাক্ষণ
দুঃখের মালা গাঁথো?
এই কষ্ট আর সেই সমস্যায়
নিজেকেই শুধু মাতো?
কেন শুধু নিজের ব্যথা
বুকের মাঝে রাখো?
চারপাশেতে কত কান্না,
একবার সেদিকে তাকাও।
হাসপাতালের দীর্ঘ পথে
একটু গিয়ে দাঁড়াও,
শত রোগীর নিঃশব্দ যুদ্ধ
নীরবে দেখে আসো।
কেউ হারিয়েছে চলার শক্তি,
কেউ হারিয়েছে আলো,
কেউ বা শুধু বেঁচে থাকার
স্বপ্নটুকু রাখে ভালো।
কোনো মায়ের জাগে রাত,
অসুস্থ সন্তানের তরে,
চোখের জলে প্রার্থনা ঝরে
নিভৃত অশ্রুধারে।
কোনো বৃদ্ধ শয্যায় পড়ে
চেয়ে থাকে দরজাপানে,
একটু স্নেহ, একটি কথা—
পাবে কি সে জীবনে?
তখন তুমি নিজের কষ্ট
একবার ভেবে দেখো,
অভিযোগের পাহাড় গড়ে
কেন এত কথা লেখো?
যাও না একটু গ্রামের পথে,
দেখো কুঁড়েঘরের প্রাণ,
এক মুঠো ভাতের আশায়
কাটে কত মানুষের দিনমান।
কারো ঘরে জ্বলে না চুলা,
নেই পরনের বস্ত্র,
অভাব যেন জীবনের সাথে
করেছে স্থায়ী চুক্তি।
কারো মাথায় ছাদ নেই কোনো,
বর্ষায় ভিজে রাত,
তবুও তারা হাসিমুখে
লড়ে জীবনের সাথে।
কত শিশু স্কুলে যায় না,
খাতা-কলম নেই,
তাদের স্বপ্ন ধুলো মেখে
হারিয়ে যায় সেই।
কেউ কাজ খুঁজে ফেরে পথে,
ফিরে আসে খালি হাতে,
তবুও আশা হারায় না সে,
সংগ্রামে থাকে মাতে।
তখন হৃদয় প্রশ্ন করে—
"কিসের এত হাহাকার?
রবের দেওয়া অগণিত দান
ভুলে গেলে কি আর?"
দুটি চোখে পৃথিবী দেখি,
দুটি কানে শুনি,
সুস্থ শরীর, সচল জীবন—
এও তো কত গুণী।
খাবার আছে, পানি আছে,
মাথার উপর ছাদ,
কত মানুষের আজীবনের
এটুকুই বড় সাধ।
তখন মনটি বলে ওঠে—
আলহামদুলিল্লাহ!
যা পেয়েছি তার তুলনায়
অভিযোগ কি মানায়?
কৃতজ্ঞতার কোমল আলো
অন্তর করে পূর্ণ,
অসন্তোষের কালো মেঘ
হয়ে যায় বিলুপ্ত শূন্য।
যে মানুষটি অন্যের দুঃখ
নিজের মতো বোঝে,
মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা
সে-ই হৃদয়ে খোঁজে।
এক মুঠো ভাত ক্ষুধার্তকে
দিলে যদি হাসিমুখে,
শান্তির ফুল ফুটবে তখন
নিজের মনের সুখে।
একটি স্নেহের মধুর বাণী
দুঃখীর মনে দাও,
দেখবে তখন নিজের জীবন
আলোকিতই পাও।
একজন বৃদ্ধ পথের ধারে
যদি বসে একা,
তার পাশে গিয়ে বসলে তুমি
হবে মানবতার রেখা।
একটি এতিম শিশুর মুখে
যদি ফুটাও হাসি,
নিজের মনেও নেমে আসবে
আনন্দের বাতাসই।
বিজ্ঞানও আজ বলে স্পষ্ট,
সত্য এ কথাটি—
অন্যের সেবায় সুখের উৎস,
শান্তির নতুন গতি।
দান, সহমর্মিতা, ভালোবাসা—
মানবতার মূল,
এসব ছাড়া সভ্যতার পথ
হয়ে পড়ে আকুল।
তাই হে মন, শুধু নিজের
দুঃখ নিয়ে নয়,
অন্যের কষ্ট লাঘব করাই
মানুষ হওয়ার পরিচয়।
যার নেই অন্ন, অন্ন দাও,
যার নেই বস্ত্র, বস্ত্র,
যার জীবনে আঁধার নেমেছে,
জ্বালাও আশার প্রদীপ।
যার চোখেতে নীরব অশ্রু,
মুছে দাও সে জল,
যার হৃদয় ভেঙে গেছে,
দাও সাহস অবিচল।
দেখবে তখন বদলে গেছে
জীবন দেখার রীতি,
নিজের কষ্ট ক্ষুদ্র হয়ে
দেবে নতুন প্রীতি।
পৃথিবীতে দুঃখ থাকবে,
থাকবে ব্যথার ঢেউ,
তবু কৃতজ্ঞ হৃদয় নিয়ে
হার মানে না কেউ।
অন্যের সুখে সুখী হও,
অন্যের ব্যথা বোঝো,
মানবসেবার মহাপথে
জীবনের অর্থ খোঁজো।
তখন আর মন বলবে না—
"আমার কষ্ট ভার",
বলবে শুধু—
"প্রভু, তোমার অশেষ দানে
আমি ঋণী বারবার।"
আলহামদুলিল্লাহ ধ্বনি হোক
প্রতিটি প্রাণের গান,
মানুষ হোক মানুষের আপন,
জাগুক কল্যাণের জ্ঞান।
নিজের নয়, সবার তরে
হোক জীবনের পথচলা,
অন্যের মুখে হাসি ফোটানোই
মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ ফলাফল।
কৃতজ্ঞতা, সেবা ও প্রেমে
গড়ে উঠুক প্রাণ,
মানুষের মাঝে মানুষ হয়ে
এটাই হোক পরিচয় মহান।
***
হে মন, কৃতজ্ঞ হও
হে মন, কেন সারাক্ষণ
দুঃখের কথাই ভাবো?
এই সমস্যা, সেই বেদনা,
অভিযোগ কেন গাঁথো?
কেন শুধু নিজের কষ্ট
বুকের মাঝে রাখো?
পৃথিবীজোড়া কান্নার সুর
একবার সেদিকে তাকাও।
হাসপাতালের দীর্ঘ পথে
নীরবে গিয়ে দাঁড়াও,
শত অসহায় রোগীর মুখে
জীবনের গল্প পড়াও।
কেউ শয্যায় বহুদিন ধরে
অপেক্ষাতে রয়,
একটু সুস্থ সকাল পাবে—
এই আশাতেই সয়।
কেউ হারিয়েছে দৃষ্টির আলো,
কেউ চলার শক্তি,
কেউ বা শুধু বেঁচে থাকার
খুঁজে ফেরে যুক্তি।
কোনো মায়ের চোখের কোণে
অশ্রুর নদী বয়,
সন্তানের সুস্থতার জন্য
প্রার্থনায় রাত ক্ষয়।
কোনো শিশু ওষুধহীন,
কোনো শিশু ক্ষুধার্ত,
কোনো শিশু জানে না আজ
আগামীকাল কী অর্থ।
তখন তুমি নিজের ব্যথা
একবার ভেবে দেখো,
অভিযোগের খাতা খুলে
আর কত কথা লেখো?
যাও না একটু গ্রামের পথে,
বস্তির সরু গলিতে,
দেখবে কত জীবন আজও
সংগ্রামেরই কলিতে।
কারো ঘরে ভাত নেই আজ,
চুলায় জ্বলে না আগুন,
ক্ষুধার কষ্ট লুকিয়ে রেখে
কাটে সকাল-দুপুর।
কারো মাথার উপর নেই
নিরাপদ কোনো ছাদ,
ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে কাটে
জীবনের অবসাদ।
কারো সন্তানের হাতে নেই
বই কিংবা খাতা,
দারিদ্র্যের কঠিন শিকল
লিখে দেয় নতুন গাঁথা।
কেউ কাজ খুঁজে পথে পথে
ফিরে আসে ক্লান্ত,
তবু হারে না জীবনযুদ্ধে,
তবু নয় সে ভ্রান্ত।
তখন হৃদয় প্রশ্ন তোলে—
“কিসের এত হাহাকার?
রবের দেওয়া অগণিত দান
ভুলে গেলে কি আর?”
দুটি চোখে পৃথিবী দেখি,
দুটি কানে শুনি,
সুস্থ শরীর, সচল জীবন—
এও তো মহামূল্য গুণই।
খাবার আছে, পানি আছে,
আছে মাথার ছাদ,
কত মানুষের সারাজীবন
এটুকুই বড় সাধ।
তখন অন্তর বলে ওঠে—
আলহামদুলিল্লাহ!
যা পেয়েছি তার তুলনায়
অভিযোগ কি মানায়?
কৃতজ্ঞতার আলো যখন
হৃদয়জুড়ে জ্বলে,
দুঃখ তখন ছোট হয়ে যায়
আশার প্রদীপতলে।
যে মানুষটি অন্যের কষ্ট
অনুভব করতে শেখে,
মানবতার শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য
তার হৃদয়ের রেখে।
এক মুঠো ভাত ক্ষুধার্তকে
দিলে যদি হাসিমুখে,
শান্তির ফুল ফুটবে তখন
নিজের অন্তরসুখে।
একটি মধুর সান্ত্বনা
দুঃখী মানুষ পেলে,
তোমার নিজের হৃদয়ও যে
প্রশান্তিতে মেলে।
একজন বৃদ্ধ পথের ধারে
যদি থাকে একা,
একটু সময় দিলে তুমি
জীবন পাবে দেখা।
একটি এতিম শিশুর মুখে
যদি ফুটাও হাসি,
তোমার নিজের মনেও তখন
বইবে সুখের বাতাসই।
বিজ্ঞান আজ বলছে স্পষ্ট—
সত্য এই বাণী,
সেবার মাঝে সুখের উৎস,
কল্যাণেরই খনি।
ডোপামিনের নির্মল স্রোত
মস্তিষ্কজুড়ে বয়,
অক্সিটোসিন হৃদয়ভরা
ভালোবাসা রয়।
তাই যে মানুষ সেবা করে
নিঃস্বার্থ অন্তরে,
শান্তির পাখি নীরব ডানায়
বাসা বাঁধে ঘরে।
অন্যের বোঝা কাঁধে নিলে
হালকা হয় মন,
নিজের কষ্ট হারিয়ে যায়
পেয়ে নতুন জীবন।
তাই হে মন, শুধু নিজের
ব্যথা নিয়ে নয়,
মানুষ হয়ে মানুষেরই
দুঃখে হও পরিচয়।
যার নেই অন্ন, অন্ন দাও,
যার নেই বস্ত্র, বস্ত্র,
যার হৃদয়ে আঁধার নেমেছে,
জ্বালাও আশার অস্ত্র।
যার চোখেতে অশ্রু ঝরে,
মুছে দাও সে জল,
যার জীবনটা ভেঙে গেছে,
দাও সাহস অবিচল।
দেখবে তখন বদলে গেছে
জীবন দেখার ঢং,
অভিযোগের কালো মেঘে
আর হবে না সঙ্গ।
পৃথিবীতে দুঃখ থাকবে,
থাকবে ব্যথার ঢেউ,
তবু কৃতজ্ঞ হৃদয় হলে
হার মানাবে না কেউ।
অন্যের সুখে সুখী হও,
অন্যের ব্যথা বোঝো,
মানবসেবার মহাপথে
জীবনের মান খোঁজো।
তখন মন আর বলবে না—
“আমার শুধু ক্ষতি,”
বলবে শুধু—
“প্রভু, তোমার অশেষ দানে
ধন্য আমার গতি।”
আলহামদুলিল্লাহ ধ্বনি হোক
প্রতিটি প্রাণের গান,
কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠুক
মানবতার প্রাণ।
নিজের নয়, সবার তরে
হোক জীবনের চলা,
অন্যের মুখে হাসি ফোটানোই
মানুষ হওয়ার ফল।
হে মন, শিখো এই শিক্ষা—
জীবনের মহাজ্ঞান,
অন্যের সেবায় খুঁজে পাওয়া যায়
নিজের শান্তির স্থান।
দুঃখ নয়, কৃতজ্ঞতাই
হোক হৃদয়ের রথ,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে
চলুক জীবনের পথ।
আলহামদুলিল্লাহ বলুক প্রাণ,
শুকরিয়া ঝরুক মুখে,
অন্যের কল্যাণে নিবেদিত জীবন
ফুটুক অনন্ত সুখে।
***
সারাক্ষণ কেন হে মন,
দুঃখের খাতা খোলো?
এই সমস্যা, সেই যন্ত্রণা,
কত হিসাব তোলো!
কেন শুধু নিজের কষ্ট
ঘুরে ফিরে ভাবো?
চারপাশে যে কত মানুষ
দুঃখে আছে—দেখো।
হাসপাতালের করিডোরে
একটু গিয়ে দাঁড়াও,
শয্যাপাশে কাতর মানুষ
নীরবে দেখে আসো।
কেউ বা ব্যথায় রাত জাগে,
কেউ হারিয়েছে ঘুম,
কেউ অপেক্ষায় সুস্থতার,
অন্তরে বিষণ্ন ধূম।
কোনো মায়ের চোখে পানি,
সন্তান শয্যাশায়ী,
কোনো শিশু ওষুধহীন,
চেয়ে থাকে নিরুপায়ী।
রোগের সাথে লড়াই করে
কত মানুষ প্রতিক্ষণ,
তাদের দেখে নিজের কষ্ট
লাগে কত ক্ষুদ্র তখন।
একবার গিয়ে গ্রামের পথে
গরিব মানুষের কাছে,
দেখবে কত জীবন এখন
অভাবের স্রোতে নাচে।
কারো ঘরে ভাত নেই আজ,
চুলায় জ্বলে না আগুন,
ক্ষুধার জ্বালায় শিশু কাঁদে,
মলিন সকাল-বিকেল-দুপুর।
কারো মাথার উপর নেই
নিরাপদ আশ্রয়খানি,
বর্ষার জলে ভিজে থাকে
দুঃখমাখা সংসারবাণী।
কেউ খোঁজে কাজ দিনের শেষে,
পায় না রুটির দিশা,
তবু মুখে হাসি রেখে
বাঁচার করে আশা।
তখন মনটি ধীরে বলে,
"কী নিয়ে এত হাহাকার?
রবের দেওয়া অগণিত নেয়ামত
রয়েছে যে অপরিসীম আর।"
দুটি চোখে পৃথিবী দেখি,
শুনি দুটি কানে,
সুস্থ দেহে চলতে পারি
জীবনেরই টানে।
খেতে পাই, পরতে পাই,
আছে মাথার ছাদ,
কত মানুষের স্বপ্ন শুধু
এটুকু পাওয়ার সাধ।
তখন হৃদয় ভরে ওঠে
শুকরিয়ার অনুভবে,
আলহামদুলিল্লাহ ধ্বনি
ঝরে নীরব সুরে।
কৃতজ্ঞতার এই শিক্ষাটি
জীবন গড়ার মূল,
অকৃতজ্ঞতার অন্ধকারে
হারায় সুখের ফুল।
যে মানুষটি অন্যের দুঃখ
অনুভব করতে শেখে,
মানবতার শ্রেষ্ঠ আলো
তার অন্তরে থাকে।
এক মুঠো ভাত ভাগ করে দিলে
ক্ষুধার্ত কোনো প্রাণে,
আনন্দ নামে নিজের মনেও
অদৃশ্য কল্যাণে।
একটি সান্ত্বনার বাক্য যদি
দুঃখীর মনে দাও,
নিজের বুকেও শান্তির পাখি
ডানা মেলে—দেখো।
একজন বৃদ্ধ রাস্তার ধারে
অপেক্ষাতে রয়,
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে
মুছে যেতে পারে ভয়।
একটি শিশুর মুখের হাসি
ফুটলে তোমার দানে,
তোমার নিজের জীবনও যে
আলোয় ভরে প্রাণে।
মানুষ যখন মানুষ হয়ে
মানুষের পাশে দাঁড়ায়,
নিজের শত দুঃখ-কষ্ট
অনেক দূরে হারায়।
বিজ্ঞানও আজ বলে স্পষ্ট,
সত্য এ কথাটি—
সেবার মাঝে সুখের খোঁজে
জাগে নতুন গতি।
অন্যের উপকার করলে
মন হয় আরও নির্মল,
আশা-ভরসার প্রদীপ জ্বলে,
হৃদয় থাকে উজ্জ্বল।
তাই হে মন, শুধু নিজের
অভাব নিয়ে নয়,
চারপাশের মানুষের দুঃখ
বোঝার চেষ্টা করো সদয়।
যার ঘরে নেই খাবার,
তাকে দাও কিছু ভাত,
যার মনে জমেছে আঁধার,
দাও আশার প্রভাত।
যার চোখে নীরব অশ্রু,
তার পাশে গিয়ে বসো,
যার জীবন ক্লান্ত-বিধ্বস্ত,
তাকে সাহসের কথা শোনাও।
দেখবে তখন বদলে গেছে
তোমার ভাবনার রং,
অভিযোগের ভারী মেঘে
আর হবে না সঙ্গ।
দুঃখ থাকবে, কষ্ট থাকবে,
এটাই জীবনের ধারা,
তবু কৃতজ্ঞ হৃদয় নিয়ে
চলবে মানুষ সারা।
অন্যের সুখে হাসতে শিখো,
অন্যের ব্যথা বোঝো,
মানবসেবার মহাপথে
নতুন জীবনের খোঁজো।
তখন তুমি খুঁজে পাবে
অমূল্য এক জ্ঞান—
কৃতজ্ঞ হৃদয়ই পৃথিবীর
সবচেয়ে বড় ধন।
তাই প্রতিদিন জেগে উঠে
বলুক প্রাণ নির্ভয়ে—
"আলহামদুলিল্লাহ, হে প্রভু,
রাখুন মানবসেবায়।"
অন্যের মুখে হাসি ফোটাই,
এ হোক জীবনের গান,
মানবতার পথে চলুক
সকল মানুষের প্রাণ।
***
হে মন, অন্যের দুঃখ দেখো
সারাক্ষণ কেন হে মন,
নিজের কথাই ভাবো?
এই সমস্যা, সেই কষ্ট,
দুঃখের হিসাব রাখো!
কেন শুধু নিজের ব্যথা
বুকের মাঝে গোনো?
চারপাশেতে কত মানুষ
কাঁদছে—তাও কি শোনো?
হাসপাতালের শয্যাপাশে
একটু গিয়ে দাঁড়াও,
কত রোগী নিঃশব্দে আজ
মৃত্যুর সাথে লড়াও।
কেউ হারিয়েছে চলার শক্তি,
কেউ হারিয়েছে চোখ,
কেউ বা শুধু বেঁচে থাকার
করছে নীরব শোক।
কোনো মায়ের বুকের মাঝে
অশ্রু ঝরে রাত,
অসুস্থ সন্তানের মাথায়
রাখে কাঁপা হাত।
কেউ ওষুধের অভাবে আজ
ব্যথা নিয়ে রয়,
কেউ চিকিৎসার অর্থহীনতায়
হারায় বাঁচার ভয়।
তখন তুমি নিজের দুঃখ
একবার মেপে দেখো,
অভিযোগের খাতা খুলে
আর কত কথা লেখো?
বস্তির পথে হাঁটলে দেখো
ক্ষুধার্ত কত প্রাণ,
এক মুঠো ভাতের আশায়
কাটে দিনের গান।
কত শিশুর বই নেই হাতে,
নেই যে লেখার খাতা,
জীবন তাদের সংগ্রামেরই
অপূর্ণ এক গাঁথা।
কারো ঘরে নেই আলো,
নেই নিরাপদ ঠাঁই,
ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে
স্বপ্নগুলো ভাই।
কেউ খুঁজে ফেরে কাজের সুযোগ,
ফিরে আসে শূন্য হাতে,
তবু সে হার মানে না,
লড়ে যায় প্রভাত হতে রাতে।
তখন হৃদয় প্রশ্ন করে—
"কেন এত হাহাকার?
রবের দেওয়া নেয়ামতের কি
নেই কোনো হিসাব আর?"
দুটি চোখে পৃথিবী দেখি,
দুটি কানে শুনি,
সুস্থ দেহে চলতে পারি,
এও তো কত গুণী।
খাবার আছে, পোশাক আছে,
মাথার উপর ছাদ,
কত মানুষের সারাজীবন
এটুকুই বড় সাধ।
তখন অন্তর বলে ওঠে—
আলহামদুলিল্লাহ!
এত নেয়ামত পেয়েও কেন
করব শুধু আহ্-উহ্-আহা?
কৃতজ্ঞতার মিষ্টি আলো
মনকে করে ধন্য,
অভিযোগের কালো মেঘ
হয়ে যায় যে শূন্য।
অন্যের দুঃখ বুঝতে শেখো,
অন্যের পাশে দাঁড়াও,
মানবতার এই শিক্ষাটি
হৃদয় মাঝে গাঁথাও।
এক মুঠো ভাত ক্ষুধার্তকে
যদি দিতে পারো,
নিজের ভেতর শান্তির নদী
বইতে দেখবে আরও।
একটি স্নেহের কথা যদি
ভাঙা মনে দাও,
তার হাসিতে নিজের জীবন
আলোকিতই পাও।
একজন বৃদ্ধ পথের ধারে
যদি থাকে একা,
তার পাশে বসে শুনে নাও
জীবনের লেখা।
একটি এতিম শিশুর মুখে
ফুটাও যদি হাসি,
দেখবে তখন তোমার মনেও
নামবে সুখের বাতাসি।
মানুষ যখন মানুষ হয়ে
মানুষকে ভালোবাসে,
নিজের শত কষ্ট তখন
হারিয়ে যায় বাতাসে।
সেবার মাঝে সুখের বীজ,
দানের মাঝে জয়,
অন্যের মুখে হাসি ফোটানো
মানবতার পরিচয়।
নিজের দুঃখ পাহাড় মনে
যতদিনই হবে,
অন্যের দুঃখ দেখার আগে
শান্তি কোথায় রবে?
তাই হে মন, অভিযোগের
দীর্ঘ পথটা ছাড়ো,
মানুষ হয়ে মানুষেরই
কষ্টগুলো ধরো।
যার নেই খাবার, অন্ন দাও,
যার নেই বস্ত্র, বস্ত্র,
যার হৃদয়ে জমেছে আঁধার,
জ্বালাও আশার অস্ত্র।
যার চোখেতে অশ্রু ঝরে,
মুছিয়ে দাও তা,
যার জীবনটা ভেঙে গেছে,
দাও সাহসের কথা।
দেখবে তখন বদলে গেছে
জীবন দেখার ঢং,
দুঃখগুলো ছোট হয়ে যায়,
বদলে যায় সব রং।
পৃথিবী জুড়ে দুঃখ থাকবে,
থাকবে ব্যথার ঢেউ,
তবু কৃতজ্ঞ হৃদয় হলে
হার মানাবে না কেউ।
অন্যের সুখে সুখী হও,
অন্যের ব্যথা বোঝো,
মানবসেবার পুণ্যপথে
জীবনের মান খোঁজো।
তখন মন আর বলবে না—
"আমার শুধু ক্ষতি",
বলবে শুধু—
"আলহামদুলিল্লাহ,
অশেষ তোমার দান, হে স্রষ্টা মহান,
শুকরিয়া জানাই নিতি।"
মানুষ হোক মানুষের আপন,
মুছুক দুঃখের ক্ষত,
কৃতজ্ঞতা আর সেবার আলোয়
গড়ুক মানবতার রথ।
হে মন, নিজের কষ্ট নয়,
দেখো বিশ্বের প্রাণ—
অন্যের সেবায় খুঁজে পাবে
জীবনের প্রকৃত জ্ঞান।
***
অন্যের দুঃখে খুঁজে নাও নিজের শান্তি
হে মন, কেন সারাক্ষণ
দুঃখের মালা গাঁথো?
এই কষ্ট আর সেই সমস্যায়
নিজেকেই শুধু মাতো?
কেন শুধু নিজের ব্যথা
বুকের মাঝে রাখো?
চারপাশেতে কত কান্না,
একবার সেদিকে তাকাও।
হাসপাতালের দীর্ঘ পথে
একটু গিয়ে দাঁড়াও,
শত রোগীর নিঃশব্দ যুদ্ধ
নীরবে দেখে আসো।
কেউ হারিয়েছে চলার শক্তি,
কেউ হারিয়েছে আলো,
কেউ বা শুধু বেঁচে থাকার
স্বপ্নটুকু রাখে ভালো।
কোনো মায়ের জাগে রাত,
অসুস্থ সন্তানের তরে,
চোখের জলে প্রার্থনা ঝরে
নিভৃত অশ্রুধারে।
কোনো বৃদ্ধ শয্যায় পড়ে
চেয়ে থাকে দরজাপানে,
একটু স্নেহ, একটি কথা—
পাবে কি সে জীবনে?
তখন তুমি নিজের কষ্ট
একবার ভেবে দেখো,
অভিযোগের পাহাড় গড়ে
কেন এত কথা লেখো?
যাও না একটু গ্রামের পথে,
দেখো কুঁড়েঘরের প্রাণ,
এক মুঠো ভাতের আশায়
কাটে কত মানুষের দিনমান।
কারো ঘরে জ্বলে না চুলা,
নেই পরনের বস্ত্র,
অভাব যেন জীবনের সাথে
করেছে স্থায়ী চুক্তি।
কারো মাথায় ছাদ নেই কোনো,
বর্ষায় ভিজে রাত,
তবুও তারা হাসিমুখে
লড়ে জীবনের সাথে।
কত শিশু স্কুলে যায় না,
খাতা-কলম নেই,
তাদের স্বপ্ন ধুলো মেখে
হারিয়ে যায় সেই।
কেউ কাজ খুঁজে ফেরে পথে,
ফিরে আসে খালি হাতে,
তবুও আশা হারায় না সে,
সংগ্রামে থাকে মাতে।
তখন হৃদয় প্রশ্ন করে—
"কিসের এত হাহাকার?
রবের দেওয়া অগণিত দান
ভুলে গেলে কি আর?"
দুটি চোখে পৃথিবী দেখি,
দুটি কানে শুনি,
সুস্থ শরীর, সচল জীবন—
এও তো কত গুণী।
খাবার আছে, পানি আছে,
মাথার উপর ছাদ,
কত মানুষের আজীবনের
এটুকুই বড় সাধ।
তখন মনটি বলে ওঠে—
আলহামদুলিল্লাহ!
যা পেয়েছি তার তুলনায়
অভিযোগ কি মানায়?
কৃতজ্ঞতার কোমল আলো
অন্তর করে পূর্ণ,
অসন্তোষের কালো মেঘ
হয়ে যায় বিলুপ্ত শূন্য।
যে মানুষটি অন্যের দুঃখ
নিজের মতো বোঝে,
মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা
সে-ই হৃদয়ে খোঁজে।
এক মুঠো ভাত ক্ষুধার্তকে
দিলে যদি হাসিমুখে,
শান্তির ফুল ফুটবে তখন
নিজের মনের সুখে।
একটি স্নেহের মধুর বাণী
দুঃখীর মনে দাও,
দেখবে তখন নিজের জীবন
আলোকিতই পাও।
একজন বৃদ্ধ পথের ধারে
যদি বসে একা,
তার পাশে গিয়ে বসলে তুমি
হবে মানবতার রেখা।
একটি এতিম শিশুর মুখে
যদি ফুটাও হাসি,
নিজের মনেও নেমে আসবে
আনন্দের বাতাসই।
বিজ্ঞানও আজ বলে স্পষ্ট,
সত্য এ কথাটি—
অন্যের সেবায় সুখের উৎস,
শান্তির নতুন গতি।
দান, সহমর্মিতা, ভালোবাসা—
মানবতার মূল,
এসব ছাড়া সভ্যতার পথ
হয়ে পড়ে আকুল।
তাই হে মন, শুধু নিজের
দুঃখ নিয়ে নয়,
অন্যের কষ্ট লাঘব করাই
মানুষ হওয়ার পরিচয়।
যার নেই অন্ন, অন্ন দাও,
যার নেই বস্ত্র, বস্ত্র,
যার জীবনে আঁধার নেমেছে,
জ্বালাও আশার প্রদীপ।
যার চোখেতে নীরব অশ্রু,
মুছে দাও সে জল,
যার হৃদয় ভেঙে গেছে,
দাও সাহস অবিচল।
দেখবে তখন বদলে গেছে
জীবন দেখার রীতি,
নিজের কষ্ট ক্ষুদ্র হয়ে
দেবে নতুন প্রীতি।
পৃথিবীতে দুঃখ থাকবে,
থাকবে ব্যথার ঢেউ,
তবু কৃতজ্ঞ হৃদয় নিয়ে
হার মানে না কেউ।
অন্যের সুখে সুখী হও,
অন্যের ব্যথা বোঝো,
মানবসেবার মহাপথে
জীবনের অর্থ খোঁজো।
তখন আর মন বলবে না—
"আমার কষ্ট ভার",
বলবে শুধু—
"প্রভু, তোমার অশেষ দানে
আমি ঋণী বারবার।"
আলহামদুলিল্লাহ ধ্বনি হোক
প্রতিটি প্রাণের গান,
মানুষ হোক মানুষের আপন,
জাগুক কল্যাণের জ্ঞান।
নিজের নয়, সবার তরে
হোক জীবনের পথচলা,
অন্যের মুখে হাসি ফোটানোই
মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ ফলাফল।
কৃতজ্ঞতা, সেবা ও প্রেমে
গড়ে উঠুক প্রাণ,
মানুষের মাঝে মানুষ হয়ে
এটাই হোক পরিচয় মহান।
***
হে মন, কৃতজ্ঞ হও
হে মন, কেন সারাক্ষণ
দুঃখের কথাই ভাবো?
এই সমস্যা, সেই বেদনা,
অভিযোগ কেন গাঁথো?
কেন শুধু নিজের কষ্ট
বুকের মাঝে রাখো?
পৃথিবীজোড়া কান্নার সুর
একবার সেদিকে তাকাও।
হাসপাতালের দীর্ঘ পথে
নীরবে গিয়ে দাঁড়াও,
শত অসহায় রোগীর মুখে
জীবনের গল্প পড়াও।
কেউ শয্যায় বহুদিন ধরে
অপেক্ষাতে রয়,
একটু সুস্থ সকাল পাবে—
এই আশাতেই সয়।
কেউ হারিয়েছে দৃষ্টির আলো,
কেউ চলার শক্তি,
কেউ বা শুধু বেঁচে থাকার
খুঁজে ফেরে যুক্তি।
কোনো মায়ের চোখের কোণে
অশ্রুর নদী বয়,
সন্তানের সুস্থতার জন্য
প্রার্থনায় রাত ক্ষয়।
কোনো শিশু ওষুধহীন,
কোনো শিশু ক্ষুধার্ত,
কোনো শিশু জানে না আজ
আগামীকাল কী অর্থ।
তখন তুমি নিজের ব্যথা
একবার ভেবে দেখো,
অভিযোগের খাতা খুলে
আর কত কথা লেখো?
যাও না একটু গ্রামের পথে,
বস্তির সরু গলিতে,
দেখবে কত জীবন আজও
সংগ্রামেরই কলিতে।
কারো ঘরে ভাত নেই আজ,
চুলায় জ্বলে না আগুন,
ক্ষুধার কষ্ট লুকিয়ে রেখে
কাটে সকাল-দুপুর।
কারো মাথার উপর নেই
নিরাপদ কোনো ছাদ,
ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে কাটে
জীবনের অবসাদ।
কারো সন্তানের হাতে নেই
বই কিংবা খাতা,
দারিদ্র্যের কঠিন শিকল
লিখে দেয় নতুন গাঁথা।
কেউ কাজ খুঁজে পথে পথে
ফিরে আসে ক্লান্ত,
তবু হারে না জীবনযুদ্ধে,
তবু নয় সে ভ্রান্ত।
তখন হৃদয় প্রশ্ন তোলে—
“কিসের এত হাহাকার?
রবের দেওয়া অগণিত দান
ভুলে গেলে কি আর?”
দুটি চোখে পৃথিবী দেখি,
দুটি কানে শুনি,
সুস্থ শরীর, সচল জীবন—
এও তো মহামূল্য গুণই।
খাবার আছে, পানি আছে,
আছে মাথার ছাদ,
কত মানুষের সারাজীবন
এটুকুই বড় সাধ।
তখন অন্তর বলে ওঠে—
আলহামদুলিল্লাহ!
যা পেয়েছি তার তুলনায়
অভিযোগ কি মানায়?
কৃতজ্ঞতার আলো যখন
হৃদয়জুড়ে জ্বলে,
দুঃখ তখন ছোট হয়ে যায়
আশার প্রদীপতলে।
যে মানুষটি অন্যের কষ্ট
অনুভব করতে শেখে,
মানবতার শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য
তার হৃদয়ের রেখে।
এক মুঠো ভাত ক্ষুধার্তকে
দিলে যদি হাসিমুখে,
শান্তির ফুল ফুটবে তখন
নিজের অন্তরসুখে।
একটি মধুর সান্ত্বনা
দুঃখী মানুষ পেলে,
তোমার নিজের হৃদয়ও যে
প্রশান্তিতে মেলে।
একজন বৃদ্ধ পথের ধারে
যদি থাকে একা,
একটু সময় দিলে তুমি
জীবন পাবে দেখা।
একটি এতিম শিশুর মুখে
যদি ফুটাও হাসি,
তোমার নিজের মনেও তখন
বইবে সুখের বাতাসই।
বিজ্ঞান আজ বলছে স্পষ্ট—
সত্য এই বাণী,
সেবার মাঝে সুখের উৎস,
কল্যাণেরই খনি।
ডোপামিনের নির্মল স্রোত
মস্তিষ্কজুড়ে বয়,
অক্সিটোসিন হৃদয়ভরা
ভালোবাসা রয়।
তাই যে মানুষ সেবা করে
নিঃস্বার্থ অন্তরে,
শান্তির পাখি নীরব ডানায়
বাসা বাঁধে ঘরে।
অন্যের বোঝা কাঁধে নিলে
হালকা হয় মন,
নিজের কষ্ট হারিয়ে যায়
পেয়ে নতুন জীবন।
তাই হে মন, শুধু নিজের
ব্যথা নিয়ে নয়,
মানুষ হয়ে মানুষেরই
দুঃখে হও পরিচয়।
যার নেই অন্ন, অন্ন দাও,
যার নেই বস্ত্র, বস্ত্র,
যার হৃদয়ে আঁধার নেমেছে,
জ্বালাও আশার অস্ত্র।
যার চোখেতে অশ্রু ঝরে,
মুছে দাও সে জল,
যার জীবনটা ভেঙে গেছে,
দাও সাহস অবিচল।
দেখবে তখন বদলে গেছে
জীবন দেখার ঢং,
অভিযোগের কালো মেঘে
আর হবে না সঙ্গ।
পৃথিবীতে দুঃখ থাকবে,
থাকবে ব্যথার ঢেউ,
তবু কৃতজ্ঞ হৃদয় হলে
হার মানাবে না কেউ।
অন্যের সুখে সুখী হও,
অন্যের ব্যথা বোঝো,
মানবসেবার মহাপথে
জীবনের মান খোঁজো।
তখন মন আর বলবে না—
“আমার শুধু ক্ষতি,”
বলবে শুধু—
“প্রভু, তোমার অশেষ দানে
ধন্য আমার গতি।”
আলহামদুলিল্লাহ ধ্বনি হোক
প্রতিটি প্রাণের গান,
কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠুক
মানবতার প্রাণ।
নিজের নয়, সবার তরে
হোক জীবনের চলা,
অন্যের মুখে হাসি ফোটানোই
মানুষ হওয়ার ফল।
হে মন, শিখো এই শিক্ষা—
জীবনের মহাজ্ঞান,
অন্যের সেবায় খুঁজে পাওয়া যায়
নিজের শান্তির স্থান।
দুঃখ নয়, কৃতজ্ঞতাই
হোক হৃদয়ের রথ,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে
চলুক জীবনের পথ।
আলহামদুলিল্লাহ বলুক প্রাণ,
শুকরিয়া ঝরুক মুখে,
অন্যের কল্যাণে নিবেদিত জীবন
ফুটুক অনন্ত সুখে।
৭০
১৪৪ মন্তব্য