সহকারী অধ্যাপক
০২ জুন, ২০২৬ ০৩:০০ অপরাহ্ণ
পরিবারে শান্তির পাঠ - মোঃ মুজিবুর রহমান
পরিবারে শান্তির পাঠ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
পরিবার একটি ছোট্ট নীড়,
ভালোবাসার ঘর,
সবার হাসি, সবার সুখে
সুন্দর হয় পর।
সন্তান যখন বেড়ে ওঠে
স্বপ্ন নিয়ে মনে,
মা-বাবারই স্নেহের ছোঁয়া
থাকে ক্ষণে ক্ষণে।
শুধু আহার, বস্ত্র দিলেই
দায়িত্ব শেষ নয়,
সন্তান যেন মানুষ হয়ে
উঠতে পারে—সেটাই জয়।
খোঁজ নিতে হয় পড়াশোনার,
মনটা কেমন আছে,
কোনো দুঃখ কি লুকিয়ে রাখে
হাসির আড়াল মাঝে।
অবহেলা আর অমনোযোগ
বাড়ায় কত ক্ষতি,
সন্তানেরা হারিয়ে ফেলে
জীবন গড়ার গতি।
তাই যে বাবা পরিবারে
প্রধান হয়ে রয়,
তার দায়িত্ব ভালোবাসায়
সন্তান গড়ে তোলার জয়।
স্ত্রীর প্রতিও কর্তব্য আছে,
আছে সম্মানবোধ,
সুখ-দুঃখেতে পাশে থাকা
মানবতার রোদ।
কিন্তু শুধু দাবির বোঝা
চাপিয়ে দিলে নয়,
মানুষ মাত্র সীমাবদ্ধ,
সামর্থ সবার ক্ষয়।
যে মানুষটি দিনরাত খেটে
সংসারটাকে টানে,
তারও আছে শক্তির সীমা
জীবনেরই টানে।
চাহিদা যেন নদীর স্রোতে
বাড়ে অবিরাম,
সামর্থ কিন্তু অনেক সময়
চলে ধীরেই থাম।
সামর্থ সীমিত—এই কথাটি
ভুললে হবে ক্ষতি,
অসন্তোষের আগুন জ্বলে,
নষ্ট হয় প্রীতি।
একটি ঘরে শান্তি থাকে
বোঝাপড়ার ফলে,
ভালোবাসার আলো জ্বলে
সহমর্মিতার দলে।
সন্তান যদি বুঝতে শেখে
বাবার কষ্ট কত,
মায়ের শ্রমের মূল্য কত,
ত্যাগের হিসাব শত—
তবে ঘরের পরিবেশ হবে
ফুলের মতো স্নিগ্ধ,
অভিযোগের ঝড় থেমে যায়,
মনও থাকে নিগূঢ়।
স্ত্রী যদি দেখেন সংসারের
আয়-ব্যয়ের হিসাব,
সামর্থ বুঝে চলতে শেখেন,
কমে যাবে চাপ।
স্বামী যদি স্ত্রীর কথাও
মন দিয়ে শোনেন,
সম্মান দিয়ে পাশে থাকেন,
ভালোবাসা বোনেন—
তবে ঘরের প্রতিটি কোণে
শান্তি নেমে আসে,
কলহ-ঝগড়া দূরে সরে
হাসি ফুটে হাসে।
গ্রহণ-বর্জনের শিক্ষাটিও
জীবন গড়ার মন্ত্র,
সব ইচ্ছে যে পূরণ হবে
নয় তো জীবনের কেন্দ্র।
যা প্রয়োজন আগে নেব,
বিলাস পরে হবে,
সঞ্চয়েরও গুরুত্ব আছে
বিপদ যখন রবে।
একজনের সাথে অন্যজনের
তুলনা করা ভুল,
সবার রিজিক আলাদা করে
দেন মহান কূল।
কারও আয় হয় অল্প একটু,
কারও অনেক বেশি,
তাই বলে কি সম্মান তার
কমে যায় রেশি?
মানুষের মর্যাদা গড়ে
সততা আর কর্ম,
সম্পদেরই পরিমাণে নয়
জীবনের মহাধর্ম।
যে পরিবার বুঝতে শেখে
সামর্থ আর চাহিদা,
সেই পরিবার খুঁজে পায়
সুখের সত্য সীমানা।
যে পরিবার কৃতজ্ঞ থাকে
অল্প পাওয়া নিয়ে,
সেই পরিবার বেঁচে থাকে
শান্তির আলো নিয়ে।
অন্যদিকে লোভের আগুন
যখন জ্বলে প্রাণে,
অভাব না থাকলেও মানুষ
দুঃখ খুঁজে আনে।
তাই আসুন শপথ করি
সকল ঘরের তরে,
সামর্থ বুঝে চলব সবাই
জীবনস্রোতের ঘোরে।
সন্তানের যত্ন নেব আমরা,
দেব সময় আর স্নেহ,
পরিবারের প্রতিটি সদস্য
রাখব হৃদয় গেঁথে।
আবার সবাই বুঝব মিলে
সামর্থেরও সীমা,
অসম্ভবের ভার চাপিয়ে
করব না আর ভ্রান্তি।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মায়া,
সহানুভূতির ডোর,
এই তিনটিই বাঁচিয়ে রাখে
পরিবারের ঘর।
যেখানে থাকে বোঝাপড়া,
সেখানে থাকে সুখ,
যেখানে থাকে কৃতজ্ঞতা,
হাসিমাখা সব মুখ।
চাহিদা হবে সংযত,
সামর্থ হবে মান,
তবেই গড়ে উঠবে ঘরে
শান্তিময় পরিবার-প্রাণ।
সকল ঘরে ফুটুক আবার
ভালোবাসার ফুল,
দায়িত্ব, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতায়
হোক জীবন অনুকূল।
পরিবার হোক শান্তির নীড়,
সম্প্রীতির দ্বার,
পারস্পরিক বোঝাপড়াতেই
সফল সংসার।
***
পরিবারে শান্তির দর্শন
(সামর্থ, দায়িত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার কাব্য)
পরিবার মানে শুধু নয়তো
একটি ঘর আর দেয়াল,
পরিবার মানে হৃদয় জুড়ে
ভালোবাসার জাল।
মা-বাবা আর সন্তান মিলে
স্বপ্ন গড়ে রয়,
পারস্পরিক দায়িত্ববোধে
জীবন পায় জয়।
সন্তান যখন বড় হতে থাকে
সময় নদীর স্রোতে,
তখন তাদের পাশে থাকা
কর্তব্য প্রতিক্ষণে।
শুধু খাদ্য, বস্ত্র দিলেই
দায়িত্ব শেষ নয়,
মানুষ হওয়ার শিক্ষাটাই
অভিভাবকের জয়।
খোঁজ নিতে হয় সন্তানের মন,
কী ভাবছে নিরবে,
কোন কষ্টে সে ভেঙে পড়ে,
কোন স্বপ্নে সে ভাসে।
অবহেলা আর অমনোযোগ
নীরব বিষের মতো,
ধীরে ধীরে ক্ষতি করে
জীবন গড়ার পথ।
তাই পরিবারপ্রধানের আগে
এ দায়িত্ব মানা চাই,
সন্তানদের সঠিক পরিচর্যায়
কখনো ঘাটতি নাই।
স্ত্রীর প্রতিও দায়িত্ব আছে,
আছে সম্মানের স্থান,
সুখে-দুঃখে পাশে থাকার
রয়েছে পবিত্র জ্ঞান।
কিন্তু এই সত্যের পাশে
আরেক সত্য রয়,
সামর্থ ছাড়া দায়িত্বপালন
সহজ মোটেই নয়।
যে মানুষটি দিনভর খেটে
সংসারের হাল ধরে,
কত চিন্তা বুকের মাঝে
লুকিয়ে রাখে অন্তরে।
সন্তানের ভবিষ্যৎ ভাবনা,
বৃদ্ধ বয়সের ভয়,
সংসারের খরচের হিসাব—
সবই তাকে বইতে হয়।
তাই পরিবারের অন্য সদস্য
বুঝুক অন্তর দিয়ে,
সকল চাওয়া পূরণ করা
সম্ভব নয় সব নিয়ে।
সামর্থ সীমিত, চাহিদা অসীম—
এ সত্য চিরকাল,
যে তা বুঝে, সে-ই পায়
শান্তির সোনার জাল।
আকাশজোড়া ইচ্ছে সবার,
স্বপ্ন অগণিত,
কিন্তু আয় যদি সীমিত থাকে,
হতে হয় সংযত।
যা প্রয়োজন আগে নিতে,
যা অপ্রয়োজন ছাড়ি,
এই শিক্ষাতে জীবন গড়ে
সুখের আলোকধারী।
গ্রহণ-বর্জনের নীতিহীন
সংসার টেকে না,
চাহিদার আগুন জ্বলতে জ্বলতে
শান্তি থাকে না।
আজকে যদি অযথা খরচ
বাড়িয়ে ফেলি হেসে,
কালকে গিয়ে দুঃখের ছায়া
দাঁড়াবে এসে শেষে।
অর্থনীতির সহজ পাঠ
ঘরে ঘরে চাই,
যে পরিবার তা বোঝে ভালো
অশান্তি থাকে নাই।
আয় বুঝে ব্যয় করাটাই
প্রজ্ঞার প্রথম ধাপ,
অযথা চাহিদা বাড়িয়ে তোলা
নিজেরই জন্য চাপ।
অন্যের সাথে তুলনা করে
কষ্ট বাড়িও না,
সবার ভাগ্য, সবার রিজিক
এক রকম হয় না।
কারও ঘরে প্রাচুর্য বেশি,
কারও ঘরে কম,
তাই বলে কি মানুষের মূল্য
হয়ে যায় অসম?
মানুষ বড় সম্পদে নয়,
বড় হয় চরিত্রে,
সততা আর কর্মনিষ্ঠা
রাখে তাকে শিখরে।
সন্তান যদি বুঝতে শেখে
বাবার ঘামের দাম,
মায়ের ত্যাগের মহিমা কত,
কত বিশাল নাম—
তবে তাদের হৃদয় জুড়ে
কৃতজ্ঞতার ফুল,
অভিযোগের ঝড় থেমে যায়,
মুছে যায় সব ভুল।
স্ত্রী যদি স্বামীর কষ্টকে
নিজের কষ্ট মানে,
সংসারের ভার ভাগ করে নেয়
ভালোবাসার টানে—
তবে সেই ঘর জান্নাতসম
শান্তির নিবাস,
কলহহীন সম্পর্কগুলো
পায় নতুন সুবাস।
স্বামী যদি স্ত্রীর কথাগুলো
শ্রদ্ধাভরে শোনে,
অবজ্ঞার দেয়াল ভেঙে
ভালোবাসা বোনে—
তবে সংসারের প্রতিটি ক্ষণ
হয়ে ওঠে মধুর,
ঝড় এলেও ভাঙতে পারে না
সম্পর্কের সেতুবন্ধন দূর।
সংসার কোনো যুদ্ধক্ষেত্র
নয় তো জয়ের স্থান,
এটি হলো সহযোগিতার
এক মহৎ প্রতিষ্ঠান।
এখানে নেই পরাজিত কেউ,
নেই বিজয়ের গান,
এখানে সবাই একে অন্যের
সুখ-দুঃখের প্রাণ।
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর
সহমর্মিতার হাত,
এই দুটিই গড়ে তোলে
শান্তিময় প্রভাত।
অহংকার আর অতিরিক্ত
প্রত্যাশার দেয়াল,
অনেক সুখের সংসার ভেঙে
করেছে বেহাল।
তাই আসুন আজ শপথ করি
নিজ নিজ অন্তরে,
দায়িত্ববোধ জাগ্রত রাখব
জীবনের প্রতিটি প্রহরে।
সন্তানদের যত্ন নেব,
দেব সময় আর স্নেহ,
তাদের মনে মানবতার
জ্বালব শুভ প্রলেপ।
আবার তারাও বুঝবে যেন
অভিভাবকের মান,
সামর্থ অনুযায়ী চলাটাই
জীবনবোধের জ্ঞান।
সামর্থ বুঝে চাহিদা গড়া,
এটাই বুদ্ধিমত্তা,
এই শিক্ষাতেই লুকিয়ে আছে
পরিবারের সফলতা।
যেখানে থাকে কৃতজ্ঞতা,
সেখানে থাকে সুখ,
যেখানে থাকে বোঝাপড়া,
হাসিমাখা থাকে মুখ।
যেখানে থাকে সম্মানবোধ,
সেখানে কলহ হারায়,
ভালোবাসার দীপশিখাটি
আজীবন জ্বলে যায়।
তাই পরিবার হোক এমন
শান্তি-সম্প্রীতির ঘর,
যেখানে সবাই বুঝবে সবার
সামর্থ, সাধ্য, পর।
সন্তানেরা পাবে যত্ন,
মা পাবে সম্মান,
পরিবারপ্রধান পাবে সবার
সহযোগিতার দান।
চাহিদা হবে সংযত সেথা,
কৃতজ্ঞ হবে প্রাণ,
সামর্থ বুঝে চলার মাঝেই
লুকিয়ে জীবনের জ্ঞান।
তখন ঘরে ঘরে ফুটবে আবার
সুখের সোনার ফুল,
পারস্পরিক ভালোবাসায়
মুছে যাবে সব ভুল।
পরিবার হবে শান্তির নীড়,
মানবতার দ্বার,
বোঝাপড়া আর দায়িত্বেই
সফল হবে সংসার।
***
পরিবারতন্ত্রের প্রজ্ঞা
পরিবার মানে শুধু নয় যে
ইট-পাথরের ঘর,
পরিবার মানে হৃদয় গাঁথা
ভালোবাসার ডোর।
পরিবার মানে দায়িত্বের
অমূল্য এক বন্ধন,
সুখে-দুঃখে পাশাপাশি থাকা
বিশ্বাসের স্পন্দন।
পিতা-মাতা, সন্তান, স্বজন—
সবার মিলিত প্রাণ,
পরস্পরের শ্রদ্ধা-মমতায়
সুন্দর হয় স্থান।
সন্তান যখন বেড়ে ওঠে
আগামীর প্রত্যাশায়,
তখন তাদের সঠিক যত্ন
অত্যাবশ্যক হয়।
শুধু খাদ্য, বস্ত্র দিলেই
কর্তব্য শেষ নয়,
মানুষ হওয়ার শিক্ষাদানই
অভিভাবকের জয়।
সন্তান কী চায়, কী ভাবছে,
কেমন তার মন,
সে কি কোনো কষ্ট লুকায়,
আছে কি উদ্বেগ গোপন?
এসব বিষয়ে উদাসীনতা
কখনো নয় ভালো,
অবহেলার অন্ধকারে
নিভে যায় কত আলো।
টেক কেয়ারহীন সন্তান যেন
দিকহারা এক তরী,
সঠিক স্নেহ আর দিকনির্দেশ
তার সবচেয়ে জরুরি।
তাই পরিবারপ্রধানের আগে
এ দায়িত্ব পালন,
সন্তানের প্রতি সচেতনতা
হোক জীবনের শপথধ্বনন।
স্ত্রীর প্রতিও দায়িত্ব আছে,
আছে সম্মানের অধিকার,
ভালোবাসা আর সহযোগিতায়
হোক সম্পর্কের প্রসার।
কিন্তু সত্যের আরেক পিঠও
সবার রাখা চাই মনে,
সামর্থের সীমারেখা থাকে
প্রতিটি মানুষের জীবনে।
যে মানুষটি দিনভর খেটে
সংসারের ভার টানে,
তারও আছে ক্লান্তি, চিন্তা,
হাজার প্রশ্ন প্রাণে।
আয়ের চেয়ে ব্যয় যদি হয়
অসংযত ও বেশি,
তবে সংসারের সুখের পাখি
দূরে সরে রেশি।
তাই স্ত্রী ও সন্তানদেরও
বোঝা উচিত সদা,
সামর্থের বাইরে চাপ প্রয়োগ
আনে শুধু বাধা।
চাহিদা থাকে সাগরের মতো,
শেষ হয় না কভু,
সামর্থ থাকে নদীর মতো,
সীমাবদ্ধ তার গতি।
সামর্থ সীমিত, চাহিদা অসীম—
এ শিক্ষা মহামূল্য,
এ সত্য ভুলে চলতে গেলে
নষ্ট হয় সব মূল্য।
সবকিছু কি পাওয়া সম্ভব
জীবনের প্রতিক্ষণ?
গ্রহণ-বর্জনের শিক্ষাতেই
গড়ে সুন্দর জীবন।
যা প্রয়োজন গ্রহণ করো,
অপ্রয়োজন ত্যাগ,
সংযমের এই জীবনবোধ
দূর করে অনুরাগ।
অর্থনীতির প্রথম পাঠ
এটাই সবার জানা—
আয় বুঝে ব্যয় করাই হলো
প্রজ্ঞার মূল ঠিকানা।
অযথা ভোগ, অযথা খরচ
আনে দুঃখ শেষে,
অভাব না থাকলেও মানুষ
কষ্ট পায় পরিবেশে।
একটি ঘরে যদি সবাই
চাহিদারই দাস,
তবে সে ঘরে শান্তি থাকে
মাত্র কিছু নিঃশ্বাস।
অন্যদিকে যদি সবাই
বোঝে বাস্তবতা,
তবে সংসারে প্রতিষ্ঠিত হয়
সুখের সফলতা।
অন্যের সাথে তুলনা করা
বুদ্ধিমানের কাজ নয়,
সবার রিজিক এক নয় কখনো,
সবার সমান জয় নয়।
কারও আয় হয় অল্প কিছু,
কারও অনেক বেশি,
তাই বলে কি সম্মান তার
কমে যায় রেশি?
মানুষ বড় সম্পদে নয়,
মানুষ বড় গুণে,
সততা আর ন্যায়নিষ্ঠা
রাখে তাকে শিখরে।
সন্তান যদি বুঝতে শেখে
বাবার ঘামের দাম,
মায়ের ত্যাগের মহিমা কত,
কত উজ্জ্বল নাম—
তবে তাদের অন্তর ভরে
কৃতজ্ঞতার আলো,
অভিযোগের কালো মেঘ
হয়ে যায় নিরালো।
স্ত্রী যদি স্বামীর কষ্টকে
নিজের কষ্ট ভাবে,
সুখ-দুঃখের প্রতিটি পথে
সহযাত্রী হয়ে রবে।
স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি
সম্মান রেখে চলে,
তবে সংসারের প্রতিটি দিন
ফুলের সুবাস তোলে।
সংসার কোনো প্রতিযোগিতা
নয়কো জেতার স্থান,
এটি হলো সহযোগিতার
এক মহান প্রতিষ্ঠান।
এখানে কেউ শাসক নয়,
নয় কেউ অধীন,
সবার মাঝে দায়িত্ববোধে
গড়ে ওঠে সেতুবন্ধন।
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ,
সহানুভূতি, মায়া—
এই তিনটিই সংসারজুড়ে
শান্তির ছায়া ছায়া।
অহংকার আর অতিচাহিদা
যখন মনে বাসে,
কলহ এসে নীরব ঘরে
অশান্তির আগুন হাসে।
তাই আসুন শপথ করি
হৃদয়ের গভীরে,
দায়িত্ববোধ জাগ্রত রাখব
জীবনের প্রতিক্ষণে।
সন্তানদের যত্ন নেব,
দেব সময় ও স্নেহ,
নৈতিকতার আলো দিয়ে
করব জীবন গেহ।
স্ত্রী-সন্তান বুঝবে আবার
পরিবারপ্রধানের মান,
সামর্থ অনুযায়ী চলাটাই
প্রজ্ঞাবানের জ্ঞান।
সঞ্চয় হবে ভবিষ্যতের
নিরাপত্তার ঢাল,
সংযম হবে জীবনের পথে
প্রজ্ঞার উজ্জ্বল জাল।
যেখানে থাকে বোঝাপড়া,
সেখানে থাকে সুখ,
যেখানে থাকে কৃতজ্ঞতা,
হাসিমাখা থাকে মুখ।
যেখানে থাকে সম্মানবোধ,
সেখানে শান্তি রয়,
যেখানে থাকে দায়িত্ববোধ,
সেখানে জীবনের জয়।
তাই পরিবার হোক এমন
শিক্ষার উজ্জ্বল দ্বার,
যেখানে সবাই বুঝবে সবার
সামর্থ, সাধ্য, ভার।
সন্তান পাবে সঠিক যত্ন,
মা পাবে মর্যাদা,
পরিবারপ্রধান পাবে সবার
সহযোগিতার সাধা।
চাহিদা হবে সংযত সেথা,
কৃতজ্ঞ হবে প্রাণ,
গ্রহণ-বর্জনের নীতিতেই
উজ্জ্বল হবে জ্ঞান।
সকল ঘরে ফুটুক আবার
সম্প্রীতির ফুল,
লোভ, অহং আর অবিবেচনা
করুক পথ ভুল।
দায়িত্ব, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা,
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা—
এই পাঁচ স্তম্ভের উপরেই
সংসার পায় ভরসা।
পরিবার হোক শান্তির নীড়,
মানবতার দ্বার,
পারস্পরিক বোঝাপড়াতেই
সফল হোক সংসার।
সামর্থ বুঝে, ভালোবেসে,
চলুক জীবনপথ,
তবেই ঘরে ঘরে ফুটবে
সুখ-শান্তির রথ।
***
পরিবারের প্রজ্ঞা ও শান্তি
পরিবার মানে কেবল নয় তো
একটি বসতঘর,
পরিবার মানে ভালোবাসার
বন্ধন নিরন্তর।
পিতা, মাতা, সন্তান, স্বজন—
একই সূত্রে বাঁধা,
পারস্পরিক দায়িত্বে গড়ে
জীবনপথের সাধা।
সংসার নামের তরীখানি
চলে সবার টানে,
একজন শুধু নয়কো মাঝি,
সকলেই তার প্রাণে।
তবু যিনি পরিবারপ্রধান,
দায়িত্ব তাঁর বেশি,
সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ায়
ব্যস্ত থাকেন রেশি।
সন্তান শুধু আহার পেলে
কর্তব্য শেষ নয়,
সুশিক্ষা আর স্নেহের ছোঁয়ায়
মানুষ করাই জয়।
সন্তান কী চায়, কী ভাবছে,
কেমন তার মন,
সেদিকে যদি খেয়াল না থাকে,
বাড়ে অশান্তি তখন।
অবহেলা আর অমনোযোগ
নিভিয়ে দেয় আলো,
অযত্নে ফুল শুকিয়ে গেলে
ফিরে পাওয়া ভারই ভালো।
তাই সন্তানের টেক কেয়ারে
ঘাটতি রাখা নয়,
সচেতনতা, সময়, স্নেহে
অভিভাবকের জয়।
খোঁজ নিতে হয় পড়াশোনার,
বন্ধু কেমন তার,
নৈতিকতা শিখছে কিনা,
কী তার আচরণধার।
যে সন্তান পায় দিকনির্দেশ,
স্নেহের দৃঢ় হাত,
সে-ই গড়ে আলোকিত করে
দেশ ও সমাজমাত।
কিন্তু শুধু দায়িত্বের কথা
একপাশে রাখলে হয়?
অন্য পাশেও রয়েছে কিছু
বাস্তবতার জয়।
স্ত্রী ও সন্তান বুঝুক আগে
একটি সহজ জ্ঞান,
সামর্থ ছাড়া পূরণ হয় না
সব চাওয়ারই টান।
যে মানুষটি দিনভর খেটে
রৌদ্র-বৃষ্টি সয়ে,
সংসারেরই চাকা ঘোরায়
ক্লান্ত শরীর বয়ে—
তারও আছে সীমাবদ্ধতা,
তারও শক্তির শেষ,
অসীম চাহিদা পূরণ করা
সম্ভব নয় বিশেষ।
চাহিদা যেন আকাশসমান,
সীমাহীন তার ডানা,
সামর্থ কিন্তু মাটির মতো
বাস্তবতার ঠিকানা।
তাই যে ঘরে সবাই মিলে
সামর্থ বুঝে চলে,
সেই ঘরে সুখের প্রদীপ
নিভে না কোনো কালে।
সামর্থ সীমিত, চাহিদা অসীম—
অর্থনীতির বাণী,
এই শিক্ষাটি ভুলে গেলে
অশান্তি আসে টানি।
সব ইচ্ছা কি পূরণ হবে
জীবনের প্রতিক্ষণ?
গ্রহণ-বর্জনের নীতিতেই
সুন্দর হয় জীবন।
যা প্রয়োজন আগে নেব,
যা অপ্রয়োজন ছাড়ি,
সংযমী সেই মানুষটিই
প্রজ্ঞার আলোধারী।
আয় বুঝে যে ব্যয় করে,
সঞ্চয় রাখে কিছু,
বিপদ এলে সে-ই পারে
সাহস নিয়ে পিছু।
অপচয় আর অযথা ভোগ
আনে দুঃখ শেষে,
শান্তির ঘরও অশান্ত হয়
অবিবেচনার বেশে।
তাই অর্থের ব্যবস্থাপনাও
একটি বড় জ্ঞান,
এ জ্ঞান ছাড়া সংসারজীবন
হয় না কল্যাণ।
একজনের সাথে অন্যজনের
তুলনা করা ভুল,
সবার ভাগ্য এক নয় কখনো,
এক নয় সবার ফুল।
কারও আয় হয় অল্প কিছু,
কারও অনেক বেশি,
তাই বলে কি সম্মান তার
কমে যায় রেশি?
মানুষ বড় সম্পদে নয়,
বড় হয় চরিত্রে,
সততা আর কর্মনিষ্ঠা
রাখে তাকে শিখরে।
যে পরিবার কৃতজ্ঞ থাকে
অল্প পাওয়া নিয়ে,
সেই পরিবার সুখের পথে
এগোয় মাথা নত দিয়ে।
যে সন্তান বুঝতে শেখে
বাবার ঘামের দাম,
মায়ের ত্যাগের মহিমা কত,
কত গৌরবময় নাম—
সে কখনো অহংকারে
হারায় না পথচিহ্ন,
শ্রদ্ধা দিয়ে গড়ে তোলে
জীবনেরই ভিত্তি দৃঢ়।
স্ত্রী যদি স্বামীর কষ্টকে
নিজের কষ্ট ভাবে,
স্বামী যদি স্ত্রীর সম্মান
হৃদয়ে স্থান দেয় তবে—
সংসার তখন ফুলের বাগান,
শান্তির নীল আকাশ,
কলহহীন সম্পর্কগুলো
ছড়ায় মধুর সুবাস।
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ,
মায়া আর সহানুভূতি,
এই তিনটি সংসারজীবন
রাখে সদা জ্যোতিময় স্মৃতি।
অহংকার আর অতিচাহিদা
যখন মনে বাসে,
ভালোবাসার ঘরও তখন
অশান্তির আগুনে ভাসে।
তাই আসুন শপথ করি
নিজ নিজ অন্তরে,
দায়িত্ববোধ জাগিয়ে রাখব
জীবনের প্রতিক্ষণে।
সন্তানেরা পাবে সুশিক্ষা,
পাবে সময়, স্নেহ,
মানবতার আদর্শ দিয়ে
গড়ব তাদের গেহ।
স্ত্রী-সন্তান বুঝবে আবার
পরিবারপ্রধানের ভার,
সামর্থ বুঝে চলার মাঝেই
লুকিয়ে শান্তির দ্বার।
চাহিদা হবে সংযত সেথা,
কৃতজ্ঞ হবে প্রাণ,
অল্প পেয়েও সুখী হওয়ার
জাগবে মহাজ্ঞান।
যেখানে থাকে বোঝাপড়া,
সেখানে থাকে সুখ,
যেখানে থাকে কৃতজ্ঞতা,
হাসিমাখা থাকে মুখ।
যেখানে থাকে দায়িত্ববোধ,
সেখানে উন্নতি রয়,
যেখানে থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা,
সেখানে জীবনের জয়।
তাই পরিবার হোক এমন
প্রজ্ঞা-ভরা নীড়,
যেখানে সবাই একে অন্যের
সুখ-দুঃখের ভীড়।
সন্তান পাবে সঠিক যত্ন,
মা পাবে সম্মান,
পিতা পাবে সহযোগিতার
উষ্ণতার দান।
সামর্থ বুঝে চলবে সবাই,
থাকবে না অহংকার,
গ্রহণ-বর্জনের নীতিতেই
সফল হবে সংসার।
ভালোবাসা, ধৈর্য, ত্যাগ,
শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞ জ্ঞান—
এই পাঁচ স্তম্ভের উপরেই
দাঁড়িয়ে থাকে পরিবারপ্রাণ।
সকল ঘরে ফুটুক আবার
সম্প্রীতির ফুল,
বোঝাপড়া আর দায়িত্বে
মুছে যাক সব ভুল।
পরিবার হোক শান্তির নীড়,
মানবতার দ্বার,
সামর্থ বুঝে ভালোবেসে
সফল হোক সংসার।
৭০
১৪৪ মন্তব্য