সহকারী অধ্যাপক
০৫ জুন, ২০২৬ ০৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
পরিবারে শান্তির দীপ মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
পরিবারে শান্তির দীপ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
পরিবার মানে ভালোবাসা, মমতার আপন নীড়,
ঝড়ের দিনে আশ্রয় যেখানে, সুখের সোনার ভিড়।
পরিবার মানে হৃদয় জুড়ে বিশ্বাসের বন্ধন,
একজনের সুখে সবার হাসি, দুঃখে সমবেদন।
কিন্তু যখন ভুল বোঝাবুঝি জমে মেঘের মতো,
অবিশ্বাসের কালো ছায়া নামে ধীরে ততো।
কথার ভেতর কাঁটার খোঁচা, মনে জমে ক্ষোভ,
একই ছাদের নিচে থেকেও বাড়ে দূরত্ব-রোগ।
ছোটরা পায় না স্নেহের ছোঁয়া, বড়রা সম্মান,
অভিমান আর অভিযোগে ক্ষয়ে যায় প্রাণ।
ভালোবাসার সেতু ভেঙে দেয় কুধারণার ঢেউ,
আপন মানুষ পর হয়ে যায়, পাশে থাকে কেউ?
স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কে যখন পড়ে ফাটল,
সন্দেহ এসে নিভিয়ে দেয় বিশ্বাসের প্রদীপ জ্বল।
কথা কমে, বাড়ে নীরবতা, জমে হৃদয়-বেদনা,
একটি ভুলের আগুনে পুড়ে যায় কত স্বপ্ন-সাধনা।
বাবা ভাবেন—"আমায় বুঝে না কেউ এ সংসারে",
মা কাঁদেন চুপে, বুকের ব্যথা লুকিয়ে অন্ধকারে।
সন্তান ভাবে—"আমার কথা শোনে না তো কেহ",
অভিমানী মন হারিয়ে ফেলে সম্পর্কের সেই গেহ।
দাদা-দাদী, নানা-নানী, বৃদ্ধ বয়সে শেষে,
সন্তানেরই ঘর ছেড়ে যায় অশ্রুসজল বেশে।
যে হাত ধরে শিখিয়েছিল চলার প্রথম পথ,
সে হাত আজ কাঁপে নিঃসঙ্গতায়, ভাঙে বুকের রথ।
ক্রমে ঝগড়া বাড়তে বাড়তে নেয় ভয়ংকর রূপ,
হাসির ঘরে কান্না নামে, নিভে যায় সুখ-ধূপ।
কেউ হয় নিরুদ্দেশ পথে, কেউ হারায় প্রাণ,
কেউবা বেছে নেয় নিঃসঙ্গতা, ভাঙে জীবনের গান।
এসব কি তবে নিয়তি আমাদের? না, কখনো নয়,
মানুষ চাইলে ভালোবাসায় ফিরতে পারে জয়।
যত অন্ধকার গভীর হোক, জ্বলে আলোর দীপ,
সততা আর আন্তরিকতা খুলে দেয় সব সীপ।
ফিরতে হবে কর্তব্য আর অধিকারের পথে,
নিজের আগে ভাবতে হবে অপরজনের রথে।
ছোটদের দিতে হবে স্নেহ, বড়দের সম্মান,
এই শিক্ষাতেই প্রস্ফুটিত হয় পরিবারের প্রাণ।
বড়রা যদি ধৈর্য নিয়ে শুনেন ছোটের কথা,
ছোটরা যদি শ্রদ্ধা রাখে, মিটে যায় ব্যথা।
শাসনের সাথে মমতা মিশে গড়ে সুন্দর সেতু,
পরিবারে শান্তি ফেরে, মুছে যায় যত ক্ষত।
স্বামী-স্ত্রী দু'জন মিলে হোন পরস্পরের বন্ধু,
খোলামেলা কথার মাঝে থাকুক বিশ্বাস-বিন্দু।
ভুল হলে ক্ষমা চাইতে শেখো, ক্ষমা করতেও শেখো,
অহংকারের দেয়াল ভেঙে হৃদয়ের কাছে রেখো।
রাগের আগুন জ্বলে উঠলে নীরব হও ক্ষণ,
ধৈর্যের জলে নিভিয়ে ফেলো ক্রোধের আয়োজন।
কঠিন কথা বলার আগে ভাবো শতবার,
একটি বাক্য ভাঙতে পারে সম্পর্কের সংসার।
নৈতিকতা হোক জীবনের প্রতিটি দিনের সাথী,
সত্য, ন্যায় আর সহমর্মিতা হোক চলার গাঁথি।
মানুষ যদি মানুষকে দেয় মর্যাদার স্থান,
তবে কেনই বা ভাঙবে ঘরের ভালোবাসার টান?
প্রতিদিন কিছু সময় রাখো আপনজনের তরে,
মোবাইলের পর্দা ছেড়ে বসো হৃদয় ভরে।
একসাথে খাও, গল্প করো, শুনো মনের কথা,
এভাবেই দূর হয়ে যায় ভুল বোঝাবুঝির ব্যথা।
সন্তান যেন শেখে দেখে পিতা-মাতার আচরণ,
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, দায়িত্ব—হোক তার শিক্ষণ।
কারণ শিশুর কোমল মনে যা রোপণ কর আজ,
আগামী দিনের সমাজ হবে সেই বীজের সাজ।
পরিবার কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়, নয় ক্ষমতার স্থান,
এটি হলো ভালোবাসার পবিত্র মহিয়ান।
এখানে জয়ের মানে সবার মুখে ফুটুক হাসি,
এখানে হারের মানে সম্পর্ক ভাঙার ফাঁসি।
তাই এসো সবাই হাতে হাত রেখে করি শপথ,
ভাঙব না আর সম্পর্কগুলো ক্ষণিক রাগের রথ।
স্নেহ দেবো ছোটদের, বড়দের সম্মান,
ভালোবাসায় সাজাবো ঘর, গড়বো সুখের প্রাণ।
যেখানে নেই অবিশ্বাসের বিষাক্ত কালো ধোঁয়া,
যেখানে নেই অপমানের কঠিন তীরের ছোঁয়া।
যেখানে সবাই আপনজনের পাশে থাকে সদা,
দুঃখ এলে ভাগ করে নেয়, সুখে গায় আনন্দগাঁথা।
সেই পরিবার হোক আমাদের জীবনের অহংকার,
যেখানে থাকে মানবতা, নৈতিকতার দ্বার।
যেখানে হৃদয় জুড়ে জ্বলে করুণা-শান্তির দীপ,
যেখানে ভালোবাসার স্রোতে ভাসে জীবনের নীপ।
হে পরম করুণাময়, দাও সে মহা জ্ঞান,
ঘরে ঘরে ফিরুক আবার সৌহার্দ্যের গান।
ভুল বোঝাবুঝি, হিংসা, দ্বেষ হোক চির অবসান,
প্রতিটি পরিবার হোক শান্তি, মমতা আর কল্যাণের স্থান।॥
***
পরিবারে শান্তির দীপ
পরিবার মানে ভালোবাসা, মমতার আপন নীড়,
ঝড়ের দিনে আশ্রয় যেখানে, সুখের সোনার ভিড়।
পরিবার মানে হৃদয় জুড়ে বিশ্বাসের বন্ধন,
একজনের সুখে সবার হাসি, দুঃখে সমবেদন।
কিন্তু যখন ভুল বোঝাবুঝি জমে মেঘের মতো,
অবিশ্বাসের কালো ছায়া নামে ধীরে ততো।
কথার ভেতর কাঁটার খোঁচা, মনে জমে ক্ষোভ,
একই ছাদের নিচে থেকেও বাড়ে দূরত্ব-রোগ।
ছোটরা পায় না স্নেহের ছোঁয়া, বড়রা সম্মান,
অভিমান আর অভিযোগে ক্ষয়ে যায় প্রাণ।
ভালোবাসার সেতু ভেঙে দেয় কুধারণার ঢেউ,
আপন মানুষ পর হয়ে যায়, পাশে থাকে কেউ?
স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কে যখন পড়ে ফাটল,
সন্দেহ এসে নিভিয়ে দেয় বিশ্বাসের প্রদীপ জ্বল।
কথা কমে, বাড়ে নীরবতা, জমে হৃদয়-বেদনা,
একটি ভুলের আগুনে পুড়ে যায় কত স্বপ্ন-সাধনা।
বাবা ভাবেন—"আমায় বুঝে না কেউ এ সংসারে",
মা কাঁদেন চুপে, বুকের ব্যথা লুকিয়ে অন্ধকারে।
সন্তান ভাবে—"আমার কথা শোনে না তো কেহ",
অভিমানী মন হারিয়ে ফেলে সম্পর্কের সেই গেহ।
দাদা-দাদী, নানা-নানী, বৃদ্ধ বয়সে শেষে,
সন্তানেরই ঘর ছেড়ে যায় অশ্রুসজল বেশে।
যে হাত ধরে শিখিয়েছিল চলার প্রথম পথ,
সে হাত আজ কাঁপে নিঃসঙ্গতায়, ভাঙে বুকের রথ।
ক্রমে ঝগড়া বাড়তে বাড়তে নেয় ভয়ংকর রূপ,
হাসির ঘরে কান্না নামে, নিভে যায় সুখ-ধূপ।
কেউ হয় নিরুদ্দেশ পথে, কেউ হারায় প্রাণ,
কেউবা বেছে নেয় নিঃসঙ্গতা, ভাঙে জীবনের গান।
এসব কি তবে নিয়তি আমাদের? না, কখনো নয়,
মানুষ চাইলে ভালোবাসায় ফিরতে পারে জয়।
যত অন্ধকার গভীর হোক, জ্বলে আলোর দীপ,
সততা আর আন্তরিকতা খুলে দেয় সব সীপ।
ফিরতে হবে কর্তব্য আর অধিকারের পথে,
নিজের আগে ভাবতে হবে অপরজনের রথে।
ছোটদের দিতে হবে স্নেহ, বড়দের সম্মান,
এই শিক্ষাতেই প্রস্ফুটিত হয় পরিবারের প্রাণ।
বড়রা যদি ধৈর্য নিয়ে শুনেন ছোটের কথা,
ছোটরা যদি শ্রদ্ধা রাখে, মিটে যায় ব্যথা।
শাসনের সাথে মমতা মিশে গড়ে সুন্দর সেতু,
পরিবারে শান্তি ফেরে, মুছে যায় যত ক্ষত।
স্বামী-স্ত্রী দু'জন মিলে হোন পরস্পরের বন্ধু,
খোলামেলা কথার মাঝে থাকুক বিশ্বাস-বিন্দু।
ভুল হলে ক্ষমা চাইতে শেখো, ক্ষমা করতেও শেখো,
অহংকারের দেয়াল ভেঙে হৃদয়ের কাছে রেখো।
রাগের আগুন জ্বলে উঠলে নীরব হও ক্ষণ,
ধৈর্যের জলে নিভিয়ে ফেলো ক্রোধের আয়োজন।
কঠিন কথা বলার আগে ভাবো শতবার,
একটি বাক্য ভাঙতে পারে সম্পর্কের সংসার।
নৈতিকতা হোক জীবনের প্রতিটি দিনের সাথী,
সত্য, ন্যায় আর সহমর্মিতা হোক চলার গাঁথি।
মানুষ যদি মানুষকে দেয় মর্যাদার স্থান,
তবে কেনই বা ভাঙবে ঘরের ভালোবাসার টান?
প্রতিদিন কিছু সময় রাখো আপনজনের তরে,
মোবাইলের পর্দা ছেড়ে বসো হৃদয় ভরে।
একসাথে খাও, গল্প করো, শুনো মনের কথা,
এভাবেই দূর হয়ে যায় ভুল বোঝাবুঝির ব্যথা।
সন্তান যেন শেখে দেখে পিতা-মাতার আচরণ,
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, দায়িত্ব—হোক তার শিক্ষণ।
কারণ শিশুর কোমল মনে যা রোপণ কর আজ,
আগামী দিনের সমাজ হবে সেই বীজের সাজ।
পরিবার কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়, নয় ক্ষমতার স্থান,
এটি হলো ভালোবাসার পবিত্র মহিয়ান।
এখানে জয়ের মানে সবার মুখে ফুটুক হাসি,
এখানে হারের মানে সম্পর্ক ভাঙার ফাঁসি।
তাই এসো সবাই হাতে হাত রেখে করি শপথ,
ভাঙব না আর সম্পর্কগুলো ক্ষণিক রাগের রথ।
স্নেহ দেবো ছোটদের, বড়দের সম্মান,
ভালোবাসায় সাজাবো ঘর, গড়বো সুখের প্রাণ।
যেখানে নেই অবিশ্বাসের বিষাক্ত কালো ধোঁয়া,
যেখানে নেই অপমানের কঠিন তীরের ছোঁয়া।
যেখানে সবাই আপনজনের পাশে থাকে সদা,
দুঃখ এলে ভাগ করে নেয়, সুখে গায় আনন্দগাঁথা।
সেই পরিবার হোক আমাদের জীবনের অহংকার,
যেখানে থাকে মানবতা, নৈতিকতার দ্বার।
যেখানে হৃদয় জুড়ে জ্বলে করুণা-শান্তির দীপ,
যেখানে ভালোবাসার স্রোতে ভাসে জীবনের নীপ।
হে পরম করুণাময়, দাও সে মহা জ্ঞান,
ঘরে ঘরে ফিরুক আবার সৌহার্দ্যের গান।
ভুল বোঝাবুঝি, হিংসা, দ্বেষ হোক চির অবসান,
প্রতিটি পরিবার হোক শান্তি, মমতা আর কল্যাণের স্থান।॥
***
পরিবারে শান্তির দীপ
পরিবার মানে ভালোবাসা, মমতার আপন নীড়,
ঝড়ের দিনে আশ্রয় যেখানে, সুখের সোনার ভিড়।
পরিবার মানে হৃদয় জুড়ে বিশ্বাসের বন্ধন,
একজনের সুখে সবার হাসি, দুঃখে সমবেদন।
কিন্তু যখন ভুল বোঝাবুঝি জমে মেঘের মতো,
অবিশ্বাসের কালো ছায়া নামে ধীরে ততো।
কথার ভেতর কাঁটার খোঁচা, মনে জমে ক্ষোভ,
একই ছাদের নিচে থেকেও বাড়ে দূরত্ব-রোগ।
ছোটরা পায় না স্নেহের ছোঁয়া, বড়রা সম্মান,
অভিমান আর অভিযোগে ক্ষয়ে যায় প্রাণ।
ভালোবাসার সেতু ভেঙে দেয় কুধারণার ঢেউ,
আপন মানুষ পর হয়ে যায়, পাশে থাকে কেউ?
স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কে যখন পড়ে ফাটল,
সন্দেহ এসে নিভিয়ে দেয় বিশ্বাসের প্রদীপ জ্বল।
কথা কমে, বাড়ে নীরবতা, জমে হৃদয়-বেদনা,
একটি ভুলের আগুনে পুড়ে যায় কত স্বপ্ন-সাধনা।
বাবা ভাবেন—"আমায় বুঝে না কেউ এ সংসারে",
মা কাঁদেন চুপে, বুকের ব্যথা লুকিয়ে অন্ধকারে।
সন্তান ভাবে—"আমার কথা শোনে না তো কেহ",
অভিমানী মন হারিয়ে ফেলে সম্পর্কের সেই গেহ।
দাদা-দাদী, নানা-নানী, বৃদ্ধ বয়সে শেষে,
সন্তানেরই ঘর ছেড়ে যায় অশ্রুসজল বেশে।
যে হাত ধরে শিখিয়েছিল চলার প্রথম পথ,
সে হাত আজ কাঁপে নিঃসঙ্গতায়, ভাঙে বুকের রথ।
ক্রমে ঝগড়া বাড়তে বাড়তে নেয় ভয়ংকর রূপ,
হাসির ঘরে কান্না নামে, নিভে যায় সুখ-ধূপ।
কেউ হয় নিরুদ্দেশ পথে, কেউ হারায় প্রাণ,
কেউবা বেছে নেয় নিঃসঙ্গতা, ভাঙে জীবনের গান।
এসব কি তবে নিয়তি আমাদের? না, কখনো নয়,
মানুষ চাইলে ভালোবাসায় ফিরতে পারে জয়।
যত অন্ধকার গভীর হোক, জ্বলে আলোর দীপ,
সততা আর আন্তরিকতা খুলে দেয় সব সীপ।
ফিরতে হবে কর্তব্য আর অধিকারের পথে,
নিজের আগে ভাবতে হবে অপরজনের রথে।
ছোটদের দিতে হবে স্নেহ, বড়দের সম্মান,
এই শিক্ষাতেই প্রস্ফুটিত হয় পরিবারের প্রাণ।
বড়রা যদি ধৈর্য নিয়ে শুনেন ছোটের কথা,
ছোটরা যদি শ্রদ্ধা রাখে, মিটে যায় ব্যথা।
শাসনের সাথে মমতা মিশে গড়ে সুন্দর সেতু,
পরিবারে শান্তি ফেরে, মুছে যায় যত ক্ষত
স্বামী-স্ত্রী দু'জন মিলে হোন পরস্পরের বন্ধু,
খোলামেলা কথার মাঝে থাকুক বিশ্বাস-বিন্দু।
ভুল হলে ক্ষমা চাইতে শেখো, ক্ষমা করতেও শেখো,
অহংকারের দেয়াল ভেঙে হৃদয়ের কাছে রেখো।
রাগের আগুন জ্বলে উঠলে নীরব হও ক্ষণ,
ধৈর্যের জলে নিভিয়ে ফেলো ক্রোধের আয়োজন।
কঠিন কথা বলার আগে ভাবো শতবার,
একটি বাক্য ভাঙতে পারে সম্পর্কের সংসার।
নৈতিকতা হোক জীবনের প্রতিটি দিনের সাথী,
সত্য, ন্যায় আর সহমর্মিতা হোক চলার গাঁথি।
মানুষ যদি মানুষকে দেয় মর্যাদার স্থান,
তবে কেনই বা ভাঙবে ঘরের ভালোবাসার টান?
প্রতিদিন কিছু সময় রাখো আপনজনের তরে,
মোবাইলের পর্দা ছেড়ে বসো হৃদয় ভরে।
একসাথে খাও, গল্প করো, শুনো মনের কথা,
এভাবেই দূর হয়ে যায় ভুল বোঝাবুঝির ব্যথা।
সন্তান যেন শেখে দেখে পিতা-মাতার আচরণ,
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, দায়িত্ব—হোক তার শিক্ষণ।
কারণ শিশুর কোমল মনে যা রোপণ কর আজ,
আগামী দিনের সমাজ হবে সেই বীজের সাজ।
পরিবার কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়, নয় ক্ষমতার স্থান,
এটি হলো ভালোবাসার পবিত্র মহিয়ান।
এখানে জয়ের মানে সবার মুখে ফুটুক হাসি,
এখানে হারের মানে সম্পর্ক ভাঙার ফাঁসি।
তাই এসো সবাই হাতে হাত রেখে করি শপথ,
ভাঙব না আর সম্পর্কগুলো ক্ষণিক রাগের রথ।
স্নেহ দেবো ছোটদের, বড়দের সম্মান,
ভালোবাসায় সাজাবো ঘর, গড়বো সুখের প্রাণ।
যেখানে নেই অবিশ্বাসের বিষাক্ত কালো ধোঁয়া,
যেখানে নেই অপমানের কঠিন তীরের ছোঁয়া।
যেখানে সবাই আপনজনের পাশে থাকে সদা,
দুঃখ এলে ভাগ করে নেয়, সুখে গায় আনন্দগাঁথা।
সেই পরিবার হোক আমাদের জীবনের অহংকার,
যেখানে থাকে মানবতা, নৈতিকতার দ্বার।
যেখানে হৃদয় জুড়ে জ্বলে করুণা-শান্তির দীপ,
যেখানে ভালোবাসার স্রোতে ভাসে জীবনের নীপ।
হে পরম করুণাময়, দাও সে মহা জ্ঞান,
ঘরে ঘরে ফিরুক আবার সৌহার্দ্যের গান।
ভুল বোঝাবুঝি, হিংসা, দ্বেষ হোক চির অবসান,
প্রতিটি পরিবার হোক শান্তি, মমতা আর কল্যাণের স্থান।॥
পরিবার: ভালোবাসা, দায়িত্ব ও শান্তির মহাকাব্য
পরিবার মানে শুধু রক্তের বাঁধন নয়,
এ এক মায়ার সাগর, হৃদয়ের পরিচয়।
এখানেই মানুষ শেখে ভালোবাসার ভাষা,
স্নেহের কোমল স্পর্শ, মমতার প্রত্যাশা।
মায়ের কোলে শিশুর প্রথম হাসির ফুল ফোটে,
বাবার ঘামে স্বপ্নগুলো জীবনের পথে ছোটে।
ভাইয়ের কাঁধে ভাই দাঁড়ায় বিপদ-আপদের দিনে,
বোনের মায়া জড়িয়ে থাকে হৃদয়ের গভীরে।
দাদা-দাদী, নানা-নানী অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার,
তাঁদের ছায়ায় পরিবার হয় সুখের অঙ্গনধার।
তাঁদের কথা, তাঁদের দোয়া, তাঁদের জীবনের জ্ঞান,
আলোকবর্তিকা হয়ে দেখায় সত্যের সন্ধান।
কিন্তু যখন ভুল বোঝাবুঝি আসে নিঃশব্দ পায়ে,
অবিশ্বাসের কালো মেঘ সংসার-আকাশ ছায়ে।
একটি কথার ভুল ব্যাখ্যায় সম্পর্ক যায় ভেঙে,
হৃদয়ের মাঝে দেয়াল ওঠে অকারণে রেঙে।
কুধারণার বিষধর সাপ যখন মনে বাসা বাঁধে,
ভালোবাসার ফুলগুলোও শুকিয়ে যায় কাঁদে।
সত্যের আগে সন্দেহ এসে নেয় যে আসন,
সেই ঘরে আর থাকে না সুখ-শান্তির স্পন্দন।
ছোটরা তখন স্নেহহীনতায় হারায় পথের দিশা,
বড়রা পান না শ্রদ্ধার আলো, বাড়ে মনের বিষাদ-নিশা।
একজন ভাবে—"আমায় বোঝে না এ সংসারের কেউ",
অন্যজনও কষ্ট লুকায় বুকের গভীর ঢেউ।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যখন বিশ্বাস হারায় ধীরে,
সুখের নদী শুকিয়ে গিয়ে বেদনা নামে নীরে।
যে দুটি প্রাণ একদিন স্বপ্ন এঁকেছিল হাতে হাত,
অহংকারের আগুনে পুড়ে হয় যে ছারখার রাত।
অভিমান জমে পাহাড়সম, কথা হয় কমে,
নীরবতার দীর্ঘ ছায়া নামে ঘরের ভেতর ঘুরে।
একই ছাদের নিচে থেকেও দূরত্ব বাড়ে ক্রমে,
হাসির ঘরেও কান্নার সুর বাজে নিরবধি জমে।
সন্তান দেখে ঝগড়াঝাঁটি, শোনে তিক্ত বাণী,
তার কোমল মনেও তখন জমে অশান্তির পানি।
ভবিষ্যতের নাগরিক সে, শেখে যা আজ ঘরে,
আগামী দিনে সেই প্রতিচ্ছবি ফুটবে সমাজ ভরে।
কখনো কখনো বিরোধ বাড়ে ভয়ংকর পরিণামে,
শান্তির বদলে আগুন জ্বলে সম্পর্কেরই নামে।
কেউ চলে যায় দূরে সরে, কেউ হয় নিরুদ্দেশ,
কারও জীবন অন্ধকারে হারায় পথের রেশ।
বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবা যখন আশ্রয় খোঁজেন শেষে,
সন্তানের ঘর ছেড়ে যেতে হয় অশ্রুভেজা বেশে।
যে হাত ধরে শিখিয়েছিল পৃথিবীর প্রথম পথ,
সেই হাত আজ নিঃসঙ্গতায় কাঁপে, ভাঙে মনের রথ।
এ কি তবে আমাদের কাম্য? এ কি মানবধর্ম?
না, পরিবার টিকে থাকে ভালোবাসার মর্ম।
ভুল হলে তার সংশোধনই হোক মহান কাজ,
অভিমান নয়, ক্ষমার আলো ছড়াক সমাজ।
ফিরতে হবে অধিকার আর কর্তব্যের চর্চায়,
মানবিকতার সুমিষ্ট ধারা বইতে হবে হৃদয়জুড়ায়।
ছোটদের দিতে হবে স্নেহ, বড়দের সম্মান,
এ দুই ডানায় উড়বে সুখের পারিবারিক প্রাণ।
মুরুব্বিরা শুনবেন ধৈর্যে নবীন প্রজন্মের কথা,
তরুণরাও সম্মান দেবে অভিজ্ঞতার ব্যথা।
শাসনের সাথে মমতা মিশে গড়বে সোনার সেতু,
প্রজন্ম হতে প্রজন্মে জাগবে ঐক্যের কেতু।
স্বামী-স্ত্রী হোন পরস্পরের শ্রেষ্ঠ বন্ধুজন,
বিশ্বাস হোক সম্পর্কের দৃঢ়তম ভিত্তিবন।
খোলামেলা কথোপকথন হোক মনের জানালা,
সততার আলোয় দূর হোক সন্দেহের সব জ্বালা।
ক্ষমা করতে শিখতে হবে, চাইতে হবে ক্ষমা,
এই গুণেই প্রশান্ত হয় হৃদয়ের সব জমা।
অহংকারের প্রাচীর যত উঁচুই হোক না কেন,
ভালোবাসার একটি স্পর্শ ভেঙে দিতে পারে যেন।
রাগের মুহূর্তে নীরবতা কখনো শ্রেষ্ঠ জবাব,
ধৈর্যের মাঝে লুকিয়ে থাকে সমাধানের স্বভাব।
একটি কঠোর বাক্য যেমন ভাঙতে পারে মন,
একটি মধুর বাক্য আবার ফিরিয়ে আনে জীবন।
নৈতিকতা হোক জীবনের প্রতিটি দিনের সাথী,
সত্য, ন্যায় আর সহমর্মিতা হোক চলার গাঁথি।
মানুষ যদি মানুষকে দেয় মর্যাদার আসন,
তবে কেন ভাঙবে পরিবারের অমূল্য বন্ধন?
প্রতিদিন কিছু সময় রাখো আপনজনের তরে,
বসো সবাই একসাথে হৃদয়ের দ্বার খোলে।
একটি খাবার ভাগ করে খাও, গল্প করো প্রাণে,
অসংখ্য ভুল বোঝাবুঝি মুছে যাবে টানে।
সন্তানেরা দেখুক ঘরে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা,
তাদের মনে জাগুক তখন মানবতার আশা।
কারণ শিশুর চোখে ধরা প্রতিটি আচরণ,
আগামী দিনের সমাজ গড়ার মূল উপকরণ।
পরিবার কোনো যুদ্ধভূমি নয় ক্ষমতার লড়াই,
এটি হলো শান্তির বাগান, ভালোবাসার বড়াই।
এখানে জয় মানে সবাই মিলে হাসতে শেখা,
এখানে জয় মানে ভাঙা মনকে বুকে টেনে রাখা।
তাই এসো আজ শপথ করি হৃদয় খুলে সবাই,
অহংকারের কালো ছায়া আর নয় কোথাও ঠাঁই।
স্নেহ দেবো ছোটদের, বড়দের সম্মান,
ভালোবাসায় রাঙাবো ঘর, জাগাবো কল্যাণ।
যেখানে নেই কুধারণার বিষাক্ত অন্ধকার,
যেখানে নেই অপমানের নির্মম আচরণ আর।
যেখানে সবাই অন্যের সুখে হাসতে জানে,
দুঃখ এলে পাশে থাকে মমতার টানে।
যেখানে মা-বাবা সম্মানের আসনে থাকেন,
সন্তানরা দায়িত্ব নিয়ে তাঁদের পাশে রাখেন।
যেখানে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের শক্তি,
ভালোবাসা হয় জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদভুক্তি।
যেখানে ভাইয়ের জন্য ভাই, বোনের জন্য বোন,
মানবতার সুরে বাঁধা প্রতিটি হৃদয়-কোণ।
যেখানে পরিবার মানেই শান্তির দীপশিখা,
যেখানে ভালোবাসাই জীবনের শ্রেষ্ঠ দীক্ষা।
হে পরম দয়াময়, দাও সে নির্মল প্রাণ,
ঘরে ঘরে জাগুক আবার সৌহার্দ্যের গান।
ভুল বোঝাবুঝি, অবিশ্বাস, হিংসা যাক দূর হয়ে,
মানবতা আর মমতা ফুটুক হৃদয় ছুঁয়ে।
প্রতিটি পরিবার হোক জান্নাতের এক ছায়া,
যেখানে শ্রদ্ধা, স্নেহ, প্রেমে মুছে যায় সব মায়া।
পারস্পরিক অধিকার, কর্তব্য, নৈতিকতার তরে,
শান্তির সুবাস ছড়িয়ে পড়ুক পৃথিবীর ঘরে ঘরে।॥
***
পরিবার: ভালোবাসা, দায়িত্ব ও শান্তির মহাকাব্য
পরিবার মানে শুধু রক্তের বাঁধন নয়,
এ এক মায়ার সাগর, হৃদয়ের পরিচয়।
এখানেই মানুষ শেখে ভালোবাসার ভাষা,
স্নেহের কোমল স্পর্শ, মমতার প্রত্যাশা।
মায়ের কোলে শিশুর প্রথম হাসির ফুল ফোটে,
বাবার ঘামে স্বপ্নগুলো জীবনের পথে ছোটে।
ভাইয়ের কাঁধে ভাই দাঁড়ায় বিপদ-আপদের দিনে,
বোনের মায়া জড়িয়ে থাকে হৃদয়ের গভীরে।
দাদা-দাদী, নানা-নানী অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার,
তাঁদের ছায়ায় পরিবার হয় সুখের অঙ্গনধার।
তাঁদের কথা, তাঁদের দোয়া, তাঁদের জীবনের জ্ঞান,
আলোকবর্তিকা হয়ে দেখায় সত্যের সন্ধান।
কিন্তু যখন ভুল বোঝাবুঝি আসে নিঃশব্দ পায়ে,
অবিশ্বাসের কালো মেঘ সংসার-আকাশ ছায়ে।
একটি কথার ভুল ব্যাখ্যায় সম্পর্ক যায় ভেঙে,
হৃদয়ের মাঝে দেয়াল ওঠে অকারণে রেঙে।
কুধারণার বিষধর সাপ যখন মনে বাসা বাঁধে,
ভালোবাসার ফুলগুলোও শুকিয়ে যায় কাঁদে।
সত্যের আগে সন্দেহ এসে নেয় যে আসন,
সেই ঘরে আর থাকে না সুখ-শান্তির স্পন্দন।
ছোটরা তখন স্নেহহীনতায় হারায় পথের দিশা,
বড়রা পান না শ্রদ্ধার আলো, বাড়ে মনের বিষাদ-নিশা।
একজন ভাবে—"আমায় বোঝে না এ সংসারের কেউ",
অন্যজনও কষ্ট লুকায় বুকের গভীর ঢেউ।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যখন বিশ্বাস হারায় ধীরে,
সুখের নদী শুকিয়ে গিয়ে বেদনা নামে নীরে।
যে দুটি প্রাণ একদিন স্বপ্ন এঁকেছিল হাতে হাত,
অহংকারের আগুনে পুড়ে হয় যে ছারখার রাত।
অভিমান জমে পাহাড়সম, কথা হয় কমে,
নীরবতার দীর্ঘ ছায়া নামে ঘরের ভেতর ঘুরে।
একই ছাদের নিচে থেকেও দূরত্ব বাড়ে ক্রমে,
হাসির ঘরেও কান্নার সুর বাজে নিরবধি জমে।
সন্তান দেখে ঝগড়াঝাঁটি, শোনে তিক্ত বাণী,
তার কোমল মনেও তখন জমে অশান্তির পানি।
ভবিষ্যতের নাগরিক সে, শেখে যা আজ ঘরে,
আগামী দিনে সেই প্রতিচ্ছবি ফুটবে সমাজ ভরে।
কখনো কখনো বিরোধ বাড়ে ভয়ংকর পরিণামে,
শান্তির বদলে আগুন জ্বলে সম্পর্কেরই নামে।
কেউ চলে যায় দূরে সরে, কেউ হয় নিরুদ্দেশ,
কারও জীবন অন্ধকারে হারায় পথের রেশ।
বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবা যখন আশ্রয় খোঁজেন শেষে,
সন্তানের ঘর ছেড়ে যেতে হয় অশ্রুভেজা বেশে।
যে হাত ধরে শিখিয়েছিল পৃথিবীর প্রথম পথ,
সেই হাত আজ নিঃসঙ্গতায় কাঁপে, ভাঙে মনের রথ।
এ কি তবে আমাদের কাম্য? এ কি মানবধর্ম?
না, পরিবার টিকে থাকে ভালোবাসার মর্ম।
ভুল হলে তার সংশোধনই হোক মহান কাজ,
অভিমান নয়, ক্ষমার আলো ছড়াক সমাজ।
ফিরতে হবে অধিকার আর কর্তব্যের চর্চায়,
মানবিকতার সুমিষ্ট ধারা বইতে হবে হৃদয়জুড়ায়।
ছোটদের দিতে হবে স্নেহ, বড়দের সম্মান,
এ দুই ডানায় উড়বে সুখের পারিবারিক প্রাণ।
মুরুব্বিরা শুনবেন ধৈর্যে নবীন প্রজন্মের কথা,
তরুণরাও সম্মান দেবে অভিজ্ঞতার ব্যথা।
শাসনের সাথে মমতা মিশে গড়বে সোনার সেতু,
প্রজন্ম হতে প্রজন্মে জাগবে ঐক্যের কেতু।
স্বামী-স্ত্রী হোন পরস্পরের শ্রেষ্ঠ বন্ধুজন,
বিশ্বাস হোক সম্পর্কের দৃঢ়তম ভিত্তিবন।
খোলামেলা কথোপকথন হোক মনের জানালা,
সততার আলোয় দূর হোক সন্দেহের সব জ্বালা।
ক্ষমা করতে শিখতে হবে, চাইতে হবে ক্ষমা,
এই গুণেই প্রশান্ত হয় হৃদয়ের সব জমা।
অহংকারের প্রাচীর যত উঁচুই হোক না কেন,
ভালোবাসার একটি স্পর্শ ভেঙে দিতে পারে যেন।
রাগের মুহূর্তে নীরবতা কখনো শ্রেষ্ঠ জবাব,
ধৈর্যের মাঝে লুকিয়ে থাকে সমাধানের স্বভাব।
একটি কঠোর বাক্য যেমন ভাঙতে পারে মন,
একটি মধুর বাক্য আবার ফিরিয়ে আনে জীবন।
নৈতিকতা হোক জীবনের প্রতিটি দিনের সাথী,
সত্য, ন্যায় আর সহমর্মিতা হোক চলার গাঁথি।
মানুষ যদি মানুষকে দেয় মর্যাদার আসন,
তবে কেন ভাঙবে পরিবারের অমূল্য বন্ধন?
প্রতিদিন কিছু সময় রাখো আপনজনের তরে,
বসো সবাই একসাথে হৃদয়ের দ্বার খোলে।
একটি খাবার ভাগ করে খাও, গল্প করো প্রাণে,
অসংখ্য ভুল বোঝাবুঝি মুছে যাবে টানে।
সন্তানেরা দেখুক ঘরে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা,
তাদের মনে জাগুক তখন মানবতার আশা।
কারণ শিশুর চোখে ধরা প্রতিটি আচরণ,
আগামী দিনের সমাজ গড়ার মূল উপকরণ।
পরিবার কোনো যুদ্ধভূমি নয় ক্ষমতার লড়াই,
এটি হলো শান্তির বাগান, ভালোবাসার বড়াই।
এখানে জয় মানে সবাই মিলে হাসতে শেখা,
এখানে জয় মানে ভাঙা মনকে বুকে টেনে রাখা।
তাই এসো আজ শপথ করি হৃদয় খুলে সবাই,
অহংকারের কালো ছায়া আর নয় কোথাও ঠাঁই।
স্নেহ দেবো ছোটদের, বড়দের সম্মান,
ভালোবাসায় রাঙাবো ঘর, জাগাবো কল্যাণ।
যেখানে নেই কুধারণার বিষাক্ত অন্ধকার,
যেখানে নেই অপমানের নির্মম আচরণ আর।
যেখানে সবাই অন্যের সুখে হাসতে জানে,
দুঃখ এলে পাশে থাকে মমতার টানে।
যেখানে মা-বাবা সম্মানের আসনে থাকেন,
সন্তানরা দায়িত্ব নিয়ে তাঁদের পাশে রাখেন।
যেখানে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের শক্তি,
ভালোবাসা হয় জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদভুক্তি।
যেখানে ভাইয়ের জন্য ভাই, বোনের জন্য বোন,
মানবতার সুরে বাঁধা প্রতিটি হৃদয়-কোণ।
যেখানে পরিবার মানেই শান্তির দীপশিখা,
যেখানে ভালোবাসাই জীবনের শ্রেষ্ঠ দীক্ষা।
হে পরম দয়াময়, দাও সে নির্মল প্রাণ,
ঘরে ঘরে জাগুক আবার সৌহার্দ্যের গান।
ভুল বোঝাবুঝি, অবিশ্বাস, হিংসা যাক দূর হয়ে,
মানবতা আর মমতা ফুটুক হৃদয় ছুঁয়ে।
প্রতিটি পরিবার হোক জান্নাতের এক ছায়া,
যেখানে শ্রদ্ধা, স্নেহ, প্রেমে মুছে যায় সব মায়া।
পারস্পরিক অধিকার, কর্তব্য, নৈতিকতার তরে,
শান্তির সুবাস ছড়িয়ে পড়ুক পৃথিবীর ঘরে ঘরে।॥
***
পরিবার: শান্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্বর্গ
পরিবার মানে একটি বৃক্ষ,
শিকড় যার বিশ্বাস,
স্নেহ-মায়ার ডালপালাতে
ফোটে সুখের আভাস।
পরিবার মানে আপন মানুষ,
নির্ভরতার ছায়া,
দুঃখ এলে বুক পেতে দেয়,
মুছে হৃদয়-মায়া।
মায়ের মমতা নদীর মতো,
অবিরাম বহমান,
বাবার ত্যাগে দাঁড়িয়ে থাকে
সন্তানের ভবিষ্যৎ প্রাণ।
ভাইয়ের কাঁধে ভাইয়ের ভরসা,
বোনের মায়ার বাঁধন,
দাদা-দাদীর অভিজ্ঞতায়
আলোকিত হয় জীবন।
কিন্তু যখন মনের আকাশে
ভুল বোঝাবুঝি নামে,
অবিশ্বাসের কালো মেঘ
জমে সংসারের থামে।
একটি কথার ভুল ব্যাখ্যায়
জন্ম নেয় কষ্ট ভার,
অভিমানের দেয়াল গড়ে
বিচ্ছিন্ন হয় সংসার।
কুধারণার বিষাক্ত কাঁটা
বিদ্ধ করে মন,
হাসির ঘরেও নেমে আসে
বেদনার আয়োজন।
ছোটরা তখন স্নেহের ক্ষুধায়
খোঁজে ভালোবাসা,
বড়রা খোঁজে সম্মানটুকু,
পায় না আশার ভাষা।
উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়,
হারায় সুখের রঙ,
অভিযোগ আর অশ্রুধারায়
ভরে ওঠে অঙ্গন।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যখন
হারায় বিশ্বাসের আলো,
সন্দেহ এসে নিভিয়ে দেয়
স্বপ্নের প্রদীপ ভালো।
একই ঘরে থেকেও তখন
দূরত্ব বাড়ে ধীরে,
হৃদয়ের কথা হারিয়ে যায়
নীরবতার নীড়ে।
সন্তান দেখে কলহ-ঝড়,
শোনে তিক্ত বাণী,
তারও মনে জন্ম নেয়
অস্থিরতার পানি।
বৃদ্ধ পিতা, বৃদ্ধ মাতা
চেয়ে থাকে পথ,
সন্তানের একটুখানি
স্নেহের কোমল রথ।
যে মানুষটি সারাজীবন
করেছে ত্যাগ অশেষ,
বার্ধক্যে সে নিঃসঙ্গ হয়ে
ফেলে দীর্ঘশ্বাসের রেশ।
যে হাতে ধরে হাঁটতে শিখি,
যে মুখে প্রথম বাণী,
সেই মানুষই অবহেলায়
কাঁদে অজানা টানি।
এ দৃশ্য দেখে আকাশ কাঁদে,
কাঁদে ধরার প্রাণ,
মানবতার বুকের ভেতর
জাগে বেদনার গান।
তবু এখনো সময় আছে,
ফেরার আছে পথ,
ভালোবাসার আলো জ্বাললে
মুছে যাবে ক্ষত।
ফিরতে হবে দায়িত্ববোধে,
ফিরতে হবে টানে,
পারস্পরিক অধিকারগুলো
রাখতে হবে প্রাণে।
ছোটদের দিতে হবে স্নেহ,
বড়দের সম্মান,
এই দুটিতেই প্রস্ফুটিত হয়
পরিবারের প্রাণ।
ধৈর্য হবে শক্তির উৎস,
ক্ষমা হবে ঢাল,
সহনশীলতার আলোয় ভরুক
জীবনের প্রতিটা কাল।
মুরুব্বিরা বুঝবেন স্নেহে
নবীন প্রজন্মকে,
তরুণরাও শ্রদ্ধা রাখবে
অভিজ্ঞতার রঙকে।
স্বামী-স্ত্রী বন্ধু হয়ে
চলুক পাশাপাশি,
বিশ্বাসের হাত ধরে থাকুক
প্রতিটি দিন-রাশি।
অহংকারের প্রাচীর ভেঙে
খুলুক হৃদয়-দ্বার,
খোলামেলা কথোপকথনে
মিটুক অন্ধকার।
রাগের আগুন জ্বলে উঠলে
ধৈর্য ধরো ক্ষণ,
একটি মধুর বাক্য পারে
বাঁচাতে সম্পর্ক-মন।
নৈতিকতা হোক জীবনের
প্রতিটি দিনের সাথী,
সত্য, ন্যায় আর মানবতা
হোক চলার গাঁথি।
আন্তরিকতার বন্ধনে সব
হোক সম্পৃক্ত প্রাণ,
একজনের সুখে হাসুক সবাই,
দুঃখে দিক সম্মান।
প্রতিদিন কিছু সময় রাখো
আপনজনের তরে,
একসাথে বসো, কথা বলো
হৃদয়ের দ্বার খোলে।
একটি খাবার ভাগ করে খাও,
শুনো মনের কথা,
এভাবেই মুছে যায় ধীরে
ভুল বোঝাবুঝির ব্যথা।
সন্তান যেন দেখে ঘরে
শ্রদ্ধা আর মমতা,
তাহলেই সে শিখবে জীবনে
মানবিকতার কথা।
কারণ শিশুর কোমল মনে
যা রোপণ করি আজ,
আগামী দিনের সমাজ হবে
সেই বীজেরই সাজ।
পরিবার কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়,
নয় ক্ষমতার লড়াই,
এটি ভালোবাসার বিদ্যালয়,
মানবতার বড়াই।
এখানে জয় মানে একসাথে
সুখের গান গাওয়া,
এখানে জয় মানে বিপদে
হাতটি ধরে যাওয়া।
তাই এসো আজ শপথ করি,
ভাঙব না সম্পর্ক,
স্নেহ, শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধে
গড়ব জীবনের স্বর্গ।
যেখানে নেই কুধারণার
অন্ধকারের ছায়া,
যেখানে নেই অবহেলার
নিষ্ঠুর কোনো মায়া।
যেখানে মায়ের মুখে হাসি,
বাবার চোখে তৃপ্তি,
যেখানে সন্তান দায়িত্ববান,
মানবতায় দীপ্তি।
যেখানে বৃদ্ধ বয়স মানে
সম্মানেরই আসন,
যেখানে ভালোবাসা হয়ে
বেঁধে রাখে বন্ধন।
যেখানে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে
বিশ্বাসের দীপ জ্বলে,
যেখানে সবাই পাশে থাকে
দুঃসময়ের কলে।
যেখানে ছোটরা স্নেহ পায়,
বড়রা পায় মান,
যেখানে মানবতা হয়ে ওঠে
জীবনের পরিচয়-জ্ঞান।
সেই পরিবার গড়তে হবে,
আজই নিতে শপথ,
ভালোবাসার বীজ বুনে দাও
প্রতিটি হৃদয়-পথ।
হে পরম করুণাময়,
দাও এমন জ্ঞান,
ঘরে ঘরে ফিরুক আবার
শান্তি-সৌহার্দ্যের গান।
ভুল বোঝাবুঝি, অবিশ্বাস,
হিংসা যাক দূরে,
মমতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা
ফুটুক ঘরে ঘরে।
প্রতিটি পরিবার হোক
শান্তির পবিত্র দীপ,
মানবতা আর নৈতিকতায়
আলোকিত হোক সৃষ্টির নীড়।॥
***
পরিবার মানে শুধু একটি ঘর নয়,
চারটি দেয়ালের সীমাবদ্ধ পরিচয় নয়;
পরিবার মানে হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের বন্ধন,
স্নেহ, শ্রদ্ধা, মায়া-মমতায় গড়া অনন্ত স্পন্দন।
মায়ের স্নেহের ছায়া যেখানে শীতল বৃক্ষতল,
বাবার ত্যাগের ঘামে যেখানে গড়ে ভবিষ্যতের ফল।
ভাইয়ের পাশে ভাই দাঁড়ায় বিপদের আঁধারে,
বোনের মায়া জড়িয়ে থাকে জীবনের অলিন্দপারে।
দাদা-দাদীর গল্পে থাকে অভিজ্ঞতার আলো,
নানা-নানীর উপদেশে জীবন পায় ভালো।
একটি পরিবার যেন ফুলে-ফলে ভরা বাগান,
যেখানে ভালোবাসা গেয়ে চলে শান্তির জয়গান।
কিন্তু যখন ভুল বোঝাবুঝির কালো মেঘ জমে,
অবিশ্বাসের ঝড় উঠে সম্পর্কের আঙিনাতে,
কথার ভেতর জন্ম নেয় কষ্টের বিষবাণ,
হাসিমুখে ঢাকা পড়ে অশ্রুভেজা প্রাণ।
কুধারণা যখন মনের ভেতর বাঁধে অন্ধ ঘর,
আপন মানুষও তখন হয়ে যায় যেন পর।
অভিমান জমে পাহাড় হয়ে দাঁড়ায় বুকের মাঝে,
ভালোবাসার নদী শুকিয়ে যায় নিঃশব্দ সাজে।
ছোটরা খোঁজে স্নেহ, পায় না মমতার ছোঁয়া,
বড়রা খোঁজে সম্মান, তবু থাকে না পাওয়া।
উপরের জন ভাবে—“আমায় কেউ আর মানে না”,
নিচের জন ভাবে—“আমার কথা কেউ জানে না”।
এই না-পাওয়ার বেদনা জমে ক্ষতের মতো,
একই ছাদের নিচে থেকেও দূরত্ব বাড়ে যত।
হাসির ঘরে নেমে আসে কলহের কালো ছায়া,
অভিযোগের আগুনে জ্বলে সম্পর্কের মায়া।
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যখন বিশ্বাস ভেঙে যায়,
সন্দেহের বিষাক্ত লতা সংসার জুড়ে ছায়।
একদিন যারা স্বপ্ন বুনেছিল পাশাপাশি,
আজ তারা হারিয়ে ফেলে হৃদয়ের ভাষাশি।
কথা কমে, নীরবতা বাড়ে, বাড়ে দীর্ঘশ্বাস,
অহংকারের দেয়াল তোলে অশান্তির বাস।
সন্তান তখন অবাক চোখে দেখে সেই দৃশ্য,
তারও মনে জন্ম নেয় অস্থিরতার নিঃশ্বাস।
ক্রমে ক্রমে ঝগড়া-বিবাদ নেয় ভয়ংকর রূপ,
ভালোবাসার প্রদীপ নিভে হারায় সুখের ধূপ।
কেউ ঘর ছেড়ে চলে যায় অজানার পথে,
কেউ ডুবে যায় হতাশার গভীর অন্ধরাতে।
কেউ হয় নিঃসঙ্গ, কেউ হারায় বাঁচার আশা,
কেউবা খোঁজে আশ্রয় অন্য কোথাও ভাষা।
বৃদ্ধ পিতা-মাতা তখন চেয়ে থাকে পথ,
সন্তানের একটুখানি ভালোবাসার রথ।
যে হাতে ধরে মানুষ হলো সন্তানের জীবন,
সে হাত আজ কাঁপে শুধু নিঃসঙ্গতার কারণ।
যে মা নিজের ক্ষুধা ভুলে খাইয়েছে সন্তান,
সে মা আজ অবহেলায় খোঁজে স্নেহের স্থান।
এ দৃশ্য শুধু একটি ঘরের নয়,
সমাজের বুকেও এ এক গভীর ক্ষয়।
পরিবার ভাঙলে ভাঙে মানবতার ভিত,
হারিয়ে যায় মূল্যবোধ, নষ্ট হয় চিত্ত।
তবুও আশার আলো নিভে যায় না কভু,
মানুষ চাইলে ফিরিয়ে আনতে পারে সবই।
ভালোবাসা, ধৈর্য, ক্ষমা আর আন্তরিকতা,
পুনরায় গড়তে পারে সম্পর্কের মহিমা।
ফিরতে হবে পারস্পরিক অধিকার চর্চায়,
ফিরতে হবে কর্তব্যের পবিত্র আলোয়।
ছোটদের দিতে হবে স্নেহের নিরাপদ ছায়া,
বড়দের দিতে হবে সম্মানের মধুমায়া।
মুরুব্বিরা শুনবেন ধৈর্যে নবীনদের কথা,
তরুণরাও বুঝবে তাঁদের জীবনের ব্যথা।
শাসনের সাথে মমতা, উপদেশের সাথে প্রেম,
এভাবেই পরিবারে জ্বলে ঐক্যের হেম।
স্বামী-স্ত্রী হোক পরস্পরের আপন বন্ধু,
বিশ্বাস হোক সম্পর্কের অটুট সিন্ধু।
ভুল হলে ক্ষমা চাই, ক্ষমা করি প্রাণে,
তবেই শান্তির ফুল ফুটবে সংসার-বাগানে।
রাগের মুহূর্তে নীরবতা হোক ঢাল,
সহনশীলতা হোক জীবনের মহাকাল।
একটি মধুর বাক্য পারে সম্পর্ক জুড়াতে,
একটি কঠিন বাক্য পারে হৃদয় ভাঙাতে।
নৈতিকতা হোক প্রতিটি দিনের আলো,
মানুষ হোক মানুষের জন্য নির্ভরতার ভালো।
সত্য, ন্যায়, করুণা, সহমর্মিতার গান,
প্রতিটি হৃদয়ে জাগুক মানবতার জ্ঞান।
প্রতিদিন কিছু সময় কাটুক একসাথে,
হাসি-কান্না ভাগ হোক আপন মমতাতে।
একটি খাবারের টেবিল হোক মিলনের স্থান,
সেখানেই জাগুক পারিবারিক সম্মান।
সন্তানরা দেখুক ঘরে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা,
শিখুক দায়িত্ব, মানবতা, জীবনের ভাষা।
আজকের শিক্ষা আগামী দিনের ভিত্তি,
এভাবেই গড়ে ওঠে সুন্দর সমাজনীতি।
পরিবার কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয় কখনো,
এটি শান্তির বিদ্যালয়, ভালোবাসার বন।
এখানে জয়ের মানে সবাই মিলে থাকা,
এখানে জয়ের মানে কাঁদলে পাশে রাখা।
তাই এসো আজ আমরা করি দৃঢ় শপথ,
ভাঙব না সম্পর্ক আর ক্ষণিক রাগের রথ।
স্নেহ দেবো ছোটদের, বড়দের সম্মান,
মানবিকতায় ভরিয়ে তুলব প্রতিটি প্রাণ।
যেখানে থাকবে না কুধারণার অন্ধকার,
থাকবে না অবহেলা কিংবা অপমানের ভার।
যেখানে মায়ের মুখে থাকবে প্রশান্তির হাসি,
বাবার চোখে ফুটবে তৃপ্তির ভালোবাসি।
যেখানে বৃদ্ধ বয়স হবে মর্যাদার আসন,
যেখানে ভালোবাসা হবে জীবনের বন্ধন।
যেখানে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিশ্বাসের দীপ,
যেখানে শান্তির সুবাসে ভরবে প্রতিটি নীড়।
হে পরম স্রষ্টা,
আমাদের ঘরে ঘরে দাও সে জ্ঞান,
যাতে ভালোবাসায় ভরে ওঠে প্রতিটি প্রাণ।
ভুল বোঝাবুঝি, অবিশ্বাস, হিংসা যাক দূরে,
শান্তি, শ্রদ্ধা, মানবতা ফুটুক ঘরে ঘরে।
প্রতিটি পরিবার হোক সুখের সবুজ কানন,
স্নেহ, মমতা, দায়িত্বে গড়া পবিত্র বন্ধন।
মানুষ মানুষকে ভালোবেসে থাকুক নিরন্তর,
পরিবার হোক পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শান্তির ঘর।॥
৭১
১৪৫ মন্তব্য