Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ জুন, ২০২৬ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ

পর্ব- ১: আল্লাহর পরে যার হক বড় ( সকলকে পড়ার জন্য অনুরোধ করা হলো)

 আল্লাহর পরে যার হক বড়:

পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহর অধিকারের সাথে সাথে মাতা-পিতার অধিকারের কথা এবং আল্লাহর শোকরগুজারির পাশাপাশি মাতা-পিতার শোকরগুজারির প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

“এবং আপনার রব ফয়সালা করে দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তাদের মধ্যে একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার সামনে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ পর্যন্ত বলবে না, ধমকের সুরে কথা বলবে না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলবে। আর দয়ার সাথে তাদের প্রতি নম্রতার ডানা অবনত করে দাও এবং বলো, ‘হে আমার রব! তাদের প্রতি রহম করুন, যেমন তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।’”

(সূরা বনী ইসরাঈল : ২৩–২৪)


আয়াতের শিক্ষা:

১. ভালো ব্যবহার করো

জমিনের উপর আল্লাহর পর সবচেয়ে বড় অধিকার হলো মাতা-পিতার। কুরআনে আল্লাহর একত্ববাদের পর সর্বপ্রথম নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— মাতা-পিতার সাথে ভালো ব্যবহার করতে।

২. ‘উফ’ শব্দটিও না বলা

মাতা-পিতা যখন বৃদ্ধ হয়ে যান, তখন বয়সের কারণে তাদের মেজাজে কিছুটা রুক্ষতা ও খিটখিটে ভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাদের কোনো কথায় বিরক্ত হয়ে ‘উফ’ শব্দটিও বলা যাবে না। ধমকের সাথে কোনো উত্তর দেওয়া যাবে না।

৩. ধমক না দেওয়া

মাতা-পিতার মান-মর্যাদার প্রতি সম্পূর্ণ সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বার্ধক্যে তারা কখনো কখনো নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে বিভিন্ন ধরনের কথা বলে থাকেন। এসব কারণে তাদের ধমক দেওয়া বা বিরক্ত হওয়া যাবে না।

৪. বিনয় ও নম্রতার সাথে আচরণ করা

কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও ব্যবহারে তাদের সাথে সর্বদা বিনয়ী ও নম্র থাকতে হবে।

৫. দোয়া করা

মাতা-পিতাকে অসহায় ও দুর্বল বয়সে দেখে নিজের শৈশবের কথা স্মরণ করা উচিত। তখন তারা কত স্নেহ, ভালোবাসা ও কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে লালন-পালন করেছেন তা মনে করে তাদের জন্য দোয়া করতে হবে—

“হে পরওয়ারদিগার! যেমন তারা শৈশবে স্নেহ ও মমতার সাথে আমাকে লালন-পালন করেছেন, তেমনি আপনি তাদের প্রতি রহম করুন এবং তাদের কঠিন অবস্থা সহজ করে দিন।”

মন্তব্য করুন