Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ জুন, ২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ণ

দক্ষতা উন্নয়নে ১২ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

দক্ষতা উন্নয়নে ১২ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্যের University of Salford-এর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানের Apprenticeship Programmed চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিবছর ২৫,০০০-৫০,০০০ শিক্ষানবিশ তৈরীর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্দ্যোগটি তার নিজস্ব রিসোর্স দিয়ে পরিচালিত করবে।

#জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় #প্রশিক্ষণ #শিক্ষক #দক্ষতাচাহিদাভিত্তিক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দেশব্যাপী ১২ হাজার শিক্ষকের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

তিনি জানান, a2i, আইসিটি ডিভিশন ও UNICEF Bangladesh-এর কারিগরি সহযোগিতায় ৮৯জন কোর ট্রেইনার এবং ৮৪০ জন মাস্টার ট্রেইনারসহ মোট ৯৩০ জনকে ICT বিষয়ে পাঠদানের জন্য প্রশিক্ষক তৈরি করা হয়েছে, যারা পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ১২ হাজার শিক্ষককে ICT ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার অধিভুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করছে এবং শিক্ষকদের Continuous Professional Development (CPD) কার্যক্রম চলমান।তিনি আরো জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসরণ করে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার উপর বিশেষ গুরত্বারোপের অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে ICT, Artificial Intelligence, Data Analytics, Cyber Security, Programming, Entrepreneurship, Digital Communication, Leadership, Cognitive Empowerment, Productivity, Time Management, Financial Literacy এবং Moral Education -এর মতো আধুনিক বিষয়সমূহ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেছে। নতুন ICT কোর্সে Cyber Security, Outsourcing, Data Processing, Al, Free-lancing এবং Semiconductor সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কোর্স ধাপে ধাপে প্রায় ৪০ লক্ষ শিক্ষার্থী সম্পন্ন করবে এবং বছরে কমপক্ষে ২ লক্ষ দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অবদান রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানা যায়, স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি দক্ষতার চাহিদা নিরূপণের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় এবং UNICEF বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে "Feasibility Study to Assess the Future Readiness and Responsiveness of Bangladesh's Higher Education System" গবেষণামূলক জরিপের কাজ চলমান রয়েছে। উক্ত জরিপের প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে দক্ষতাভিত্তিক কর্মমুখী কোর্সসমূহ চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি Mandarin, Japanese, Korean, Arabic, Italian, Spanish ও French ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে Multi Language Learning Institute প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং অধিভুক্ত কলেজগুলোতে Language Club গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীদের আরবি ভাষা ও সফট ভিলস (Soft Skills) শেখানোর মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। কলেজের অধ্যক্ষদের অবিলম্বে নিজেদের সভাপতি করে ইংরেজি, বাংলা এবং আরবি বিভাগের শিক্ষকদের সমন্বয়ে ১০ সদস্য বিশিষ্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৭ জুন অনুষ্ঠান শুরুর আগে। প্রাথমিক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে শিক্ষার্থীরা প্রধানত ম্যান্ডারিন, জাপানিজ এবং স্প্যানিশ ভাষা শিখতে অত্যন্ত আগ্রহী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষতা উন্নয়নে ১ম বর্ষ: বাধ্যতামূলক ICT, নৈতিক শিক্ষাসহ বাংলাদেশের ইতিহাস ও পরিচয়; ২য় বর্ষ: বাধ্যতামূলক Applied ICT Course, English; ৩য় ও ৪র্থ বর্ষ: কর্মসংস্থানমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক বিশেষায়িত কোর্স, Communicative English Micro-Credentials Stackable Learning Pathway চালু; ৩য় ভাষা হিসেবে Mandarin/Japanese/Italian/Arabic/Spanish/Franch চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রবর্তনের লক্ষ্যে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্টের University of New Haven, City College of New York, যুক্তরাজ্যের University of Salford, Hope Education China, Oxford University Press, UNICEF Bangladesh, a2i, ACCA, NSDA -সহ প্রায় ১০০টি স্বনামধন্য দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত করেছে। পাশাপাশি দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে Industry-Academia Linkage জোরদার করা হচ্ছে।

শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্যের University of Salford-এর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানের Apprenticeship Programme চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিবছর ২৫,০০০-৫০,০০০ শিক্ষানবিশ তৈরীর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্দ্যোগটি তার নিজস্ব রিসোর্স দিয়ে পরিচালিত করবে।

যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং a2i-এর সহায়তায় বর্তমান এবং ঝরে পড়া (ড্রপ আউট) শিক্ষার্থীদের জন্য ১০-১২ ক্রেডিটের মাইক্রো-লার্নিং ও মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্স চালু করা হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে তিন মাস মেয়াদী এই কোর্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কয়েকশো শিক্ষার্থীর কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার হার ৯৭.৫%। এই কোর্সগুলো এবং পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা (PGD) প্রোগ্রামগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য 'ইনস্টিটিউট অফ স্কিলস বেইজড এডুকেশন' প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলমান।

এসময় তিনি আরো জানান, প্রতিটি কলেজে Career Center প্রতিষ্ঠা, Job Interview Support, Internship Facilitation এবং Freelancing Training প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি সংস্থার সহযোগিতায় ক্যাম্পাসভিত্তিক পাইলটিং এর মাধ্যমে চাকরি ও ইন্টার্নশিপ সেন্টার ইতোমধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল আইডি প্রদান করা হচ্ছে, স্মার্ট ক্লাসরুম, কম্পিউটার ল্যাব ও অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে, ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হচ্ছে, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বছরে ৪০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানসিক শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়াও দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে এবং প্রান্তিক ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে। তাদের লক্ষ্য হলো দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে অন্তত একটি করে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষায়িত কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এবং সঙ্গীত কলেজের সংখ্যা দুই-তিনটি থেকে বাড়িয়ে ৬৪টি জেলার সবগুলোতে সম্প্রসারিত করা। এই প্রচেষ্টাগুলো বৃহত্তর 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস" (Learning with Happiness) কাঠামোর অংশ, যা ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লক্ষ শিক্ষার্থীকে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে যুক্ত করেছে, যাতে তারা জুলাই এবং আগস্টের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারে এবং তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে One Student One Tree কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ লক্ষ শিক্ষার্থী বছরে ১টি করে গাছ রোপণ করলে বছরে ৪০ লক্ষ গাছ এবং আগামী ৫ বছরে ২ কোটি গাছ (যেমন: নিম ও ফলের গাছ) লাগানোর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী কলেজ পর্যায়ে শুরু হয়েছে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সহজ শর্তে শিক্ষন ঋণ (স্টুডেন্ট লোন) প্রদানের জন্য বড় ব্যাংকগুলোর সাথে আলোচনার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ঋণের কোনো সুদ থাকবে না এবং শিক্ষার্থীরা চাকরি পাওয়ার পর অটোমেটিক প্রক্রিয়ায় এই ঋণ পরিশোধ শুরু করবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা বছর ধরে ৪ থেকে ৫ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা চলমান থাকায় কলেজগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ রাখতে হয়, যার ফলে নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এই সমস্যা সমাধান এবং সেশন জট কমানোর লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০০টি এবং পর্যায়ক্রমে দেশের ৫০০টি উপজেলায় স্বতন্ত্র 'ন্যাশনাল এক্সাম সেন্টার' তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি দাতা সংস্থা এই প্রকল্পে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

#জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় #প্রশিক্ষণ #শিক্ষক #দক্ষতা

মন্তব্য করুন

ব্লগ