সহকারী অধ্যাপক
১৩ জুন, ২০২৬ ০১:৩৩ অপরাহ্ণ
পিতামাতার ঋণ - মোঃ মুজিবুর রহমান
পিতামাতার ঋণ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
পৃথিবীর প্রথম আশ্রয় আমার স্নেহময় মা-বাবা,
তাঁদের ভালোবাসার কাছে হার মানে সব দাবি-দাওয়া।
তাঁদের বুকে মাথা রেখে শিখি জীবনের প্রথম পাঠ,
তাঁদের হাতেই গড়ে ওঠে ভবিষ্যতের দৃঢ় ঘাট।
যখন আমি ছিলাম ছোট, অসহায় এক শিশু প্রাণ,
তাঁরাই ছিলেন ছায়ার মতো সকাল, দুপুর, সাঁঝের গান।
আমার হাসির জন্য তাঁরা হাসতেন ভরে অন্তর,
আমার কান্নায় অশ্রু ঝরত তাঁদের দু’চোখ ভর।
মায়ের কোলে প্রথম ঘুম, মায়ের মুখে প্রথম বাণী,
মায়ের স্নেহ শীতল ছায়া, সুখের অমূল্য রাজরানী।
বাবার কাঁধে চড়ে দেখে পৃথিবীর বিশাল পথ,
বাবার ঘামে গড়ে ওঠে সন্তানের ভবিষ্যৎ রথ।
কত রাত যে জেগে থেকেছেন সন্তানেরই চিন্তায়,
কত স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন সন্তানের কল্যাণে তাই।
নিজের সুখকে দূরে সরিয়ে হাসিমুখে সব সয়েছেন,
সন্তানের মুখের হাসি দেখে জীবনভর তৃপ্ত হয়েছেন।
রৌদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে থেকেও দিয়েছেন শীতল ছায়া,
দুঃখের সাগর বুকে লুকিয়ে দেখিয়েছেন সুখের মায়া।
তাঁদের ত্যাগের হিসাব লেখা সম্ভব নয় কোনো খাতায়,
তাঁদের ভালোবাসার তুলনা খুঁজে পাওয়া যায় না কোথায়।
যখন আসে বার্ধক্যের দিন, কমে যায় চলার গতি,
সন্তানেরই দায়িত্ব তখন হওয়া তাঁদের শক্তি।
সদয় কথায় ভরিয়ে দিতে হবে তাঁদের প্রতিটি ক্ষণ,
ভালোবাসার ছোঁয়ায় মুছে দিতে হবে ক্লান্তির আবরণ।
কখনো যেন ধমক দিয়ে না করি তাঁদের অপমান,
শ্রদ্ধা দিয়ে রাখি উঁচু তাঁদের সম্মানের স্থান।
কারণ তাঁরা জীবনের পথে জ্বালিয়েছেন আলোর দীপ,
তাঁদের দোয়ায় সহজ হয়েছে কত কঠিন প্রতিটি সোপান।
বয়স হলে হাতটি ধরে পাশে বসে কথা বলা,
তাঁদের মনের অনুভূতিগুলো মন দিয়ে শোনা।
সন্তানের একটু সময় তাঁদের কাছে মহামূল্য ধন,
তাতেই ভরে ওঠে আবার আনন্দে তাঁদের মন।
শারীরিক যত্নের সাথে চাই মানসিকও সেবা,
ভালোবাসা আর সহানুভূতিই হোক জীবনের ভরসা।
অসুস্থ হলে ছুটে গিয়ে করি সেবার আয়োজন,
এই দায়িত্ব পালনে যেন না করি কখনো অবহেলা ক্ষণ।
জীবনের বড় সিদ্ধান্তে নিই তাঁদের পরামর্শ,
অভিজ্ঞতার আলোয় ভরা তাঁদের প্রতিটি নির্দেশ।
ভালো পথে চলার শিক্ষা দিয়েছেন যাঁরা সারাজীবন,
তাঁদের কথায় লুকিয়ে থাকে জ্ঞানের অমূল্য রতন।
মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা শুধু নয় কোনো সামাজিক রীতি,
এটি মানবতার শিক্ষা, নৈতিকতার মহাগীতি।
যে সন্তান সম্মান করে নিজের পিতা-মাতাকে,
সাফল্যের আলো একদিন উজ্জ্বল করে তাকেই।
ধন-সম্পদ, খ্যাতি, যশ সবই একদিন হবে ক্ষয়,
মা-বাবার দোয়া থাকলে জীবনে আসে সত্য জয়।
তাঁদের মুখের একটুখানি হাসি অমূল্য রতন,
তাঁদের সন্তুষ্টির মাঝেই লুকিয়ে থাকে সুখের জীবন।
তাই এসো আজ করি সবাই অন্তর থেকে পণ,
মা-বাবার প্রতি পালন করব দায়িত্ব অনুক্ষণ।
শ্রদ্ধা, সেবা, ভালোবাসায় ভরিয়ে দেব তাঁদের প্রাণ,
তাঁদের সুখেই খুঁজে নেব জীবনের প্রকৃত সম্মান।
যতদিন থাকে এই পৃথিবীতে তাঁদের স্নেহছায়া,
ততদিন ঘিরে রাখি তাঁদের মমতা আর মায়া।
কারণ পিতামাতা আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার,
তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাই সন্তানের সর্বোত্তম অঙ্গীকার।
হে প্রভু, দাও এমন হৃদয়, দাও এমন জ্ঞান,
মা-বাবার হক আদায়ে যেন না করি অবহেলার দান।
তাঁদের মুখে ফুটুক হাসি, দূর হোক সব বেদনা,
পিতামাতার সেবার মাঝে খুঁজে পাই জীবনের সার্থকতা।
***
পিতামাতার মর্যাদা ও সন্তানের দায়িত্ব
শুরু করি হৃদয় ছোঁয়া কৃতজ্ঞতার গান,
মা-বাবার মহৎ ত্যাগে জাগুক মানবপ্রাণ।
যাঁদের স্নেহের ছায়াতলে জীবন পেল রূপ,
তাঁদের ঋণ শোধ করা যে অসম্ভব অনুপম।
পৃথিবীতে আসার আগে চিনতেন না কেউ মোরে,
মা-বাবাই আগলে রাখেন মমতারই ডোরে।
অসহায়ের কান্নাধ্বনি যখন উঠত বুকে,
তাঁরাই ছুটে আসতেন স্নেহের আলো মুখে।
মায়ের কোলের উষ্ণতায় প্রথম ঘুমের সুখ,
মায়ের মুখের মিষ্টি বাণী দূর করিত দুঃখ।
মায়ের স্নেহ নদীর মতো বহে অবিরাম,
তাঁর ভালোবাসার কাছে হার মানে সব নাম।
বাবার কাঁধে বসে দেখে শিশুর প্রথম ভুবন,
বাবার শ্রমে গড়ে ওঠে জীবনের ভিত্তিগঠন।
প্রখর রোদে ঘাম ঝরিয়ে করেন কত কাজ,
সন্তানেরই মুখের হাসি তাঁর সকল সাজ।
নিজে না খেয়ে খাওয়ান যিনি সন্তানেরই মুখে,
নিজের সুখ বিসর্জন দেন সন্তানেরই সুখে।
কত রাত যে নির্ঘুম কাটে সন্তানেরই তরে,
সে ইতিহাস লেখা আছে ভালোবাসার ঘরে।
সন্তান যখন হাঁটতে শেখে টলমল দুটি পায়ে,
মা-বাবা তখন হাসির ফুল ফোটান হৃদয় ছায়ে।
সন্তান যখন বড় হয় আর পায় জীবনের জ্ঞান,
মা-বাবারই শিক্ষায় গড়ে আলোকিত অবস্থান।
তাঁদের বুকে জমে থাকে অগণিত আশা,
সন্তান হবে মানুষ ভালো—এই তাঁদের ভাষা।
ধন-সম্পদ নয় যে বড়, নয় কোনো অহংকার,
সন্তানের উত্তম চরিত্র তাঁদের গৌরবধার।
তাই তো সন্তানের কর্তব্য শ্রদ্ধায় মাথা নত,
ভালোবাসায় পূর্ণ রাখা প্রতিটি সম্পর্ক।
কখনো যেন কটু কথায় না ভাঙে তাঁদের মন,
সদয় ভাষায় পূর্ণ হোক প্রতিটি আলাপন।
যখন তাঁরা বার্ধক্যের ভারে হন অবসন্ন,
চলার পথে ধীর হয়ে যায় পদক্ষেপ অনুক্ষণ।
তখন সন্তানের দায়িত্ব হয়ে পাশে থাকা,
তাঁদের সুখ-দুঃখের কথা হৃদয় দিয়ে রাখা।
শুধু ভাত-কাপড় দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়,
মনের ভেতর ভালোবাসা থাকাটাই বড় জয়।
সময় দেওয়া, খোঁজ নেওয়া, বসে কথা বলা,
এসব ছোট কাজেই ফুটে সন্তানের মমতাবেলা।
অসুস্থ হলে সেবার হাতে মুছে দিতে ব্যথা,
সান্ত্বনারই কোমল বাণী বলতে নরম কথা।
তাঁদের মুখের হাসি যেন না হয় কোনোদিন ক্ষীণ,
এই হোক সন্তানের জীবনের শ্রেষ্ঠ ঋণ।
জীবনের বড় সিদ্ধান্তে নিই তাঁদের মত,
অভিজ্ঞতার আলোয় ভরা তাঁদের প্রতিটি পথ।
অনেক ঝড় দেখেছেন তাঁরা জীবনেরই তরে,
তাঁদের জ্ঞান পথ দেখাবে অন্ধকারের পরে।
যে সন্তান মা-বাবাকে সম্মান দিতে জানে,
মানবতার সৌন্দর্য সে নিজের মাঝে আনে।
মানুষ হয়ে মানুষেরই ভালোবাসা পায়,
সফলতার স্বর্ণদ্বারও তার জন্য খুলে যায়।
যে ঘরে থাকে পিতামাতার মর্যাদার স্থান,
সেই ঘর ভরে শান্তি দিয়ে করেন পরম দান।
যে ঘরে তাঁদের অবহেলা, কষ্ট আর দীর্ঘশ্বাস,
সেই ঘরে সুখের পাখি থাকে না বারোমাস।
তাই এসো আজ করি মোরা অন্তর হতে পণ,
মা-বাবাকে ভালোবাসব প্রতিটি অনুক্ষণ।
তাঁদের সেবায় কাটুক জীবন, পূর্ণ হোক সম্মান,
তাঁদের দোয়ায় আলোকিত হোক আমাদের প্রাণ।
ধন-সম্পদ, যশ ও খ্যাতি একদিন যাবে ফুরায়,
মা-বাবার সেই নিঃস্বার্থ প্রেম চিরকালই রয়।
তাঁদের ত্যাগের স্মৃতি যেন জাগে অন্তরজুড়ে,
মানবতার মহাগীতি হয়ে থাকুক সুরে সুরে।
হে মহান রব, দাও আমাদের কৃতজ্ঞ হৃদয়খানি,
মা-বাবার হক আদায়ে না হই যেন গাফিল কোনোদিনই।
তাঁদের মুখে হাসির আলো ফুটুক অনিবার,
পিতামাতার সন্তুষ্টিতেই জীবনের সত্যিকার সাফল্য অপার।
তাঁদের দোয়ার ছায়াতলে কাটুক জীবনের পথ,
তাঁদের ভালোবাসার কাছে নত হোক সব রথ।
মা-বাবা যে আল্লাহপ্রদত্ত শ্রেষ্ঠ নিয়ামত মহান,
তাঁদের সম্মান রক্ষাতেই জাগুক মানবপ্রাণ।
***
পিতামাতার অমলিন ঋণ
হৃদয়ের গভীর শ্রদ্ধা নিয়ে করি আজ গান,
মা-বাবার মহিমাতে জাগুক মানবপ্রাণ।
যাঁদের স্নেহের ছায়াতলে জীবন পেল আলো,
তাঁদের ঋণ শোধের সাধ্য কারো নেই যে ভালো।
যখন ছিলাম ক্ষুদ্র আমি অবুঝ শিশু প্রাণ,
তাঁদের বুকেই খুঁজে পেতাম নিরাপদ স্থান।
অশ্রু ঝরলে ছুটে এসে মুছে দিতেন মুখ,
নিজের দুঃখ লুকিয়ে রেখে দিতেন সুখের সুখ।
মায়ের কোলে প্রথম ঘুম, প্রথম মধুর হাসি,
মায়ের মুখে শুনেছি আমি ভালোবাসার বাঁশি।
মায়ের স্নেহ সাগরসম, অতল তার গভীর,
সন্তান তরে সহ্য করেন কত কষ্ট ধীর।
দশটি মাস হৃদয়জুড়ে বহন করেন যিনি,
সন্তান তরে ভুলে যান সব বেদনা আর ঋণী।
রাত্রি জেগে আগলে রাখেন অসুখ-বিসুখ কালে,
মায়ের মতো আপন কেউ কি আছে ভুবনতলে?
বাবা যেন মহীরুহ এক রৌদ্রঝরা দিনে,
নিজে পুড়ে ছায়া দেন সন্তানের কল্যাণে।
কঠোর মুখের আড়ালজুড়ে কোমল মমতা রয়,
সন্তান সুখে থাকুক শুধু—এই তাঁর পরিচয়।
প্রখর রোদে ঘাম ঝরিয়ে করেন কত শ্রম,
সন্তানের ভবিষ্যতের গড়েন দৃঢ় ভুবন।
নিজের চাওয়া দূরে রেখে করেন ত্যাগ অপার,
সন্তান যেন মানুষ হয়—এই তাঁর অহংকার।
মা-বাবা দুই আলোকশিখা জীবনের পথচলায়,
তাঁদের শিক্ষা দীপের মতো অন্ধকারে জ্বলে যায়।
সত্য-ন্যায়ের পথ দেখান, শেখান ভালোবাসা,
তাঁদের কারণেই ফুটে ওঠে জীবনের ভাষা।
কত আশা বুকের মাঝে লালন করেন তাঁরা,
সন্তান হবে সৎ ও যোগ্য—স্বপ্ন দেখেন সারা।
ধন-সম্পদের চেয়ে বড় সন্তানেরই মান,
সন্তান ভালো মানুষ হলে জুড়ায় তাঁদের প্রাণ।
তাই তো সন্তানের কর্তব্য শ্রদ্ধায় নত থাকা,
তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতার আলো হৃদয়ে রাখা।
কখনো যেন কটু কথায় না দিই কোনো ব্যথা,
স্নেহভরা ভাষায় বলি কোমল মধুর কথা।
বার্ধক্য যখন আসবে নেমে জীবনের আঙিনায়,
চলার শক্তি কমে যাবে সময়েরই ধারায়।
তখন তাঁদের পাশে থাকা সন্তানেরই কাজ,
সেবা-যত্নে ভরিয়ে তোলা জীবনের সব সাজ।
হাতটি ধরে পথ দেখানো, খোঁজ নেওয়া বারবার,
তাঁদের মনের কষ্টগুলো বোঝা বারংবার।
সময় দেওয়া, পাশে বসে গল্প করা ক্ষণ,
এসবেই তো ভরে ওঠে পিতামাতার মন।
শুধু খাদ্য, বস্ত্র দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়,
ভালোবাসার স্পর্শটুকুই সবচেয়ে বড় জয়।
অসুস্থ হলে সেবার হাতে মুছে দিতে ব্যথা,
সান্ত্বনারই আলো দিয়ে বলতে মধুর কথা।
জীবনের সব সিদ্ধান্তে নিই তাঁদের মত,
অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার তাঁরা, সত্য তাঁদের পথ।
অনেক ঝড় আর প্রতিকূলতা দেখেছেন জীবনে,
তাঁদের জ্ঞান পথ দেখাবে প্রতিটি কঠিন ক্ষণে।
যে সন্তান মা-বাবাকে সম্মান দিতে জানে,
মানবতার শ্রেষ্ঠ গুণটি আপন করে আনে।
মানুষেরও ভালোবাসা পায় সে আপন করে,
সফলতার ফুল ফুটে তার জীবনভরা ঘরে।
যে ঘরে মা-বাবার থাকে মর্যাদার আসন,
সে ঘরে শান্তি নেমে আসে হয়ে আশীর্বাদধন।
যে ঘরে তাঁদের অবহেলা, কষ্ট আর দীর্ঘশ্বাস,
সেই ঘরে সুখের আলো থাকে না বারোমাস।
মা-বাবার দোয়া যেন জান্নাতি এক ফুল,
জীবনপথে সুগন্ধ ছড়ায় করে মন আকুল।
তাঁদের সন্তুষ্টির মাঝে লুকিয়ে সুখের দ্বার,
তাঁদের দোয়ায় সহজ হয় জীবনের ভার।
ধন-সম্পদ, যশ আর খ্যাতি একদিন যাবে ক্ষয়,
মা-বাবার সেই ভালোবাসা চিরকাল অক্ষয়।
তাঁদের ত্যাগের স্মৃতিগুলো হৃদয়ে রাখি জাগ্রত,
তাঁদের সম্মান রক্ষায় হই সদা সতত।
এসো সবাই করি আজ অন্তর হতে পণ,
মা-বাবাকে ভালোবাসব প্রতিটি অনুক্ষণ।
শ্রদ্ধা, সেবা, মমতা দিয়ে ভরিয়ে দেব প্রাণ,
তাঁদের সুখেই খুঁজে নেব জীবনের সম্মান।
হে মহান রব! দাও আমাদের এমন বিবেকবান মন,
মা-বাবার হক আদায়ে না করি অবহেলা কখন।
তাঁদের মুখে ফুটুক সদা শান্তির মধুর হাসি,
তাঁদের দোয়ায় আলোকিত হোক জীবন রাশি রাশি।
যতদিন এই পৃথিবীতে নিঃশ্বাস রবে প্রাণে,
মা-বাবারই সম্মান রাখি কর্মে ও গানে।
কারণ তাঁরা স্রষ্টার দেওয়া শ্রেষ্ঠ নিয়ামত দান,
তাঁদের সেবায় নিহিত থাকে মানবতার সম্মান।
মায়ের পায়ের নিচে যেমন জান্নাতেরই পথ,
বাবার সন্তুষ্টিতেও লুকায় কল্যাণের রথ।
তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাই হোক জীবনের ধ্যান,
পিতামাতার মর্যাদাতেই জাগুক মানবপ্রাণ।
***
পিতামাতার মহিমা
শুরু করি হৃদয় জাগানিয়া কৃতজ্ঞতার গান,
পিতামাতার মহিমাতে জাগুক মানবপ্রাণ।
যাঁদের স্নেহের ছায়াতলে জীবনের সূচনা,
তাঁদের ত্যাগে আলোকিত প্রতিটি দিনরচনা।
পৃথিবীর প্রথম শিক্ষক তাঁরা, প্রথম আলোর দিশা,
তাঁদের মুখে শিখেছি মোরা ভালোবাসার ভাষা।
প্রথম হাসি, প্রথম কথা, প্রথম পথচলা,
তাঁদের হাত ধরেই শিখি জীবন গড়ার কলা।
মায়ের কোলে শান্তি মেলে আকাশভরা সুখ,
মায়ের ডাকে দূর হয়ে যায় হাজারো দুঃখ।
তাঁর মমতার সাগরধারা বহে অবিরাম,
সন্তান তরে উৎসর্গিত তাঁর সকাল-সন্ধ্যাবেলা-প্রহর-যাম।
দশটি মাস হৃদয় মাঝে ধারণ করেন যিনি,
বেদনারও পর্বত পেরিয়ে হাসেন তিনি ঋণী।
সন্তান যখন অসুখে পড়ে কাঁদে রাতের শেষে,
মায়ের দুটি স্নেহের হাত ছুঁয়ে যায় অবশেষে।
বাবা যেন মহীরুহ এক প্রখর রৌদ্রতলে,
নিজে পুড়ে ছায়া বিলান সন্তানেরই ফলে।
কঠিন মুখের অন্তরজুড়ে কোমল মমতার ঢেউ,
সন্তানের কল্যাণ ছাড়া ভাবেন না আর কেউ।
দিনের শেষে ক্লান্ত শরীর, তবু নেই অভিযোগ,
সন্তানের সুখের আশায় করেন নিত্য ভোগ।
ঘামের বিন্দু মুক্তা হয়ে ঝরে পথে পথে,
ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকেন সন্তানেরই রথে।
কত আশা বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখেন তাঁরা,
সন্তান হবে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ—এই স্বপ্নে বিভোরা।
ধন-সম্পদের চেয়ে বড় চরিত্রেরই মান,
এই শিক্ষাতেই আলোকিত হয় সন্তানের প্রাণ।
তাঁদের ত্যাগের কাহিনি লেখা যায় না ভাষায়,
ভালোবাসার মহাগ্রন্থ রচিত তাঁদের আশায়।
নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে গড়েন সুখের ঘর,
সন্তানেরই হাসির মাঝে খুঁজে নেন অন্তর।
তাই তো সন্তানের কর্তব্য শ্রদ্ধায় মাথা নত,
তাঁদের প্রতি ভালোবাসা হোক চির অবিচ্ছিন্ন রত্ন।
কখনো যেন রূঢ় কথাতে না কাঁদে তাঁদের মন,
সদয় ভাষায় পূর্ণ হোক প্রতিটি আলাপন।
যখন বার্ধক্য নেমে আসে ধীরে ধীরে প্রাণে,
কমে আসে চলার শক্তি সময়েরই টানে।
তখন তাঁদের পাশে থাকা সন্তানেরই ধর্ম,
সেবা-যত্নে ভরিয়ে তোলা জীবনেরই মর্ম।
বয়স হলে হাতটি ধরে পথ দেখানো ধীরে,
একটু সময় দেওয়া গিয়ে বসা তাঁদের নীরে।
মনের মাঝে জমে থাকা কথাগুলো শোনা,
এতেই খুঁজে পান তাঁরা সুখের ঠিকানা।
শুধু অন্ন-বস্ত্র দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়,
ভালোবাসার পরশটুকুই সবচেয়ে বড় জয়।
মানসিক শান্তি দেওয়াটাও সন্তানেরই কাজ,
এতেই ফুটে ওঠে ঘরে সুখের নবরাজ।
অসুস্থ হলে সেবা দিয়ে মুছে দিতে ব্যথা,
সান্ত্বনারই কোমল সুরে বলতে মধুর কথা।
তাঁদের মুখে হাসি ফোটানো হোক জীবনের ব্রত,
এতেই লুকায় মানবতার শ্রেষ্ঠ মহাসত্য।
জীবনের সব সিদ্ধান্তে নিই তাঁদের পরামর্শ,
অভিজ্ঞতার আলোয় ভরা তাঁদের প্রতিটি দর্শন।
অনেক ঝড় পেরিয়েছেন তাঁরা সময়েরই স্রোতে,
তাঁদের জ্ঞান বাতিঘর হয়ে জ্বলে জীবনের পথে।
যে সন্তান পিতামাতার সম্মান রক্ষা করে,
মানবতার শ্রেষ্ঠ আলো জ্বলে তারই ঘরে।
মানুষেরও ভালোবাসা সে পায় অনায়াসে,
সাফল্যের ফুল ফুটে যায় জীবনের সুবাসে।
যে ঘরে থাকে মা-বাবার মর্যাদার আসন,
সে ঘরে নেমে আসে শান্তি আশীর্বাদের ধন।
যে ঘরে থাকে অবহেলা, কষ্ট আর হাহাকার,
সেই ঘরে সুখের পাখি করে না আর বিহার।
মা-বাবার দোয়া যেন আকাশভরা আলো,
বিপদ এলে পথ দেখায়, রাখে জীবন ভালো।
তাঁদের সন্তুষ্টির মাঝে কল্যাণের দ্বার,
তাঁদের অসন্তোষে আসে জীবনে অন্ধকার।
ধন, ক্ষমতা, যশের মুকুট একদিন হবে ক্ষয়,
মা-বাবার নিঃস্বার্থ প্রেম চিরকাল অক্ষয়।
তাঁদের ত্যাগের স্মৃতিগুলো হৃদয়ে রাখি জাগ্রত,
তাঁদের সম্মান রক্ষায় থাকি সদা সতত।
এসো আজ করি সবাই অন্তর হতে পণ,
মা-বাবার হক আদায় করব প্রতিটি অনুক্ষণ।
শ্রদ্ধা, সেবা, ভালোবাসায় ভরিয়ে দেব প্রাণ,
তাঁদের সুখেই খুঁজে নেব জীবনের সম্মান।
হে মহান রব! দাও এমন পবিত্র হৃদয়খানি,
মা-বাবার হক আদায়ে না হই গাফিল কোনোদিনই।
তাঁদের মুখে ফুটুক সদা প্রশান্তির হাসি,
তাঁদের দোয়ায় ভরে উঠুক জীবন রাশি রাশি।
শেষ করি এই প্রার্থনায়, শুনো হে দয়াময়,
পিতামাতার সেবার পথে রাখো অবিচলময়।
যতদিন প্রাণ, ততদিন রাখি তাঁদের মান,
পিতামাতার মর্যাদাতেই জাগুক মানবপ্রাণ।
৭৩
১৪৬ মন্তব্য