সহকারী শিক্ষক
১৩ জুন, ২০২৬ ০১:৫৪ অপরাহ্ণ
পায়ের গোড়ালিতে ব্যথার নানা কারণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা .
পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা, যা দৈনন্দিন চলাফেরা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস।
পায়ের পাতার নিচে গোড়ালি থেকে সামনের দিকে একটি শক্ত তন্তুযুক্ত টিস্যু থাকে, যাকে প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়া বলা হয়। এই টিস্যুতে প্রদাহ সৃষ্টি হলে গোড়ালিতে ব্যথা দেখা দেয়, যা প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস নামে পরিচিত। তবে শুধু এই কারণেই নয়, গেঁটেবাত, অস্টিওমাইলাইটিস, স্পন্ডিলাইটিস, বিভিন্ন প্রদাহজনিত রোগ কিংবা কিছু বিপাকীয় সমস্যার কারণেও গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে।
সাধারণত হাঁটাচলা করলে ব্যথা বেড়ে যায়। অনেক সময় গোড়ালি ফুলে যেতে পারে এবং খালি পায়ে শক্ত মেঝেতে হাঁটলে বা অনুপযুক্ত জুতা ব্যবহার করলে অস্বস্তি আরও বৃদ্ধি পায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সকালের দিকে ব্যথা বেশি অনুভূত হয় এবং কিছুক্ষণ চলাফেরার পর তা কিছুটা কমে আসে।
গোড়ালির ব্যথার কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনে এক্স-রে পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতা আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ এসব রোগ অনেক সময় ব্যথার তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধ, ফিজিওথেরাপি এবং জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন ভালো ফল দেয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।
গোড়ালির ব্যথা কমাতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। সব সময় নরম ও আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করা উচিত। প্রয়োজনে জুতার ভেতরে হিল কুশন ব্যবহার করা যেতে পারে। খালি পায়ে শক্ত মেঝেতে হাঁটা থেকে বিরত থাকতে হবে। সিঁড়ি ওঠানামার সময় ধীরে চলতে হবে এবং প্রয়োজনে হাতল বা অন্য কোনো সাপোর্ট ব্যবহার করতে হবে, যাতে গোড়ালির ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
ব্যথা তীব্র থাকলে কিছুদিন ভারী ব্যায়াম বা দৌড়ঝাঁপ বন্ধ রাখা ভালো। ব্যথা কমে গেলে ধীরে ধীরে ব্যায়াম শুরু করা যেতে পারে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অতিরিক্ত ওজন গোড়ালির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
ঘুম থেকে ওঠার পরপরই বিছানা ছেড়ে না উঠে কয়েক মিনিট গোড়ালি ও পায়ের পাতা আলতোভাবে ম্যাসাজ করা উপকারী। দিনে দুইবার কুসুম গরম পানিতে গোড়ালি ডুবিয়ে রাখা এবং নিয়মিত স্ট্রেচিং ব্যায়াম করলে প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়ার নমনীয়তা বৃদ্ধি পায় ও ব্যথা কমে। চেয়ারে বসে পায়ের নিচে গরম পানিভর্তি বোতল বা নরম বল গড়ানোর ব্যায়ামও উপকারী হতে পারে। গোড়ালির ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে অবহেলা না করে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
৫
৫ মন্তব্য