সহকারী অধ্যাপক
১৩ জুন, ২০২৬ ০৩:৫৮ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
১২ জুন: আন্তর্জাতিক শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস
কথিকার শিরোনাম: ঘুচুক শৃঙ্খল, বাঁচুক শৈশব
(পটভূমি আবহ সংগীত: একটি বিষণ্ণ বাঁশির সুর, যা আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাবে এবং নেপথ্য কণ্ঠের সূচনা হবে)
নেপথ্য কণ্ঠ:
আজ ১২ জুন। আন্তর্জাতিক শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস। যখন একটি শিশুর হাতে থাকার কথা ছিল রঙিন পেন্সিল, খেলার পুতুল কিংবা স্কুলের নতুন বই; তখন আমাদের চারপাশের বাস্তবতায় লাখো শিশুর হাত কালো হয়ে যাচ্ছে কলকারখানার গ্রিজে, ক্ষয়ে যাচ্ছে ইটভাটায় কিংবা রিকশার প্যাডেলে। শৈশবের যে সময়টা হওয়ার কথা ছিল ডানা মেলে আকাশে ওড়ার, সেই সময়টাই আজ সস্তা শ্রমের বাজারে বন্দি।
(সামান্য বিরতি)
২০০২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) প্রথম এই দিবসটির সূচনা করে। উদ্দেশ্য একটাই—বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দেওয়া যে, শিশুদের অধিকার রক্ষা করা কোনো দয়া নয়, এটি তাদের মৌলিক অধিকার।
আমাদের দেশে আইন আছে, নীতিমালা আছে, কিন্তু বাস্তবতার নির্মম পরিহাসে এখনো বহু শিশু তার সোনালী শৈশবকে বিসর্জন দিচ্ছে পেটের দায়ে। দারিদ্র্যের নিষ্ঠুর কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে বাবা-মা নিজেই তার সন্তানকে ঠেলে দিচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে। চায়ের দোকান, লেদ মেশিন, গ্যারেজ কিংবা বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে খেটে চলা এই শিশুরা অবহেলা আর নির্যাতনের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, এই যে ছোট ছোট হাতগুলো আজ অবহেলায় পিষ্ট হচ্ছে, তারাই হতে পারত আগামী দিনের প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কবি কিংবা দেশের যোগ্য নাগরিক?
একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠন করতে হলে শিশু শ্রমের অভিশাপ থেকে আমাদের মুক্ত হতেই হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা:
· দারিদ্র্য দূরীকরণ ও পুনর্বাসন: শিশু শ্রমের মূল কারণ দারিদ্র্য। তাই দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য টেকসই আয়ের উৎস তৈরি করতে হবে এবং কর্মজীবী শিশুদের শিক্ষার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
· বাধ্যতামূলক ও মানসম্মত শিক্ষা: প্রতিটি শিশুর জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক এবং বাধ্যতামূলক করা জরুরি। শিক্ষা যেন কেবল কাগজে-কলমে না থেকে বাস্তবমুখী ও আকর্ষণীয় হয়।
· আইনের কঠোর প্রয়োগ: ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে যে আইন রয়েছে, তার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন প্রয়োজন। যারা শিশুদের সস্তা শ্রমিক হিসেবে অপব্যবহার করছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
· সামাজিক সচেতনতা: "শিশু শ্রম একটি সামাজিক অপরাধ"—এই মানসিকতা সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।
"সব শিশুরই অধিকার আছে একটি নিরাপদ, আনন্দময় এবং বৈষম্যহীন শৈশব পাওয়ার।"
আসুন, এই আন্তর্জাতিক শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবসে আমরা শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে নিজের জায়গা থেকে প্রতিজ্ঞা করি। আমাদের চারপাশের কোনো শিশুকে যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হতে না হয়। আসুন, ওদের হাত থেকে ভারী হাতুড়ি আর নোংরা বস্তাটা কেড়ে নিয়ে সেখানে তুলে দিই খাতা, কলম আর এক টুকরো স্বপ্ন।
শিশুদের শৈশব হোক শ্রমমুক্ত, পৃথিবী হোক ওদের জন্য নিরাপদ।
৭৩
১৪৬ মন্তব্য