Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ জুন, ২০২৬ ০৬:২২ অপরাহ্ণ

গাফেল হৃদয়ের প্রতি সতর্কবার্তা (সূরা ইয়াসীন ৬০–৬৫-এর ভাবানুবাদ অবলম্বনে) -মোঃ মুজিবুর রহমান

গাফেল হৃদয়ের প্রতি সতর্কবার্তা

(সূরা ইয়াসীন ৬০৬৫-এর ভাবানুবাদ অবলম্বনে)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

শুরু করি হৃদয় ছোঁয়ানো এক সতর্কতার গান,

রবের বাণী শুনে জেগে উঠুক নিদ্রিত মানবপ্রাণ।
সত্যের আলো ছড়িয়ে পড়ুক অন্তরের গভীর তলে,
হিদায়াতের সুবাতাস বইুক জীবন-নদীর কূলে।

হে বনী আদম! শুনো আজ রবের মহান আহ্বান,
করুণাময় ডেকে বলেন ভালোবাসার ভাষায় প্রাণ।
"
আমি কি বলিনি তোমাদের, শোনো আমার বাণী,
শয়তানের পদাঙ্ক ছেড়ে চলো সত্যের পানে জানি?

তার উপাসনা করো না কভু, করো না তার মান,
সে তো তোমার প্রকাশ্য শত্রু, ধ্বংস তারই ধ্যান।
ছলনা দিয়ে পথ হারায়, দেয় বিভ্রান্তির ডাক,
মিথ্যার রঙে সত্য ঢেকে করে হৃদয় ফাঁক।

আমারই ইবাদাত করো, আমারই পথে চলো,
এই তো সরল সোজা পথ, পথেই সফল হও।
যেখানে আছে শান্তির ছোঁয়া, কল্যাণেরই দিশা,
যেখানে মেলে মুক্তির আলো, জান্নাতের প্রত্যাশা।

কিন্তু মানুষ কত যে গাফেল, কত যে অসচেতন,
দুনিয়ার মোহে ভুলে যায় সে পরকালের জীবন।
শয়তানের মিষ্টি কথায় হারায় বিবেক-বোধ,
অন্ধকারে ডুবে থেকে করে পাপের রোধ।

কত জনপদ, কত মানব, কত শত দল,
শয়তানেরই প্ররোচনায় হয়েছে পথভ্রষ্ট চল।
তবুও কি তারা বুঝল না সেই ভয়ংকর পরিণাম?
তবুও কি তারা ভাবল না কেমন হবে শেষ অবসান?

আহা! যদি খুলত তাদের জ্ঞানের দুয়ারখানি,
যদি তারা শুনত অন্তরে রবের অমৃত বাণী।
যদি তারা ফিরত তওবায় ভেঙে গাফিলতির ঘোর,
তবে হয়তো রক্ষা পেত ভয়ংকর সেই ভোর।

যেদিন হবে কিয়ামতের সেই মহা বিচার,
কাঁপবে ধরণী, স্তব্ধ হবে অহংকারের দ্বার।
সেদিন সত্য উদ্ভাসিত হবে সূর্যের মতো জ্বলে,
কেউ লুকাতে পারবে না কিছু মহাবিচারের তলে।

যে জাহান্নামের কথা শুনে হাসত যারা সদা,
বলত, "এসব কেবল কথা", মানত না কোনো বাধা।
আজ সেই আগুন সামনে এসে করবে কঠিন ডাক,
পাপের বোঝা কাঁধে নিয়ে কোথায় পাবে ফাঁক?

বলা হবে "এই তো সে জাহান্নাম, চিনে নাও আজ তাকে,
যার সংবাদ দেওয়া হয়েছিল তোমাদেরকে আগে।
তোমরা যেই কুফরী করে ফিরেছিলে অবিরাম,
আজ তারই ফল ভোগ করো, প্রবেশ করো জাহান্নাম।"

সেদিন আর অজুহাতের সুযোগ থাকবে না,
মিথ্যা কথা বলে কেউ নিজেকে বাঁচাবে না।
জিহ্বা তখন স্তব্ধ হবে রবের কঠিন হুকুমে,
মুখের উপর মোহর পড়বে ন্যায়বিচারের ভূমে।

হাত তখন কথা বলবে, খুলবে গোপন পাতা,
জীবনভর যা করেছে সবই করবে ব্যাখ্যা।
পা তখন সাক্ষ্য দেবে কোথায় কোথায় গিয়েছিল,
সত্যের পথে নাকি পাপের পথে ছুটে চলেছিল।

চোখ বলবে কী দেখেছে, কান বলবে কী শুনেছে,
হৃদয় বলবে কোন কামনায় নিজেকে ডুবিয়েছে।
কোনো অঙ্গ গোপন করবে না একটুও সত্য কথা,
ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লায় হবে কর্মের পূর্ণ ব্যাখ্যা।

হায়! সেদিন কত মানুষ লজ্জায় হবে নত,
যারা ছিল দুনিয়াতে অহংকারে উন্মত্ত।
ক্ষমতা, ধন, সম্মান, পদকিছুই কাজে আসবে না,
রবের সামনে সত্য ছাড়া কিছুই টিকবে না।

তাই হে মানুষ! জেগে ওঠো, সময় এখনও আছে,
ফিরে এসো রবের পানে, জীবন যতদিন বাঁচে।
শয়তানের সব প্রতারণা চিনে নাও আজই,
হিদায়াতের আলো খুঁজে নাও হৃদয়ের মাঝে।

কুরআনের বাণী আঁকড়ে ধরো দৃঢ় বিশ্বাসে,
সুন্নাহর পথে জীবন গড়ো ভালোবাসার আশে।
নামাজ, তওবা, জিকির দিয়ে শুদ্ধ করো প্রাণ,
রবের সন্তুষ্টি হোক জীবনের প্রধান জ্ঞান।

যে হৃদয়ে আল্লাহভীতি জাগে গভীরভাবে,
সে হৃদয়কে শয়তান কখনো বিভ্রান্ত করতে না পারে।
যে বান্দা রবের স্মরণে কাটায় দিন-রজনী,
তার জীবন হয় আলোকিত, ধন্য হয় ধরণী।

এসো তবে প্রতিজ্ঞা করি অন্তরের গভীরে,
রবের পথে চলব মোরা জীবনভর ধীরে ধীরে।
শয়তানের সব কুমন্ত্রণা করব দৃঢ়ভাবে পরিহার,
আল্লাহরই ইবাদাতে হবে জীবনের অঙ্গীকার।

যেন সেদিন বিচারময় সেই ভয়াল প্রাঙ্গণে,
লজ্জিত হয়ে দাঁড়াতে না হয় অপরাধীর রঙ্গে।
বরং মেলে রবের রহমত, জান্নাতের সুশীতল স্থান,
এই দোয়াতেই শেষ করি হৃদয়ছোঁয়া কাব্যগান।

হে আল্লাহ! আমাদের রাখো সরল সত্যপথে,
শয়তানের সব চক্রান্ত হতে নিরাপদ আশ্রয়ে।
মুখে, হাতে, পায়ে যেন না ওঠে পাপের সাক্ষ্যদান,
ক্ষমা করে দিও সেদিন, হে পরম দয়াময় মহান।

আমীন।

গাফেল হৃদয়ের প্রতি সতর্কবার্তা

জাগো হে মানব! জাগো আজি, শুনো রবের বাণী,
সত্যের আলো ছড়িয়ে পড়ুক প্রাণের গভীর খানি।
ঘুমিয়ে থাকা বিবেক জাগুক, খুলুক জ্ঞানের দ্বার,
হিদায়াতের পথে চলুক মানবতার সংসার।

হে বনী আদম! রব কি তোমায় দেননি সেই জ্ঞান?
দেননি কি সেই নির্দেশনা, স্পষ্ট মহান বাণ?
"
শয়তানের দাসত্ব করো না, করো না তার মান,
নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু জান।

আমারই ইবাদাত করো, আমারই পথে চলো,
পথই সরল, সত্যপথ, মুক্তির আলো বলো।
পথ ধরে চললে মানুষ পাবে শান্তির ঠিকানা,
রহমতের ছায়াতলে গড়বে জান্নাতেরই ঠিকানা।

কিন্তু কত মানুষ আজও গাফিলতির ঘোরে,
দুনিয়ারই রঙিন মোহে ডুবে থাকে বিভোরে।
ক্ষণিক সুখের আশায় তারা ভুলে যায় পরিণাম,
ভুলে যায় যে সামনে আছে হিসাবেরই মহাকাল।

শয়তান এসে মিথ্যা রঙে সাজিয়ে দেয় পথ,
অসত্যকে সত্য বলে করে হৃদয় রত।
ধীরে ধীরে টেনে নেয় সে অন্ধকারের পানে,
মানুষ তখন হারিয়ে ফেলে সত্য জ্ঞানের টানে।

কত শত জাতি-গোষ্ঠী, কত শত প্রাণ,
শয়তানেরই প্ররোচনায় হারিয়েছে জ্ঞান।
রবের বাণী শুনেও তারা ফিরল না যে আর,
অহংকারের দেয়াল তুলে করল অস্বীকার।

তবুও কি তারা ভাবল না জীবনের পরিণতি?
তবুও কি তারা বুঝল না কিসের দিকে গতি?
তবুও কি তারা দেখল না মৃত্যুর নীরব ডাক?
কবরের পথে সবাই যাবেনেই তো কোনো ফাঁক।

একদিন আসবে সেই ভয়াল বিচারময় ক্ষণ,
যেদিন কাঁপবে আসমান-জমিন, স্তব্ধ হবে জীবন।
সত্য তখন উদ্ভাসিত হবে প্রখর সূর্যসম,
লুকিয়ে রাখা কোনো আমল থাকবে না গোপন।

যে জাহান্নামের সংবাদ ছিল কুরআনের পাতায়,
যে সতর্কতা এসেছিল নবীদেরই কথায়,
আজ তা এসে সামনে দাঁড়াবে ভয়ংকর রূপে,
অপরাধীর হৃদয় কাঁপবে কঠিন আতঙ্কে।

বলা হবে"এই তো সেই প্রতিশ্রুত জাহান্নাম,
যার কথা শুনে তোমরা করতে উপহাস অবিরাম।
আজ তোমাদের কুফরির ফল নিজেরাই দেখো,
সত্যকে যারা অস্বীকার করেছিল, আজ তা লেখো।"

সেদিন কারো মুখে থাকবে না কোনো অজুহাত,
মিথ্যার সব দরজা হবে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ।
রবের হুকুমে মুখের পরে পড়বে মোহরের ছাপ,
কথা বলার শক্তি হবে মুহূর্তেই বিলুপ্ত।

হাত তখন কথা বলবে স্পষ্ট ভাষার সুরে,
জীবনের সব কর্মগাথা তুলে ধরবে নূরে।
যা কিছু করেছে গোপনে বা প্রকাশ্য দিনের আলোয়,
সবই তখন সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে রবের পালোয়।

পা তখন বলে উঠবে কোথায় কোথায় গিয়েছিল,
সত্যপথে নাকি পাপের পথে নিজেকে সঁপেছিল।
চোখ বলবে কী দেখেছে লোভের আকর্ষণে,
কান বলবে কী শুনেছে গুনাহের আহ্বানে।

জিহ্বা বলবে কী বলেছে মিথ্যা কিংবা সত্য,
হৃদয় বলবে কোন কামনায় ছিল সদা ব্যস্ত।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একে একে সাক্ষ্য দেবে সেদিন,
ন্যায়ের পাল্লায় মাপা হবে জীবনের প্রতিদিন।

হায়! কত মানুষ তখন হবে অনুতাপে ভার,
দুনিয়াতে যারা ছিল বড় অহংকারের অধিকার।
ক্ষমতার সব সিংহাসন হবে ধূলির সমান,
ধন-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি হবে না কোনো জ্ঞান।

বন্ধু, সাথী, আত্মীয়-স্বজন কেউ হবে না ঢাল,
নিজের কর্মই হবে তখন মুক্তি কিংবা জাল।
যা বপন করেছ জীবনে তাই কাটতে হবে শেষে,
ন্যায়ের মহান আদালতে কেউ বাঁচবে না রেশে।

তাই হে মানুষ! আজই জাগো, এখনও আছে সময়,
তওবার দরজা খোলা আছে, করো না আর বিলম্বময়।
ফিরে এসো রবের পথে, আঁকড়ে ধরো কুরআন,
হৃদয় ভরে স্মরণ করো দয়াময় রহমান।

শয়তানের সব কুমন্ত্রণা দূরে সরিয়ে দাও,
অন্তর জুড়ে ঈমানেরই প্রদীপ জ্বালাও।
নামাজ দিয়ে সাজাও জীবন, জিকিরে রাখো মন,
সুন্নাহর পথে গড়ে তোলো সুন্দর অনুক্ষণ।

যে হৃদয়ে রবের ভয় আর ভালোবাসা রয়,
সে হৃদয়কে শয়তান এসে বিভ্রান্ত করতে নয়।
যে বান্দা রবের স্মরণে কাটায় দিবস-রাত,
তার জীবন হয় আলোকিত, সফল তারই প্রভাত।

এসো তবে আজ সবাই করি অন্তরের অঙ্গীকার,
রবের পথে চলব মোরা জীবনভর বারংবার।
মিথ্যা, পাপ আর অবাধ্যতা করব দৃঢ় ত্যাগ,
হিদায়াতের আলোকরশ্মি করব হৃদয়ে লাগ।

যেন সেদিন মুখে মোহর পড়ে লজ্জিত না হই,
হাত-পায়ের সাক্ষ্যে যেন অপরাধী না রই।
বরং রহমতের ছায়াতলে পাই জান্নাতের স্থান,
রবের সন্তুষ্টি হোক মোদের জীবনের সম্মান।

হে আল্লাহ! রাখুন মোদের সরল সত্যপথে,
গাফিলতির অন্ধকার হতে নিন হিদায়াতের রথে।
শয়তানের সব প্রতারণা থেকে করুন রক্ষা,
কিয়ামতের দিন দান করুন ক্ষমা, রহমত, মুক্তির দীক্ষা।

আমীন।

গাফেল হৃদয়ের প্রতি সতর্কবার্তা

শুরু করি হৃদয় ছোঁয়ানো এক মহাসত্যের গান,
যে সত্য শুনে কেঁপে ওঠে গাফেল মানবপ্রাণ।
রবের বাণী নূর হয়ে প্রবেশ করুক মনে,
অবহেলার ঘোর ভেঙে জাগুক মানুষ ক্ষণে ক্ষণে।

হে বনী আদম! শুনো আজ করুণাময়ের ডাক,
যে ডাকে আছে মুক্তির পথ, নেই কোনো ফাঁক।
স্নেহমাখা আহ্বান ভেসে আসে আরশের মহান দ্বার,
"
আমিই কি বলিনি তোমাদের বহুবার?

শয়তানের উপাসনা কভু করো না হে মানুষ,
সে তো তোমার প্রকাশ্য শত্রু, প্রতারক নিঃসংশয় বিশেষ।
তার কুমন্ত্রণা আগুনসম, বাহিরে মধুর হাসি,
অন্তরে লুকিয়ে রাখে ধ্বংসের সর্বনাশী ফাঁসি।

আমারই ইবাদাত করো, আমারই দিকে ফিরো,
সত্যপথের প্রদীপ হাতে অন্ধকার হতে বেরো।
এই পথই সরল পথ, এই পথই মুক্তির দিশা,
এই পথে আছে কল্যাণ, জান্নাতের প্রত্যাশা।"

কিন্তু হায়! কত মানুষ দুনিয়ার মোহে মগ্ন,
ক্ষণস্থায়ী সুখের পিছে হয়েছে চরম অন্ধ।
সোনা-রূপার চাকচিক্যে হারিয়েছে বিবেক,
রবের ডাকে সাড়া দিতে হয়নি তাদের শেখ।

শয়তান এসে কানে কানে বলে মিথ্যার বাণী,
পাপকে সাজায় পুণ্যরূপে, করে হৃদয় হানি।
অহংকারের বিষ ঢেলে দেয় অন্তরেরই মাঝে,
মানুষ তখন সত্যপথকে অবহেলায় ত্যাগে।

কত জাতি, কত গোষ্ঠী, কত মানবদল,
তার প্রতারণায় হারিয়েছে হিদায়াতের বল।
একের পরে এক কাফেলা গেছে বিভ্রান্ত হয়ে,
অসত্যেরই মরুভূমিতে দিশাহারা রয়ে।

তবুও কি তারা বুঝল না সেই করুণ পরিণাম?
তবুও কি তারা ভাবল না হিসাবের মহাকাল?
তবুও কি তারা শুনল না কবরের নীরব ডাক?
মৃত্যুর পথে সবাই যাবে, নেই তো কোনো ফাঁক।

আহা! যদি তারা শুনত কুরআনের আহ্বান,
জেগে উঠত অন্তরজুড়ে ঈমানেরই প্রাণ।
যদি তারা তওবার অশ্রু ফেলত নির্জনে,
রক্ষা পেত হয়তো তারা ভয়াল সেই ক্ষণে।

আসবে একদিন মহাবিচার, অবধারিত দিন,
যেদিন থমকে যাবে হঠাৎ পৃথিবীর সব ঋণ।
আকাশ কাঁপবে, জমিন কাঁপবে, স্তব্ধ হবে প্রাণ,
প্রকাশ পাবে কর্মফলের নির্ভুল বিবরণ।

সেদিন কেউ লুকাতে পারবে না তার আমলখানা,
খুলে যাবে জীবনের সব গোপন অধ্যায়খানা।
অন্ধকারে যা করেছে, নির্জনে যা ছিল,
সবকিছুই প্রকাশ হবে, কিছুই গোপন নাহি রইল।

তখন বলা হবে তাদের"দেখো আজ সে স্থান,
যার সংবাদ দেওয়া হয়েছিল বারবার অবিরাম।
এটাই সেই জাহান্নাম, প্রতিশ্রুত ভয়াল আগুন,
যার কথা শুনে উপহাসে কাটিয়েছিলে গুণ।

আজ তোমরা প্রবেশ করো নিজেদের কর্মফলে,
কুফরি আর অবাধ্যতার বোঝা নিয়ে কাঁধতলে।
যা বপন করেছিলে দুনিয়াতে অবহেলায়,
আজ তারই ফল উপস্থিত কঠিন বাস্তবতায়।"

হায়! কী ভয়াবহ হবে সেই বিচারময় দৃশ্য,
যেখানে মিথ্যার কোনো আশ্রয় থাকবে না নিশ্চয়।
মানুষ চাইবে বলতে কিছু আত্মরক্ষার তরে,
কিন্তু বাক্য থেমে যাবে রবের হুকুমঘরে।

মুখের উপর মোহর পড়বে ন্যায়বিচারের দিনে,
জিহ্বা তখন স্তব্ধ হবে অপরাধের ঋণে।
যে মুখ ছিল দুনিয়াতে তর্কে সদা ব্যস্ত,
সে মুখ হবে নির্বাক, নিস্তব্ধ, শক্তিহীন, ক্লান্ত।

হাত তখন কথা বলবে স্পষ্ট ভাষার সুরে,
বলবে কোথায় ব্যয় হয়েছিল জীবনভর নূরে?
নাকি পাপের অন্ধকারে ছুটেছিল অবিরাম,
ভুলে গিয়েছিল রবের দেওয়া দায়িত্বেরই নাম?

পা তখন সাক্ষ্য দেবে কোথায় কোথায় গিয়েছিল,
কোন পথে সে জীবনভর নিজেকে পরিচালিত করেছিল।
মসজিদের পথে, নাকি গুনাহেরই আসরে,
সত্যপথে, নাকি ছিল ভ্রষ্টতারই বাসরে?

চোখ বলবে কী দেখেছে লুকিয়ে নির্জনে,
কান বলবে কী শুনেছে পাপের আহ্বানে।
হৃদয় বলবে কোন বাসনায় ডুবেছিল গভীরে,
কোন উদ্দেশ্য নিয়ে চলেছিল জীবনভর ধীরে।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সবাই তখন সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে,
মানুষেরই বিরুদ্ধে সত্য বাণী শুনাবে।
কোনো কিছু অস্বীকারের থাকবে না উপায়,
রবের ন্যায়ের আদালতে সত্যই জয় পায়।

সেদিন কত অহংকারী হবে মাথা নত,
দুনিয়াতে যারা ছিল শক্তি-গরবে উন্মত্ত।
রাজত্ব, ক্ষমতা, সম্পদ, সম্মান কিংবা নাম,
কিছুই তাদের রক্ষা করবে না সেদিন অবিরাম।

বন্ধু হবে না বন্ধু তখন, সাথী হবে দূর,
আত্মীয়তার বন্ধনও হারাবে সকল সুর।
নিজের কর্ম ছাড়া তখন থাকবে না আর কেহ,
আমলই হবে সঙ্গী শুধু, সত্য কথা যে।

তাই হে মানুষ! সময় থাকতে জেগে ওঠো আজ,
অবহেলার শৃঙ্খল ভেঙে করো নতুন সাজ।
ফিরে এসো রবের পানে বিনয়ভরা মনে,
ক্ষমার দরজা খোলা আছে এখনও জীবনে।

আঁকড়ে ধরো কুরআন-সুন্নাহ, সত্যের অমৃতধারা,
দুয়ের মাঝেই লুকিয়ে আছে মুক্তির দিশাহারা।
নামাজ দিয়ে সাজাও জীবন, জিকিরে ভরো প্রাণ,
তওবার অশ্রুতে ধুয়ে ফেলো পাপের সব চিহ্ন।

শয়তানের সব কুমন্ত্রণা পদতলে দাও ঠাঁই,
রবের প্রেমে জীবন গড়ো, এর চেয়ে উত্তম নাই।
যে হৃদয়ে আল্লাহভীতি দীপশিখা হয়ে জ্বলে,
শয়তানের সব অন্ধকার দূরে সরে চলে।

এসো তবে করি সকলে দৃঢ় অঙ্গীকার,
সত্যপথে চলব মোরা জীবনভর বারবার।
মিথ্যা, কুফরি, অবাধ্যতা করব চিরবিদায়,
রবের সন্তুষ্টির পথে রাখব জীবনের হালচাল।

যেন সেদিন মুখে মোহর পড়ে লাঞ্ছিত না হই,
হাত-পায়ের সাক্ষ্যে আমরা অপরাধী না রই।
বরং রহমতের ছায়ায় পাই জান্নাতের স্থান,
সফল হোক ঈমানভরা আমাদের পরিণাম।

হে আল্লাহ! তুমি আমাদের অন্তর করো জাগ্রত,
গাফিলতির অন্ধকার হতে করো মুক্ত।
শয়তানের প্রতারণা হতে রেখো নিরাপদ,
তোমার স্মরণে কাটুক জীবন, হোক অন্তর শুদ্ধ।

হে দয়াময়! বিচার দিনে করো না অপমান,
ক্ষমার চাদর ঢেকে দিও সব ত্রুটি-অপরাধখান।
হাত-পা যেন সাক্ষ্য না দেয় লজ্জার কোনো বাণী,
রহমতে দিও জান্নাত, হে আরশের মহান ধনী।

আমীন।

গাফেল হৃদয়ের প্রতি সতর্কবার্তা

শুরু করি হৃদয় জাগানিয়া কুরআনের মহাগান,
যে বাণীতে কেঁপে ওঠে ঘুমিয়ে থাকা প্রাণ।
যে বাণীতে জাগে অন্তর, জাগে বিবেকবোধ,
সত্যের আলো ছড়িয়ে দেয় অন্ধকারের রোধ।

হে বনী আদম! শুনো আজি দয়াময়ের ডাক,
যে ডাকে নেই মিথ্যার ছায়া, নেই কোনো ফাঁক।
স্নেহভরা কণ্ঠে তিনি বলেন বারবার,
"
ভুলে যেও না আমার দেওয়া অমর অঙ্গীকার।

আমি কি বলিনি তোমাদের, হে মানবসন্তান!
শয়তানের উপাসনা কভু করো না অবিরাম।
সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু, চির প্রতারক সে,
মিথ্যার জাল বিছিয়ে রাখে পথের চারপাশে।

সে দেখাবে সুখের স্বপ্ন, দেবে রঙিন ছল,
শেষে শুধু ধ্বংস ডেকে করবে জীবন বিফল।
সে হাসাবে ক্ষণিক তরে, কাঁদাবে অনন্তকাল,
তার পদাঙ্ক অনুসরণে জ্বলে জাহান্নামের জ্বাল।

আর আমারই ইবাদাত করো, আমার পথে চলো,
এই পথেই মুক্তির আলো, এই পথেই ভালো।
এই তো সরল, সত্যপথ, নবীদেরই পথ,
যে পথে চলে সফল হয় ইহকাল-পরকাল রত।"

কিন্তু হায়! কত মানুষ শুনেও শোনে না,
রবের ডাকে সাড়া দিতে মনটি জাগে না।
দুনিয়ারই ক্ষণিক সুখে বিভোর হয়ে রয়,
চোখের সামনে সত্য থাকলেও তা আর দেখে নয়।

ধন-সম্পদের মোহে পড়ে ভুলে যায় পরিণাম,
ক্ষমতারই অহংকারে হারায় ঈমানের নাম।
শয়তান এসে কানে কানে কুমন্ত্রণা দেয়,
মন্দকে সুন্দর সাজিয়ে হৃদয়কে ভোলায় সে।

কত মানুষ, কত জাতি, কত শত দল,
তার প্রতারণায় হারিয়েছে হিদায়াতের বল।
কত জ্ঞানী, কত শক্তিমান, কত নামী জন,
ভ্রষ্ট হয়ে হারিয়েছে চিরমুক্তির পণ।

তবুও কি তারা ভাবল না মৃত্যুর কালো রাত?
তবুও কি তারা বুঝল না কবরের নীরব ঘাট?
তবুও কি তারা দেখল না সময় ফুরায় ধীরে?
জীবন নদী থেমে যাবে একদিন সাগর তীরে।

আহা! যদি মানুষ খুলত অন্তরের নয়ন,
তবে সে চিনতে পারত জীবনেরই গন্তব্যস্থান।
যদি সে শুনত কুরআনের অমিয় বাণীর ডাক,
তবে সে হারাত না কখনো সত্যপথের হাক।

একদিন আসবে অবশ্যই মহাবিচারের দিন,
সেদিন কারও ক্ষমতা থাকবে না একটুও ঋণ।
আসমান কাঁপবে, জমিন কাঁপবে, স্তব্ধ হবে প্রাণ,
প্রকাশ পাবে প্রতিটি কর্ম, প্রতিটি গোপন জ্ঞান।

সেদিন মানুষ দাঁড়াবে সব রবের আদালতে,
রাজা-প্রজা এক কাতারে বিচারেরই মাঠেতে।
কেউ পারবে না লুকাতে তার জীবনের ইতিহাস,
আমলনামা খুলে যাবে, শেষ হবে সর্বনাশ।

তখন বলা হবে "দেখো! সেই জাহান্নাম,
যার কথা শুনেও করেছিলে উপহাস অবিরাম।
যার ভয় দেখিয়ে নবীগণ ডাকতেন বারবার,
তোমরা তবু ফিরেছিলে সত্যপথের পার।

আজ প্রবেশ করো এতে তোমাদের কুফরির ফলে,
অবাধ্যতার আগুন আজ জ্বলছে চারদিকে জ্বলে।
যা বপন করেছিলে দুনিয়ায় নিজের হাতে,
আজ তারই ফল দাঁড়িয়ে আছে তোমাদেরই সাথে।"

হায়! কী কঠিন হবে তখন সেই ভয়ংকর ক্ষণ,
যখন মানুষ হারিয়ে ফেলবে সকল ভাষণ।
নিজেকে নির্দোষ বলার থাকবে না অধিকার,
কারণ শুরু হবে তখন সত্যেরই প্রকাশকার।

মুখের উপর মোহর পড়বে রবের হুকুমে,
জিহ্বা তখন স্তব্ধ হবে ন্যায়বিচারের ভূমে।
যে মুখ ছিল মিথ্যায় ভরা, অহংকারে কঠিন,
সে মুখ হবে নির্বাক, নিশ্চুপ, শক্তিহীন।

হাত তখন কথা বলবে স্পষ্ট সাক্ষ্য দিয়ে,
বলবে কোথায় কাটিয়েছ জীবন দুনিয়া নিয়ে।
কী লিখেছিলে, কী ধরেছিলে, কী করেছিলে গোপনে,
সব প্রকাশ হবে তখন বিচারেরই ক্ষণে।

পা তখন সাক্ষ্য দেবে কোথায় গিয়েছিল,
সত্যপথে নাকি পাপপথে ছুটে চলেছিল।
মসজিদের দিকে, নাকি গুনাহের অন্ধকারে,
সবই বলে দেবে তারা রবের দরবারে।

চোখ বলবে কী দেখেছে লোভের আকর্ষণে,
কান বলবে কী শুনেছে অন্যায়ের আহ্বানে।
হৃদয় বলবে কোন বাসনায় ডুবেছিল নিরন্তর,
কোন চিন্তাতে কাটিয়েছে জীবনের প্রহর।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সবাই হবে সত্যের সাক্ষী,
কেউ পারবে না অস্বীকারে গড়তে মিথ্যা ফাঁকি।
রবের ন্যায়ের পাল্লাতে হবে সবই পরিমাপ,
সামান্যতম আমলও হবে না কোনোদিন চাপা।

সেদিন কত অহংকারী হবে মাথানত,
যারা ছিল পৃথিবীতে দম্ভে উন্মত্ত।
ক্ষমতা, পদ, ধন-সম্পদ, প্রভাব কিংবা মান,
কোনোটিই রক্ষা করবে না সেই কঠিন স্থান।

বন্ধু তখন বন্ধু নয়, আত্মীয়ও দূর,
নিজের আমল ছাড়া হবে না কোনো সুর।
যে আমল ভালো করেছে সে পাবে শান্তির ছায়া,
যে করেছে অন্যায়, তার সামনে শাস্তির মায়া।

তাই হে মানুষ! এখনও আছে ফিরে আসার সময়,
তওবার দরজা খোলা আছে, করো না বিলম্বময়।
আজই ফিরো রবের পানে ভাঙো গাফিলতির ঘোর,
মৃত্যুর আগে জাগিয়ে তোলো ঈমানেরই নূর।

কুরআনের আলো হাতে চল সত্যের পথে,
সুন্নাহর ফুল ফুটাও জীবনের প্রতিক্ষণে।
নামাজ হোক হৃদয়ের নূর, জিকির হোক প্রাণ,
তওবার অশ্রু ধুয়ে দিক সকল গুনাহখান।

শয়তানের প্রতারণা হতে বাঁচাও আপন মন,
আল্লাহভীতির আলো দিয়ে সাজাও জীবন।
যে হৃদয়ে রবের স্মরণ থাকে সকাল-সাঁঝ,
সে হৃদয়েই ফুটে ওঠে শান্তির সোনার সাজ।

এসো সবাই অঙ্গীকার করি অন্তরের গভীরে,
রবের পথে চলব মোরা মৃত্যু আসা ধীরে।
সত্যকে ভালোবাসব, মিথ্যাকে করব পরিহার,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হবে জীবনের অঙ্গীকার।

যেন সেদিন মুখে মোহর পড়ে লজ্জিত না হই,
হাত-পায়ের সাক্ষ্যে আমরা অপরাধী না রই।
বরং রহমতের ছায়ায় পাই জান্নাতের স্থান,
হোক আমাদের আশা, হোক প্রাণের গান।

হে আল্লাহ! তুমি আমাদের গাফিলতি দূর করো,
অন্তরে ঈমানের আলো আরও দৃঢ় ভরো।
শয়তানের সব চক্রান্ত হতে রেখো নিরাপদ,
তোমার পথে কাটুক জীবন, হোক অন্তর শুদ্ধ।

হে পরম দয়াময়! বিচারদিনে করো ক্ষমা দান,
রহমতের ছায়ায় রেখো সব মুমিনের প্রাণ।
হাত-পা যেন সাক্ষ্য না দেয় লাঞ্ছনার বাণী,
জান্নাত দিও আমাদের, হে মহান রব্বানি।

আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ