সহকারী শিক্ষক
১০ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ভেদাভেদের বাইরে গিয়ে আমার দর্শন
ভেদাভেদের বাইরে গিয়ে আমার দর্শন!
ছোটবেলা থেকেই আমার বয়সের কাছাকাছি দুইজন মামা আছে।ইমতিয়াজ মামু আর আলাউদ্দিন মামু। দুজনের বাড়িই আমাদের গ্রাম গড়ইখালীতে। ওদের দুজনকে আমি ভালোবেসে "মামু" বলেই ডাকি।
মজার ব্যাপার হলো, দুজনেরই খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা আছে, কিন্তু দুই মেরুর। ইমতিয়াজ মামুর কাছে ভারতীয় ক্রিকেটাররাই যেন পৃথিবীর সেরা। শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি, সেহওয়াগ, লক্ষ্মণ, যুবরাজ, কুম্বলে, হরভজন—সবাই যেন তার আপনজন। অন্যদিকে আলাউদ্দিন মামুর কাছে ওয়াসিম আকরাম, জাভেদ মিয়ানদাদ, ইনজামাম-উল-হক, শহীদ আফ্রিদি, মইন খান—পাকিস্তানের কিংবদন্তিরাই সবার ওপরে। একজনের কাছে শচীনের তুলনা নেই, আরেকজনের কাছে ওয়াসিম আকরামের সমকক্ষ কেউ নেই।
তখনই বুঝেছি, ভালোবাসা আর পক্ষপাতের মধ্যে সূক্ষ্ম একটা পার্থক্য আছে। আমরা যখন কাউকে খুব বেশি ভালোবেসে ফেলি, তখন অজান্তেই অন্যদের ছোট করে দেখতে শুরু করি। এই মানসিকতাই আজ ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যেও দেখা যায়।
আমার দৃষ্টিতে, এই বিশ্বকাপে ব্রাজিল এমন দল গড়তে পারেনি যে নিশ্চিতভাবে শিরোপা জিতবে। আবার মেসিকে বাদ দিলে আর্জেন্টিনাও আগের মতো ভয়ঙ্কর দল নয়। তাই শুধু সমর্থনের আবেগে কাউকে অজেয় বা অযোগ্য বলা ঠিক নয়।
আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত যাদের বিপক্ষে খেলেছে, তারা কি সত্যিই বিশ্বের সেরা দলগুলোর কাতারে? একই প্রশ্ন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ নিয়েও করা যায়। তাই শুধু গোলের সংখ্যা বা বড় ব্যবধানে জয় দেখে কোনো দলকে সেরা ঘোষণা করে দেওয়া ঠিক হবে না। গোল করা কখনোই সহজ কাজ নয়। প্রতিটি গোলের পেছনে থাকে চাপ, পরিকল্পনা, দক্ষতা ও পরিশ্রম।
আমার বিশ্বাস, সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন হতে হলে ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, নরওয়ে কিংবা সমমানের শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়েই শিরোপা জিততে হবে। তবেই সেই সাফল্যের মূল্য আরও বাড়বে।
সবশেষে একটি কথাই বলতে চাই,ফুটবলে হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয়; জয় হোক সুন্দর ফুটবলের। লিওনেল মেসির জন্য যেমন শুভকামনা, তেমনি ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, নরওয়ে এবং প্রতিটি দলের জন্যও শুভকামনা।
মাঠে খেলোয়াড়রা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, কিন্তু সম্মান হারায় না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক সময় সেই সম্মান হারিয়ে ফেলি আমরা দর্শকরাই। তাই আসুন, দলকে ভালোবাসি, কিন্তু অন্যকে ছোট না করি। কারণ শেষ পর্যন্ত ফুটবলই আমাদের সবার।
১৩
১৫ মন্তব্য