Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

"যে মানুষটি সারাজীবন অন্যের ভবিষ্যৎ লিখেছেন, আজ তিনি নিজের শেষ জীবনের নিশ্চয়তা লিখতে পারছেন না

"যে মানুষটি সারাজীবন অন্যের ভবিষ্যৎ লিখেছেন, আজ তিনি নিজের শেষ জীবনের নিশ্চয়তা লিখতে পারছেন না!"


একজন শিক্ষক তাঁর যৌবন, মেধা, শ্রম আর স্বপ্ন বিলিয়ে দেন একটি প্রজন্মকে গড়ে তুলতে। তিনি ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিচারক, প্রশাসক, বিজ্ঞানী—সবার পথচলার প্রথম আলোর প্রদীপ। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই মানুষটিকেই নিজের ন্যায্য পাওনার জন্য অসহায়ের মতো অপেক্ষা করতে হয়।


বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর সুবিধার অর্থ কোনো করুণা নয়, কোনো অনুগ্রহ নয়। এটি তাঁদের আজীবনের সঞ্চিত অধিকার। অথচ সেই অধিকার পেতে বছরের পর বছর ফাইলের নিচে চাপা পড়ে থাকে তাঁদের স্বপ্ন, আর দপ্তরের করিডোরে হারিয়ে যায় তাঁদের শেষ বয়সের স্বস্তি।


কত শিক্ষক আছেন, যাঁরা জীবনের শেষ সম্বল হিসেবে এই অর্থের অপেক্ষায় দিন গুনতে গুনতে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁদের চোখের শেষ অপেক্ষাটুকুও পূরণ হয়নি। মৃত্যুর পর পরিবারের হাতে যখন সেই অর্থ পৌঁছায়, তখন সেটি আর অবসর-সুবিধা নয়—এটি রাষ্ট্রীয় অবহেলার নীরব সাক্ষী।


একটি জাতি তার শিক্ষকদের যেভাবে মূল্যায়ন করে, ইতিহাসও সেই জাতিকে সেভাবেই মূল্যায়ন করে। তাই আজ প্রশ্ন একটাই—যাঁরা সারাজীবন মানুষ গড়লেন, তাঁদের শেষ বয়স কেন অনিশ্চয়তা, অপমান আর অপেক্ষার কাছে জিম্মি থাকবে?


অবসর সুবিধা বোর্ডকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সকল প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করতে হবে। কারণ একজন শিক্ষক দয়া চান না—তিনি তাঁর ন্যায্য অধিকার চান।


শিক্ষকদের অবসর যেন সম্মানের হয়, অবহেলার নয়। তাঁদের শেষ বয়স যেন অপেক্ষার নয়, নিরাপত্তার হয়। কারণ, যে হাতে জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে, সেই হাত কখনো প্রাপ্যের জন্য প্রসারিত থাকতে পারে না।


#এমপিওভুক্ত_শিক্ষক #অবসর_সুবিধা_বোর্ড #শিক্ষক_অধিকার #শিক্ষা_সংস্কার #শিক্ষকের_মর্যাদা #RespectTeachers

মন্তব্য করুন