Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ জুলাই, ২০২৬ ০১:৪৬ অপরাহ্ণ

বর্ষায় বৃক্ষ রোপণ এর প্রয়োজনীয়তা

বর্ষা ও বৃক্ষরোপণ

বর্ষা বাংলাদেশের প্রকৃতিতে নবজীবনের বার্তা নিয়ে আসে। আষাঢ় ও শ্রাবণের ধারাবাহিক বর্ষণে ধূলিধূসর প্রকৃতি ধুয়ে-মুছে সজীব ও সতেজ হয়ে ওঠে। মাঠ-ঘাট, বন-বাদাড়, নদী-নালা ও বিস্তীর্ণ প্রান্তর সবুজের সমারোহে ভরে যায়। প্রকৃতির এই নবজাগরণের সঙ্গে বৃক্ষরোপণের রয়েছে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। কারণ বর্ষাকালের স্নিগ্ধ আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত গাছের চারা রোপণ ও বেড়ে ওঠার জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বৃক্ষ মানবজীবনের পরম বন্ধু। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে বৃক্ষ, আর বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। ফল, ফুল, কাঠ, জ্বালানি ও ঔষধি উপাদানসহ নানাভাবে বৃক্ষ মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করে। পাশাপাশি ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি কমানো, মাটির ক্ষয় রোধ, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষের অবদান অনস্বীকার্য।

বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, বনভূমি ধ্বংস ও পরিবেশ দূষণ মানবসভ্যতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের অন্যতম কার্যকর উপায় হলো পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ এবং বিদ্যমান বৃক্ষ সংরক্ষণ।

বর্ষাকাল বৃক্ষরোপণের সর্বোত্তম সময় হওয়ায় এ সময় আমাদের বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তার ধারে এবং পতিত জমিতে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা উচিত। তবে শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অতএব, বর্ষার সজীব আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সকলের উচিত বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করা এবং বৃক্ষ সংরক্ষণে সচেষ্ট হওয়া। কারণ আজকের একটি গাছই আগামী দিনের নির্মল পরিবেশ, নিরাপদ জীবন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অন্যতম ভিত্তি।

মন্তব্য করুন