Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ জুলাই, ২০২৬ ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ

ইসলামে 'হাক্কুল ইবাদ' বা অন্যের হক (অধিকার)

ইসলামে 'হাক্কুল ইবাদ' বা অন্যের হক (অধিকার) আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহর হক (যেমন: নামাজ, রোজা ইত্যাদি) আল্লাহ চাইলে নিজের দয়ায় ক্ষমা করে দিতে পারেন, কিন্তু অন্যের হক বা মানুষের পাওনা যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজ থেকে ক্ষমা করবে, ততক্ষণ আল্লাহ তাআলা তা কখনোই ক্ষমা করবেন না।

পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে অন্যের হক আদায়ের প্রয়োজনীয়তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. কুরআন ও হাদিসের নির্দেশ

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে অন্যের সম্পদ অন্যায্যভাবে আত্মসাৎ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন:

"তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের ধন-সম্পদ গ্রাস করো না..."

(সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

"যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ওপর জুলুম করেছেতার সম্মানহানি করে কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে, সে যেন আজই (দুনিয়াতেই) তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়, সেই দিন আসার আগেই যেদিন কোনো দিনার বা দিরহাম (টাকা-পয়সা) থাকবে না।"

(সহীহ বুখারী)

২. 'দেউলিয়া' বা নিঃস্ব হওয়ার ভয়

হাদিসে এমন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি অনেক নামাজ, রোজা, জাকাত ও ইবাদত নিয়ে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে; কিন্তু সে দুনিয়াতে কারো ওপর অত্যাচার করেছিল, কাউকে গালি দিয়েছিল বা কারো পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি।

ফলে পাওনাদারদের তার সৎকাজ (নেকি) দিয়ে দেওয়া হবে। একপর্যায়ে তার নেকি শেষ হয়ে গেলে পাওনাদারদের পাপ বা গুনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। রাসূল (সা.) এ ধরনের ব্যক্তিকেই প্রকৃত 'মুফলিস' বা দেউলিয়া বলেছেন।

৩. বান্দার হকের বিভিন্ন রূপ

অন্যের হক বলতে শুধু টাকা-পয়সা বা সম্পদ বোঝায় না। এটি মূলত কয়েকটি বিষয়ে বিভক্ত:

  • আর্থিক হক: কারো ঋণ পরিশোধ না করা, সঠিক পাওনা বা মজুরি না দেওয়া, জমি দখল করা, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি বোন বা অন্যদের না দেওয়া, চুরি বা আত্মসাৎ করা।

  • শারীরিক ও মানসিক হক: কাউকে না হক আঘাত করা, গালি দেওয়া, কষ্ট দেওয়া, কারো প্রতি অত্যাচার করা।

  • সম্মানগত হক: কারো গীবত (পরচর্চা) করা, অপবাদ দেওয়া, কারো মানহানি করা বা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা।

৪. শহীদ হলেও বান্দার হক মাফ হয় না

ইসলামে শাহাদাতের মর্যাদা অত্যন্ত উঁচুতে। কিন্তু হাদিস শরিফে এসেছে:

"আল্লাহ তাআলা শহীদের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন, কেবল ঋণ (বা অন্যের হক) ব্যতিরেক।"

(সহীহ মুসলিম)

কীভাবে অন্যের হক থেকে মুক্ত হবেন?

১. তাৎক্ষণিক পাওনা পরিশোধ: কারো কোনো বকেয়া বা ঋণ থাকলে তা দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া।

২. ক্ষমা চেয়ে নেওয়া: যদি মানসিক বা সম্মানগত কোনো আঘাত দিয়ে থাকেন (যেমন: গীবত বা কষ্ট দেওয়া), তবে সরাসরি সেই ব্যক্তির কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।

৩. প্রকৃত মালিককে না পেলে: যার পাওনা ছিল সে মারা গিয়ে থাকলে তার ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারীদের) তা বুঝিয়ে দিতে হবে। ওয়ারিশ না থাকলে বা সন্ধান না পাওয়া গেলে তার নামে সদকা করে দেওয়া উচিত এবং আল্লাহর কাছে তাওবা করা দরকার।

পরিশেষ: দুনিয়ার সাময়িক সুবিধা বা লোভে পড়ে অন্যের হক নষ্ট করা আখিরাতের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। তাই সবসময় অন্যের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং কারো কোনো পাওনা থাকলে তা বেঁচে থাকতেই মিটিয়ে ফেলা প্রতিটি মুমিনের অপরিহার্য কর্তব্য

 

মন্তব্য করুন