Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩২ অপরাহ্ণ

স্পেনের একটি জয়ের রাত

স্পেনের একটি জয়ের রাত!


রাত তখন সাড়ে বারোটা। দু'চোখ জুড়ে ঘুমের রাজ্য। ভাবলাম, মাত্র বিশ মিনিট চোখটা বুজে নিই। অ্যালার্ম সেট করলাম রাত ১২টা ৫০ মিনিটে। অ্যালার্ম ঠিকই বেজেছিল, কিন্তু ঘুম আর ভাঙল না!

 রাত ১টা ৩ এর দিকে ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠে ঘুম ভাঙল। চোখ মেলে টিভির দিকে তাকালাম। মনে হলো, "ইশ! স্পেন কি পিছিয়ে পড়ল?" ভালো করে তাকিয়ে দেখি, না—স্কোরলাইন তখনও ০-০। বুকটা যেন একটু হালকা হলো।

এরপর শুরু হলো স্পেনের একের পর এক আক্রমণ। দারুণ সব পাস, দুর্দান্ত বিল্ড-আপ, আর মাঝমাঠে ফ্যাবিয়ান রুইজের অসাধারণ উপস্থিতি। বড় ম্যাচের খেলোয়াড় বলতে যা বোঝায়, তিনি যেন সেটাই প্রমাণ করছিলেন। অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল! কী অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং! তিন-চার, কখনো পাঁচজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। কোন ফাঁক দিয়ে বল বের করে আনছিল, তা যেন চোখেই ধরা পড়ছিল না। এই বিশ্বকাপে এমন ড্রিবলিং আমি আর কারও কাছ থেকে দেখিনি।

অবশেষে ফ্যাবিয়ান রুইজ গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দিলেন। গোলের পর যেন পুরো স্পেন দল আরও প্রাণ ফিরে পেল। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। কিছুক্ষণ পরই বেলজিয়াম সমতা ফিরিয়ে আনল। তখন একটু হতাশ হয়েছিলাম। কারণ এই বিশ্বকাপে স্পেনের ডিফেন্সকে ভেদ করা মোটেও সহজ নয়।

এরপর মাঠে নামলেন পেদ্রি। তাঁকে নামতে দেখে আলাদা এক স্বস্তি পেলাম। পেদ্রির মতো একজন ফুটবলারের উপস্থিতি মাঝমাঠকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। যদিও প্রথম গোলটি করেছিলেন ফ্যাবিয়ান রুইজ, তবুও পেদ্রির আগমনে স্পেনের খেলার ছন্দ আরও সুন্দর হয়ে উঠল।

এরপর চলল আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের লড়াই। উত্তেজনায় প্রতিটি মুহূর্ত কেটে যাচ্ছিল। অবশেষে স্পেন আবার গোল করল। শেষ দিকে স্পেনের ডিফেন্ডাররা অন্তত দুটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিলেন। সেই দৃঢ় রক্ষণই শেষ পর্যন্ত স্পেনকে ২-১ গোলের দারুণ এক জয় এনে দিল।

এই ম্যাচটি অনেক দিন মনে থাকবে। সামনে আরও বড় পরীক্ষা। আশা করি, স্পেন সেই বাধাও পেরিয়ে যাবে। কারণ এই মুহূর্তে স্পেনের ডিফেন্স ভেদ করে গোল করা সত্যিই ভীষণ কঠিন। কাগজে-কলমে হয়তো কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো ফরোয়ার্ডদের সেই সামর্থ্য আছে, কিন্তু আমার বিশ্বাস—স্পেনের এই রক্ষণভাগ তাদেরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

মন্তব্য করুন