Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ

দায়িত্বের দীপশিখা - মোঃ মুজিবুর রহমান


দায়িত্বের দীপশিখা

(নারী পুরুষ: পরিপূরক জীবন)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মানুষ সবার আগেএই তো প্রথম পরিচয়,
তারপর নারী কিংবা পুরুষ, আপন আপন বিন্যাসময়।
একই মাটির দেহ গড়া, একই প্রাণের শ্বাস,
একই স্রষ্টার দান যে জীবন, একই করুণার আভাস।

একই আকাশ মাথার উপর, একই রৌদ্রছায়া,
একই নদীর কলতানে মেশে জীবনের মায়া।
একই পৃথিবী আশ্রয় দিয়ে ডাকে সকাল-সাঁঝে,
একই রবের দয়া ঝরে সুখে-দুঃখের মাঝে।

আল্লাহ দিলেন জ্ঞান-বিবেক, করলেন সম্মানিত,
ন্যায়ের পথে চলার জন্য করলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত।
যে যার স্থানে পালন করবে অর্পিত কর্তব্য,
তবেই ফুটবে জীবনভরা শান্তি, প্রেম আর সৌভাগ্য।

নারী ঘরের মমতার আলো, শিক্ষার নির্মল স্রোত,
পুরুষ শ্রমে গড়ে তোলে সংগ্রামের দৃঢ় জোট।
তবু এই কথা স্মরণীয়কেউ নয় কারো প্রতিদ্বন্দ্বী,
একজন ছাড়া অন্যজনের জীবন থাকে অসম্পূর্ণই।

পরিপূরক দুইটি ধারা, একই নদীর জল,
দুইটি ডানায় উড়ে চলে জীবনের সম্বল।
একটি যদি দুর্বল হয়, থমকে যায় পথচলা,
পারস্পরিক সহযোগিতায় ফুটে ওঠে সাফল্যভরা।

কর্তব্য যেখানে সযত্নে হয়, অধিকার আসে সাথে,
ন্যায়ের ফুল সেখানে ফোটে জীবনেরই পথে।
দায়িত্বহীন স্বার্থলোভে যদি মানুষ হারায় মান,
অশান্তিরই কালো মেঘে ঢেকে যায় প্রাণপ্রাণ।

পিতা যদি দায়িত্বশীল, হাসে পরিবারের মুখ,
মাতা যদি স্নেহে গড়েন, ভরে ওঠে সুখ।
সন্তান যদি সম্মান করে পিতা-মাতার বাণী,
আলোকিত হয় ঘর, সমাজ, দেশ আর মানবজীবনখানি।

শিক্ষক যদি নিষ্ঠাবান হন, আলোকিত হয় প্রাণ,
শিক্ষার্থী যদি শ্রমে থাকে, জাগে নতুন জ্ঞান।
শাসক যদি ন্যায়ের পথে জনগণের সেবক হন,
দেশের পথে শান্তির ফুল ফুটে অবিরাম।

বিচারক যদি সত্য আঁকড়ে নেন অবিচল মন,
ব্যবসায়ী যদি আমানতে রাখেন সততার ধন,
কৃষক যদি শ্রমে হাসেন, চিকিৎসক হন দয়ালু,
মানবতার মহীরুহ তখন ছায়া দেয় অকূল।

নারী যদি সম্মান পায়, ঘর হয়ে ওঠে স্বর্গ,
পুরুষ যদি সম্মান করে, মুছে যায় সব দ্বন্দ্ব।
ভালোবাসা যখন থাকে দায়িত্বেরই সাথে,
স্বপ্নেরা সব বাস্তব হয় জীবনেরই প্রাতে।

অহংকারে নয় উন্নতি, নয় অবহেলায় জয়,
পারস্পরিক মর্যাদাতেই সত্যিকারের পরিচয়।
কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়মর্যাদায় সকল সমান,
তাকওয়া, ন্যায় আর সৎকর্মেই শ্রেষ্ঠ হয় মানবপ্রাণ।

সন্তানেরা শিখুক আগে সত্য, শিষ্টতা, লাজ,
অন্যায়ের কাছে মাথা নত নয় কোনো আজ।
ক্ষমা, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা আর সেবার মহান রীতি,
এসব দিয়েই গড়ে ওঠে সভ্যতার প্রকৃতি।

অধিকার শুধু দাবি নয়, দায়িত্ব তার সাথি,
একটি ছাড়া অন্যটি যে হয় না কখনো গাঁথি।
যেখানে সবাই কর্তব্যে হয় আন্তরিক, সচেতন,
সেখানে নেমে আসে শান্তি, কল্যাণ আর মঙ্গলধ্বনন।

স্বামী-স্ত্রী হোক বিশ্বস্ত, পারস্পরিক সম্মানে,
বন্ধন তাদের দৃঢ় হোক বিশ্বাসেরই টানে।
ভাই-বোন হোক সহমর্মী, প্রতিবেশী হোক আপন,
মানুষে মানুষে ছড়িয়ে পড়ুক সৌহার্দ্যের স্পন্দন।

হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয়, নয় বিভেদের ভাষা,
মানবতার বন্ধন হোক আগামী দিনের আশা।
নারী পুরুষ হাতে হাত রেখে চলুক পাশাপাশি,
ন্যায়ের পথে আলোকিত হোক পৃথিবীর প্রতিটি বাসি।

দায়িত্বে আছে ইবাদতের এক অপূর্ব মহিমা,
সততায় আছে জীবনেরই সবচেয়ে বড় সীমা।
কর্মে যার নিষ্ঠা আছে, তারই মুখে হাসি,
অন্যায়ের পথে চললে আসে অনুতাপের ফাঁসি।

পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে দেশ,
সুন্দর হোক প্রতিটি প্রাণ, সুন্দর হোক পরিবেশ।
ন্যায়ের প্রদীপ জ্বালুক সবাই হৃদয়েরই মাঝে,
কল্যাণের গান উঠুক ধ্বনিত প্রভাত-সাঁঝে।

এসো তবে আজ শপথ করি, করব সৎ প্রয়াস,
দায়িত্ব পালনে অবিচল হবে জীবনেরই শ্বাস।
নারী-পুরুষ মিলেমিশে গড়ব শান্তির ভুবন,
মানবতার পতাকা উড়ুক অনন্তকাল অনুক্ষণ।

হে মহান আল্লাহ!
আপনি আমাদের প্রত্যেককে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন।
আমাদের পরিবার, সমাজ রাষ্ট্রে ন্যায়, দয়া, সততা পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠা করুন।
আমাদের কর্তব্য পালনের মাধ্যমে হালাল অধিকার অর্জনের তাওফিক দিন।
অন্যায়, অবিচার, অহংকার দায়িত্বহীনতা থেকে আমাদের রক্ষা করুন।
আমাদের জীবনকে শান্তি, কল্যাণ আপনার সন্তুষ্টিতে পরিপূর্ণ করুন।

আমীন।

***

দায়িত্বের আলো

মানুষ সবার আগেএই তো প্রথম পরিচয়,
তারপর নারী কিংবা পুরুষ, আপন আপন বিন্যাসময়।
একই মাটির দেহ গড়া, একই প্রাণের শ্বাস,
একই স্রষ্টার অশেষ দানে জীবনের সুবাস।

একই আকাশ মাথার পরে, একই সূর্য ওঠে,
একই চাঁদের নরম আলো নামে নীরব রাতে।
একই বাতাস ছুঁয়ে যায় সব প্রাণের অন্তর,
একই বৃষ্টির ফোঁটায় জাগে শস্যের সমুদ্র।

একই নদীর জলে ভাসে স্বপ্নের সব তরী,
একই মাটির বুকে ফোটে ফুলের রঙিন ঝরি।
একই পৃথিবী আশ্রয় দিয়ে ডাকে আপন করে,
একই রবের অশেষ দয়া ঝরে অন্তরে।

মানুষকে তিনি সম্মান দিলেন জ্ঞান-বিবেক দিয়ে,
ন্যায়ের পথে চলার শক্তি রাখলেন হৃদয় নিয়ে।
সত্যের দীপ জ্বালতে বললেন কর্মের প্রতিটি ক্ষণে,
কল্যাণের পথ রচতে হবে মানবতার সনে।

নারী কিংবা পুরুষকেউ নয় কারও প্রতিদ্বন্দ্বী,
দুইজন মিলে রচনা করে জীবনেরই বন্দনা অম্লানই।
একজন ছাড়া অন্যজনের পূর্ণতা হয় না,
সহযোগিতার সেতু ছাড়া শান্তির ভোর রয় না।

যেমন আকাশ ডাকে ধরণীকে বৃষ্টিধারার টানে,
যেমন নদী মিশে সাগরপারে আপন গানের সুরে,
তেমনি নারী পুরুষ মিলে গড়ে জীবনের ঘর,
পারস্পরিক বিশ্বাসে জাগে শান্তির অমর প্রহর।

শরীর ভিন্ন, গঠন ভিন্ন স্রষ্টারই বিধান,
বৈচিত্র্যের মাঝেই লুকায় সৃষ্টির মহান গান।
কেউ শক্তিতে এগিয়ে থাকে, কেউ ধৈর্যের আলো,
সবার মাঝে স্রষ্টা রেখেছেন অনন্য গুণের ভালো।

ক্ষমতার নয় একটিই রূপ, নয় এক মাপকাঠি,
প্রত্যেক মানুষ আলাদা আলো, আলাদা সম্ভাবনার সাথি।
যার যে প্রতিভা, সে- হোক তার দায়িত্বের দিশা,
সৎকর্মেই ফুটুক জীবনের শ্রেষ্ঠ পরিচয়-নিশা।

সম্মান কারও জন্মে নয়, নয় সম্পদের অহংকারে,
সম্মান জাগে সত্যনিষ্ঠা আর ন্যায়নিষ্ঠ আচারে।
তাকওয়ার দীপ যার অন্তরে জ্বলে নির্মল আলোয়,
সেই মানুষই শ্রেষ্ঠ হয় রবের সন্তোষের ঢালোয়।

দায়িত্ব একটি পবিত্র আমানত, নয় কেবল ভার,
এরই মাঝে লুকিয়ে থাকে জীবনের সত্যসার।
যে যত বেশি দায়িত্বশীল, ততই মহিমান্বিত,
সততার সেই দীপশিখা হয় অনন্ত আলোকিত।

পিতা যদি দায়িত্ব নেন, হাসে পরিবারের প্রাণ,
মাতা যদি স্নেহে গড়েন, ফুটে চরিত্রের জ্ঞান।
সন্তান যদি শ্রদ্ধা শেখে ভালোবাসার ছায়ায়,
একটি ঘরই হয়ে ওঠে শান্তির মহিমায়।

শিক্ষক যদি আলোর দিশা দেন নিষ্ঠার প্রদীপ জ্বেলে,
শিক্ষার্থী যদি শ্রমে থাকে, সাফল্য আসে মেলে।
কৃষকের ঘামে শস্য ফলে, শ্রমিক গড়ে দেশ,
সৎ ব্যবসায়ীর আমানতে ভরে বিশ্বাসের রেশ।

বিচারক সত্য রক্ষা করলে ন্যায়ের পাল্লা হাসে,
চিকিৎসকের মমতায় জীবন ফিরে আসে।
শাসক যদি সেবার মানসে জনগণের পাশে দাঁড়ায়,
দেশের বুকে শান্তির পাখি ডানা মেলে উড়ায়।

অধিকার শুধু দাবি নয়দায়িত্ব তার প্রাণ,
একটি ছাড়া অন্যটি যেন অসম্পূর্ণ গান।
কর্তব্য যেখানে সযত্নে হয়, অধিকার আসে সাথে,
ন্যায়ের কুসুম সেথায় ফোটে জীবনের প্রতিটি পথে।

দায়িত্বহীন স্বার্থলোভে ভেঙে যায় বিশ্বাস,
অন্যায়ের আগুনে পুড়ে মলিন হয় উল্লাস।
হক নষ্টের কান্নাধ্বনি ওঠে নীরব রাতে,
অশান্তির কালো ছায়া নামে ঘরে ঘরে, পথে।

তাই এসো আজ শপথ করিসত্যকে করব সাথি,
ন্যায়ের পথে চলব সবাই, ভালোবাসার সাথি।
নারী পুরুষ মিলেমিশে গড়ব কল্যাণভূমি,
মানবতার পতাকা ওড়াবে প্রতিটি ঘরভূমি।

আমরা সবাই আল্লাহপ্রদত্ত আমানতের বাহক,
সৎকর্ম হবে জীবনেরই শ্রেষ্ঠ পরিচায়ক।
দায়িত্ব পালন করব সদা নিষ্ঠা, দয়া, প্রেমে,
শান্তির ফুল ফুটবে তখন দেশ বিশ্বের বুকে।

হে পরম করুণাময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তরে দায়িত্ববোধ জাগিয়ে দিন।
সত্য, ন্যায়, দয়া সততার পথে অবিচল রাখুন।
নারী পুরুষসকলকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন।
আমাদের পরিবার, সমাজ রাষ্ট্রে শান্তি, সম্প্রীতি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করুন।
আপনার সন্তুষ্টিই হোক আমাদের জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন।

আমীন।

***

দায়িত্বের আলো

মানুষ সবার আগেএই তো প্রথম পরিচয়,
তারপর নারী কিংবা পুরুষ, আপন আপন বিন্যাসময়।
একই মাটির দেহ গড়া, একই প্রাণের শ্বাস,
একই স্রষ্টার অপার দানে জীবনের সুবাস।

একই আকাশ মাথার উপরে, একই রৌদ্রছায়া,
একই ভোরের শিশিরধারা, একই সন্ধ্যমায়া।
একই নদীর কলকল ধ্বনি, একই সাগরগান,
একই বাতাস ছুঁয়ে বলেমানুষ হও মহান।

একই সূর্য আলো বিলায়, একই চাঁদের হাসি,
একই বৃষ্টির জলে ভিজে মাঠের সবুজ ঘাসই।
একই ধরার বক্ষে ফুটে রঙিন ফুলের মেলা,
একই রবের রহমতে জাগে নতুন দিনের বেলা।

করুণাময় আল্লাহ তাআলা মানুষ করলেন সৃষ্টি,
জ্ঞান-বিবেকের আলোক দিয়ে করলেন মহিমান্বিত।
সত্য ন্যায়ের পথ দেখিয়ে দিলেন অমর দিশা,
দায়িত্ব দিয়ে গড়তে বললেন মানবতার নিশা।

নারী কিংবা পুরুষকেউ নয় কারও প্রতিদ্বন্দ্বী,
সহযোগিতার বন্ধনেই জীবন থাকে আনন্দময়ী।
দুইটি স্রোত মিলেমিশে যেমন হয় নদীর ধারা,
তেমনি দুজন মিলেই গড়ে সংসারের আলোকধারা।

যেমন ডানার দুটি পাখা আকাশপানে যায়,
একটি ভাঙলে উড়তে পারে না পাখি কোনো হায়।
তেমনি নারী-পুরুষ মিলে জীবনের অভিযাত্রা,
বিশ্বাস, মমতা, দায়িত্বে গড়ে শান্তির মাত্রা।

বৈচিত্র্য স্রষ্টার কুদরতের অপূর্ব এক নিদর্শন,
ভিন্নতায়ও লুকিয়ে থাকে ঐক্যের মহাগান।
কেউ দৃঢ়তায় অগ্রসর হয়, কেউ ধৈর্যের দীপ,
প্রত্যেক প্রাণে স্রষ্টা রাখেন স্বাতন্ত্র্যের রূপ।

ক্ষমতার মাপকাঠি শুধু বলের পরিচয় নয়,
প্রজ্ঞা, ধৈর্য, সততা মিলেই সত্য বিজয় হয়।
যার যে যোগ্যতা, সে যেন তা সৎকর্মে করে দান,
এভাবেই প্রস্ফুটিত হয় মানুষের সম্মান।

সম্মান জন্মে নয় কখনো, নয় ধন-সম্পদের জোরে,
সম্মান জাগে সত্যনিষ্ঠ কর্মের শুভ ঘোরে।
অহংকারে নয় মহত্ত্ব, নয় অন্যায় ক্ষমতায়,
তাকওয়া, ন্যায়, আমানতেই শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে যায়।

দায়িত্ব শুধু কর্তব্য নয় এক পবিত্র আমানত,
এরই মাঝে লুকিয়ে থাকে জীবনের মহাসত্য।
যে দায়িত্ব পালন করে নিষ্ঠা, দয়া, প্রেমে,
তারই জীবন আলোকিত হয় মানুষেরই মনে।

পিতা যদি দায়িত্ববান, হাসে পরিবারের প্রাণ,
মাতা যদি স্নেহে গড়েন, দীপ্ত হয় সন্তানের জ্ঞান।
সন্তান যদি শ্রদ্ধা শেখে ভালোবাসার কোলে,
শান্তির নীড় হয়ে ওঠে ঘর, সুখের ফুল ফোটে দোলে।

শিক্ষক যদি আলোর দিশা দেন নিষ্ঠার প্রদীপ জ্বেলে,
শিক্ষার্থী যদি অধ্যবসায়ে চলে অটল মেলে,
জ্ঞান তখন দীপশিখা হয়ে দূর করে অজ্ঞান রাত,
সভ্যতার পথে জ্বলে ওঠে প্রজ্ঞার অমল প্রভাত।

কৃষকের ঘামে সোনার ধান, শ্রমিক গড়ে সেতু,
কারিগরের দক্ষ হাতে জাগে উন্নতির রথ।
চিকিৎসকের মমতা বাঁচায় ক্লান্ত জীবনের প্রাণ,
সৎ ব্যবসায়ীর আমানতে বাড়ে মানুষের মান।

বিচারক যদি সত্য আঁকড়ে রক্ষা করেন ন্যায়,
শাসক যদি সেবায় ব্রতী, শান্তি নেমে তায়।
প্রশাসক যদি সততায় রাখেন দায়িত্ব পালন,
দেশের বুকে প্রস্ফুটিত হয় উন্নয়নের কানন।

অধিকার শুধু দাবি নয়দায়িত্ব তার প্রাণ,
একটি ছাড়া অন্যটি যেন অসম্পূর্ণ গান।
যেখানে সবাই কর্তব্যে হয় আন্তরিক, সচেতন,
সেখানে ফুটে ন্যায়ের কুসুম, সুখের অমল চেতন।

দায়িত্বহীন স্বার্থলোভে ভেঙে যায় বিশ্বাস,
অন্যায়ের আগুনে পুড়ে নিভে যায় উল্লাস।
হক নষ্টের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয় আকাশ,
অশান্তির কালো মেঘে ঢেকে যায় সব আশ।

তাই এসো আজ শপথ করি সত্যকে করব সাথি,
ন্যায়ের পথে চলব সবাই ভালোবাসার সাথি।
নারী পুরুষ হাতে হাত রেখে গড়ব কল্যাণভূমি,
মানবতার দীপ জ্বালাবে প্রতিটি ঘরভূমি।

দায়িত্ব হবে ইবাদতেরই উজ্জ্বল এক রূপ,
সততা হবে চরিত্রজোড়া অমূল্য মহাসূত্র।
দয়া, ক্ষমা, কৃতজ্ঞতায় গড়ব হৃদয়ঘর,
মানুষ হয়ে মানুষকেই রাখব আপন করে।

আল্লাহপ্রদত্ত আমানতের আমরা সবাই বাহক,
সৎকর্ম হবে জীবনেরই শ্রেষ্ঠ পরিচায়ক।
অধিকার পেতে চাইলে আগে পালন করি দায়,
এই শিক্ষাতেই শান্তি, এই শিক্ষাতেই জয়।

হে পরম করুণাময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তরে দায়িত্ববোধ, সত্যনিষ্ঠা তাকওয়া বৃদ্ধি করুন।
নারী পুরুষসকলকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন।
আমাদের পরিবার, সমাজ রাষ্ট্রে ন্যায়, দয়া, সততা পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠা করুন।
হক আদায় করার শক্তি দিন, অন্যের হক নষ্ট করা থেকে রক্ষা করুন।
আপনার সন্তুষ্টিই হোক আমাদের জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য।

আমীন।

***

দায়িত্বের আলো

মানুষ সবার আগেএই তো প্রথম পরিচয়,
তারপর নারী কিংবা পুরুষ, আপন আপন বিন্যাসময়।
একই মাটির দেহ গড়া, একই প্রাণের শ্বাস,
একই স্রষ্টার দানে জাগে জীবনের সুবাস।

একই আকাশ মাথার পরে, একই সূর্যের আলো,
একই চাঁদের রুপালি হাসি, একই ভোরের ভালো।
একই বাতাস বয়ে আনে শান্তির স্নিগ্ধ গান,
একই বৃষ্টিধারায় জাগে পৃথিবীর প্রাণ।

একই নদীর জলে ভাসে আশা-স্বপ্নের নাও,
একই মাঠে সোনার ধান, একই কৃষকের চাও।
একই ফুলে মৌমাছিরা খুঁজে নেয় মধুর রেশ,
একই পৃথিবী ডাকে সবেএসো গড়ি সুন্দর দেশ।

একই রবের অপার দয়া ছুঁয়ে যায় অন্তর,
একই করুণার ছায়ায় বাঁচে ধনী-গরিব ঘর।
একই আলোয় জাগে সকাল, একই রাতে ঘুম,
একই সত্যের আহ্বানে খুলে জীবনের কূল।

তিনি দিলেন জ্ঞান-বিবেক, নৈতিকতার দীপ,
সত্যের পথে চলতে হবেএই তো জীবনের নীত।
মানুষ যেন মানুষ থাকে, থাকে দয়ার মন,
ন্যায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ণ করে জীবন।

নারী কিংবা পুরুষকেউ নয় কারও প্রতিদ্বন্দ্বী,
একই বাগান, দুটি ফুল, সৌন্দর্যে সমৃদ্ধি।
দুটি সুরে বাঁধা যেন এক অনন্ত গান,
দুটি হাতে গড়ে ওঠে মানবতার প্রাণ।

দুটি ডানায় উড়ে পাখি নীল আকাশের পানে,
একটি ভাঙলে থেমে যায় উড়ার সবই টানে।
তেমনি নারী, তেমনি পুরুষসহযোগিতার পথ,
পারস্পরিক সম্মানেই জীবনের সত্য রথ।

স্রষ্টা যাকে দিয়েছেন যেমন গঠন, শক্তি, রূপ,
তাতেই লুকায় তাঁর অপার প্রজ্ঞার মধুর রূপ।
বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই সৌন্দর্যের জয়,
একই ছাঁচে সৃষ্টি হলে ফুটত না পরিচয়।

কেউ ধৈর্যে দীপ্ত, কেউ অধ্যবসায়ে দৃঢ়,
কেউ সেবায় আলোকিত, কেউ সংগ্রামে স্থির।
কেউ জ্ঞানে পথ দেখায়, কেউ শ্রমে গড়ে দেশ,
সবাই মিলে রচনা করে সভ্যতার পরিবেশ।

সম্মান কভু জন্মে নয়, নয় ধনসম্পদে,
সম্মান জাগে সৎকর্মে আর নৈতিকতার রথে।
যে সত্যকে আঁকড়ে ধরে, রাখে আমানত অটুট,
তার জীবনেই জ্বলে ওঠে মর্যাদার দীপ অম্লান।

দায়িত্ব একটি আমানতরবের দেওয়া দান,
একে যারা সযত্নে রাখে, তারাই মহীয়ান।
কর্তব্যহীন স্বাধীনতা আনে না কল্যাণ,
দায়িত্বশীল জীবনেই জাগে শান্তির সম্মান।

অধিকার চাওয়ার আগে চাই কর্তব্যের সাধনা,
সততারই বীজ বুনে গড়ে সুখের ঠিকানা।
দায়িত্ব যদি পূর্ণ হয় নিষ্ঠার আপন হাতে,
অধিকারও প্রস্ফুটিত হয় সুবিচারের সাথে।

পিতা যদি সৎ আদর্শে আলোকিত পথ দেখান,
সন্তানেরা শিখবে তবে সত্যের মহাগান।
মাতা যদি স্নেহের সাথে শিক্ষা দেন প্রতিদিন,
ঘর হয়ে যায় চরিত্রগঠনের নির্মল বিদ্যালয়।

স্বামী যদি শ্রদ্ধা করেন আপন জীবনসাথীকে,
স্ত্রী যদি রাখেন ভালোবাসা বিশ্বস্ততার ডোরে,
দুজন মিলে গড়ে ওঠে শান্তির সংসার,
ভালোবাসা তখন হয় আল্লাহর এক উপহার।

সন্তান যদি ভক্তি শেখে পিতা-মাতার তরে,
বয়োজ্যেষ্ঠের সম্মান রাখে হৃদয়েরই ঘরে,
একটি পরিবার তখন হয়ে ওঠে বাগান,
সদাচারের সুবাসে ভরে প্রতিটি প্রাঙ্গণ।

শিক্ষক যদি আদর্শ হয়ে সত্যের আলো জ্বালেন,
শিক্ষার্থীও শ্রমের ঘামে স্বপ্ন নিজের গড়েন।
বইয়ের অক্ষর প্রাণ পায় চরিত্রেরই ছোঁয়ায়,
শিক্ষা তখন জীবন গড়ে নৈতিকতার মায়ায়।

কৃষকের ঘামে সোনার শস্য, শ্রমিক গড়ে সেতু,
চিকিৎসকের সেবায় জাগে আশার নতুন রীতু।
ব্যবসায়ী রাখেন যদি আমানতের মান,
বিশ্বাস তখন ফুল হয়ে ছড়ায় সুবাসদান।

বিচারক যদি সত্যের পথে অবিচল থাকেন,
দুর্বল মানুষ ন্যায়ের আশায় নতুন ভরসা রাখেন।
শাসক যদি জনগণের সেবাকে করেন ধর্ম,
দেশের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয় শান্তি, ন্যায় আর কর্ম।

অহংকারে ভাঙে সম্পর্ক, হিংসায় জ্বলে প্রাণ,
স্বার্থের আগুন নিভিয়ে দেয় ভালোবাসার গান।
ক্ষমা, দয়া, কৃতজ্ঞতায় জাগুক মানবধর্ম,
সদাচারে প্রস্ফুটিত হোক প্রতিটি দিনের কর্ম।

এসো তবে আজ সবাই মিলে করি দৃঢ় শপথ,
সত্যের পথে রাখব চিরদিন জীবনের রথ।
নারী-পুরুষ হাতে হাত রেখে এগোব পাশাপাশি,
কল্যাণময় পৃথিবী হবে মানবতার বাতি।

দায়িত্ব হবে ইবাদত, সততা হবে প্রাণ,
ন্যায়ের আলো ছড়িয়ে দেবে প্রতিটি মানবজান।
শান্তির ফুল ফুটুক আজি প্রতিটি ঘরদ্বারে,
ভালোবাসার নদী বইুক বিশ্বজুড়ে ধারে ধারে।

হে মহান আল্লাহ!
আপনি আমাদের অন্তরে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করুন।
ন্যায়, দয়া, সততা তাকওয়ার পথে অবিচল রাখুন।
নারী পুরুষসকলকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দিন।
আমাদের পরিবারে, সমাজে রাষ্ট্রে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।
আমাদের কর্মকে কবুল করুন এবং আপনার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।

আমীন।

মন্তব্য করুন