সহকারী অধ্যাপক
১২ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
মহাস্রষ্টার মহিমার আহ্বান - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মহাস্রষ্টার মহিমার আহ্বান
(সূরা আন-নাবা : ৬–১৭ অবলম্বনে )
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
কে বিছিয়ে দিল ধরার বুকে
সবুজ ঘাসের শয্যা?
কে সাজিয়ে দিল নদী-নালা,
ফুলে ভরা এ ভুবনময়?
কে দাঁড় করাল পর্বতমালা
অটল দৃঢ় স্তম্ভ?
পৃথিবী যেন টলে না ওঠে,
রয় অবিচল স্থির।
আকাশ জুড়ে সূর্য হাসে,
চাঁদে ঝরে মধু;
তারার মেলা রাতের বুকে
ছড়ায় নীরব রূপ।
বল তো মানুষ, কে করেছে
এত অপার দান?
কারই কুদরতে ভরে আছে
বিশ্বের প্রতিটি প্রাণ?
জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করলেন
নারী এবং পুরুষ;
স্নেহের বাঁধন, ভালোবাসায়
হোক সংসারের সূচনা।
পরিবার গড়ে, সমাজ গড়ে,
প্রজন্ম আসে ধীরে;
একটি প্রাণের ধারাবাহিকতা
চলে যুগের তীরে।
ক্লান্ত শরীর, অবসন্ন মন,
দিনের শেষে ক্ষণ—
নিদ্রা নামে স্নিগ্ধ পরশে
রহমতেরই দান।
ঘুমের ভেতর শান্তির সুধা,
ভুলে যায় সব ক্লেশ;
নতুন ভোরের প্রত্যাশাতে
জাগে প্রাণের রেশ।
রাতের কালো নরম চাদর
ঢেকে দেয় সংসার;
নিভে যায় সব কোলাহল,
শান্ত হয় অঙ্গন।
নিভৃতে তখন মুমিন হৃদয়
সিজদায় ঝরে নূর;
তাহাজ্জুদের নীরব ডাকে
জাগে প্রেম ভরপুর।
তারপর আসে সোনার সকাল,
আলোর শুভ ক্ষণ;
দিনকে দিলেন কর্মের মাঠ,
জীবিকারই পণ।
ঘামে ভেজা সৎ উপার্জন
ইবাদতেরই রূপ;
হালাল রুটির প্রতিটি কণা
আনে প্রশান্তি সুদূর।
মাথার উপরে সাত আসমান—
সুদৃঢ় মহিমাময়;
সুষম ছন্দে ঘুরে চলেছে
অসীম নিয়মময়।
নেই কোনো ফাটল, নেই বিশৃঙ্খলা,
নেই সামান্য ভ্রান্তি;
স্রষ্টার জ্ঞানে গাঁথা রয়েছে
মহাবিশ্বের কান্তি।
জ্বালিয়ে দিলেন দীপ্ত প্রদীপ—
সূর্যের উজ্জ্বল আলো;
তারই তাপে জাগে প্রকৃতি,
সোনালি ধানের পাল।
ভোরের শিশির, বিকেলের রোদ,
ঋতুর রঙিন গান;
সবই যেন তাঁরই কুদরতের
অসীম নিদর্শন।
আকাশভরা মেঘের ভেলা
ভাসে দিগন্তজুড়ে;
সময় হলে ঝরে পড়ে জল
ধরার বুকের পরে।
বর্ষার স্রোতে জেগে ওঠে
নিষ্প্রাণ মাঠঘাট;
শস্য দোলে, সবুজ হাসে,
ভরে ওঠে প্রান্তর।
ধানের ক্ষেতে সোনার ঢেউ,
গমে ভরে গোলা;
ফল-ফুলে হাসে বাগানভরা
প্রকৃতিরই বেলা।
ঘন অরণ্য, লতাপাতা,
ছায়াঘেরা বন;
প্রতিটি বৃক্ষ সাক্ষ্য বহে—
একই স্রষ্টার মন।
একটি বীজে লুকিয়ে থাকে
অসংখ্য বৃক্ষের প্রাণ;
এক ফোঁটা জলে জেগে ওঠে
জীবনেরই গান।
মানুষ তবে কেন ভুলে যায়
এত করুণা, দান?
কেন অহংকারে হারিয়ে ফেলে
সত্যের পরিচয়খান?
যে চোখ দেখে পাহাড়-নদী,
সূর্য, চন্দ্র, গগন—
সে চোখ কেন চিনতে পারে না
সৃষ্টিকর্তার চিহ্ন?
প্রতিটি নিশ্বাস শিক্ষা দেয়,
প্রতিটি দিন নতুন;
প্রতিটি ভোরে ডাকে যেন—
ফিরে এসো প্রভুগুণ।
এই যে দুনিয়া ক্ষণিক মুসাফির,
চিরস্থায়ী নয়;
একদিন হবে সবকিছুরই
চূড়ান্ত পরিচয়।
আসবে সেই দিন—ফয়সালার দিন,
নির্ধারিত যার কাল;
কেউ পারবে না পিছু হটাতে
এক মুহূর্তও আর।
সত্যের পাল্লা উঠবে তখন
ন্যায়ের দীপ্ত আলোয়;
যার যা কর্ম, তারই ফল
দেওয়া হবে ভালোয়।
তাই হে মানুষ, জাগো আজই,
ভাঙো গাফিল ঘোর;
সৎকর্ম দিয়ে সাজাও জীবন,
খুলো ঈমান-দ্বার।
যে ধরাকে শয্যা বানালেন,
পর্বত করলেন দৃঢ়;
যিনি রাতে দিলেন বিশ্রাম,
দিনে দিলেন শ্রম।
যিনি আকাশ উঁচু করলেন,
সূর্য দিলেন দীপ;
যিনি বর্ষায় নামান পানি,
সবুজ করেন ক্ষিতি।
সেই মহান রব এক ও অদ্বিতীয়,
তাঁরই কাছে ফিরি;
তাঁরই দানে বাঁচি প্রতিক্ষণ,
তাঁরই পথে চলি।
হৃদয় জুড়ে ঈমান জাগুক,
শুদ্ধ হোক অন্তর;
ফয়সালার সেই মহান দিনে
হই সফল কেবল তাঁরই কৃপায়।
হে দয়াময়! তুমি দাও শক্তি,
সত্যপথে চলিবার;
তোমার নিদর্শন দেখে দেখে
বাড়ুক প্রেম অপার।
দুনিয়ার প্রতিটি দৃশ্য যেন
তোমারই পরিচয়;
তোমার সন্তুষ্টি লাভের তরে
হোক জীবনের জয়।
***
মহান রবের নিদর্শন
বিসমিল্লাহ নামে শুরু হোক
কবিতার শুভ গান,
যাঁর কুদরতে জেগে আছে
বিশ্বজোড়া প্রাণ।
যিনি শূন্যে আকাশ গড়ে
জ্বালিয়েছেন রবি,
তাঁরই নামে খুলুক আজ
কাব্যের সোনাঝরি।
চেয়ে দেখো ধরার পানে,
কত অপরূপ রূপ!
সবুজ ঘাসের মখমল বিছানা,
ফুলের মধুর কূপ।
কে বিছালো যমীনখানি
শয্যার মতো করে?
ক্লান্ত প্রাণের বিশ্রামের তরে
মমতা ভরে ভরে।
কোথাও নদী, কোথাও সাগর,
কোথাও শস্যক্ষেত,
কোথাও বনের সবুজ ছায়া,
কোথাও সোনার রেত।
কোথাও ঝরনা গায় সংগীত,
কোথাও নীরব বন,
কোথাও পাখির কলরবে
মুখর প্রতিক্ষণ।
কোথাও কুসুম সুবাস ছড়ায়,
কোথাও ফলের ভার,
কোথাও শিশির ভেজা প্রভাত,
কোথাও রঙিন ধার।
এই ধরিত্রী মায়ের মতো
বুকটি মেলে রয়,
অন্ন, পানি, বায়ু দিয়ে
জীবনভরা সয়।
এ মাটিতেই প্রথম কাঁদি,
এ মাটিতেই হাঁটি,
এ মাটিতেই সুখের হাসি,
এ মাটিতেই ঘাটি।
এ মাটিতেই বীজটি ফোটে,
সবুজ অঙ্কুর দোলে,
এ মাটিতেই সোনার ধান
হাওয়ার তালে তালে।
এ মাটিতেই গড়ে ওঠে
ঘর, জনপদ, দেশ,
এ মাটিতেই লিখে মানুষ
সভ্যতার পরিবেশ।
কিন্তু বলো, এই বিস্ময়
কার মহান দান?
নিজে কি পারে মাটি গড়তে
জীবনেরই গান?
না, এ সবই মহান রবের
অশেষ কুদরত,
প্রতিটি ধূলিকণা বহে
তাঁরই মহিমার রত্ন।
ধরার বুকে যত সৌন্দর্য,
যত শান্তির ছায়া,
সবই যেন ঘোষণা করে—
"একই প্রভুর মায়া।"
তাই হে মানুষ, ভুলো না আর
স্রষ্টার অপার দান,
যে ধরাকে শয্যা বানালেন,
তাঁরই গাও গান।
কৃতজ্ঞ হৃদয়, শুদ্ধ আমল,
হোক জীবনের সাজ,
ধরার প্রতিটি ধূলিকণায়
রবেরই মহিমা আজ।
৪
৭ মন্তব্য