Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ জুলাই, ২০২৬ ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

"নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।"

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই অমর পঙক্তিতে বর্ষার ঘন মেঘ আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। কবি স্নেহভরে সবাইকে ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব জীবনের সঙ্গে সাহিত্যের এই সৌন্দর্যের একটি পার্থক্য রয়েছে।

জীবন-সংগ্রাম থেমে থাকে না। একজন কৃষককে মাঠে যেতে হয়, জেলেকে নদীতে নামতে হয়, দিনমজুরকে কাজের সন্ধানে বের হতে হয়, শিক্ষককে বিদ্যালয়ে যেতে হয়, চিকিৎসককে রোগীর পাশে দাঁড়াতে হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিদ্যুৎকর্মী, সংবাদকর্মীসহ অসংখ্য মানুষকে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। কারণ তাদের একদিনের বিরতি অনেক সময় পরিবারের খাবার, মানুষের সেবা কিংবা সমাজের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে।

তাই বাস্তবতা হলো—সবাই ঘরে থাকতে পারে না। তবে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজন হলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে বাইরে বের হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রকৃতির প্রতি সম্মান, জীবিকার প্রতি দায়িত্ব এবং নিজের নিরাপত্তা—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রবীন্দ্রনাথের আহ্বান আজও প্রাসঙ্গিক; তবে জীবন-সংগ্রামের বাস্তবতা আমাদের শেখায়, প্রয়োজনের তাগিদে বাইরে বের হলেও সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে হবে আমাদের প্রধান সঙ্গী।

মন্তব্য করুন

ব্লগ