প্রধান শিক্ষক
১২ জুলাই, ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ণ
সরকারি কর্মচারী: চাকরি ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পাবেন না পেনশন সুবিধা
সরকারি কর্মচারী: চাকরি ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পাবেন না পেনশন সুবিধা
নথিপত্র থেকে জানা যায়, সহকারী বিচারক হিসেবে ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের জুডিসিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন মাহবুব মোরশেদ। সার্ভিসের ১৯ বছর পূর্ণ করে ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ জানুয়ারি মাহবুব মোরশেদ স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র দেন, তখন তিনি অতিরিক্ত জেলা জজ। সার্ভিসের ১৯ বছর হিসাবে ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক মঞ্জুরের জন্য ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি।
এর ধারাবাহিকতায় প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে আগের চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত (যত দিন চাকরিতে ছিলেন) হবে। অর্থাৎ পেনশনের জন্য তা গণনাযোগ্য হবে না (বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০ সেকশন-৩)। পেনশনারের (মাহবুব মোরশেদ) চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়নি। তিনি ২৫ বছর পূর্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে পেনশনের জন্য কোনো আবেদন করেননি বলে পেনশনপ্রাপ্ত নন (১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের গণকর্মচারী অবসর আইনের ৯ ধারা)।
এ অবস্থায় বিধি-৩০০ এবং ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জে করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ মার্চ রায় দেন। রায়ে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চের ওই চিঠি আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে চাকরির মেয়াদ অনুসারে মাহবুব মোরশেদের পেনশনসহ অন্যান্য বকেয়া সুবিধা গণনা ও মঞ্জুর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ অক্টোবর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ চলমান রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
১৩
১৫ মন্তব্য