Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ

স্বপ্ন: যে জাগিয়ে রাখে -মোঃ মুজিবুর রহমান


স্বপ্ন: যে জাগিয়ে রাখে

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

স্বপ্ন মানে চোখ বুজে দেখা ক্ষণিক রঙিন ছবি নয়,
স্বপ্ন মানে অন্তরজুড়ে জেগে থাকা দীপ্ত পরিচয়।
স্বপ্ন মানে লক্ষ্যে পৌঁছার অদম্য দৃঢ় অঙ্গীকার,
অন্ধকারে প্রদীপ হয়ে পথ দেখানো অমল জ্যোতির্ধার।

স্বপ্ন মানে ভোরের আগে জেগে ওঠা প্রত্যয়ের গান,
শত বাধার বুক চিরে এগিয়ে যাওয়ার দুর্জয় প্রাণ।
স্বপ্ন মানে ক্লান্তিকে হার মানিয়ে জয়ের পথে চলা,
পরিশ্রমের প্রতিটি ফোঁটা মুক্তোর মতো সঞ্চয় করা।

যে স্বপ্ন শুধু নিদ্রার দেশে ভেসে আসে ক্ষণিক ভ্রমে,
জাগরণে যার কোনো আলো থাকে না কর্মের সম্মুখে
সে তো কেবল মেঘের ভেলায় আঁকা রঙিন কল্পলোক,
বাস্তবতার কঠিন মাটিতে যার নেই কোনো সুখের শোক।

সত্য স্বপ্ন সেই, যে স্বপ্ন বুকের ভেতর আগুন জ্বালে,
অলসতার শিকল ভেঙে সাহসীকে কর্মে ডাকে।
যে স্বপ্ন বলে—“আজই শুরু, কাল নয় আর, এই মুহূর্ত,”
সে- মানুষকে গড়ে তোলে সাফল্যের অমোঘ সেতু।

নদী যেমন সাগর খোঁজে থেমে থাকে না কোনো ক্ষণে,
সূর্য যেমন আলো বিলায় প্রতিদিনই নব প্রাণে;
স্বপ্নবানও তেমনি চলে লক্ষ্যে পৌঁছার অবিরাম,
ঝড়-বৃষ্টি আর দুঃখস্রোতে অটল থাকে তারই নাম।

শিখর ডাকে, আকাশ ডাকে, ডাকে সীমাহীন সম্ভাবনা,
পরিশ্রমই খুলে দেয় সব সাফল্যের সোনার জানালা।
যে হৃদয়ে বিশ্বাস থাকে, থাকে ধৈর্য, থাকে সাধনা,
তারই হাতে ফুটে ওঠে জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা।

ব্যর্থতা কি পথের শেষ?—না, সে তো শিক্ষা নতুন করে,
হোঁচট খেয়ে উঠে দাঁড়ায় বিজয়ীরা দৃঢ় ঘোরে।
ঝরে পড়া পাতার মতো হার মানিলে বৃথা জীবন,
ফিনিক্স-পাখি শেখায় আবার আগুন পেরিয়ে নব উদয়।

বীজটি যদি মাটির তলে অন্ধকারে না হারাত,
সবুজ হয়ে বৃক্ষরূপে পৃথিবীকে কী- বা দিত?
কষ্ট তাই সবসময়ই দুর্ভাগ্যের অন্য নাম নয়,
সহ্যশক্তির পরীক্ষাতেই মানুষের মহিমা গড়ে রয়।

ছাত্র যদি বইকে বন্ধু, সময়কে করে আপনজন,
অধ্যবসায় সাথি হলে উজ্জ্বল হবে ভবিষ্যৎক্ষণ।
শিক্ষক যদি আলোর মশাল সত্য-জ্ঞানেই জ্বালিয়ে যান,
সমাজজুড়ে প্রস্ফুটিত হয় সভ্যতারই নতুন গান।

কৃষকেরও স্বপ্ন থাকে সোনালি ধানের ঢেউয়ে ভরা,
শ্রমিক দেখে ঘামে লেখা আগামী দিনের সূর্যোদয় ধরা।
চিকিৎসক চান সুস্থ জীবন, বিজ্ঞানী চান নতুন ভোর,
প্রকৌশলী গড়েন সেতু, শিল্পী আঁকেন রঙিন ঘোর।

যে তরুণের চোখে থাকে দেশগড়ার মহান শপথ,
তারই হাতে জাগে একদিন ইতিহাসের নব রথ।
যে তরুণীর দৃপ্ত পদে আত্মবিশ্বাস দীপ্যমান,
তারই সাহস আলোকিত করে জাতির গৌরব-অভিযান।

দেশ গড়ে শুধু ইট-পাথরে নয়, গড়ে চরিত্র, জ্ঞান,
সততা আর দায়িত্ববোধেই রচিত হয় উন্নয়ন।
স্বপ্ন যখন মানুষের হয় মানুষেরই কল্যাণে,
সেই স্বপ্নের দীপ্ত শিখা যুগে যুগে জ্বলে প্রাণে।

লোভের কাছে মাথা নত নয়, সত্য হোক জীবনের মান,
অন্যায় দেখে নীরব না থেকে জাগুক ন্যায়ের আহ্বান।
স্বপ্ন যদি কেবল নিজের সুখের সীমায় বন্দী রয়,
তবে সে স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে মানবধর্ম ভুলে যায়।

যে স্বপ্নে আছে মানবসেবা, করুণা আর ভালোবাসা,
সে স্বপ্নই পৃথিবীজুড়ে শান্তির বীজ বুনে ভাসা।
হৃদয় যদি নির্মল থাকে, কর্ম যদি হয় উদার,
মানুষ তখন মানুষ হয়, আলোকিত হয় সংসার।

স্বপ্ন মানে দিগন্ত ছোঁয়া, কিন্তু পা থাক মাটির টানে,
বিনয় থাকুক হৃদয়ভরা সাফল্যেরও প্রতিক্ষণে।
উচ্চ শিখরে উঠেও যেন ভুলি না কোনো শেকড়তল,
ফলভারে যে বৃক্ষ নত, সেই তো সত্য মহিমাময়।

অহংকারে জয় ম্লান হয়, বিনয়ে জয় দীপ্তিমান,
শ্রদ্ধা, শিষ্টতা, সৌজন্যেই প্রসারিত হয় মানুষের প্রাণ।
স্বপ্ন তাই চরিত্র ছাড়া পূর্ণতার পথ খুঁজে না,
সৎগুণহীন সাফল্য কভু ইতিহাসে স্থান পায় না।

রাত্রি যতই দীর্ঘ হোক, ভোরের আলো আসবেই,
ধৈর্যধারী পরিশ্রমীর হাতে জয় ধরা দিতেই।
পাহাড় যতই অটল হোক, নদী পথ খুঁজে নেয়,
অবিরাম যে চেষ্টা করে, সাফল্য তার দোরে চায়।

আজ যে শিশু স্বপ্ন দেখে জ্ঞানের আলো হাতে নিয়ে,
আগামীর সে বিজ্ঞানী হবে বিশ্বমানব গড়ে দিয়ে।
আজ যে কিশোর সত্য আঁকড়ে এগিয়ে চলে দৃপ্ত মনে,
আগামীকাল নেতৃত্ব দেবে সভ্যতারই অগ্রগমনে।

তাই এসো আজ শপথ করিস্বপ্ন হবে কর্মময়,
অলসতার সব দুয়ার আজ চিরতরে করি ক্ষয়।
ভয় নয় আর, হতাশা নয়, সাহস হবে পথের সাথি,
সততা হবে জীবনেরই অনিঃশেষ দীপশিখাটি।

স্বপ্ন হবে জ্ঞানের সাধনা, স্বপ্ন হবে মানবপ্রেম,
স্বপ্ন হবে দেশ বিশ্বের কল্যাণময় শুভ হেম।
স্বপ্ন হবে সত্যের পথে অবিচল এক দীপ্ত ডানা,
স্বপ্ন হবে জীবনেরই শ্রেষ্ঠ সাধনা, শ্রেষ্ঠ গাথা।

স্বপ্ন সেই, যা মানুষকে জাগিয়ে রাখে,
যা অলসতাকে পরাজিত করে কর্মে আহ্বান জানায়।
স্বপ্ন সেই, যা চরিত্রকে মহান করে,
পরিশ্রমকে আনন্দে রূপান্তরিত করে।
স্বপ্ন সেই, যা একজন মানুষকে শুধু সফলই নয়
সৎ, বিনয়ী, দায়িত্বশীল এবং মানবকল্যাণে নিবেদিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

তাই স্বপ্ন দেখোকিন্তু জেগে থেকে।
লক্ষ্য স্থির করোকিন্তু কর্মে প্রমাণ দাও।
সাফল্য কামনা করোকিন্তু সততাকে সঙ্গী করে।
কারণ সত্যিকার স্বপ্ন কখনো ঘুমিয়ে থাকে না;
সে মানুষকে জাগায়, গড়ে তোলে, এবং একদিন ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখে।

***

স্বপ্ন: যে জাগিয়ে রাখে

যে স্বপ্ন কেবল নিদ্রার দেশে রঙিন মেঘের ভেলা,
জাগরণের প্রখর রোদে হারায় তারই মেলা।
সে স্বপ্ন ক্ষণিক মরীচিকা, অলীক কল্পনার ছায়া,
বাস্তবতার কঠিন প্রান্তে যার নেই কোনো মায়া।

সত্য স্বপ্ন জাগে অন্তরে অগ্নিশিখার মতো,
অবিরাম ডাকে কর্মপথে দুর্বার অঙ্গীকারে শত।
সে বলে—“থেমো না পথিক, দূর গগনে আলো জ্বলে;
দুঃসহ রাতের অন্তরালে নব প্রভাতই দোলে।

স্বপ্ন মানে জেগে থাকা প্রত্যয়ের অবিচল দীপ,
দুর্যোগ-ঝড়ে অম্লান থাকা সাহসের অনন্ত নীপ।
স্বপ্ন মানে কণ্টকাকীর্ণ পথের রক্তাক্ত পদচিহ্ন,
অধ্যবসায়ের প্রতিটি ক্ষণ ভবিষ্যতের পুণ্যবীজ বপন।

ভোরের আগে যে পাখিটি ডাকে অদৃশ্য আলোর টানে,
তারই সুরে জেগে ওঠে আশা মানুষের প্রাণে।
অরুণোদয়ের প্রথম কিরণ যেমন আঁধার ভাঙে,
স্বপ্ন তেমনি হৃদয়মাঝে সম্ভাবনার শঙ্খ বাজায় রাঙে।

পাহাড় বলে—“উঠে এসো, উচ্চতাই জীবনের গান;
সাগর ডাকে—“গভীরতায় খুঁজে নাও আত্মপরিচয় জ্ঞান।
আকাশ বলে—“ডানা মেলো, সীমারেখা ভেঙে যাও;
পৃথিবী বলে—“শিকড় রেখে শিখর ছুঁয়ে ফিরে চাও।

যে তরুণের চোখে থাকে নির্মল আগামী দিনের ছবি,
তারই হাতে রচিত হয় সভ্যতার নতুন কবি।
যে কিশোরীর হৃদয় ভরা জ্ঞান, সাহস আর শুদ্ধতায়,
তারই পদচিহ্ন একদিন ইতিহাসের পথে যায়।

ফুল ফুটিতে কাঁটা সয়, মুক্তা গড়ে সাগরতলে,
সোনা খাঁটি হয় অগ্নিতে, দীপ জ্বলে আপন জ্বলে।
বীজটি আগে মাটির বুকে নিভৃত অন্ধকারে রয়,
তারপরই সে মহীরুহে পৃথিবীজুড়ে ছায়া ছড়ায়।

ব্যর্থতা কোনো পরাজয় নয়জয়ের প্রথম পাঠ,
হোঁচট খেয়ে উঠতে জানাই মানুষের আসল ঠাঁট।
যে পড়ে গিয়ে আবার ওঠে, দৃঢ় করে আপন প্রাণ,
তারই নামে ইতিহাসে জ্বলে অমর সম্মান।

অলসতা এক নীরব শত্রু, স্বপ্নহন্তা বিষের ঢেউ,
সময় কিন্তু থামে না কভু, চলে আপন গতির ঢেউ।
যে মুহূর্ত আজ হারাবে, ফিরবে না সে আর কখনো,
অতএব আজই শুরু হোক কর্মের পবিত্র যজ্ঞ।

জ্ঞান যদি হয় দীপশিখা, চরিত্র তার দীপাধার,
সততা তার নির্মল তেল, মানবতা তার অলংকার।
বিনয় যেথায় হৃদয় ভরে, অহংকার সেথা ম্লান,
সেবার মাঝে মানুষ খুঁজে আপন জীবনের সম্মান।

স্বপ্ন যদি কেবল নিজের সুখের সীমানায় রয়,
তবে সে স্বপ্ন পূর্ণ হলেও মানবতার জয় না হয়।
যে স্বপ্নে আছে সকল প্রাণের কল্যাণময় ডাক,
সেই স্বপ্নেই জাগে যুগে যুগে শান্তির অনির্বাণ ফাঁক।

শিক্ষক জ্বালেন জ্ঞানের প্রদীপ, ছাত্র বহে তারই আলো,
কৃষক বোনেন সোনার ফসল, শ্রমিক গড়েন দেশের ভালো।
বিজ্ঞানীর স্বপ্নে নব আবিষ্কার, চিকিৎসকের আরোগ্যদান,
প্রত্যেক সৎকর্ম মিলিয়েই গড়ে উন্নত মানবসভ্যতার প্রাণ।

এসো তবে আজশপথ করিস্বপ্ন হবে কর্মময়,
জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর অধ্যবসায় জীবনের হোক পরিচয়।
অসত্য, ভয়, হতাশাকে করব আমরা দূর পরাজিত,
সত্য, ন্যায় আর মানবপ্রেমে হব চির সমুজ্জ্বল দীপ্ত।

ঘুমের স্বপ্ন ভোরের আলোয় মিলিয়ে যায় নীরবতায়,
জাগ্রত স্বপ্ন যুগের পরে যুগ বেঁচে থাকে কর্মগাথায়।
যে স্বপ্ন মানুষকে মানুষ করে, দেশকে দেয় নতুন মান,
সেই স্বপ্নই চিরঅম্লানসেই স্বপ্নেই জীবনের জয়গান।

স্বপ্ন দেখোকিন্তু সে স্বপ্ন হোক জাগ্রত বিবেকের।
স্বপ্ন দেখোকিন্তু সে স্বপ্ন হোক অধ্যবসায়ের।
স্বপ্ন দেখোকিন্তু সে স্বপ্ন হোক মানবকল্যাণের।
স্বপ্ন দেখোকারণ সত্যিকার স্বপ্ন মানুষকে ঘুম পাড়ায় না;
সে মানুষকে জাগায়, গড়ে তোলে, কর্মে উদ্বুদ্ধ করে,
আর একদিন ইতিহাসের বুকে অমরত্বের দীপ জ্বালায়।

***

স্বপ্ন: যে জাগিয়ে রাখে

স্বপ্ন নয় সে, নয়নপাতে নিদ্রার ক্ষণিক ছায়া,
স্বপ্ন নয় সে, মেঘের ভেলায় ভাসমান মিথ্যা মায়া।
স্বপ্ন সে-, জাগ্রত প্রাণে যে জ্বালে অগ্নিশিখা,
যারই ডাকে জীবন খুঁজে কর্মময় দীক্ষা।

স্বপ্ন সে-, অন্ধকারে প্রজ্বলিত দীপশিখা,
ঝঞ্ঝা-তুফান ভেদ করে যে রচে আশার দীক্ষা।
স্বপ্ন সে-, ব্যর্থতার অশ্রুজলে স্নাত,
তবু যারই প্রত্যয়ে জাগে বিজয়েরই প্রভাত।

ঘুমের ভেতর দেখা ছবি মিলিয়ে যায় ভোরে,
জাগ্রত স্বপ্ন বেঁচে থাকে যুগে যুগান্তরে।
যে স্বপ্নে আছে সাধনা, ত্যাগ, শ্রম আর জ্ঞান,
সেই স্বপ্নেই প্রস্ফুটিত হয় মানুষের সম্মান।

যে হৃদয়ে লক্ষ্যের জন্য অগ্নি জ্বলে নীরব,
অলসতা তার শত্রু হয়, সময় হয় সখা নির্ভর।
প্রতিটি নিশ্বাস বলে তাকে—“এগিয়ে যাও অবিরাম,
স্বপ্ন তখন রচনা করে ইতিহাসের নাম।

যখন পূর্ব আকাশ ভরে অরুণিমার হাসি,
যখন পাখির কণ্ঠে বাজে নতুন দিনের বাঁশি,
যখন শিশিরভেজা ঘাসে সূর্যকিরণ নামে,
তখনই স্বপ্ন জন্ম নেয় কর্মমুখর প্রাণে।

শিশুর প্রথম বিস্ময়ভরা নির্মল দুটি চোখে,
স্বপ্ন এসে রঙ ছড়ায় নীলিমাভরা আলোকে।
মায়ের স্নেহ, পিতার বাণী, শিক্ষকের উপদেশ,
সেই স্বপ্নের প্রথম বীজ বপন করে অবশেষ।

ক্ষুদ্র বীজে যেমন লুকায় অরণ্যেরই ডাক,
ক্ষুদ্র স্বপ্নেও লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের পাখ।
যে তাকে করে সযতনে লালন দিনের পর দিন,
তারই কপালে লিখে যায় মহিমাময় ঋণ।

স্বপ্ন বলে—“জ্ঞান অর্জন করো অবিরাম সাধনায়,
সত্যকে ভালোবাসো সদা চরিত্রেরই মহিমায়।
লোভের কাছে নত হয়ো না, অন্যায়ের কাছে নয়,
সত্যের পথে দৃঢ় থাকাই মানুষের পরম জয়।

স্বপ্ন বলে—“সময় তোমার অমূল্য রতনখানি,
প্রতিটি ক্ষণই রচনা করে জীবনেরই বাণী।
যে সময়কে সম্মান করে, সময় তাকে মান,
সাফল্যের শিখরপানে বাড়ায় তারই প্রাণ।

নদী যেমন থেমে থাকে না পাথরেরই বাধায়,
স্বপ্নবানও থামে না কভু বিপদ-আপদে কাঁদায়।
ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়েও সে রাখে অটল পণ
পরিশ্রমেই ফুটবে একদিন বিজয়েরই কুসুম।

পাহাড় বলে—“আরও ওপরে, আরও দূরে যাও,
সাগর বলে—“গভীরতাকে হৃদয়মাঝে পাও।
আকাশ ডাকে—“ডানা মেলো, সীমারেখা ভাঙো,
পৃথিবী বলে—“মানুষ হয়ে মানুষেরই সঙ্গ নাও।

হে তরুণ, হে আলোর সন্তান, ভয়কে করো জয়,
অধ্যবসায়ই মানুষকে মহিমার পথে লয়।
জ্ঞান হোক তোমার অলংকার, সততা হোক বল,
স্বপ্ন হোক মানবকল্যাণে নিবেদিত অনল।

আজকের ঘামই আগামী দিনের সোনালি ফসল আনে,
আজকের ত্যাগই আগামী দিনের সম্মান হয়ে টানে।
যে আজ জাগে লক্ষ্যের তরে, ক্লান্তিকে করে তুচ্ছ,
তারই নামে ইতিহাস লেখে গৌরবগাথা অম্লান, অক্ষয়, অক্ষুণ্ণ।

 

মন্তব্য করুন