সহকারী অধ্যাপক
১৩ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
অভিভাবক হিসেবে আল্লাহকেই গ্রহণ করব - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
অভিভাবক হিসেবে আল্লাহকেই গ্রহণ করব
(সূরা আল-মুয্যাম্মিল:৯–১০-এর ভাবানুসারে)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
পূর্বাকাশে সূর্য ওঠে, পশ্চিমে নামে ধীরে,
একই রবের শাসন চলে বিশ্বলোকের নীড়ে।
দিনের আলো, রাতের তারা, সাগর, বন আর পর্বত,
সবাই গেয়ে চলে নীরব স্রষ্টার অমৃত-স্তুতিগীত।
তিনি একক, তিনি চিরন্তন, তিনি মহান রব,
তাঁরই হাতে জীবন-মরণ, তাঁরই বিধান সব।
তাঁকে ছাড়া সত্য উপাস্য কোথাও নেই আর,
তাঁরই নামে শান্তি মেলে হৃদয়ের অন্তঃসার।
যে তাঁকেই আপন ভরসা করে জীবনের প্রতিক্ষণ,
ঝড়ের মুখেও অটল থাকে তার বিশ্বাসের মন।
মানুষ ভাঙে, মানুষ বদলায়, বদলায় দুনিয়ার রঙ,
রবের দয়া অটুট থাকে যুগে যুগে অনন্ত সঙ্গ।
তাই হে মন, মানুষের নয়—রবের দিকেই চাও,
সমস্ত আশা তাঁরই হাতে নির্ভয়ে সমর্পাও।
সকল কর্ম, সকল চিন্তা, সকল জীবনের পথ,
তাঁরই উপর ন্যস্ত হলে দূর হয় ভয় ও শঙ্কার রথ।
মানুষ বলবে নানা কথা, তির্যক হবে ভাষা,
কখনো হিংসা, কখনো বিদ্বেষ, কখনো মিথ্যা আশা।
অকারণে দেবে অপবাদ, বিদ্ধ করবে প্রাণ,
তবু মুমিন হারায় না তার ধৈর্যের সম্মান।
ধৈর্য মানে দুর্বল হওয়া—এ কথা মোটেও নয়,
ধৈর্য মানে সত্যের পথে অটল থাকার জয়।
যে ক্রোধকে সংযত করে ন্যায়কে রাখে বুকে,
আল্লাহ তার মর্যাদা দেন আপন রহমতের সুখে।
কঠোর বাক্য ফিরিয়ে দিতে কঠোর বাক্য নয়,
উত্তম ভাষাই মুমিন হৃদয় সর্বদা বেছে লয়।
অমার্জিতের উত্তরে সে ভদ্রতারই ফুল,
এমন চরিত্রেই ফুটে ওঠে ঈমানের মূল।
যে তোমাকে কষ্ট দিয়েছে, করুক না সে ক্ষতি,
তুমি যেন না হারাও কখনও চরিত্রের গতি।
অন্যায়ের সাথে আপস নয়, নয় প্রতিহিংসার আগুন,
ন্যায়ের পথে দৃঢ় থেকেও থাকুক নম্রতা অগুণ।
সৌজন্যের অর্থ কিন্তু অন্যায়কে মানা নয়,
সত্যকে ছেড়ে মিথ্যার কাছে মাথা নত করা নয়।
সৌজন্য মানে ভদ্র ভাষায় দূরে সরে থাকা,
অকারণ বিরোধ এড়িয়ে সত্যের আলো রাখা।
যেখানে শুধু বিদ্বেষ জাগে, কলহ বাড়ায় মন,
সেখানে নীরব প্রস্থানও হতে পারে প্রজ্ঞাপন।
সব কথারই উত্তর দিতে হয় না প্রতিবার,
নীরবতাও কখনো কখনো সত্যের অলংকার।
অহংকারের উচ্চ মিনার একদিন হবে ধূলি,
ক্ষমাশীলের বিনয়-ফুলে ফুটবে অনন্ত কুলি।
ক্রোধের আগুন মুহূর্তে সব পুড়িয়ে দিতে চায়,
ক্ষমার শিশির নেমে এসে হৃদয় শীতলায়।
যে নিজেকে জয় করেছে, জয় করেছে ক্রোধ,
সে-ই তো সত্য বীরের মতো করেছে আত্মবোধ।
অস্ত্র হাতে যুদ্ধ জেতা বড় কৃতিত্ব নয়,
নিজের নফস দমন করাই শ্রেষ্ঠ বিজয়ময়।
দুনিয়া ক্ষণিক, কথা ক্ষণিক, ক্ষণিক সুখের ঢেউ,
স্থায়ী শুধু সৎকর্ম আর আল্লাহর দেওয়া ঢেউ।
মানুষ যদি নিন্দা করে সত্যের পথের তরে,
সেই নিন্দাও সাক্ষী হবে পরকালের ঘরে।
আজ যে গালি দেয়, কাল সে-ই হয়তো হবে লাজুক,
সুন্দর আচরণ বদলে দিতে পারে কঠিন মানুষকেও।
একটি হাসি, একটি ক্ষমা, একটি কোমল বাণী,
অন্ধকারের বুক চিরে জ্বালে আশার প্রদীপখানি।
পরিবারে, সমাজজুড়ে, কর্মের প্রতিক্ষণে,
সৌজন্যই হোক পরিচয় প্রতিটি আচরণে।
শিক্ষক হোন, শ্রমিক হোন, কৃষক কিংবা জ্ঞানী,
ভদ্রতারই অলংকারে হোক সবার জীবনখানি।
ধর্মের দাওয়াত রূঢ়তায় নয়, আসে মমতার সুরে,
শিষ্টতারই সুবাস ভেসে পৌঁছে হৃদয়পুরে।
সত্যের বাণী বলতেই হবে, কিন্তু বলার রীতি,
করুণা মিশে কোমল হলে বাড়ে তারই প্রীতি।
যে মানুষটি আজ বিরোধী, কাল সে-ই হতে পারে,
সত্যের পথে অনুতপ্ত এক বিনয়ী সহচরে।
তাই বিদ্বেষের দেয়াল গড়ে বন্ধ কোরো না দ্বার,
মানুষ বদলায় আল্লাহরই অশেষ অনুগ্রহে বারবার।
হে হৃদয়, তুই শিখে নে আজ আসমানের পাঠ,
রবের উপর ভরসা রাখ, সত্যের উপর ঠাঁই।
নিন্দার কাঁটা ফুটুক যদি পথের প্রতিটি ধূলায়,
ধৈর্যের ফুল ফুটিয়ে দে চরিত্রেরই বেলায়।
পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ, দিগন্ত যত দূর,
সবখানেই এক রবেরই অপরূপ নূর।
তাঁরই নামে শুরু হোক প্রতিটি শুভ কাজ,
তাঁরই উপর নির্ভরতায় কাটুক জীবনের সাজ।
যে রব দেন রিজিক, জীবন, দেনই শান্তির দান,
তাঁরই উপর ছেড়ে দাও সব হিসাব-নিকাশখান।
মানুষ যদি ভুলও বোঝে, রব তো জানেন সব,
তাঁরই বিচারে প্রতিষ্ঠিত হবে সত্যের রব।
এসো তবে প্রতিজ্ঞা করি অন্তরের গভীরে—
মিথ্যার মুখে সত্য বলব নম্রতারই নীড়ে।
অপমানে হার মানব না, ক্রোধে হব না ক্ষয়,
ধৈর্য, প্রজ্ঞা, সৌজন্যেই খুঁজে নেব বিজয়।
পূর্বের সূর্য, পশ্চিমের গোধূলি,
একই রবের অনন্ত লীলা খুলে দেয় জীবনকূলি।
তাঁকেই করি কর্মের ভরসা, তাঁকেই জীবনের আলো,
ধৈর্য আর সৌজন্যের পথেই ফুটুক মানবভালো।
হে পরম রব!
আমাদের অন্তরে অটল তাওয়াক্কুল দান করুন,
অপমানে ধৈর্য, বিরোধে প্রজ্ঞা, আচরণে সৌজন্য,
সত্যে অবিচলতা এবং চরিত্রে উত্তম আদর্শ দান করুন।
আমাদের কথা, কর্ম ও চরিত্রকে এমন সুন্দর করুন,
যাতে মানুষের কল্যাণ হয় এবং আপনার সন্তুষ্টিই হয় আমাদের জীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি।
আমীন।
***
পূর্বে যিনি সূর্য তোলেন, পশ্চিমে দেন ঢালি,
তাঁরই নামে জাগে সকাল, সন্ধ্যা নামে খালি।
আকাশজোড়া নক্ষত্রমালা, চাঁদের শুভ্র হাসি,
তাঁরই ইশারায় রঙিন হয় সৃষ্টির প্রতিটি বাঁশি।
তিনি একক, তিনি চির, তিনি অনন্ত নূর,
তাঁরই কুদরতে ভাসে ধরা, দিগন্ত অতি দূর।
পাহাড় মাথা নত করে, সাগর গায় গান,
তাঁরই হুকুমে বয়ে চলে জীবন-অবিরাম।
তাঁরই হাতে জন্মলেখা, মৃত্যুরও আয়োজন,
তাঁরই বিধান ঘিরে থাকে বিশ্বজগতের মন।
তাঁকে ছাড়া সত্য ইলাহ নেই কোথাও আর,
তাঁরই নামে শান্তি পায় ব্যাকুল অন্তর।
যে তাঁকেই কর্মের ভার সমর্পণ করে দেয়,
তার হৃদয়ে ভয় থাকে না, আশা নিভে না কভু হায়।
ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রাত এলেও ভাঙে না তার প্রাণ,
তাওয়াক্কুলের দীপ জ্বেলে রাখে অবিচল জ্ঞান।
মানুষ আসে, মানুষ যায়, বদলায় কালের রূপ,
রবের রহমত অম্লান থাকে, অক্ষয় তাঁর ধূপ।
ক্ষমতার সব সিংহাসন একদিন হবে ক্ষয়,
আল্লাহরই রাজত্ব শুধু অনাদি-অনন্তময়।
হে মানব, কেন দৌড়াও ক্ষণিক মরীচিকায়?
সত্যের সুধা প্রবাহিত হয় রবের পরিচয়ায়।
যে তাঁর দ্বারে মাথা নোয়ায়, সে-ই হয় ধনী,
তার হৃদয়ের শূন্যভাণ্ডার ভরে ওঠে ধ্বনি।
ধন নয়, মান নয়, নয় কীর্তির অহংকার,
তাঁর সন্তুষ্টিই মুমিনের সর্বোচ্চ অলংকার।
যে হৃদয়ে তাওহীদের দীপ জ্বলে দিবানিশি,
সেই হৃদয়েই নেমে আসে প্রশান্তির পরশরশ্মি।
মানুষ বলবে নানা কথা—বিদ্রূপ, তিরস্কার,
মিথ্যা অপবাদে ভরাবে জীবনের অঙ্গনভার।
তবু তুমি সত্যের পথে অটল হয়ে চলো,
অন্ধকারে দীপের মতো নীরবে আলো জ্বালো।
ধৈর্য কখনো ভীরুতা নয়, নয় দুর্বল প্রাণ,
ধৈর্য মানে সত্যরথে অচঞ্চল অভিযান।
যে ক্রোধকে বশে রাখে রবের সন্তোষে,
তার মর্যাদা আকাশ ছুঁয়ে চিরকল্যাণে ভাসে।
অপমানের উত্তরে যদি অপমানই দাও,
তবে পার্থক্য কোথায় রইল—একবার ভেবে চাও।
উত্তম বাণী সুবাস হয়ে ছড়িয়ে যাক প্রাণে,
সৌজন্যের সেই ভাষাই জয়ের মুকুট আনে।
যে তোমাকে আঘাত দিল, তুমি হয়ো না কঠোর,
ক্ষমার জলে ধুয়ে ফেলো অন্তরের সব ঘোর।
ন্যায়ের পথে দৃঢ় থেকো, আপস করো না কভু,
তবু আচরণ হোক তোমার নির্মল ভোরের প্রভু।
সৌজন্য মানে সত্য ত্যাগ নয়, নয় ভীরু পলায়ন,
সৌজন্য মানে চরিত্ররক্ষা, প্রজ্ঞার মহাযান।
যেখানে শুধু বিদ্বেষ জাগে, বাড়ে কলহ-রোষ,
সেখানে নীরব প্রস্থানও জ্ঞানের শুভ ঘোষ।
সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কর্তব্য নয় সবখান,
কখনো নীরবতাই হয়ে ওঠে প্রজ্ঞার সম্মান।
যে বাক্য শুধু আগুন জ্বালে, বাড়ায় বিভেদরেখা,
সেই বাক্যকে ছেড়ে দেওয়াই শ্রেষ্ঠ শিক্ষার দেখা।
নবীজনের জীবনভরা এই তো মহান পাঠ—
সত্যে দৃঢ়, আচরণে কোমল, ধৈর্যে অটল ঠাঁট।
বিদ্বেষ এলেও বিদ্বেষে তাঁরা দেননি প্রতিদান,
করুণাতেই জয় করেছেন মানুষের অন্তঃপ্রাণ।
হে হৃদয়, শিখে নাও আজ আসমানের বাণী,
রবের ওপর নির্ভর করো, তিনিই পরম ধনী।
পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ—যেদিকে দাও দৃষ্টি,
সর্বত্র জ্বলে তাঁরই কুদরতের অপার মহাসৃষ্টি।
এসো তবে প্রতিজ্ঞা করি অন্তরের গভীরে,
সত্যের দীপ জ্বালব সদা মানবতার নীড়ে।
ধৈর্য হবে শক্তির ভাষা, সৌজন্য হবে ঢাল,
রবের পথে চলব মোরা অবিচল অবিকল।
তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের রব, তিনিই আশ্রয়দান,
তাঁরই নামে শুরু হোক জীবনের প্রতিজ্ঞান।
মানুষ যা-ই বলুক না কেন, সত্যপথে থাকি,
রবের সন্তোষ অর্জনেই জীবনের সব ফাঁকি।
হে পরম করুণাময়,
আমাদের অন্তরে তাওহীদের আলো জ্বালিয়ে রাখুন।
অপমানে ধৈর্য, বিরোধে প্রজ্ঞা, আচরণে সৌজন্য,
কর্মে তাওয়াক্কুল এবং সত্যে অবিচলতা দান করুন।
আমাদের জীবন হোক আপনার সন্তুষ্টির পথে নিবেদিত।
আমীন।
৬
৬ মন্তব্য