সহকারী অধ্যাপক
১৩ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ
জীবনের শস্য, মৃত্যুর পর ফসল - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
জীবনের শস্য, মৃত্যুর পর ফসল
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
জীবন এক অমূল্য আমানত,
প্রভুর দেওয়া নির্মল দান;
শ্বাসে শ্বাসে লেখা হয় এখানে
ভবিষ্যতের অনন্ত গান।
সকালের সূর্য, সন্ধ্যার তারা,
দিনের শেষে রাতের ডাক—
সবই যেন নীরব ভাষায়
বলে যায় জীবনের হাক।
আজ যে পথে হেঁটে চলেছি,
কাল সে পথেই ফিরব না;
সময়ের এই ক্ষণিক সফর
চিরদিন আর রইবে না।
জন্ম যেমন নিশ্চিত সত্য,
মৃত্যুও তেমনি অবধারিত;
এই দুইয়ের মাঝখানে লেখা
মানুষের কর্মের ইতিহাস অম্লান অমরিত।
দুনিয়া কেবল ভোগের মেলা,
অহংকারের রাজপ্রাসাদ নয়;
এ জীবন প্রস্তুতির অঙ্গন,
সফলতার পবিত্র পরিচয়।
প্রচলিত এক ইসলামি প্রজ্ঞাবাক্য
মনে করায় গভীর কথা—
দুনিয়া যেন আখিরাতের শস্যক্ষেত্র,
এখানেই বোনা হয় কর্মের ব্যথা।
যেমন কৃষক যত্নে বোনে
উর্বর ক্ষেতে সোনার ধান,
তেমনি মানুষ কর্ম বুনে
নিজ হাতে লেখে আপন প্রাণ।
যে বপন করে ঈমানের বীজ,
সত্যের আলো, ন্যায়ের ডাল,
ধৈর্য, দয়া, ক্ষমার সুধা—
তারই জীবন হয় মহাকাল।
যে হৃদয়ে তাওহিদের দীপ
অবিরত জ্বলে রাতদিন,
সেই হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন
হয়ে ওঠে অমূল্য ঋণ।
ঈমান শুধু মুখের বুলি নয়,
জীবনের পূর্ণ পরিচয়;
কথায়, কাজে, চরিত্রে যার
সত্যের দীপ্তি অক্ষয়।
সৎকর্ম হলো নির্মল নদী,
তৃষ্ণার্ত প্রাণে আনে জল;
দান, সহানুভূতি, পরোপকার
মানবতাকে করে উজ্জ্বল।
সৎচরিত্র সুবাস ছড়ায়
ফুলের মতো নীরবতায়;
কর্কশ বাক্য নয় কখনো,
ভালোবাসা থাকে কথায়।
উত্তম আচরণ মানুষের
সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকার;
ধন-সম্পদ মুছে যেতে পারে,
থাকে চরিত্র অম্লান অপার।
যে ক্ষমা করে ক্রোধের ক্ষণে,
যে হাসিমুখে দুঃখ সয়,
যে অন্যের সুখে আনন্দ পায়—
সত্যিকার বিজয় তারই হয়।
যে প্রতারণা ত্যাগ করেছে,
অন্যায় পথে হাঁটে না আর,
তার পদচিহ্ন আলোকিত করে
সমাজ, সভ্যতা, সংসার।
মায়ের সেবায় নত যে শির,
বাবার প্রতি অগাধ মান,
শিক্ষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা—
এসবই জীবনের সম্মান।
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো,
ক্ষুধার্ত মুখে তুলে আহার,
অশ্রু মোছার কোমল স্পর্শ—
এসবই সেরা ইবাদত আর।
অহংকারে যত উঁচু হও,
শেষ ঠিকানা একই ধূলি;
ক্ষমতাও একদিন নিভে যাবে,
নিভে যাবে গর্বের জ্যোতি।
সৌন্দর্য ম্লান, যৌবন ক্ষয়,
সম্পদ থাকে অন্য ঘরে;
থেকে যায় শুধু সৎ আমল,
মানুষ যেটি করে ধরে।
মৃত্যু কোনো সমাপ্তি নয়,
নতুন পথের প্রথম দ্বার;
এ জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত
সেই যাত্রার প্রস্তুতিসার।
যে হৃদয়ে ছিল আলোর সাধনা,
যে হাতে ছিল সেবার কাজ,
তার বিদায়ও হয়ে ওঠে
শান্তিময় অনন্ত সাজ।
যে জীবনে ছিল সত্যের দীপ,
মৃত্যুতেও থাকে প্রশান্তি;
সৎকর্ম তখন আলো হয়ে
দূর করে সব ভয়-ভ্রান্তি।
আজ যে বীজ তুমি বপন কর,
আগামীকাল ফল হবে তাই;
অন্যায় বুনে ন্যায়ের আশা
কখনো পূরণ হয় না ভাই।
তাই এসো সবাই শপথ করি,
সত্যের পথে চলব সদা;
মানুষ হব মানুষের তরে,
ভরাব বিশ্ব ভালোবাসায়।
কাউকে দেব না কষ্ট অকারণ,
ঘৃণার আগুন জ্বালাব না;
বিনয়, মমতা, সহমর্মিতায়
মানবতার হাত ছাড়ব না।
জ্ঞান অর্জনে হব সচেষ্ট,
পরিশ্রমে গড়ব পরিচয়;
ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকব,
সেখানেই জীবনের বিজয়।
ঈমান হবে হৃদয়ের আলো,
সৎকাজ হবে দিনের গান;
সৎচরিত্র হবে পরিচয়,
উত্তম আচরণ সম্মান।
জীবন যদি হয় নির্মল,
মৃত্যুও হবে শান্তিময়;
সৎকর্মের সুবাস ছড়িয়ে
মানুষ বেঁচে থাকে অক্ষয়।
আজকের ক্ষুদ্র ভালো কাজই
আগামীর মহৎ সম্পদ;
আজকের সত্য, আজকের দয়া
চিরদিন আনে কল্যাণের স্বাদ।
এসো তবে হাতে হাত রেখে
গড়ি মানবতার নতুন ভোর;
যেখানে সত্য দীপ জ্বালাবে,
অন্যায় হবে চিরতরে দূর।
হে পরম করুণাময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তর করুন পবিত্র,
ঈমানে করুন অটল দৃঢ়,
চরিত্র করুন নির্মল, শুদ্ধ।
সৎকর্মে দিন অবিচল শক্তি,
অন্যায় থেকে রাখুন দূরে;
জীবন হোক কল্যাণময়,
মৃত্যু হোক শান্তির সুরে।
কবরে দিন প্রশান্তির আলো,
হাশরে দিন আপনার ছায়া;
সৎকর্মের উত্তম ফসল দিয়ে
পূর্ণ করুন অনন্ত মায়া।
আপনার সন্তুষ্টিই হোক
আমাদের জীবনের পরম অর্জন;
দুনিয়ার প্রতিটি শুভকর্ম
হোক আখিরাতের চিরসবুজ শস্যভাণ্ডার।
আমীন।
জীবনের বীজ, মৃত্যুর পর ফসল
জীবন মহান রবের অমূল্য দান,
সময়ের বুকে এক ক্ষণিক সফর;
আজকের প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন
আগামীর অনন্ত জীবনের প্রহর।
ভোরের আলো, সন্ধ্যার আভা,
তারার মেলা, চাঁদের হাসি—
সবই যেন নীরব ভাষায়
জীবনের পাঠ করে উদ্ভাসি।
জন্মের সাথে শুরু হয় পথ,
মৃত্যু তার অবধারিত সেতু;
এই দুই প্রান্তের মাঝখানে
লেখা হয় মানুষের কর্মের ঋতু।
কেউ আসে ধন নিয়ে গর্ব করতে,
কেউ আসে ক্ষমতার অহংকারে;
কিন্তু বিদায়ের ক্ষণে সবাই
ফিরে যায় শূন্য দুই হাতে।
থেকে যায় শুধু কর্মের স্মৃতি,
থেকে যায় চরিত্রের আলো;
যে মানুষ ভালোবাসা বিলায়,
তার জীবনই সত্যিকার ভালো।
প্রচলিত এক প্রজ্ঞাবাক্য
গভীর শিক্ষা দিয়ে যায়—
দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র,
যেমন বপন, তেমনই ফল পায়।
কৃষক যেমন উর্বর ক্ষেতে
যত্নে বোনে সোনার ধান,
তেমনি মানুষ প্রতিদিন বোনে
নিজ কর্মের অমর গান।
ঈমান যদি হয় মূলের শক্তি,
সৎকর্ম যদি হয় তার জল,
তাওহিদের আলো, তাকওয়ার সুবাস
ভরিয়ে তোলে জীবনের ফল।
যে হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ,
যে মুখে সত্যের বাণী,
যে হাতে সেবার অর্ঘ্য জাগে,
সে-ই তো মানবতার প্রাণী।
ঈমান কেবল উচ্চারণ নয়,
এ জীবনযাপনের শপথ;
চিন্তা, কর্ম, বাক্য ও আচরণে
সত্যের অবিচল রথ।
সৎকাজ শুধু দানের নাম নয়,
এ ন্যায়ের পথে অবিচল চলা;
অন্যের অধিকারে সম্মান রাখা,
অসহায়কে বুকের ভেতর তোলা।
সৎচরিত্র মানুষের মুকুট,
যা ধনরত্নের চেয়েও মহীয়ান;
বিনয় যার হৃদয়ের ভাষা,
সে-ই প্রকৃত সম্মানবান।
উত্তম আচরণ প্রস্ফুটিত ফুল,
যার সুবাস থাকে চিরদিন;
একটি মধুর বাক্যও পারে
শত ব্যথিত প্রাণ করতে ঋণমুক্ত।
মিথ্যা নয়, সত্য হবে সাথি,
প্রতারণা হবে চিরবিদায়;
ন্যায়ের পথে দৃঢ় পদক্ষেপ
মানবজীবনের মহিমা গায়।
পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা,
শিক্ষকের প্রতি অগাধ মান,
আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীর হক—
এসবেই পূর্ণ মানবপ্রাণ।
এতিম শিশুর অশ্রু মুছিয়ে,
মিসকিনের মুখে তুলে আহার,
রোগীর পাশে স্নেহের হাত,
এগুলোই উত্তম ইবাদতের দ্বার।
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে
একদিন সবাই হবে নীরব;
রাজদণ্ড, ধন, যশ, ক্ষমতা—
সবই হবে মাটির সমান অবশেষ।
যৌবনের রঙ মুছে যাবে,
সৌন্দর্য হবে ধূলির সাথি;
থাকবে শুধু আমলের পুঁজি,
সেই হবে অনন্তের সাথি।
মৃত্যু কোনো ভয়ের নাম নয়,
যদি জীবন হয় আলোকিত;
ঈমানে দৃঢ়, আমলে সমৃদ্ধ,
চরিত্রে যদি হও সুসজ্জিত।
সৎ মানুষের বিদায়বেলায়
অশ্রুর মাঝেও থাকে প্রশান্তি;
কারণ সে রেখে যায় পৃথিবীতে
কল্যাণের অনির্বাণ জ্যোতি।
কবর হবে বিশ্রামের বাগান,
যদি থাকে ঈমানের নূর;
হাশরের প্রান্তরও হবে সহজ,
যদি আমল থাকে ভরপুর।
যে যত বপন করে আজ,
আগামীকাল ততই কাটে;
অন্যায় বুনে ন্যায়ের আশা
কখনো সফলতা আনতে পারে না।
তাই এসো, গড়ি নতুন শপথ—
সত্যের পথে চলব সবাই;
বিনয়, ধৈর্য, ভালোবাসা নিয়ে
মানবতার দীপ জ্বালাই।
হিংসা নয়, হোক সহমর্মিতা;
বিদ্বেষ নয়, হোক ক্ষমা;
বিভেদ নয়, হোক ঐক্যের সুর,
করুণা হোক হৃদয়ের মহিমা।
শিক্ষায় হব আলোকিত,
কর্মে হব বিশ্বস্ত প্রাণ;
দেশ, সমাজ, পরিবার জুড়ে
ছড়াব নৈতিকতার গান।
জ্ঞান হবে প্রজ্ঞার প্রদীপ,
সেবা হবে জীবনের ব্রত;
ন্যায় ও সততা হবে পথের সাথি,
কল্যাণ হবে চূড়ান্ত রত্ন।
আজকের একটি সৎ সিদ্ধান্ত
আগামীর অসংখ্য আলোর দিশা;
আজকের একটি ভালো কাজ
চিরন্তন পুরস্কারের আশা।
তাই প্রতিটি সকাল হোক
নতুন আমলের আহ্বান;
প্রতিটি সন্ধ্যা হোক আত্মসমালোচনার
নীরব, নির্মল অবসান।
জীবন হোক ঈমানে দীপ্ত,
সৎকর্মে হোক সমৃদ্ধ প্রাণ;
সৎচরিত্রে হোক অলংকৃত,
উত্তম আচরণে হোক মহান।
মৃত্যু তখন হবে শান্তিময়,
কবর হবে প্রশান্তির নীড়;
হাশরের কঠিন প্রান্তরেও
রবের রহমত হবে সমীর।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তর করুন নির্মল,
ঈমান করুন অবিচল,
সৎকর্ম করুন অবিরল।
চরিত্রে দিন সৌন্দর্যের জ্যোতি,
আচরণে দিন মাধুর্যের ছায়া;
সত্যের পথে রাখুন অটল,
অন্যায় থেকে রাখুন দূর মহিমায়।
দুনিয়ার ক্ষণিক জীবনটুকু
করুন আখিরাতের সফল প্রস্তুতি;
আমাদের প্রতিটি নেক আমল
হোক জান্নাতের চিরসবুজ সম্পদ।
আপনার সন্তুষ্টিই হোক
আমাদের জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য;
আপনার রহমতেই হোক
মৃত্যুর পরের প্রতিটি ঘাট শান্তিময়, সফল ও আলোকময়।
আমীন।
***
জীবনের বীজ, মৃত্যুর পর ফসল
জীবন যেন এক পবিত্র ক্ষেত,
রবের দেওয়া অমূল্য দান;
প্রতিটি ক্ষণেই বপন করি
ভবিষ্যতের অনন্ত গান।
আজকের শ্বাস, আজকের কর্ম,
আগামীরই লিখে পরিচয়;
যেমন বপন করব বীজ,
তেমনই হবে জীবনের জয়।
সূর্যের আলো, চাঁদের হাসি,
রাতের নক্ষত্র, ভোরের বায়ু—
সবাই যেন নীরব ভাষায়
বলে চলে—"সময় কভু নাহি থামায়।"
জন্ম এসেছে মহান রবের
অসীম করুণার উপহার হয়ে;
মৃত্যু আসে শান্ত আহ্বানে
চিরজীবনের দুয়ার বয়ে।
দুনিয়া কেবল ক্ষণিক সফর,
চিরনিবাস নয় এ ধরা;
এখানেই গড়ে অনন্ত ভবিষ্যৎ,
এখানেই লেখা শেষের সুরা।
প্রচলিত সেই প্রজ্ঞাবাক্য
হৃদয়ে জাগায় সত্যের আলো—
দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র,
এখানেই বপন করি ভবিষ্যতের ভালো।
কৃষক যেমন যত্নে বোনে
স্বপ্নভরা ধানের বীজ,
তেমনি মানুষ আমল বোনে
সত্য, তাকওয়া, ঈমান মিশে।
ঈমান যদি মূলের শক্তি,
সৎকাজ যদি নির্মল জল,
সৎচরিত্র তার সবুজ পাতা,
উত্তম আচরণ সোনার ফল।
ধৈর্য যদি হয় ছায়াবৃক্ষ,
ক্ষমা যদি হয় ফুলের ঘ্রাণ,
দয়া যদি হয় শীতল নদী,
সফল হবে মানবপ্রাণ।
যে হৃদয়ে তাওহিদের আলো,
যে মুখে সত্যের বাণী,
যে হাতে থাকে সেবার অর্ঘ্য,
সে-ই তো শ্রেষ্ঠ মানবজীবনখানি।
সত্য যার জীবনের ভাষা,
সততা যার চলার পথ,
তারই আমল সুবাস ছড়ায়
জীবন পেরিয়ে মৃত্যুর রথ।
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে
একদিন হবে ধূলিসাৎ;
থেকে যাবে শুধু নেক আমল,
যা হবে মুক্তির সাক্ষ্যপ্রমাণ।
ধন-সম্পদ, যশ আর মান,
সবই রয়ে যাবে ধরার বুকে;
সঙ্গে যাবে ঈমান আর আমল,
কবরে, হাশরে, আলোর সুখে।
তাই এসো আজ শপথ করি,
অন্যায় পথে যাব না আর;
সত্য, ন্যায় আর সেবার দীপে
আলোকিত হোক সংসার।
জীবন হোক কল্যাণময়,
মৃত্যু হোক প্রশান্তির সেতু;
কবর হোক জান্নাতের বাগান,
রহমতে ভরে উঠুক ঋতু।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
ঈমানে করুন অবিচল,
সৎকর্মে দিন অফুরন্ত শক্তি,
চরিত্র করুন নির্মল।
উত্তম আচরণ দিন আমাদের,
ক্ষমা, করুণা, ধৈর্যের বল;
দুনিয়ার এই ক্ষণিক ক্ষেতে
বপন করি জান্নাতের ফসল।
আপনার সন্তুষ্টিই হোক
জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন;
মৃত্যুর পরে প্রতিটি ঘাট
হোক শান্তিময়, সফল, আলোকিত অনন্ত গন্তব্য।
আমীন।
***
দুনিয়ার বীজ, আখিরাতে ফসল
জীবন মহান আল্লাহর অমূল্য আমানত,
মৃত্যু তাঁরই অবধারিত আহ্বান;
জন্ম থেকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত
চলে মানুষের পরীক্ষার অভিযান।
ভোরের আলো, গোধূলির রঙ,
নক্ষত্রভরা নিস্তব্ধ আকাশ;
প্রতিটি ক্ষণই নীরব কণ্ঠে
শোনায় জীবনের গভীর সুবাস।
সময় কারও জন্য থেমে থাকে না,
দিনের পরে আসে নতুন দিন;
যে মুহূর্ত গেল, আর ফিরে না,
স্মৃতি হয়ে থাকে তার প্রতিচ্ছবি লীন।
জন্ম যেমন নিশ্চিত সত্য,
মৃত্যুও তেমনি অবধারিত;
এই দুই সীমানার মাঝখানেই
লেখা হয় কর্মের মহাগীতি।
দুনিয়া নয় চিরস্থায়ী নিবাস,
নয় ভোগের সীমাহীন মেলা;
এ জীবন কেবল প্রস্তুতির অঙ্গন,
সত্য ও ন্যায়ের পুণ্যখেলা।
ইসলামি প্রজ্ঞার এক অমল বাণী—
দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র;
যেমন বপন করবে কর্মের বীজ,
তেমনই ফল মিলবে অনন্ত ক্ষেত্র।
কৃষক যেমন প্রভাতবেলায়
উর্বর মাটিতে বীজ ছড়ায়,
বৃষ্টি, রোদ আর শ্রমের ঘামে
সোনালি ফসল ঘরে আনে।
তেমনি মানুষ প্রতিদিন বোনে
নিজের ভাগ্যের বীজ;
ঈমান, আমল, চরিত্র, আচরণ—
এসবই জীবনের মূল ভিত্তি আজ।
ঈমান যদি হয় শেকড়ের শক্তি,
তাকওয়া যদি হয় উর্বর মাটি,
সৎকর্ম যদি স্নিগ্ধ বারিধারা,
জীবন তবে পায় পূর্ণ গাঁথি।
সত্য যদি হয় হৃদয়ের দীপ,
ন্যায় যদি হয় চলার পথ,
ধৈর্য যদি হয় দৃঢ় পর্বত,
জয় তখন হয় অবিরত।
সৎচরিত্র সুগন্ধি ফুল,
নীরবতায় ছড়ায় তার মান;
উত্তম আচরণ সেই সুবাস,
যা জয় করে প্রতিটি প্রাণ।
মধুর ভাষা দান নয় শুধু,
এ এক অমূল্য ইবাদত;
একটি হাসি, একটি সান্ত্বনা,
কমিয়ে দেয় কতই না আঘাত।
যে ক্ষমা করে প্রতিশোধের ক্ষণে,
যে দয়া করে শক্তি পেয়েও,
সে-ই তো জয়ী মানবতার পথে,
রবের সন্তুষ্টি নিয়ে।
মায়ের সেবা, পিতার সম্মান,
শিক্ষকের প্রতি বিনয়;
আত্মীয়, প্রতিবেশী, অতিথির হক—
এসবেই জীবনের জয়।
এতিমের মাথায় স্নেহের হাত,
ক্ষুধার্তের মুখে অন্ন;
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোই
মানবতার শ্রেষ্ঠ ধন।
অমানত রক্ষা, সত্যের সাক্ষ্য,
প্রতিশ্রুতিতে অবিচল প্রাণ;
এসব দিয়েই গড়ে ওঠে
সুন্দর সমাজ, সুন্দর জাহান।
অহংকারের সুউচ্চ প্রাসাদ
একদিন ধুলায় মিশে যায়;
ক্ষমতা, যশ, ধনসম্পদ—
সবই সময়ের স্রোতে হারায়।
যৌবনের দীপ্তি ম্লান হয়ে যায়,
রূপেরও থাকে না অহংকার;
থেকে যায় শুধু সৎ আমল,
যা অমর করে মানুষের নাম।
মৃত্যু কোনো শেষ নয় কখনো,
নতুন যাত্রার প্রথম দ্বার;
যার জীবন ছিল আলোর পথে,
তার বিদায়ও হয় অপার।
ঈমান যার হৃদয়ে জ্বলে,
সৎকর্ম যার নিত্য সাথি,
তার কবরও হয় প্রশান্তির নীড়,
রহমতের ছায়া থাকে সাথে।
যে দুনিয়ায় সত্য বপন করে,
মিথ্যা থেকে রাখে দূর;
তার আখিরাত হয় আলোকিত,
করুণাময়ের নূরে ভরপুর।
যে অন্যায়ের বীজ বপন করে,
লোভে হারায় বিবেকের দিশা;
সে কীভাবে আশা করে
শান্তির অনন্ত প্রত্যাশা?
তাই এসো আজ শপথ করি,
ঈমান হবে জীবনের প্রাণ;
সৎকর্ম হবে প্রতিটি দিনের
অমল, উজ্জ্বল পরিচয়দান।
বিনয় হবে হৃদয়ের ভাষা,
সততা হবে জীবনের মান;
উত্তম আচরণ হবে পরিচয়,
সত্য হবে প্রতিটি গান।
জ্ঞান অর্জনে হব সচেষ্ট,
পরিশ্রম হবে জীবনের রথ;
ন্যায়ের পথে অটল থেকে
চলব অবিরাম সত্যের পথ।
দেশকে ভালোবাসব সবাই,
সমাজ হবে নৈতিকতায় ভরা;
মানুষ মানুষকে ভালোবাসলে
শান্তিতে ভরবে বিশ্বধরা।
আজকের ক্ষুদ্র একটি আমল
আগামীর অমূল্য ধন;
আজকের একটি সৎ সিদ্ধান্ত
চিরজীবনের পাথেয় তখন।
প্রতিটি সকাল নতুন আহ্বান—
নেক কাজে ভরুক দিন;
প্রতিটি সন্ধ্যা আত্মসমালোচনায়
হোক হৃদয় আরও রঙিন।
জীবন হোক ঈমানের আলো,
সৎকর্মে হোক সমৃদ্ধ প্রাণ;
সৎচরিত্র হোক অলংকার,
উত্তম আচরণ শ্রেষ্ঠ সম্মান।
মৃত্যু তখন ভয়ের নয়,
বরং শান্তির নতুন সোপান;
নেক আমলের উজ্জ্বল আলোয়
আলোকিত হবে পরজীবন।
হে পরম করুণাময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তর করুন পবিত্র,
ঈমান করুন অবিচল দৃঢ়,
চরিত্র করুন নির্মল ও শুদ্ধ।
সত্যে রাখুন অটল অবিচল,
মিথ্যা থেকে রাখুন দূরে;
সৎকর্মে দিন অফুরন্ত শক্তি,
আপনার সন্তুষ্টির সুরে।
ক্ষমা দিন, ধৈর্য দিন,
করুণা দিন অফুরান;
দুনিয়ার এই কর্মক্ষেত্রে
বপন করি নেকির ধান।
জীবনের প্রতিটি শুভ কর্ম
হোক আখিরাতের চিরসবুজ ফসল;
কবর হোক প্রশান্তির বাগান,
হাশর হোক রহমতের সম্বল।
আপনার সন্তুষ্টিই হোক
আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন;
জীবন হোক কল্যাণময়,
মৃত্যু হোক শান্তিময়,
আর আখিরাত হোক
চিরসফল, চিরআলোকিত, চিরকল্যাণময়।
আমীন।
৬
৬ মন্তব্য