সহকারী অধ্যাপক
১৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০১ পূর্বাহ্ণ
ফুলের মতো জীবন - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
ফুলের মতো জীবন
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
ভোরের শিশিরভেজা নরম পাপড়িতে,
সূর্যের প্রথম আলো নামে নীরব প্রার্থনাতে।
বাতাস গেয়ে ওঠে স্নিগ্ধতার গান,
জেগে ওঠে পৃথিবী নতুন সম্ভাবনায় প্রাণ।
ফুল কখনো বলে না—
"আমার দিকে চেয়ে থাকো,
আমার রূপের প্রশংসা করো,
আমাকেই শ্রেষ্ঠ বলো।"
সে শুধু নীরবে ফোটে,
নীরবে হাসে,
নীরবে বিলিয়ে দেয়
সুবাসের অমৃতধারা।
ফুল জানে,
সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় পরিচয়
অহংকার নয়—
দান।
ভালোবাসা।
নীরব সেবা।
অকলুষ মমতা।
তাই তো সে
প্রজাপতির ডানায় রঙ ছড়ায়,
মৌমাছির জীবনে মধুর আহার জোগায়,
ক্লান্ত পথিকের চোখে
এক মুহূর্তের প্রশান্তি এনে দেয়।
ফুল ঝরে যায়,
কিন্তু সুবাস ঝরে না।
পাপড়ি মাটিতে মিশে যায়,
কিন্তু সৌন্দর্যের স্মৃতি
মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকে।
মানুষও তেমনি।
দেহ একদিন ক্লান্ত হবে,
কণ্ঠস্বর স্তব্ধ হবে,
পদচিহ্ন মুছে যাবে সময়ের ধুলায়।
কিন্তু
একটি কোমল কথা,
একটি আন্তরিক হাসি,
একটি নিঃস্বার্থ সাহায্য,
এক ফোঁটা সত্যিকারের ভালোবাসা—
কখনো হারিয়ে যায় না।
সেগুলো মানুষের হৃদয়ে
সুবাস হয়ে বেঁচে থাকে,
আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে,
দুঃসময়ের সাহস হয়ে ফিরে আসে,
অন্ধকারের শেষে
আলোর দিশা দেখায়।
সুন্দর আচরণ
শুধু ভদ্রতার অলংকার নয়,
এ মানবতার শ্রেষ্ঠ পরিচয়।
যে বিনয়ে মাথা নত করতে জানে,
সে-ই প্রকৃত অর্থে মহান।
যে ক্ষমা করতে জানে,
সে প্রতিশোধের চেয়েও শক্তিশালী।
যে ভালোবাসতে জানে,
সে ঘৃণার প্রাচীর ভেঙে
হৃদয়ের সেতু নির্মাণ করে।
রূঢ় বাক্য
হৃদয়ে ক্ষত তৈরি করে,
কোমল বাক্য
সেই ক্ষত সারিয়ে তোলে।
অহংকার
মানুষকে একা করে,
বিনয়
মানুষকে আপন করে।
লোভ
সম্পর্ক ভেঙে দেয়,
সন্তুষ্টি
জীবনকে শান্ত করে।
ঈর্ষা
আলো নিভিয়ে দেয়,
শুভকামনা
হাজার প্রদীপ জ্বালায়।
ফুলের দিকে তাকাও।
কোথাও কোনো বিভেদ নেই।
গোলাপ তার সৌন্দর্যে গর্বিত নয়,
শাপলা নদীর জলে হাসে,
শিউলি ভোরে নীরবে ঝরে,
কৃষ্ণচূড়া রাঙিয়ে দেয় পথ,
কদম বর্ষাকে করে তোলে সুরভিত।
প্রত্যেকে নিজের সৌন্দর্যে
পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করে,
কারও সৌন্দর্য
অন্যের সৌন্দর্যকে ম্লান করে না।
মানুষও যদি
এ শিক্ষা গ্রহণ করত,
তবে হিংসা কমত,
বিদ্বেষ মুছে যেত,
সম্প্রীতির নতুন ইতিহাস
প্রতিদিন লেখা হতো।
একটি হাসিমুখ
অসংখ্য অশ্রু মুছে দিতে পারে।
একটি স্নেহভরা বাক্য
ভেঙে পড়া মানুষকে
আবার দাঁড়ানোর শক্তি দেয়।
একটি আন্তরিক সম্ভাষণ
দূরত্ব কমায়।
একটি সহানুভূতির স্পর্শ
অসহায় হৃদয়ে
নতুন জীবনের আশা জাগায়।
সুন্দর ব্যবহার
কোনো ধনীর সম্পদ নয়,
এটি দরিদ্রেরও অলংকার,
ধনীরও শোভা,
শিক্ষিতেরও মর্যাদা,
অশিক্ষিতেরও গৌরব।
হাসি বিলাতে অর্থ লাগে না,
মমতা দেখাতে ধন লাগে না,
ক্ষমা করতে শক্তির অপচয় হয় না,
ভালোবাসতে কোনো সীমান্ত লাগে না।
যেখানে মানুষ
মানুষকে সম্মান করে,
সেখানে পরিবারে শান্তি জন্মায়।
যেখানে পরিবারে শান্তি,
সেখানে সমাজ হয় সুস্থ।
যেখানে সমাজ সুস্থ,
সেখানে দেশ এগিয়ে যায়
সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে।
ফুলের সুবাস
বাতাসকে যেমন নির্মল করে,
সুন্দর চরিত্র
সমাজকে তেমনি আলোকিত করে।
একজন সৎ মানুষ
শত বক্তৃতার চেয়েও বড় শিক্ষা।
একজন বিনয়ী মানুষ
হাজার অহংকারীর চেয়েও মহৎ।
একজন দয়ালু মানুষ
অসংখ্য কঠোর হৃদয়কে
কোমল করে দিতে পারে।
তাই জীবন হোক
ফুলের মতো।
কোমল,
কিন্তু দুর্বল নয়।
নম্র,
কিন্তু আত্মমর্যাদাহীন নয়।
স্নিগ্ধ,
কিন্তু নিষ্ক্রিয় নয়।
সুগন্ধময়,
কিন্তু আত্মপ্রচারে ব্যস্ত নয়।
আমাদের বাক্য হোক
মধুর।
আমাদের আচরণ হোক
বিশ্বাসের আশ্রয়।
আমাদের হৃদয় হোক
ক্ষমা, করুণা ও ভালোবাসার বাগান।
আমরা এমন মানুষ হই,
যাদের চলে যাওয়ার পরেও
মানুষ স্মরণ করবে
আমাদের সম্পদের জন্য নয়,
পদমর্যাদার জন্য নয়,
বরং
একটি সুন্দর ব্যবহারের জন্য,
একটি আন্তরিক ভালোবাসার জন্য,
একটি সহানুভূতির স্পর্শের জন্য,
একটি সত্যভাষণের জন্য,
একটি কল্যাণময় জীবনের জন্য।
ফুল ঝরে যাবে—
এটাই প্রকৃতির নিয়ম।
জীবনও একদিন
সময়ের স্রোতে মিলিয়ে যাবে।
কিন্তু
সৎকর্মের সুবাস,
সুন্দর আচরণের স্মৃতি,
ভালোবাসার উষ্ণতা,
মানবতার দীপ্তি—
কখনো ঝরে পড়ে না।
তাই আজই
আমরা হৃদয়ে রোপণ করি
বিনয়ের বীজ,
সততার চারাগাছ,
ভালোবাসার অঙ্কুর,
করুণার লতা,
মানবতার মহীরুহ।
যেন আগামী প্রজন্ম
আমাদের জীবন থেকে শিখতে পারে—
মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য
রূপে নয়,
পোশাকে নয়,
ধনে নয়,
ক্ষমতায় নয়,
বরং
সুন্দর চরিত্রে,
নির্মল আচরণে,
সত্যনিষ্ঠ জীবনে,
নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়।
জীবন ফুটুক ফুলের মতো—
সুবাসে ভরুক প্রতিটি হৃদয়।
মানুষ হোক মানুষের আশ্রয়,
ভালোবাসা হোক মানবতার ভাষা,
আর পৃথিবী হোক
এক বিশাল ফুলবাগান—
যেখানে প্রতিটি মানুষ
একটি সুগন্ধি ফুল,
প্রতিটি হৃদয়
একটি নির্মল বসন্ত,
আর প্রতিটি সৎকর্ম
চিরন্তন সুবাস হয়ে
যুগে যুগে ছড়িয়ে পড়ুক
মানবতার অনন্ত আকাশে।
***
ফুলের সুবাস
ভোরের আকাশে সূর্যের প্রথম রশ্মি
যখন শিশিরভেজা ঘাসের বুকে
সোনালি আলোর অক্ষর আঁকে,
ঠিক তখনই নীরব বাগানে
ফুটে ওঠে একটি ফুল—
কোনো ঘোষণা নয়,
কোনো অহংকার নয়,
কোনো আত্মপ্রচারের কোলাহল নয়;
শুধু নিঃশব্দ প্রস্ফুটন,
শুধু সৌন্দর্যের বিনম্র প্রকাশ।
ফুল জানে,
রূপের চেয়ে গুণ বড়,
বর্ণের চেয়ে সুবাস মহৎ,
প্রশংসার চেয়ে দান শ্রেয়,
আর ভালোবাসার চেয়ে
পৃথিবীতে আর কোনো অলংকার নেই।
তাই সে নীরবে হাসে।
নীরবে সুবাস ছড়ায়।
নীরবে আকাশের দিকে তাকিয়ে
স্রষ্টার মহিমা গেয়ে যায়।
কেউ তাকে মুকুট দেয় না,
তবু সে রাজকীয়।
কেউ তাকে উপাধি দেয় না,
তবু সে সম্মানের প্রতীক।
কেউ তাকে করতালি দেয় না,
তবু সে পৃথিবীকে
সৌন্দর্যের ভাষা শেখায়।
ফুল ঝরে যায়—
এ প্রকৃতির অনিবার্য বিধান।
কিন্তু তার সুবাস
বাতাসের বুকে ভেসে থাকে,
মানুষের স্মৃতিতে রয়ে যায়,
হৃদয়ের গভীরে
অমলিন হয়ে বেঁচে থাকে।
মানুষের জীবনও তেমনি।
যৌবন ক্ষণস্থায়ী,
রূপ নশ্বর,
ক্ষমতা পরিবর্তনশীল,
সম্পদ অনিশ্চিত,
কিন্তু সুন্দর চরিত্র—
সে অমর।
একটি কোমল বাক্য
বছরের পর বছর মনে থাকে।
একটি আন্তরিক হাসি
বিষণ্ন হৃদয়ে
নতুন বসন্ত ডেকে আনে।
একটি ক্ষমা
শত বিরোধের অবসান ঘটায়।
একটি সহানুভূতি
অগণিত অশ্রুর ভাষা বুঝে নেয়।
মানুষের প্রকৃত পরিচয়
তার মুখচ্ছবিতে নয়,
তার পোশাকে নয়,
তার ধনসম্পদে নয়,
তার পদমর্যাদায় নয়;
তার পরিচয়
তার ব্যবহারে,
তার সত্যবাদিতায়,
তার বিনয়ে,
তার মমতায়,
তার ভালোবাসায়।
ফুল কখনো বলে না—
“আমাকেই দেখো।”
সে বলে—
“সৌন্দর্যকে অনুভব করো।”
সৎ মানুষও কখনো বলে না—
“আমাকেই শ্রেষ্ঠ বলো।”
তিনি বলেন—
“কল্যাণের পথে এসো,
মানুষকে ভালোবাসো,
হৃদয়কে নির্মল রাখো।”
সুবাসের কোনো ভাষা নেই,
তবু সবাই তাকে বোঝে।
ভালোবাসারও কোনো সীমান্ত নেই,
তবু সে
মানুষে মানুষে
অদৃশ্য সেতুবন্ধন গড়ে তোলে।
তাই জীবন হোক ফুলের মতো—
নম্রতায় দীপ্ত,
সততায় উজ্জ্বল,
ভালোবাসায় সুরভিত,
মানবতায় মহিমান্বিত।
ঝরে পড়ুক অহংকার,
ফুটে উঠুক বিনয়।
মুছে যাক বিদ্বেষ,
জেগে উঠুক সহমর্মিতা।
নিভে যাক হিংসার আগুন,
প্রজ্বলিত হোক
মানবতার চিরন্তন প্রদীপ।
ফুলের মতো বাঁচতে শেখো—
কারও হৃদয় ভেঙো না,
কারও সম্মান কেড়ে নিও না,
কারও অশ্রুর কারণ হয়ো না।
বরং এমন সুবাস ছড়াও,
যাতে তোমার বিদায়ের পরও
মানুষ বলে—
“তিনি চলে গেছেন,
কিন্তু তাঁর ভালোবাসা,
তাঁর সুন্দর আচরণ,
তাঁর নির্মল হৃদয়
আজও আমাদের মাঝে সুবাস হয়ে বেঁচে আছে।”
সেই মানুষই ধন্য,
যার জীবন
ফুলের মতো ক্ষণিক,
কিন্তু যার চরিত্র
সুবাসের মতো চিরন্তন।
***
ফুলের সুবাস
প্রভাতের নীল আকাশে
সূর্যের প্রথম সোনালি রশ্মি
যখন শিশিরভেজা পাতার বুকে
আলোর মৃদু অক্ষর আঁকে,
তখন নিঃশব্দ বাগানে
ফুটে ওঠে একটি ফুল—
কোনো ঢাকঢোল নয়,
কোনো আত্মপ্রশংসা নয়,
কোনো গৌরবের ঘোষণা নয়;
শুধু নীরব সৌন্দর্য,
শুধু নির্মল প্রস্ফুটন,
শুধু জীবনের কোমল আহ্বান।
ফুল কখনো বলে না—
“আমাকে দেখো।”
সে শেখায়—
“সৌন্দর্য অনুভব করো।”
সে কখনো বলে না—
“আমাকেই শ্রেষ্ঠ বলো।”
সে শেখায়—
“শ্রেষ্ঠ হও তোমার কর্মে,
তোমার চরিত্রে,
তোমার ভালোবাসায়।”
ফুলের জীবন সংক্ষিপ্ত,
কিন্তু তার শিক্ষা অনন্ত।
তার পাপড়ি ঝরে পড়ে,
তবু তার সুবাস
বাতাসের বুক জুড়ে
অমলিন থেকে যায়।
মানুষের জীবনও তেমনি।
যৌবন একদিন ফুরাবে,
রূপের দীপ্তি ম্লান হবে,
সময়ের নদী
সব বাহ্যিক চিহ্ন মুছে দেবে;
কিন্তু একটি সৎকর্ম,
একটি মধুর বাক্য,
একটি আন্তরিক সহানুভূতি,
একটি ক্ষমার হাসি,
একটি নির্মল ভালোবাসা—
চিরদিন মানুষের হৃদয়ে
সুবাস হয়ে বেঁচে থাকবে।
রূপের অহংকার
সময়ের কাছে পরাজিত হয়,
সম্পদের গর্ব
ভাগ্যের কাছে নত হয়,
ক্ষমতার আসন
ইতিহাসের পাতায় বদলে যায়;
কিন্তু উত্তম চরিত্র
কালের অতল গর্ভেও
নিজের দীপ্তি হারায় না।
ফুলের পাপড়িতে
যেমন শিশির থেমে থাকে,
তেমনি মানুষের হৃদয়ে
থেমে থাকে
একটি সুন্দর ব্যবহারের স্মৃতি।
একটি কোমল সম্ভাষণ
শত অপরিচিতকে আপন করে,
একটি সত্যভাষণ
অসংখ্য বিশ্বাসের ভিত্তি গড়ে,
একটি সহমর্মী হাত
অসহায় মানুষের চোখে
আবার আশার আলো জ্বালায়।
বাতাস
ফুলের সুবাস বহন করে,
আর মানুষ
ভালোবাসার সুবাস বহন করে।
যে হৃদয়ে মমতা আছে,
সেখানে বিদ্বেষ টেকে না।
যে হৃদয়ে বিনয় আছে,
সেখানে অহংকারের স্থান হয় না।
গোলাপ তার সৌন্দর্যে
অহংকার করে না।
শিউলি ভোরবেলায়
নীরবে ঝরে পড়ে।
কদম বর্ষাকে
সুরভিত করে তোলে।
কৃষ্ণচূড়া
রাঙিয়ে দেয় পথের ধুলো।
প্রকৃতির প্রতিটি ফুল
নিজস্ব রূপে অনন্য,
তবু কারও সঙ্গে
প্রতিযোগিতায় নামে না।
মানুষও যদি
নিজের গুণে বিকশিত হতে শেখে,
তবে পৃথিবী
ঈর্ষার নয়,
সম্প্রীতির বাগান হয়ে উঠবে।
সুন্দর আচরণ
কোনো অলংকার নয়,
এ মানুষের প্রকৃত পরিচয়।
ভালোবাসা
কোনো দুর্বলতা নয়,
এ শক্তির সর্বোচ্চ প্রকাশ।
ক্ষমা
পরাজয় নয়,
এ মহান হৃদয়ের বিজয়।
তাই জীবন হোক
ফুলের মতো—
নম্রতায় উজ্জ্বল,
সততায় দীপ্ত,
ভালোবাসায় সুরভিত,
মানবতায় মহিমান্বিত।
আমাদের বাক্য হোক
শিশিরের মতো কোমল।
আমাদের দৃষ্টি হোক
আকাশের মতো উদার।
আমাদের হৃদয় হোক
ফুলবাগানের মতো নির্মল।
আমাদের কর্ম হোক
সুবাসের মতো নীরব,
কিন্তু সুদূরপ্রসারী।
ঝরে যাক
অহংকারের শুকনো পাতা।
ফুটে উঠুক
বিনয়ের নতুন কুঁড়ি।
মুছে যাক
বিদ্বেষের কালো মেঘ।
উদিত হোক
সহমর্মিতার নির্মল সূর্য।
যে মানুষ
অন্যের মুখে হাসি ফোটায়,
সে-ই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মালী।
যে মানুষ
অন্যের হৃদয়ে আশা জাগায়,
সে-ই প্রকৃত ফুলচাষি।
যে মানুষ
নিজেকে নয়,
অন্যের কল্যাণকে বড় করে দেখে,
তার জীবনই
সুবাসে ভরা বসন্ত।
ফুল ঝরে যায়—
এটাই প্রকৃতির বিধান।
মানুষও একদিন
সময়ের ওপারে পাড়ি দেয়।
কিন্তু চরিত্রের সৌরভ,
সৎকর্মের দীপ্তি,
ভালোবাসার উষ্ণতা,
মমতার স্মৃতি,
বিনয়ের আলো—
এসব কখনো মুছে যায় না।
তাই এসো,
আমরা সবাই
নিজ নিজ হৃদয়ে
একটি করে ফুল রোপণ করি—
সততার ফুল,
করুণার ফুল,
সহমর্মিতার ফুল,
ক্ষমার ফুল,
মানবতার ফুল।
যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
আমাদের স্মরণ করে
সম্পদের জন্য নয়,
খ্যাতির জন্য নয়,
বরং
একটি নির্মল হৃদয়ের জন্য,
একটি সত্যনিষ্ঠ জীবনের জন্য,
একটি সুন্দর আচরণের জন্য,
একটি সুবাসিত মানবতার জন্য।
জীবন ফুটুক ফুলের মতো—
কোমল, নির্মল, স্নিগ্ধ।
মানুষ বাঁচুক মানুষের জন্য।
ভালোবাসা হোক পৃথিবীর ভাষা।
আর প্রতিটি সৎকর্ম
ফুলের সুবাসের মতো
যুগে যুগে ছড়িয়ে পড়ুক
মানবতার অনন্ত আকাশে।
***
ফুলের সুবাস
প্রভাত নামে নীরব সুরে
শিশিরভেজা ঘাসের বুকে,
পূর্ব আকাশে সূর্যের আলো
ছড়িয়ে পড়ে সুখের মুখে।
ঘুম ভাঙে বন, জাগে উপবন,
ডাকে পাখি মধুর গানে;
ঠিক তখনই ফুটে ওঠে ফুল
নিস্তব্ধতার পবিত্র টানে।
কোনো অহংকার তার চোখে নেই,
নেই আত্মপ্রশংসার ভাষা;
নীরবতাই তার অলংকার,
সুবাস তার অনন্ত আশা।
সে বলে না—
“আমাকে দেখো,
আমাকেই দাও শ্রেষ্ঠ আসন।”
সে শেখায় শুধু—
“নিজেকে গড়ো,
সুন্দরে খুঁজে নাও জীবন।”
পাপড়ির ভাঁজে বিনয়ের হাসি,
রঙে রঙে মমতার ছোঁয়া;
যে তাকায় সে বুঝে নেয়—
সৌন্দর্য মানে আপন হওয়া।
ফুল জানে ভালো,
রূপের গর্ব ক্ষণিক আলো,
গুণের দীপ্তি অনাদি-অনন্ত;
রঙের চেয়ে সুবাস শ্রেষ্ঠ,
কথার চেয়ে কর্ম মহত্তম।
তাই তো সে
প্রতিদিন সূর্যের মুখোমুখি দাঁড়ায়,
বাতাসকে আপন করে নেয়,
মৌমাছির ক্ষুধা মেটায়,
প্রজাপতির ডানায় রঙের উৎসব সাজায়।
সে নেয় কম,
দেয় অনেক বেশি;
এই তো প্রকৃত মহত্ত্বের পরিচয়।
ফুল ঝরে যায়—
প্রকৃতির এ চিরন্তন বিধান।
কিন্তু তার সুবাস
বাতাসের ডানায় ভেসে
দূর থেকে দূরান্তে পৌঁছে যায়।
মাটিতে মিশে যায় পাপড়ি,
তবু মুছে যায় না স্মৃতি।
যেখানে সে ফুটেছিল,
সেখানে থেকে যায়
স্নিগ্ধতার অমল রেখা।
মানুষের জীবনও তেমনি।
একদিন
যৌবনের দীপ্তি ফুরাবে,
চোখের জ্যোতি ম্লান হবে,
সময়ের স্রোত
সব বাহ্যিক পরিচয় ধুয়ে নিয়ে যাবে।
কিন্তু—
একটি মধুর সম্ভাষণ,
একটি আন্তরিক হাসি,
একটি নিঃস্বার্থ সহায়তা,
একটি সত্যনিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি,
একটি ক্ষমার স্পর্শ—
এসব কখনো বিলীন হয় না।
এসবই মানুষের হৃদয়ে
সুবাস হয়ে বাস করে,
অন্ধকারে আলো জ্বালে,
হতাশায় সাহস জাগায়,
বেদনার ভেতর আশার বীজ বোনে।
অহংকারের অট্টালিকা
একদিন ভেঙে পড়ে;
ধনসম্পদের ঝলক
সময়ের কাছে হার মানে;
ক্ষমতার আসন
ইতিহাসে বদলে যায়।
কিন্তু উত্তম চরিত্র—
সে কখনো পুরোনো হয় না।
যে মানুষ সত্য বলে,
সে বিশ্বাসের বৃক্ষ রোপণ করে।
যে মানুষ বিনয় জানে,
সে হৃদয়ের রাজ্য জয় করে।
যে মানুষ ক্ষমা করে,
সে প্রতিশোধের আগুন নিভিয়ে দেয়।
যে মানুষ ভালোবাসে,
সে অদৃশ্য সেতু গড়ে
মানুষে মানুষে।
ফুলের কাছে
কোনো বিভেদ নেই।
গোলাপ তার রূপ নিয়ে
অহংকার করে না।
শিউলি ভোরের আলোয়
নীরবে ঝরে পড়ে।
শাপলা নদীর বুকে
সরলতার হাসি হাসে।
কদম বর্ষাকে
সুগন্ধে ভরিয়ে তোলে।
কৃষ্ণচূড়া রাঙিয়ে দেয়
ধুলোমাখা পথের প্রান্তর।
প্রকৃতির প্রতিটি ফুল
নিজ নিজ রূপে অনন্য,
তবু কেউ কারও সৌন্দর্য
ছিনিয়ে নিতে চায় না।
মানুষও যদি
এ শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করত,
তবে হিংসা শুকিয়ে যেত,
বিদ্বেষ গলে যেত,
অহংকার নত হতো,
পৃথিবী হয়ে উঠত
সম্প্রীতির উদ্যান।
সুন্দর আচরণ
কেবল ভদ্রতার পরিচয় নয়—
এ মানবতার সর্বোৎকৃষ্ট ভাষা।
ভালোবাসা
দুর্বলতার নাম নয়—
এ শক্তির নির্মল প্রকাশ।
সহমর্মিতা
দান নয়—
এ হৃদয়ের সত্য পরিচয়।
ক্ষমা
পরাজয় নয়—
এ মহত্ত্বের বিজয়পতাকা।
একটি হাসি
অনেক অশ্রু শুকিয়ে দেয়।
একটি মধুর বাক্য
অসংখ্য ভাঙা মন জোড়া লাগায়।
একটি আন্তরিক শুভেচ্ছা
অচেনাকে আপন করে।
একটি সৎকর্ম
শত বক্তৃতার চেয়েও
গভীর শিক্ষা দিয়ে যায়।
তাই জীবন হোক
ফুলের মতো—
কোমল, কিন্তু দুর্বল নয়।
নম্র, কিন্তু আত্মমর্যাদাহীন নয়।
স্নিগ্ধ, কিন্তু নিষ্ক্রিয় নয়।
নির্মল, কিন্তু আত্মপ্রচারে ব্যস্ত নয়।
আমাদের বাক্য হোক
শিশিরের মতো কোমল।
আমাদের দৃষ্টি হোক
আকাশের মতো উদার।
আমাদের মন হোক
নদীর মতো স্বচ্ছ।
আমাদের হৃদয় হোক
ফুলবাগানের মতো সুরভিত।
ঝরে পড়ুক
অহংকারের শুকনো পাতা।
ফুটে উঠুক
বিনয়ের নতুন কুঁড়ি।
মুছে যাক
বিদ্বেষের কালো ছায়া।
জেগে উঠুক
ভালোবাসার নির্মল প্রভাত।
আমরা এমন মানুষ হই,
যাদের পরিচয় থাকবে না
ধনসম্পদের অহংকারে,
ক্ষমতার উঁচু আসনে,
বা বাহ্যিক জৌলুশে।
মানুষ আমাদের স্মরণ করুক
একটি মধুর ব্যবহারের জন্য,
একটি সত্যভাষণের জন্য,
একটি সহমর্মী হৃদয়ের জন্য,
একটি নির্মল ভালোবাসার জন্য।
ফুল ঝরে যাবে—
এ নিয়ম চিরন্তন।
জীবনও একদিন
সময়ের ওপারে চলে যাবে।
কিন্তু যদি রেখে যেতে পারি
সৎকর্মের সুবাস,
ভালোবাসার উষ্ণতা,
বিনয়ের আলো,
মানবতার অমল চিহ্ন—
তবে আমাদের জীবনও
ফুলের মতোই
ঝরে গিয়েও
সুবাস হয়ে বেঁচে থাকবে।
এসো তবে,
হৃদয়ের মাটিতে রোপণ করি
সততার বীজ,
মমতার চারা,
সহমর্মিতার লতা,
ক্ষমার অঙ্কুর,
ভালোবাসার বৃক্ষ।
যেন আগামী দিনের মানুষ
আমাদের দেখে শিখতে পারে—
মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য
রূপে নয়,
ধনে নয়,
ক্ষমতায় নয়,
বরং—
উত্তম চরিত্রে,
নির্মল আচরণে,
সত্যনিষ্ঠ জীবনে,
আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়।
জীবন ফুটুক ফুলের মতো।
হৃদয় ভরুক সুবাসে।
মানুষ হোক মানুষের আপনজন।
পৃথিবী হয়ে উঠুক
এক বিশাল প্রস্ফুটিত উদ্যান—
যেখানে প্রতিটি মানুষ
একটি সুগন্ধি ফুল,
প্রতিটি হৃদয়
একটি নির্মল বসন্ত,
আর প্রতিটি সৎকর্ম
যুগে যুগে ছড়িয়ে পড়ুক
মানবতার অনন্ত আকাশে।
১৩
১৫ মন্তব্য