Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:২১ অপরাহ্ণ

পিরামিডেরঃ মহাজাগতিক এক রহস্য।

পিরামিড।

৪৫০০ বছর আগে মানুষের হাতে তৈরি। পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থাপনা।

​ মিশরে ১৩৮টি পিরামিড।

তিনটি সবচেয়ে বিখ্যাত—খুফু, খাফরে আর মেনকাউরে।

​খুফুর উচ্চতা ছিল ১৪৬ মিটার—৪৫ তলা বিল্ডিংয়ের সমান। ১৩৮০ বছর ধরে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা ছিল।

​২৩ লক্ষ পাথরের ব্লক দিয়ে তৈরি। প্রতিটা ব্লকের ওজন গড়ে আড়াই থেকে ১৫ টন।

এত ভারী পাথর কারা টেনেছিল? দাস?

​ না, বেতনভোগী দক্ষ শ্রমিক। ২০১৩ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদরা এটা প্রমাণ করেছেন। পিরামিডের কাছে শ্রমিকদের বসতি পাওয়া গেছে। রুটির চুলা, মাছের কাঁটা, পশুর হাড়... শ্রমিকরা ভালো খাবার পেত। শ্রমিকদের হাড় পরীক্ষায় দেখা গেছে, হাড় ভাঙলে চিকিৎসা দেওয়া হতো। ৪৫০০ বছর আগে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা অবিশ্বাস্য।

​এত ভারী পাথর মরুভূমিতে আনল কীভাবে?

​২০২৩ সালে 'নেচার' জার্নালে প্রমাণিত—নীল নদের একটি শাখা পিরামিডের পাশ দিয়ে বয়ে যেত। নদীপথে নৌকায় পাথর আনা হতো। তারপর কাঠের স্লেজে টেনে নিয়ে যাওয়া হতো। এটাই সবচেয়ে বড় রহস্যের উত্তর।

​ ভেতরে কী আছে?

​ভেতরে আছে রাজকক্ষ, রানীর কক্ষ, সরু সুরঙ্গ আর বিশাল গ্যালারি।

ফারাওয়ের কফিন। কিন্তু কোনো মমি কখনো পাওয়া যায়নি। এটা এখনো রহস্য।

​ভেতরে আর কী লুকানো আছে?

​২০১৭ সালে 'কসমিক রে মিউওন' প্রযুক্তি দিয়ে পিরামিডের ভেতরে ৩০ মিটারের বিশাল লুকানো কক্ষ আবিষ্কার হয়। ২০২৩ সালে খুফুর পিরামিডে ৯ মিটার লম্বা লুকানো করিডোর আবিষ্কার হয়। এটি কোথায় গেছে এখনো জানা যায়নি।

​২০২৫ সালে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। কায়রো ও মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয় মেনকাউরে পিরামিডে দুটি লুকানো শূন্যস্থান খুঁজে পেয়েছে। একটি পাথরও না সরিয়ে এই আবিষ্কার করা হয়েছে। গবেষণাটি 'এনডিটি অ্যান্ড ই ইন্টারন্যাশনাল' জার্নালে প্রকাশিত।

​ পাথর না সরিয়েই ভেতরে দেখা যায়? ওই শূন্যস্থানে কী আছে মা?

​ হয়তো লুকানো দ্বিতীয় প্রবেশপথ, কিন্তু এখনো নিশ্চিত নয়। এটা এখনো রহস্য।

​পিরামিড একসময় সাদা চুনাপাথরে মোড়া ছিল। রোদে ঝলমল করত। সোনার পাহাড় মনে হতো।

​ তাহলে এখন এত খসখসে কেন?

​ভূমিকম্পে সাদা পাথর খসে পড়েছে। স্থানীয়রা নিয়ে ঘরবাড়ি বানিয়েছে। তাই এখন বাদামী খসখসে।

​সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পিরামিড কি শুধুই সমাধি?

নাকি এটি ছিল প্রাচীন বিশ্বের এক বিশাল পাওয়ার প্ল্যান্ট?

এই পিরামিডগুলো ছিল মহাজাগতিক শক্তির রিসিভার। তারা প্রাচীন নক্ষত্রমণ্ডল থেকে সংকেত সংগ্রহ করত। এটি কেবল পাথর নয়, এটি একটি প্রযুক্তি।

​ শুধু শক্তি নয়, এটা জ্ঞান।

​এটি শুধু জ্ঞান নয়, এটি একটি মহাজাগতিক পথনির্দেশিকা। তারা আকাশের নক্ষত্রগুলোর সাথে পিরামিডের অবস্থানের সংযোগ স্থাপন করেছিল।

মন্তব্য করুন

ব্লগ