Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষার ভিত্তি হোক পাঠ্যপুস্তক, সাজেশন কিংবা কোচিং নির্ভর নয়।

শিক্ষার ভিত্তি হোক পাঠ্যপুস্তক, সাজেশন কিংবা কোচিং নির্ভর নয়----

একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিক্ষাব্যবস্থার মান ও কার্যকারিতার ওপর। তাই শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি সংস্কার এমন হওয়া উচিত, যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, বিশ্লেষণক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা করে। যদি শিক্ষাব্যবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যেখানে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তকের চেয়ে কোচিং, নোট ও সাজেশনের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে সেটি অবশ্যই গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে।

বর্তমানে পরীক্ষা শেষে অনেক শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়, "প্রশ্ন কমন পড়েনি।" এই মন্তব্যটি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে। একজন শিক্ষার্থী যদি পাঠ্যপুস্তক, পাঠ্যক্রম এবং বিষয়বস্তুর মৌলিক ধারণা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে প্রশ্নের ভাষা বা ধরন ভিন্ন হলেও সে যুক্তি, বিশ্লেষণ এবং নিজের জ্ঞানের ভিত্তিতে উত্তর লিখতে সক্ষম হবে। কারণ প্রকৃত শিক্ষা কখনোই শুধু মুখস্থবিদ্যা বা সাজেশননির্ভর হতে পারে না।

আমাদের সময়ে পাঠ্যপুস্তক ছিল শিক্ষার মূল ভিত্তি। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতেন এবং শিক্ষার্থীরাও বিষয়ভিত্তিক গভীর অনুধাবনের প্রতি গুরুত্ব দিত। এর ফলেই প্রকৃত মেধা, বিশ্লেষণক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসসম্পন্ন শিক্ষার্থী গড়ে উঠত।

কোচিং বা সহায়ক শিক্ষা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়—এমনটি বলা যায় না। তবে এটি কখনোই মূল শিক্ষার বিকল্প হতে পারে না। যখন কোচিং, নোট বা সাজেশন শিক্ষার প্রধান ভিত্তিতে পরিণত হয়, তখন শিক্ষার্থীর স্বাধীন চিন্তা, গবেষণামনস্কতা এবং সৃজনশীল বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সময়ের দাবি হলো—শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে শক্তিশালী করা, যেখানে পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যক্রম হবে শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু, শ্রেণিকক্ষ হবে জ্ঞানচর্চার প্রধান স্থান এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি হবে এমন, যা মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে অনুধাবন, বিশ্লেষণ, প্রয়োগ ও সৃজনশীল চিন্তাকে উৎসাহিত করবে।

শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল নয়; বরং এমন দক্ষ, নৈতিক, আত্মবিশ্বাসী ও জ্ঞানসমৃদ্ধ নাগরিক গড়ে তোলা, যারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। #textbook #classroom #teachers #everyonefollowers #everyone #love #nationalproblem

মন্তব্য করুন