Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০৭ অপরাহ্ণ

মুমিন হৃদয়ের পরিচয় - মোঃ মুজিবুর রহমান

মুমিন হৃদয়ের পরিচয়

(মুসনাদে আহমদের হাদিসের আলোকে)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

যেদিন তোমার হৃদয় ভরে
নেকির আলোয় হাসবে,
অন্যের সুখে নিজের প্রাণ
নীরব সুরে ভাসবে।

যেদিন একটি সত্য কথায়
আত্মা হবে উজ্জ্বল,
যেদিন দানের ক্ষুদ্র হাতেও
জাগবে আনন্দ অমল

সেদিন বুঝবে, অন্তরজুড়ে
ঈমান আছে জেগে,
রহমতেরই নির্মল বাতাস
বইছে নীরব বেগে।

মুমিন সে নয় মুখের ভাষায়
শুধু বিশ্বাস বলে,
মুমিন সে-, অন্তর যার
আলো ছড়ায় চলে।

নামাজ শেষে হৃদয় যদি
আরও কোমল হয়,
মানুষ দেখে ভালোবাসা
আপন মনে বয়;

কুরআনেরই প্রতিটি বাণী
জাগায় যদি প্রাণ,
তবে বুঝবে সেই হৃদয়ের
বেঁচে আছে ঈমান।

সৎকাজ যখন ফুলের মতো
সুবাস ছড়ায় প্রাণে,
স্বর্গের সুখের ক্ষুদ্র ছবি
নেমে আসে টানে।

একটি হাসি, একটি দান,
একটি মধুর বাণী,
একটি স্নেহ, একটি ক্ষমা
এসব কত দামী!

যে হৃদয়টি কাঁদতে জানে
অন্যের ব্যথা দেখে,
সেই হৃদয়ে আল্লাহর রহমত
নেমে আসে থেকে থেকে।

পথের কাঁটা সরিয়ে দিলে
যদি লাগে সুখ,
তৃষ্ণার্তকে জল দিলে যদি
হাসে অন্তরমুখ

আনন্দের উৎ কোথায়?
প্রশ্ন যদি জাগে,
জেনো তবে ঈমান তখন
নিভৃতে আলো লাগে।

কিন্তু যদি ভুলের পথে
পা বাড়িয়ে যাও,
অন্তরজুড়ে ব্যথার ঢেউ
চুপিচুপি পাও

রাতের ঘুমটি ভেঙে যায়,
চোখে নামে জল,
"
হে আল্লাহ! ক্ষমা করো"
জাগে আকুল কল।

এই যে ব্যথা, এই যে কান্না,
এই যে অনুতাপ,
এই তো মুমিন হৃদয়জুড়ে
জেগে থাকা চাপ।

যার বিবেক আজও জাগে,
সে হারায়নি পথ,
আল্লাহরই ডাকে সাড়া
দেয় তার অন্তররথ।

পাপকে যারা গর্ব ভেবে
হাসতে হাসতে করে,
তাদের হৃদয় শক্ত পাথর,
আলো ঢোকে না ঘরে।

আর যে মানুষ ভুল করেও
ফিরে আসে শেষে,
আল্লাহ তার তাওবা কবুল
করেন ভালোবেসে।

মুমিন মানে ভাঙা মানুষ
নয় কখনো ভাই,
মুমিন মানে পড়ে গিয়েও
আবার উঠে দাঁড়াই।

মুমিন মানে সত্য বলার
অদম্য সাহস রাখা,
অন্যায় দেখে নীরবতার
দেয়াল না আর আঁকা।

মুমিন মানে লোভের কাছে
বিকিয়ে না যাওয়া,
অল্প পেয়েও কৃতজ্ঞতার
ফুলটি ফুটিয়ে তোলা।

মুমিন মানে ক্ষমা করা,
রাগকে জয় করা,
অহংকারের আগুন নিভিয়ে
বিনয় বুকে ধরা।

মুমিন মানে পিতা-মাতার
চোখের শীতল ছায়া,
মুমিন মানে সন্তানেরে
সততারই মায়া।

মুমিন মানে শিক্ষকের প্রতি
সম্মানেরই দীপ,
মুমিন মানে প্রতিবেশীর
অধিকার রাখা ঠিক।

মুমিন মানে কর্মক্ষেত্রে
সত্য রাখা অটুট,
ঘুষ-প্রতারণা ছেড়ে দিয়ে
চলার দৃঢ় সূত্র।

মুমিন মানে ব্যবসাতে
সঠিক ওজন দেওয়া,
কাউকে ঠকিয়ে ধন নয়,
হালাল রুজি চাওয়া।

মুমিন মানে কথার আগে
ভাবা শতবার,
একটি বাক্য ভেঙে দিতে
পারে কত সংসার!

মুমিন মানে প্রতিশ্রুতি
জীবন দিয়ে রাখা,
বিশ্বাস নামের অমূল্য ধন
না করা ফাঁকা।

মুমিন মানে অন্ধকারেও
সত্যের প্রদীপ জ্বলে,
মানুষ দেখে বলে তখন
"
মানুষ আলাদা চলে।"

যে হৃদয়ে নেকির সুখ,
পাপে ব্যথার ঢেউ,
সে হৃদয়ে আল্লাহর নূর
নিভে যেতে চায় না কেউ।

এই পৃথিবী ক্ষণিক মেলা,
ক্ষণিক সুখের গান,
স্থায়ী শুধু নেক আমলের
অমল সম্মান।

সোনা-রূপা, ধন-সম্পদ,
ক্ষমতারই শিখর
সবই একদিন মিলিয়ে যাবে
সময়েরই ভিড়।

রয়ে যাবে সৎকর্ম শুধু,
রয়ে যাবে নাম,
রহমতেরই ছায়াতলে
হবে তার অবিরাম।

তাই এসো আজ হৃদয় গড়ি
সত্যেরই আলোয়,
পাপের পথে না- বা গেলাম
মিথ্যার কালো ছায়ায়।

নেক কাজে যদি আনন্দ
জাগে অন্তরভূমি,
জেনো তবে আল্লাহর পথে
চলছ অবিরত তুমি।

ভুল হয়ে গেলে ভেঙে পড়ো না,
ফিরে এসো তাঁর দ্বারে,
ক্ষমার সাগর উথলে থাকে
করুণারই ধারায়।

এই তো মুমিন, এই তো জীবন,
এই তো সত্যপথ,
হৃদয় জুড়ে জাগুক সদা
ঈমানেরই রথ।

শেষ প্রহরে প্রার্থনা শুধু
হে পরম দয়াময়!
সৎকাজে দিও হৃদয়ভরা
অপরিসীম আনন্দময়।

অসৎ কাজে জাগাও মনে
অনুতাপের আলো,
তোমার প্রেমে গড়ে উঠুক
জীবন নির্মল ভালো।

হাশরের সেই মহাদিনে
যখন হবে বিচার,
সৎকর্মগুলো সাক্ষী হয়ে
করুক আমাদের পার।

আমিন।

***

মুমিন হৃদয়ের আলোকধারা

"তোমার সৎকাজ যদি তোমাকে আনন্দ দেয় এবং অসকাজ যদি তোমাকে কষ্ট দেয়, তবে তুমি মুমিন।"
মুসনাদে আহমদ (হযরত আবু উমামাহ রা. কর্তৃক বর্ণিত)

মানুষ চেনা যায় না কভু
বাহ্যিক রূপের ছায়ায়,
হৃদয় জাগে সত্যের আলোয়,
ঈমান তার পরিচয় পায়।

হাসিমুখে নামাজ পড়া
যথেষ্ট নয় কখনো,
অন্তর যদি আল্লাহভীত
না হয় বিনম্র, নম্র।

কত মুখে ঈমানের কথা,
কত মুখে ধর্মগান,
কত হৃদয় নীরব রাতে
হারায় সত্যের জ্ঞান।

মুমিন সে-, যার অন্তরে
জাগে বিবেক দীপ্তিমান,
নেকির সুবাসে যে হৃদয়
হয়ে ওঠে গুলিস্তান।

একটি সৎকাজ ফুটলে মনে
বসন্ত নামে নীরবে,
অন্তর যেন সিজদার সুখে
রবের স্মরণে ভরে।

ক্ষুধার্তকে অন্ন দিলে,
এতিম মাথায় হাত,
অশ্রুসিক্ত মুখে হাসি
ফোটালে শত প্রভাত

নিজের বুকেই প্রথম তখন
আনন্দ বাজায় বীণা,
মনে হয় যেন আল্লাহ দিলেন
রহমতের অমূল্য চীনা।

কারণ নেকি কেবল কাজ নয়,
রবের সান্নিধ্য-ডোর,
যেখানে দয়ার প্রতিটি ধ্বনি
পৌঁছে যায় আরশ ঘোর।

অথচ যদি ভুলের পথে
একটি পা- বাড়ে,
অন্তর কেন কেঁপে ওঠে
নিভৃত অশ্রুধারে?

কারণ সেখানে ঈমান এখনো
জেগে আছে প্রাণে,
রবের ডাকে ফিরে আসার
আকুলতা রয় টানে।

যে চোখ পাপের পরে কাঁদে,
সে চোখ ধন্য হয়;
যে প্রাণ তাওবায় নত হয়,
রহমতেরই স্রোত বয়।

পাথর হৃদয় পাপে হাসে,
অনুতাপ তার নেই;
জীবন্ত হৃদয় ভুলে কাঁদে,
ফিরে আসে আল্লাহর দেই।

এই কান্না পরাজয় নয়,
এই কান্না জয়ের গান,
এই অশ্রুতেই ধুয়ে যায়
অপরাধের অবসান।

ঈমান কোনো অলংকার নয়,
নয় মুখস্থ বচন,
ঈমান হলো অন্তর জুড়ে
রবের প্রতি সমর্পণ।

যেখানে সত্য দীপের মতো
অন্ধকারে জ্বলে,
যেখানে ন্যায়ের পতাকা উড়ে
ঝড়-তুফানের তলে।

যেখানে মানুষ মানুষকে
ভালোবাসে রবের তরে,
যেখানে ক্ষমা নদীর মতো
প্রবাহিত অন্তরে।

মুমিন মানে ধৈর্যের পর্বত,
সবর যার ঢাল,
বিপদ এলে ভেঙে না পড়ে,
রাখে আল্লাহর খেয়াল।

মুমিন মানে বিনয়ের বৃক্ষ,
ফলে নত যে শাখা,
মুমিন মানে সত্যের জন্য
ত্যাগের দীপ্ত রাখা।

***

মুমিন হৃদয়ের আলোকধারা

যে হৃদয়ে সত্যের আলো
নিভৃতে জ্বলে রয়,
সে হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন
রবেরই পরিচয়।

মানুষ শুধু মুখের ভাষায়
বিশ্বাসী হয় না কভু,
অন্তর জুড়ে ঈমান জাগে
সত্যের মহাপ্রভু।

চোখের জলে লুকিয়ে থাকে
অনুতাপের বাণী,
নেক আমলের হাসিমুখে
ফোটে জান্নাতখানি।

প্রভাত যেমন সূর্য পেয়ে
ছড়ায় সোনার রং,
ঈমান পেলে মানুষের প্রাণ
হয় অনন্ত সঙ্গ।

বাতাস যখন ফুল ছুঁয়ে যায়
ছড়ায় মধুর ঘ্রাণ,
নেক আমলের সুবাস তেমনি
ভরিয়ে দেয় প্রাণ।

একটি সত্য উচ্চারণে
যদি জাগে সুখ,
জেনো তবে অন্তরে তোমার
জেগে আছে মুখ।

একটি ক্ষুধার্ত শিশুর হাতে
রুটির টুকরো দান,
নিজের বুকেই ফিরিয়ে আনে
স্বর্গীয় সম্মান।

অসহায়ের চোখের জলে
মুছে দিলে ব্যথা,
নিজের হৃদয় পূর্ণ হয়ে
শোনে রহমতকথা।

মায়ের মুখে হাসি ফুটলে
সেবার বিনিময়ে,
রবের সন্তোষ নেমে আসে
অদৃশ্য আশিস হয়ে।

পিতার ক্লান্ত কাঁধে যদি
রাখো স্নেহের হাত,
সেই মুহূর্তে ঈমান গেয়ে
উঠে নীরব গাথা।

পথের ধারে কাঁটা সরিয়ে
দিলে যদি সুখ,
অন্তর জুড়ে ফুটে ওঠে
প্রশান্তিরই মুখ।

ক্ষমা যখন প্রতিশোধের
আগুন নেভায় ধীরে,
মানুষ তখন মানুষ হয়ে
ফিরে আসে নীড়ে।

যে হৃদয়টি অন্যের সুখে
হাসতে শেখে চুপে,
সেই হৃদয়েই নূরের ধারা
নামে রূপের রূপে।

ঈমান কোনো অলংকার নয়,
নয় মুখের বুলি,
ঈমান হলো সত্যের পথে
অবিচল চলি।

ঝড় এলে যে দীপ জ্বলে
দেয় না আলো হার,
মুমিন তেমনি অটল থাকে
রবেরই দ্বারপার।

অন্যায় দেখে নীরব থাকা
ঈমান শেখায় না,
ন্যায়ের ডাকে সাড়া দেওয়াই
মুমিনের চিহ্ন তা।

অল্প পেয়ে কৃতজ্ঞ থাকে
যে বিনম্র প্রাণ,
তারই হৃদয় বাগান জুড়ে
ফোটে ঈমান-জ্ঞান।

লোভের কাছে বিকায় না যে,
মিথ্যার কাছে নয়,
তারই বুকে আল্লাহভীতি
চিরসবুজময়।

দিনের শেষে নিজের কাজে
যখন করে বিচার,
ভুলের জন্য কাঁদে যে মন
সেই তো সত্যচার।

কারণ পাপের ক্ষতচিহ্নে
ব্যথা জাগে যেই,
জেনো তারই হৃদয়ভূমি
এখনো মরে নি।

যে ভুল করে ফিরে আসে
করুণারই দ্বারে,
রহমতের দরজা খোলে
অসীম অনুগ্রহধারে।

আকাশ জুড়ে নক্ষত্র যেমন
অন্ধকারে জ্বলে,
মুমিন তেমনি সত্যের আলো
বহন করে চলে।

দুনিয়া ক্ষণিক পথের ধূলি,
যাত্রাপথের গান,
স্থায়ী কেবল নেক আমলের
অমল সম্মান।

ধন-সম্পদ, মান-অভিমান
থাকবে না তো শেষে,
রয়ে যাবে সৎকর্ম শুধু
রবের প্রেমের দেশে।

এসো তবে হৃদয় গড়ি
পবিত্র বিশ্বাসে,
সত্য, ন্যায় আর মানবতার
অক্ষয় ইতিহাসে।

নেকির পথে আনন্দ যেন
প্রতিদিনই জাগে,
পাপের পরে অনুতাপও
অন্তর জুড়ে লাগে।

এই তো মুমিনএই পরিচয়,
এই তো শ্রেষ্ঠ ধন;
সৎকর্মে যার হাসে হৃদয়,
পাপে কাঁদে মন।

হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
করো অন্তর নির্মল;
নেক আমলে ভরিয়ে দাও
জীবন হোক উজ্জ্বল।

পাপের পথে যদি কখনো
ভুলে যাই হে রব,
তাওবার জলে ধুয়ে দিও
হৃদয়ের সব ক্ষত।

শেষ বিচারের মহাদিনে
দিও সম্মান
সৎকর্ম হোক সাক্ষ্য হয়ে,
রক্ষা পাক ঈমান।

আমিন।Top of FormBottom of Form

মন্তব্য করুন