সহকারী কম্পিউটার অপারেটর
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:১৯ অপরাহ্ণ
সহকারী কম্পিউটার অপারেটর
মাজেদুল হক বিরহের রুপকার
মাজেদুল হক,
বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলার সদর উপজেলায় পাটলী গ্রামে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা - এস এম কিতাব আলী, মাতা- বেগম আয়েশা খাতুন।
প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সমালোচকগণ কবি মাজেদুল হকের কবিতা সমালোচনা করতে গিয়ে, বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাঁকে "বিরহী কবি" উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
প্রিয়া হারানোর ব্যথায় ব্যথিত বিরহী কবি মাজেদুল হক জীবন যন্ত্রনায় বিরহের আবেগ প্রকাশ করিতে কবিতার ভাষায় লিখেছেন-
বিধির কিযে বিধান পারি না বুঝিতে ,
প্রিয়জন কেড়ে নিলো কঠোর নীতিতে ;
ব্যথার দু'টি পাহাড়,
শুধু হাহাকার -
সে কাঁদে আমিও কাঁদি ব্যথিত দু'জন,
বিয়ের নামে হয়েছে সে অপহরণ।
"অপহরণ" শিরোনামের কবিতাংশ
জোর করে অভিভাবক যখন কবির প্রিয়াকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয় তখন সেই প্রিয়তমা কবির জন্যে নিরবে কাঁদে আর প্রিয়ার এমন আবেগঘন খবর পেয়ে কবির চোখের কোণে জমে ওঠে বিরহের অশ্রু বিন্দু। উভয়ের ব্যথিত হৃদয়ের কথা বিবেচনায়, বিধির বিধান কে কবি মেনে নিয়েছেন এবং তাকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিয়েছেন।
প্রেমের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বিরহী কবি লিখেছেন -
বুঝেছি প্রেম আসলেই
স্রষ্টার অতুলনীয় দান,
তাই একজনের প্রতি
আরেক জনের আত্মার টান।
" প্রেম ' শিরোনামের কবিতাংশ
প্রিয়া হারানোর শোকে ব্যথিত বিরহী কবি সামাজিক ন্যায় নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজেকেই দোষারোপ করে, নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে তিনি লিখেছেন -
ব্যর্থতা এটা বলিনি ভাষায়,
কিছুদিন তুমি থাকিও আশায়;
লুকোচুরি খেলা,
না পেয়ে আমায় তুমি চলে গেলা।
যদিও অভিভাবক কবির প্রিয়াকে জোরপূর্বক অন্যত্র বিয়ে দিয়েছে কিন্তু কবি ধরে নিয়েছেন যেহেতু পরের ঘরে থেকেও কবির জন্যে কাঁদে তাহলে অপেক্ষায় থাকার আশ্বাস দিলে অবশ্যই অপেক্ষায় থাকিতো,এমন শপথ না দেওয়াই বিচ্ছেদের কারণ হয়েছে।
সম্পর্ক বিচ্ছেদের পরে যখন আবার দুজনের সাক্ষাৎ হয় কিন্তু সামাজিক বিধিনিষেধ থাকায় কথোপকথনের সুযোগ হয়নি সেই মুহূর্তের কথা বিরহী কবি তার " সাক্ষাৎ " শিরোনামের কবিতায় লিখেছেন -
থাকিতে হায়াৎ ,
কভু দুজনে কি হবে সাক্ষাৎ ?
নিয়ে গেল তাঁকে নিদয়ার মত,
সে তাকায় ফিরে তাই চেয়ে থাকি হৃদয়ে রয়েছে ক্ষত।
ভাগ্যক্রমে দেখা হলেও তাঁর জীবন সঙ্গী তাকে আগলিয়ে নিয়ে যায়, অনেক চেষ্টায় চোখে চোখ রাখার সুযোগ হলেও কথা বলার মতো পরিবেশ না থাকায় বিরহী কবির মনে ব্যথার ক্ষত রয়ে যায়।
হারানো প্রিয়ার মায়াবী অবয়ব যখন চোখে ভাসে বিরহী কবি তাঁর " প্রীতির বন্ধন " শিরোনামের কবিতার লিখেছেন -
প্রীতির বন্ধন,
কেন হয়েছে এমন ?
দু'জন আছি দু'দেশে কিযে অপরাধে,
দু'জনের হৃদয় যে এখনও কাঁদে।
প্রকৃত প্রেম কখনও ভুলা যায় না এটাই নিয়ম, এটাই স্বাভাবিক তাই বিরহী কবির বিরহের রূপ দীর্ঘায়িত হয়, মনের গহীনে বাঁশি বাজে বিরহের করুণ সুরে।
বিরহী কবি শুধু প্রিয়া হারানোর ব্যথায় ব্যথিত নয়,সমাজের সুবিধা বঞ্চিত অসহায় মানুষের কষ্টের আর্তনাদ অবলীলায় তুলে ধরেছেন তাঁর কবিতায়।
হতদরিদ্র কৃষকের অভাব অভিযোগের বিষয় কবিকে ব্যথিত করেছেন এবং " বর্গাচাষী" শিরোনামের কবিতায় লিখেছেন -
খড়ের ছাউনি চালে পাটখড়িতে বেড়া,
বর্ষাকালে বৃষ্টি পড়ে ঘর ভিজে নেড়া।
এবং
কার্তিক চৈত্রে উপোষ জুটে না খাবার,
বাজার হতে কিনিয়া আনিছে আহার।
প্রকৃত পক্ষে প্রান্তিক কৃষকের এমন অবস্থা নিত্যদিনের। বিরহী কবি বর্গাচাষি কবিতায় চাষির দুর্ভোগের বিষয় টা সুনিপুণ ভাবে উপস্থাপন করেছেন।
মানুষের সাথে মানুষের ভেদাভেদ হিংসা নিন্দা এসব না করার জন্যে বিরহী কবি " সহানুভূতি " শিরোনামের কবিতার লিখেছেন -
স্রষ্টার কাছে মানুষ সবাই সমান,
রক্তে মাংসে গড়া দেহ নাহি ব্যবধান।
অন্ধ ল্যাংড়া হাবা বোবা যত সৃষ্টি ভবে,
স্রষ্টা করেছেন সৃষ্টি বিভেদ কি তবে ?
সমাজের যেখানেই কষ্ট, ব্যথা, বিচ্ছেদ সেখানেই বিরহী কবির কাব্যিক প্রয়াস, বিরহের প্রতিচ্ছবি তোলে ধরেছেন কবিতায়।
বিরহের রূপ কবির কবিতায় সুনিপুণ ভাবে উপস্থাপন করেছেন বলে, পাঠক নন্দিত বরেণ্য কবি মাজেদুল হক কে বিরহের রুপকার বলে আখ্যায়িত করেছেন পাঠক সমাজ। প্রকৃত পক্ষে মাজেদুল হক বিরহের রুপকার তাই সাহিত্যাঙ্গণে বিরহী কবি মাজেদুল হক সমাদৃত।
১৩
১৫ মন্তব্য