Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষনীয় গল্প
এক বনের ধারে এক কাঠুরে বাস করত। সে ছিল অত্যন্ত দয়ালু। একদিন তীব্র শীতের সকালে কাঠুরে বনের মধ্যে কাঠ কাটতে গেল। বরফঢাকা রাস্তার পাশে সে দেখল একটি সাপ ঠান্ডায় জমে প্রায় মরে যাচ্ছে। সাপটি নড়াচড়া করার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছিল।
সাপের এই অবস্থা দেখে কাঠুরের খুব মায়া হলো। সে জানত সাপ বিষাক্ত, তবুও তার দয়ালু মন সাপটিকে মরতে দিতে চাইল না। সে সাবধানে সাপটিকে কুড়িয়ে নিজের চাদরের নিচে উষ্ণতায় জড়িয়ে নিল এবং বাড়ি নিয়ে এলো।
বাড়িতে এনে কাঠুরে চুলার পাশে সাপটিকে রাখল এবং তাকে গরম দুধ খেতে দিল। আগুনের ওম এবং দুধ খাওয়ার পর সাপটি ধীরে ধীরে সুস্থ ও সতেজ হয়ে উঠল। সে তার স্বাভাবিক হিংস্র রূপ ফিরে পেল।
ঠিক তখনই কাঠুরের ছোট ছেলেটি সাপটিকে কৌতূহল নিয়ে দেখতে কাছে এলো। সুস্থ হয়েই সাপটি তার সহজাত কুটিল স্বভাবের কারণে উপকারীর কথা ভুলে গেল। সে ফণা তুলে কাঠুরের নিষ্পাপ ছেলেটিকে কামড় দিতে উদ্যত হলো।
কাঠুরে দূর থেকে এটি দেখে ফেলল। সে বুঝতে পারল, কিছু স্বভাবের কখনো পরিবর্তন হয় না এবং উপকারীর অপকার করাই এদের চরিত্র। সে কালবিলম্ব না করে হাতের লাঠি দিয়ে সাপটিকে আঘাত করল এবং তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল। সাপটি তার কৃতঘ্নতার কারণে আবার সেই তীব্র ঠান্ডার মধ্যেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়ল।
গল্পের শিক্ষা:
দুষ্ট ও কুটিল স্বভাবের মানুষ বা প্রাণীকে যতই দয়া করা হোক না কেন, সুযোগ পেলে তারা উপকারীর ক্ষতি করতে দ্বিধা করে না। তাই অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস করার আগে তার চরিত্র চেনা জরুরি। বিশ্বাসঘাতকতার শেষ পরিণতি সবসময় লজ্জাজনক ও কষ্টের হয়।
মন্তব্য করুন

ব্লগ