সহকারী অধ্যাপক
১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
স্বপ্নের দিকে চলো - মোঃ মুজিবুর রহমান
স্বপ্নের দিকে চলো
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
ভয়কে নয়, দেখো সামনে
আলোর ভোরের ডাক,
স্বপ্ন বুকে জাগিয়ে তোলো
অটল সাহস পাক।
যে মানুষটি পথ হারিয়েও
লক্ষ্য ধরে রয়,
ঝড়ের মুখেও সে-ই শেষে
জয়মালাটি পায়।
অন্ধকারের ভয় দেখিয়ে
রাত যতই হাসে,
সূর্য তবু সময়মতো
পূব আকাশে ভাসে।
জীবন যেন বিশাল সাগর,
ঢেউয়ের নেই শেষ;
হাল ছেড়ে যে বসে থাকে,
তারই হয় সর্বনাশ।
চোখের ভেতর স্বপ্ন রাখো,
হৃদয় ভরো গান;
সাহস নিয়ে এগিয়ে চলাই
সফলতার প্রাণ।
যা কিছু চাই, তাকে ঘিরেই
গড়ে তুলি মন,
ভয়ের পিছু ছুটতে গেলে
ম্লান হয় জীবন।
মন যেখানে নিবদ্ধ থাকে,
কাজও সেদিকে যায়;
সুন্দর স্বপ্ন, শুভ প্রত্যয়
সাফল্য এনে দেয়।
নদী যেমন সাগর পানে
অবিরাম ছুটে,
স্বপ্নবাজও লক্ষ্যের টানে
কখনো না ফুটে।
যে কৃষকটি বীজ বুনেছে
প্রচণ্ড রৌদ্র সয়ে,
ফসল পেয়ে হাসিমুখে
ফিরে আসে ঘরে।
বীজের ভেতর লুকিয়ে থাকে
অগণিত বনানী,
বিশ্বাস যার অন্তরে রয়
সফল হয় তিনি।
শিশুর প্রথম হাঁটার পথে
কতবার সে পড়ে!
তবু আবার উঠে দাঁড়ায়
আশার হাতটি ধরে।
তাই তো মানুষ বড় হয়
হাজার ভুলের ভিড়ে,
হার না মানার অঙ্গীকারে
দাঁড়ায় নতুন নীড়ে।
ভয় যদি হয় পথের সাথি,
গতি হবে ক্ষীণ;
আশা যদি পথ দেখায়,
জয় হবে সুনিশ্চিত।
আকাশজোড়া মেঘের নিচে
রোদ লুকিয়ে রয়;
ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করো—
আলো আবার হয়।
পাহাড় ডিঙায় ঝরনার ধারা
থামে না কোনোদিন;
সফল মানুষ তেমনি এগোয়
দৃঢ় সংকল্পে লীন।
যে শিক্ষার্থী বইকে ভালোবেসে
স্বপ্ন দেখে দূর,
তারই হাতে একদিন ধরা
সাফল্যের সুর।
যে শ্রমিক ঘামে ভেজায়
তার দিনের প্রতিক্ষণ,
তারই ঘামে গড়ে ওঠে
সভ্যতার ভুবন।
শিল্পীর তুলির প্রতিটি টানে
স্বপ্নেরই প্রকাশ,
হাজার ব্যর্থতা পেরিয়ে
আসে সোনালি আভাস।
বিজ্ঞানীরও কত পরীক্ষা
হয়নি প্রথম জয়;
তবু অধ্যবসায়ের কাছে
ব্যর্থতা নত হয়।
ইতিবাচক প্রতিটি ভাবনা
জাগায় নতুন প্রাণ,
মেঘের আড়াল ভেদ করে দেয়
সূর্যেরই গান।
আজ যে তুমি ছোট্ট পথে
নীরবে চলছ ধীর,
আগামীরই ইতিহাসে
হতে পারো বীর।
অন্যের সাফল্য দেখে
হিংসা নয়, প্রেরণা নাও;
নিজের শক্তি চিনে নিয়ে
সামনের দিকে চাও।
সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত
অমূল্য এক ধন,
যে তা কাজে লাগাতে জানে
উজ্জ্বল তার জীবন।
অলসতা এক নীরব শত্রু,
স্বপ্ন করে ক্ষয়;
পরিশ্রমের দীপ্ত আগুন
সব অন্ধকার জয়।
কাঁটার মাঝেই গোলাপ ফোটে,
শুকনো ডালে কুঁড়ি;
ধৈর্য যার হৃদয়ভরা
তারই জয় নিশ্চিত।
নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখো,
রাখো সৎ উদ্দেশ্য;
ভালো কাজে নিবিষ্ট হলে
জীবন হয় শ্রেষ্ঠ।
হৃদয়ে যদি শুভ চিন্তার
জ্বলে অবিরাম দীপ,
পথের শেষে ফুটবেই একদিন
সফলতার নীড়।
ঝড়ের মুখে বৃক্ষ যেমন
শিকড় আঁকড়ে রয়,
দৃঢ় মনও তেমনি থেকে
বিপদকে করে জয়।
শুধু ইচ্ছা নয়, প্রয়োজন
সৎকর্ম আর সাধনা;
স্বপ্নকে যে কর্মে গড়ে,
তারই জয়গাথা।
ভয়কে যদি খাদ্য দাও,
ভয়ই হবে বড়;
স্বপ্ন যদি সেচ দাও তুমি,
স্বপ্ন হবে ঘর।
হাসিমুখে পথ চলাটা
বিজয়েরই রীতি;
নম্রতা আর মানবতায়
বাড়ে সত্য প্রীতি।
মানুষ যত কল্যাণমুখী,
ততই বাড়ে মান;
নিজের উন্নতির সঙ্গে
গড়ুক দেশের প্রাণ।
লক্ষ্য যেন থাকে নির্মল,
উদ্দেশ্য হোক শুভ;
সাফল্যের প্রতিটি ধাপে
জাগুক নৈতিক রূপ।
মিথ্যা নয়, সত্যের পথে
চলুক প্রতিটি প্রাণ;
সততাই হোক জীবনের
অমল পরিচয়।
জ্ঞান, শ্রম আর অধ্যবসায়
তিনটি উজ্জ্বল দীপ;
এই তিনে যে পথ চলে
তারই জীবন স্নিগ্ধ।
স্বপ্ন কেবল কল্পনা নয়,
স্বপ্ন কর্মের ডাক;
আজকের ছোট্ট পদক্ষেপই
আগামীর মহাপাক।
চেতন মনকে আলোকিত করো
আশার দীপ জ্বেলে;
সাফল্য তখন হাত বাড়াবে
হাসিমুখে মেলে।
ভয় নয়, চাই আলোর দিশা,
চাই সত্যের জয়;
মানবতার মহাসড়কে
চলুক সবার নৌকায়।
প্রতিটি সকাল নতুন সুযোগ,
প্রতিটি দিন দান;
আজই শুরু হোক জীবনের
সুন্দর অভিযাত্রা মহান।
যে মানুষটি লক্ষ্য নিয়ে
অবিচল পথিক হয়,
তার জীবনই একদিন
অসংখ্য প্রাণের জয়।
তাই বলি আজ, ভয়কে ছেড়ে
স্বপ্নকে করো সাথি;
আশা, শ্রম আর অধ্যবসায়ে
খুলবে সাফল্যের বাতি।
মনকে দাও মহৎ চিন্তা,
কর্মে আনো শৃঙ্খলা;
তবেই ফুটবে জীবনের বনে
সার্থকতার বকুলতলা।
স্বপ্ন দেখো, কাজও করো,
সাহস রাখো প্রাণে;
সাফল্যের মূলমন্ত্র এই—
লক্ষ্য থাকুক জ্ঞানে।
ভয় নয়, চাই আলোকময়
জাগ্রত চেতনার জয়;
যে মন স্বপ্নকে ধারণ করে,
সফলতা তারই হয়।
***
স্বপ্নের দিকে চলো
ভয়কে নয়, স্বপ্নকে ভালোবাসো,
আলোকে করো আপন;
যে মন জাগে মহৎ লক্ষ্যে,
সে-ই তো জাগায় জীবন।
যেখানে আশা দীপ জ্বালে,
সেখানে আঁধার হারে;
বিশ্বাস যার বুকের মাঝে,
সে-ই জয় ছিনিয়ে আনে।
চেতনার এই নির্মল আকাশ
মেঘে রেখো না ঢেকে,
লক্ষ্য যদি থাকে সুস্পষ্ট,
পথই খুলবে থেকে থেকে।
মানুষ আগে জেতে মনে,
তারপর কর্মক্ষেত্রে;
স্বপ্ন আগে জন্ম নেয়,
তারপর বাস্তবপথে।
যে বীজ আজ মাটির নিচে
নিভৃতে ঘুমিয়ে রয়,
কাল সে-ই হবে মহীরুহ,
সবুজ পাতায় সয়।
ঝড়ের কাছে মাথা নোয়ায়
শুকনো দুর্বল শাখা,
প্রাণবন্ত যে অঙ্কুরটি,
সে-ই তো খোঁজে ফাঁকা।
পর্বত দেখে থামে না নদী,
সাগরেরই টানে;
লক্ষ্যবানও তেমনি এগোয়
অটল আত্মপ্রাণে।
যে নাবিকের দৃষ্টি থাকে
দূরের বাতিঘরে,
তুফান এলেও পথ খুঁজে নেয়
অসীম সাহস ভরে।
আকাশজোড়া নক্ষত্রেরা
রাত্রিকে দেয় মান,
অসংখ্য ছোট্ট আলোর বিন্দু
রচে নতুন ভোরের গান।
ভয় কেবলই মনের ছায়া,
বাস্তব নয় সব;
সাহস যদি জেগে ওঠে,
জয় হয় অনবদ্য।
যে ছাত্রটি প্রতিদিনই
শেখে নতুন পাঠ,
তারই হাতে একদিন ওঠে
জয়ের সোনার কাঠ।
যে কৃষকটি ঘাম ঝরিয়ে
চাষে সোনার ধান,
তারই ঘামে বেঁচে থাকে
দেশের প্রতিটি প্রাণ।
যে শ্রমিকের রক্তঘামে
গড়ে নগর-গ্রাম,
তারই হাতে সভ্যতার
উন্নতির পরিণাম।
শিল্পীর তুলির প্রতিটি আঁচড়
স্বপ্নেরই ভাষা,
হাজার ব্যর্থতা শেষে
জাগে সফল আশা।
বিজ্ঞানীর দীর্ঘ গবেষণায়
কত শত রাত যায়,
একটি আবিষ্কারের হাসি
মানবসভ্যতা পায়।
ভয়কে যদি পুষে রাখো,
শিকল হবে পায়ে;
স্বপ্ন যদি লালন করো,
আকাশ নামবে গায়ে।
সময়ের প্রতিটি ক্ষণ
অমূল্য এক দান,
যে তা জ্ঞানে কাজে লাগায়
উজ্জ্বল তার প্রাণ।
অলসতা এক নীরব বিষ,
স্বপ্নকে করে ক্ষয়;
পরিশ্রমের অগ্নিশিখা
সব অন্ধকার জয়।
সততা যার পথের সাথি,
বিনয় যার ঢাল,
তাকে রুখে দাঁড়াতে পারে
না কোনো জঞ্জাল।
নিজের প্রতি আস্থা রাখো,
হৃদয় রাখো পবিত্র;
মহৎ কাজে নিবেদিত প্রাণ
হয় ইতিহাসের চিত্র।
হিংসা নয়, প্রেরণা নাও,
দেখো সবার ভালো;
অন্যের জয়ে উৎসব করে
নিজের পথও চালো।
লক্ষ্য যদি নির্মল থাকে,
উদ্দেশ্য যদি শুভ,
প্রতিটি পদে ফুটে ওঠে
মানবতার রূপ।
জ্ঞান, শ্রম আর অধ্যবসায়—
তিনটি অমর দীপ;
এই তিন আলোয় জীবন গড়ে
হয় সুদৃঢ়, স্নিগ্ধ, স্নেহদীপ।
স্বপ্ন শুধু কল্পনা নয়,
স্বপ্ন কর্মের ডাক;
আজকের ক্ষুদ্র পদক্ষেপেই
আগামীর মহালেখ।
চেতনাকে করো জাগ্রত,
আশায় ভরো মন;
যে মন স্বপ্নে দীপ্ত থাকে,
সফল হয় সে-জন।
ঝড় থেমে যায়, রাত ফুরোয়,
সূর্য ওঠে শেষে;
ধৈর্য যার অন্তরে জাগে,
জয় আসে তার দেশে।
এসো তবে ভয় ভুলে গিয়ে
স্বপ্নকে করি সাথি,
সাহস, শ্রম আর সাধনায়
জ্বালাই আশার বাতি।
মানুষ হোক মানুষের আপন,
হোক হৃদয় উদার;
নিজের সাফল্যের সঙ্গে
গড়ি মানবতার দ্বার।
যে মন চায় সত্যের পথে
আলোকিত অভিযাত্রা,
তারই নামে রচিত হয়
ইতিহাসের মাত্রা।
তাই বলি আজ—
ভয়কে নয়, লক্ষ্যকে ভালোবাসো;
নেতিবাচক সব অন্ধকার
আলোক দিয়ে ভাসাও।
স্বপ্নই হোক জীবনের দিশা,
সত্য হোক পথের জয়;
যে মন চায় মহৎ ভবিষ্যৎ,
সাফল্য তারই হয়।
স্বপ্নের দিকে এগিয়ে চলা
থেমে থাকার নাম নয়;
প্রতিটি শুভ সংকল্প শেষে
মানবজীবনের জয়।
***
স্বপ্নের দিকে চলো
ভয়কে নয়, স্বপ্নকে চেনো,
স্বপ্নেই জীবনের জয়;
যে মন আশা আঁকড়ে ধরে,
হার তার কভু নয়।
যেখানে লক্ষ্য দীপ জ্বালায়,
সেখানে জাগে ভোর;
অন্ধকারের বুক চিরে যায়
আলোর অমৃতঘোর।
মানুষ আগে জেতে মনে,
পরে জেতে পথে;
চেতনারই বিজয়রথ
ছুটে চলে রথে।
যা কিছু চাও, হৃদয় ভরে
তারই ছবি আঁকো;
ভয়ের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলে
নতুন জীবন ডাকো।
ভয় কখনো পথ দেখায় না,
দেয় না শুভ দিশা;
স্বপ্নই শুধু জাগিয়ে তোলে
আলোকময় আশা।
যে পাখিটি ডানা মেলে
নীল আকাশে যায়,
ঝড়ের গর্জন শুনেও কিন্তু
থেমে থাকে না হায়।
যে নদীটি পাহাড় ভেঙে
সাগরপানে ধায়,
অবিরাম সেই অভিযাত্রায়
জীবনের গান গায়।
বটের বীজে লুকিয়ে থাকে
অরণ্যেরই রূপ,
ক্ষুদ্র আশা একদিন হয়
অসীম সম্ভাবনার ধূপ।
কৃষকের হাতে ধানের চারা,
ঘামে ভেজা দিন;
পরিশ্রমের প্রতিটি ফোঁটায়
লুকিয়ে থাকে ঋণ।
যে ছাত্রটি প্রতিদিনই
জ্ঞানকে করে ধ্যান,
একদিন সে আলোকিত করে
দেশ ও মানবপ্রাণ।
বিজ্ঞানীর সেই নির্ঘুম রাত,
অগণিত পরীক্ষা—
একটি সফল আবিষ্কারে
হাসে বিশ্বের রেখা।
শিল্পীর তুলির প্রতিটি টানে
স্বপ্ন কথা কয়,
অন্তর হতে উৎসারিত
সৌন্দর্যের জয়।
ভাস্করের হাতুড়ির ঘায়ে
পাথর পায় প্রাণ,
অধ্যবসায় শেখায় কেমন
জাগে সৃষ্টিগান।
আকাশভরা নক্ষত্রেরা
রাত্রির বুকে হাসে,
অসংখ্য ক্ষুদ্র আলোর রেখা
নতুন ভোরের আশে।
ভয় কেবলই ক্ষণিক মেঘ,
স্থায়ী নয় কখনো;
সাহস যদি জেগে ওঠে,
সূর্য হাসে তখনও।
অলসতা এক নিঃশব্দ শত্রু,
স্বপ্ন করে ক্ষয়;
পরিশ্রমের জ্বলন্ত প্রদীপ
অন্ধকারকে জয়।
সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত
অমূল্য এক ধন,
যে তা কাজে লাগাতে শেখে
সার্থক তার জীবন।
হিংসা নয়, অনুপ্রেরণাই
হোক চলার সাথি;
অন্যের জয়ে খুঁজে নাও
নিজের পথের বাতি।
সততা যার জীবনজুড়ে,
বিনয় যার মান,
মানুষ তার শ্রদ্ধায় গড়ে
অমল সম্মান।
ভালোবাসা শক্তি দেয়,
ক্ষমা শেখায় প্রাণ;
মানবতার স্পর্শে গড়ে
সুন্দর পৃথিবীখান।
কাঁটার মাঝেই গোলাপ ফোটে,
শুষ্ক ডালে কুঁড়ি;
বিপদ পেরিয়ে মানুষ শেখে
জীবনেরই সুরই।
ঝড়ের রাতে দীপ জ্বালিয়ে
যে রাখে অবিচল,
ভোরের আলো তারই ঘরে
হাসে অবিরল।
লক্ষ্য যদি থাকে নির্মল,
উদ্দেশ্য হয় শুভ,
প্রতিটি পদে ফুটে ওঠে
মানবতার রূপ।
নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখো,
রাখো দৃঢ় মন;
সৎকর্মেই ফুটে ওঠে
সার্থক জীবন।
স্বপ্ন শুধু কল্পনা নয়,
স্বপ্ন কর্মের ডাক;
আজকের ক্ষুদ্র পদক্ষেপেই
আগামীর মহাপাক।
চেতনাকে করো জাগ্রত,
আশায় ভরো বুক;
দৃঢ় প্রত্যয়, অক্লান্ত শ্রম
দূর করবে সব দুঃখ।
ভয়কে যদি সিংহাসনে
বসাও দিনের পর দিন,
সাফল্যের দুয়ার তখন
থাকে বহু দূর বিন।
স্বপ্ন যদি হৃদয়ে রাখো,
কর্মে দাও তার রূপ,
তোমার জীবন একদিন হবে
আলোর মহারূপ।
ঝরনার ধারা শেখায় কেমন
থেমে থাকা নয়,
পাথর ভেঙে পথ বানানো
জীবনেরই জয়।
সূর্যমুখী ফুলের মতো
আলোর দিকে চাও,
অন্ধকারের হিসাব ছেড়ে
নতুন প্রভাত পাও।
নাবিক যেমন দূর দিগন্তে
বাতিঘরই দেখে,
তেমনি মানুষ লক্ষ্য নিয়ে
এগিয়ে চলে একে।
পর্বত ডিঙায় অভিযাত্রী,
ক্লান্ত তবু নয়;
আত্মবিশ্বাস পথ দেখালে
অসম্ভবও জয়।
জ্ঞান, শ্রম আর অধ্যবসায়—
এই তিন অমূল্য রতন;
যার জীবনে এদের বাস,
সফল তার জীবন।
সত্য হোক প্রতিটি বাণী,
ন্যায় হোক পরিচয়;
মানুষ হয়ে মানুষেরই
হোক জীবনের জয়।
যে মন চায় কল্যাণ শুধু,
ঘৃণা যার নয়,
তারই হাতে গড়ে ওঠে
আগামীর পরিচয়।
এসো তবে শপথ করি,
ভয়কে দেব বিদায়;
স্বপ্ন দিয়ে গড়ব জীবন,
জাগবে নব প্রভায়।
শিশুর হাসি, তরুণ প্রাণ,
প্রবীণের অভিজ্ঞতা—
সবাই মিলে গড়ব আমরা
সাফল্যের মানবতা।
আজকের শ্রম, আগামী ফল,
এটাই চিরসত্য;
অক্লান্ত সাধনায় ফুটে ওঠে
সফলতার নিত্য।
তাই বলি আজ—
স্বপ্নকে করো জীবনের ধ্রুবতারা,
লক্ষ্যকে করো পথের আলো,
সততাকে করো সহচর;
ভয়কে নয়,
আশাকে বরণ করো।
কারণ—
যে মন ভয়কে পরাজিত করে,
সে-ই ইতিহাস লেখে;
যে মন স্বপ্নকে সত্য করে,
সে-ই পৃথিবীকে বদলে দেয়।
চলো তবে—
স্বপ্নের দিকে,
আলোর দিকে,
সত্যের দিকে,
সাফল্যের দিকে।
মানুষের কল্যাণে,
দেশের উন্নতিতে,
নিজের উৎকর্ষে,
এগিয়ে যাক প্রতিটি প্রাণ।
স্বপ্ন হোক সাহসের ভাষা,
কর্ম হোক তার পরিচয়;
চেতন মনে লক্ষ্য স্থির—
সাফল্য তখন অনিবার্য জয়।
***
স্বপ্নের দিকে চলো
ভয়কে নয়, স্বপ্নকে ভালোবাসো,
আলোর পথেই চলো;
অন্ধকারের শৃঙ্খল ভেঙে
নবজীবনের দিশা খোঁজো।
যে মন নিজের লক্ষ্য জানে,
সে মন কখনো হারে না;
ঝড়ের মুখে দীপশিখার মতো
নিজের আলো নেভায় না।
আকাশভরা মেঘের নিচে
সূর্য যেমন রয়,
তেমনি আশা হৃদয়ে জাগে,
হার মানে না কভু সয়।
জীবন শুধু সময়ের স্রোত নয়,
জীবন অঙ্গীকার;
সত্য, সাধনা, শ্রমের মাঝে
লুকিয়ে থাকে জয়ের দ্বার।
মানুষ আগে জয়ী হয়
নিজের অন্তর-মাঝে,
তারপর সে ইতিহাস লেখে
পৃথিবীরই সাজে।
যা কিছু তুমি সত্যিই চাও,
চেতনায় তার ছবি আঁকো;
ভয়ের কালো ছায়া মুছে
আশার প্রদীপ জ্বালাও।
স্বপ্ন মানে অলস কল্পনা
নয় তো নিছক ভাব;
স্বপ্ন মানে জেগে থেকে
সৃষ্টি করা নতুন অভাব।
যে অভাব পূরণের তাগিদ
মানুষকে করে মহান,
সেই তাগিদেই রচিত হয়
সভ্যতার অভিযান।
বীজের বুকে ঘুমিয়ে থাকে
অরণ্যের বিস্তার;
একটি ছোট্ট সম্ভাবনায়
লুকায় ভবিষ্যৎ অপার।
শিশুর প্রথম পদক্ষেপে
থাকে না কোনো ভয়,
বারবার পড়ে উঠে দাঁড়ায়—
সেখানেই জীবনের জয়।
নদী জানে সাগর কোথায়,
তাই সে বহে চলে;
শিলাখণ্ডও থামাতে পারে না
তার নিরন্তর ছলে।
পাখি জানে আকাশ ডাকে,
তাই সে ডানা মেলে;
দিগন্তজোড়া নীলের বুকে
আশার সুরই খেলে।
যে কৃষক রৌদ্র মাথায় নিয়ে
মাটির বুকে বীজ বোনে,
শস্য হয়ে সেই পরিশ্রম
হাসে সোনালি ক্ষণে।
যে ছাত্র প্রতিদিন শেখে,
ভুলকে করে জয়,
তারই হাতে আগামী দিনের
উন্নতির পরিচয়।
বিজ্ঞানীর নির্ঘুম চোখে
জ্বলে অনুসন্ধান;
একটি সত্য আবিষ্কারে
আলোকিত হয় প্রাণ।
শিল্পীর রঙ, কবির ভাষা,
সুরকারের গান—
সবই মানুষের স্বপ্নবোনা
অমর অবদান।
ভাস্করের হাতুড়ির আঘাত
পাথরকে দেয় প্রাণ;
অধ্যবসায় শেখায় মানুষ
অসম্ভবের জয়গান।
ভয় কেবলই মনের ছায়া,
স্থায়ী নয় কখনো;
সাহস যদি জেগে ওঠে,
সূর্য হাসে তখনও।
অলসতা এক নীরব শত্রু,
সময় চুরি করে;
পরিশ্রমের দীপ্ত অগ্নি
স্বপ্নকে সত্য গড়ে।
হিংসা নয়, অনুপ্রেরণা
হোক চলার সাথি;
অন্যের জয়ে খুঁজে নাও
নিজের পথের বাতি।
সততা হোক পথের পাথেয়,
বিনয় হোক অলংকার;
সত্যকে যেই আপন করে,
জয় থাকে তার দ্বার।
ভালোবাসা শক্তি দেয়,
ক্ষমা শেখায় মন;
মানবতার মমতায় গড়ে
সুন্দর ভুবন।
লক্ষ্য যদি নির্মল থাকে,
উদ্দেশ্য যদি শুভ,
প্রতিটি পদে ফুটে ওঠে
কল্যাণময় রূপ।
জ্ঞান, শ্রম, অধ্যবসায়—
তিনটি দীপ্ত তারা;
যার জীবন এই আলোয় ভরা,
সে-ই জয়ী সারা।
এসো তবে শপথ করি,
ভয়কে দেব বিদায়;
স্বপ্ন দিয়ে গড়ব ভবিষ্যৎ,
জাগুক নব প্রভায়।
স্বপ্ন হোক সাহসের ভাষা,
কর্ম হোক পরিচয়;
চেতন মনে লক্ষ্য স্থির—
সাফল্য তখন অনিবার্য জয়।
১৩
১৫ মন্তব্য