সহকারী অধ্যাপক
১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
রবের সন্তুষ্টি -মোঃ মুজিবুর রহমান
রবের সন্তুষ্টি
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
(সূরা আল-বাইয়্যিনাহ ৬–৮-এর ভাবানুসারে)
মানুষের ভিড়ে মানুষ কত,
রূপে সবাই প্রায় সমান;
তবু হৃদয়ের বিশ্বাস, কর্ম,
বদলে দেয় পরিচয়, সম্মান।
কেউ আঁধারে হারায় পথ,
অহংকারে করে বসতি;
কেউ ঈমানের দীপ জ্বেলে
গড়ে তোলে শুভ গতি।
কেউ ভুলে যায় আপন রবকে,
ভুলে যায় হিসাবের দিন;
ক্ষণিক সুখের মোহে ডুবে
হারায় জীবনের রঙিন ঋণ।
কেউ আবার নত কপালে
সিজদায় ভেজায় চোখের জল,
নীরব রাতে ডাকে প্রভুকে—
"হে দয়াময়, করো সম্বল।"
যে হৃদয়ে জাগে ঈমান,
যে হাতে থাকে সৎকর্ম,
সে-ই তো মানুষ সত্যিকার,
সে-ই জীবনের শ্রেষ্ঠ ধর্ম।
ধন নয়, পদ নয়, যশ নয়,
বাহ্যিক রূপের নয় মূল্য;
মানুষ বড় হয় তখনই,
যখন চরিত্র হয় নির্মল।
সৃষ্টির মাঝে শ্রেষ্ঠ সে জন,
যার অন্তরে আলোর দীপ;
যার কথাতে সত্যের সুর,
যার কর্মে কল্যাণের নীপ।
যে মিথ্যাকে ভয় পায় না,
বরং মিথ্যাকে করে পরাজয়;
ন্যায়ের পথে দৃঢ় পায়ে
অটল থাকে নির্ভয়।
যে ক্ষমা করে, ভালোবাসে,
রাগকে রাখে সংযত করে;
অন্যের সুখে হাসতে শেখে,
দুঃখ ভাগায় আপন ঘরে।
যে এতিমের মাথায় হাত রাখে,
ক্ষুধার্তকে দেয় আহার;
অসহায়ের চোখের জলে
শোনে মানবতার আহ্বান।
যে পিতামাতার সেবা করে,
শিক্ষককে দেয় সম্মান;
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা
মনে করে ঈমানের প্রাণ।
যে প্রতিবেশীর অধিকারে
অন্যায় করে না কখনো;
গোপনে দান করে হাসিমুখে,
চায় না কোনো বাহবা।
যে কথা রাখে, অঙ্গীকার মানে,
বিশ্বাস ভাঙে না কভু;
মানুষ দেখে বলে তখন—
"এ মানুষ সত্যিই প্রভুভীরু।"
প্রভুভীতি ভয়ের নাম নয়,
এ ভালোবাসার আলো;
যেখানে থাকে রবের স্মরণ,
সেখানে জীবন ভালো।
এই ভয় মানুষকে শেখায়
অন্যায় থেকে ফিরতে;
নিজের ভুলে কাঁদতে শেখায়,
তওবার পথে চলতে।
যে জানে—
প্রতিটি কথা লেখা হচ্ছে,
প্রতিটি কাজের আছে হিসাব;
একদিন দাঁড়াতে হবে
ন্যায়বিচারের মহাদরবারে অবশ্যম্ভাবী।
সে তাই পা ফেলে ধীরে,
চোখ রাখে হালাল পথে;
অন্যায় লাভকে ফিরিয়ে দেয়
সত্যের দৃঢ় রথে।
ভুল যদি হয়,
অহংকারে ঢাকে না তা;
চোখের জলে ধুয়ে নেয়
পাপের কালো ব্যথা।
কারণ সে জানে—
ক্ষমার দুয়ার খোলা আছে,
দয়াময় রব ডাকেন ফিরে;
যে অনুতাপে ফিরে আসে,
তিনি তাকে নেন বুকে ধীরে।
তার প্রতিদান কী?
শুধু ফুলে ভরা বাগান নয়,
শুধু সুখের অট্টালিকা নয়;
তার চেয়েও বড় এক সুখ—
রবের চিরসন্তুষ্টি।
যেদিন প্রভু বলবেন—
"আমি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট,"
সেদিন সব প্রাপ্তির চূড়ায়
উঠবে মুমিনের জীবন।
সে সন্তুষ্ট হবে,
কারণ তার রব সন্তুষ্ট;
এই একটি বাক্যেই
শেষ হবে সব অপেক্ষা।
সেখানে নেই বিদ্বেষ,
নেই হিংসা, নেই ভয়;
নেই বার্ধক্যের দীর্ঘশ্বাস,
নেই বিচ্ছেদের ক্ষয়।
সেখানে নদী বয়ে যায়
শান্তির অবিরাম সুরে;
স্বচ্ছ জলের কলতানে
প্রশান্তি নামে হৃদয়জুড়ে।
সেখানে নেই ক্লান্তি,
নেই রোগের যন্ত্রণা;
নেই মৃত্যুর ছায়া,
নেই বিচ্ছেদের বেদনা।
সেখানে প্রতিটি সকাল
অনন্ত আনন্দের গান;
প্রতিটি সন্ধ্যা
রহমতের নতুন আহ্বান।
সেখানে ভালোবাসা
ক্ষয় হয় না কখনো;
বন্ধুত্ব থাকে চিরসবুজ,
বিচ্ছেদ আসে না আর।
সেখানে হাসি থামে না,
অশ্রু ঝরে না দুঃখে;
শুধু কৃতজ্ঞতার মুক্তো
ঝলমল করে সুখে।
কত অমূল্য সে পুরস্কার!
যা ভাষায় ধরা কঠিন;
যা কল্পনারও বহু ঊর্ধ্বে,
যা অনন্তের রঙিন দিন।
তবু জান্নাতেরও ওপরে
আছে আরও এক মহাদান—
রবের সন্তুষ্টির আলো,
সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান।
যার জন্য নবী-রাসূল,
সিদ্দীক, শহীদ, নেককার,
সবাই জীবন উৎসর্গ করেছেন
অটল বিশ্বাসের অধিকার।
তাই হে মানুষ,
আজও সময় আছে;
ফিরে এসো সত্যের পথে,
ফিরে এসো রবের কাছে।
ঈমানকে করো জীবনের প্রাণ,
সৎকর্মকে করো সাথি;
সত্য, ন্যায়, দয়া, সততা
হোক প্রতিদিনের গাথা।
অন্যায় দেখলে রুখে দাঁড়াও,
নিজে থেকো পাপমুক্ত;
ক্ষমা, ধৈর্য, বিনয়, শিষ্টতা
করুক চরিত্রকে সুদৃপ্ত।
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে
নম্রতার ঘর গড়ো;
মানুষকে ভালোবেসে
রবের সন্তুষ্টি অর্জন করো।
প্রতিটি নিশ্বাস হোক আমানত,
প্রতিটি কর্ম হোক ইবাদত;
প্রতিটি দিন হোক প্রস্তুতি
চিরস্থায়ী জীবনের জন্য।
যেদিন পর্দা সরে যাবে,
স্পষ্ট হবে সব সত্য,
সেদিন যেন লজ্জায় নয়,
আনন্দে ভরে ওঠে হৃদয়।
যেন শুনতে পাই
রহমতের সেই মহাধ্বনি—
"আমি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট,
তুমিও আমার প্রতি সন্তুষ্ট।"
এই হোক জীবনের লক্ষ্য,
এই হোক সকল সাধনা;
রবের সন্তুষ্টির পথে চলাই
হোক মানবতার ঠিকানা।
ঈমানের আলোয় আলোকিত হোক
প্রতিটি হৃদয়, প্রতিটি ঘর;
সৎকর্মের সুবাসে ভরে উঠুক
পৃথিবীর প্রতিটি প্রহর।
যারা রবকে ভয় করে,
তাঁর আদেশ মানে ভালোবেসে,
তাদের জন্যই অনন্ত সুখ,
অক্ষয় শান্তি, চিরকল্যাণ।
হে পরম করুণাময়!
আমাদের অন্তরকে ঈমানে দৃঢ় করো,
সৎকর্মে অবিচল রাখো,
তোমার সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করো।
আমাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত
তাকওয়ার আলো অটুট রাখো;
আর পরকালে আমাদের স্থান দাও
সেই জান্নাতে,
যেখানে তোমার সন্তুষ্টিই
সকল পুরস্কারের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।
আমিন।
***
রবের সন্তুষ্টি
মানুষ আসে, মানুষ যায়,
সময়ের স্রোতে ভাসে;
কেউ রেখে যায় আলোর রেখা,
কেউ অন্ধকারে নাশে।
একই মাটির দেহ সবার,
একই রক্তধারা;
তবু কেন এই ভিন্নতা,
কেন এত পারাপারা?
কেউ গড়ে নেয় সিংহাসন,
ক্ষমতার অহংকারে;
কেউ মাথা নোয়ায় সিজদাতে,
রবের প্রেমের দ্বারে।
কেউ সম্পদের গর্বে মাতে,
কেউ নামের মোহে বিভোর;
কেউ আবার নির্জন রাতে
কাঁদে রবের সান্নিধ্য ঘিরে।
কেউ বলে—"আমি বড়ো",
ভুলে যায় আপন সীমা;
কেউ বলে—"আমি তোমার বান্দা",
এই তো জীবনের মহিমা।
মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়
রূপে নয়, বংশে নয়;
ধন-সম্পদ, প্রভাব-প্রতাপে
মানবমর্যাদা গড়ে না কভু।
হৃদয়ের গভীর বিশ্বাস,
সৎকর্মের নির্মল ধারা,
মানুষকে তোলে মহীয়ান,
জাগায় জীবনের তারা।
ঈমান যার অন্তরভরা,
সত্য যার পথের দিশা;
কল্যাণ যার কর্মমালা,
রবের প্রেমই যার আশা—
সেই তো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজন,
পবিত্রতম প্রাণ;
আল্লাহর কাছে সম্মানিত,
মানবতার গৌরবগান।
অন্যদিকে যে সত্য জেনে
ফিরে যায় অহংকারে,
নিজেই ডেকে আনে অন্ধকার
নিজের জীবনের দ্বারে।
জ্ঞান থাকলেও মানে না সত্য,
শোনে না প্রভুর বাণী;
অহংকারের বিষপাত্রে
হারায় জীবনের পানি।
পৃথিবী দেখে বাহ্যরূপ,
আল্লাহ দেখেন মন;
সেই কারণে হৃদয়ের খবর
গোপন থাকে না কোনক্ষণ।
তিনি জানেন অশ্রুবিন্দু,
নীরব দীর্ঘশ্বাস;
তিনি জানেন কোন হৃদয়ে
জাগে তওবার সুবাস।
তিনি জানেন কার অন্তরে
আছে বিনয়ের আলো,
কার বুকভরা আত্মসমর্পণ,
কার জীবন সত্য ভালো।
হে মানুষ!
তুমি কাকে খুঁজে ফিরো?
ক্ষণিক সুখের মরীচিকা,
নাকি চিরশান্তির নীড়?
আজ যে মুখে হাসির রঙ,
কাল সে হবে মলিন;
আজ যে রাজা পৃথিবীতে,
কাল মাটিরই অধীন।
আজ যে অট্টালিকা উঁচু,
কাল ধুলায় মিশে যায়;
আজ যে গর্বে বুক ফুলায়,
কাল ইতিহাস হারায়।
অমর যদি কিছু থাকে,
থাকে শুধু সৎকর্ম;
থাকে ঈমান, থাকে তাকওয়া,
থাকে আল্লাহর ধর্ম।
এই পৃথিবী পরীক্ষাক্ষেত্র,
স্থায়ী কোনো ঘর নয়;
এখানে যা কিছু অর্জন,
সবই ক্ষণিকময়।
তাই যে মানুষ আল্লাহকে ভয় করে,
অন্যায় থেকে ফিরে;
সত্যের পথে অবিচল থাকে,
কল্যাণ বপন করে ধীরে—
তার জন্য রয়েছে সুসংবাদ,
অশেষ অনুগ্রহের দ্বার;
রবের রহমত, রবের ক্ষমা,
অম্লান চিরউপহার।
তাকে ডাকে জান্নাতের বাগান,
ছায়াঘেরা অনন্ত দেশ;
যেখানে নেই মৃত্যু, নেই বেদনা,
নেই কোনো ক্লেশ।
সেখানে প্রবাহিত নদীমালা,
স্বচ্ছ নির্মল জল;
সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত ভরা
প্রশান্তির অনল।
সেখানে নেই ভয় কিংবা শোক,
নেই বিচ্ছেদের ক্ষণ;
সেখানে কেবল রবের রহমত,
অসীম অনুক্ষণ।
তবু জান্নাতের সকল সুখের
ঊর্ধ্বে আছে যে দান—
রবের সন্তুষ্টি,
সকল নিয়ামতের মহাসম্মান।
যেদিন তিনি বলবেন—
"আমি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট,
আজ থেকে আর কখনো
হব না অসন্তুষ্ট"—
সেদিন জান্নাতের ফুলও
আরও সুগন্ধ ছড়াবে;
মুমিনের হৃদয় আনন্দে
অশ্রুসিক্ত হয়ে যাবে।
সেদিন সকল ইবাদত,
সব ত্যাগ, সব ধৈর্য,
সব কষ্টের প্রতিদান
পাবে পূর্ণ গৌরবময়।
হে পরম প্রতিপালক!
আমাদের হৃদয়ে দাও
বিশুদ্ধ ঈমানের আলো।
আমাদের কর্মে দাও
ইখলাসের সৌরভ।
আমাদের চরিত্রে দাও
সত্য, ন্যায় ও দয়ার দীপ্তি।
আমাদের জীবনের পরিণতি করো
তোমার সন্তুষ্টিতে।
কারণ তোমার সন্তুষ্টিই
সকল জান্নাতের ঊর্ধ্বে,
সকল পুরস্কারের চেয়ে মহিমান্বিত,
সকল স্বপ্নের চেয়েও অনন্ত।
আমিন।
***
রবের সন্তুষ্টি
রাতের নীরব আকাশজুড়ে
অসংখ্য তারার মেলা,
তেমনি মুমিনের অন্তরজুড়ে
জ্বলে তাকওয়ার আলোকখেলা।
সে জানে—রব দেখছেন সদা,
গোপন কিংবা প্রকাশ;
এই বিশ্বাসে জাগে হৃদয়ে
সত্যের নির্মল সুবাস।
নিঃসঙ্গ পথে চলার বেলায়
কেউ না থাকুক পাশে,
তবু সে থামে অন্যায় থেকে
রবের ভয়ে ভালোবাসে।
তাকওয়া শুধু ভয়ের নাম নয়,
এ প্রেমের গভীর সুর;
যেখানে বান্দা হারায় নিজেকে
রবের সন্তুষ্টি ভরপুর।
যে চোখ হারাম থেকে ফেরে,
সে চোখ পায় নূরের দান;
যে জিহ্বা মিথ্যা ত্যাগ করে,
তাতে ফুটে সত্যের গান।
যে হাত বাড়ে দানের পথে,
অসহায়ের মুখে হাসি;
সে হাত ধরে রহমতের আলো,
মুছে যায় সকল উদাসী।
যে পা চলে ন্যায়ের পথে,
অন্যায় থেকে দূরে;
সে পায়ে লেখা থাকে আশীর্বাদ,
কল্যাণের সুরে সুরে।
যে হৃদয়ে কুরআনের বাণী
প্রতিদিন জাগায় প্রাণ,
সেই হৃদয়েই ফুটে ওঠে
ঈমানের বসন্তগান।
ঝড় এলে সে ভেঙে পড়ে না,
বিপদে হারায় না ধৈর্য;
কারণ সে জানে—প্রতিটি কষ্ট
রবের পক্ষ থেকে পরীক্ষা।
কখনো দুঃখ, কখনো সুখ,
কখনো অশ্রুর ঢেউ;
সবকিছুর মাঝেই সে খোঁজে
প্রভুর রহমতের ঢেউ।
তওবা তার জীবনের সাথি,
ইস্তিগফার তার গান;
প্রতিটি ভুলের পরেই সে চায়
ক্ষমাশীল রবের দান।
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে
নম্রতার ঘর তোলে;
ক্ষমা, দয়া, সহমর্মিতা
তার চরিত্রে দোলে।
তার মুখে শোনা যায় না
কটু বাক্যের বিষ;
তার আচরণে ফুটে থাকে
নববী আদর্শের নিশান।
মানুষ তাকে দেখে বলে—
"কী প্রশান্ত তার প্রাণ!"
সে বলে—"এ আমার নয়,
রবেরই অনুগ্রহ মহান।"
অবশেষে যখন শেষ হবে
দুনিয়ার ক্ষণিক সফর,
উন্মুক্ত হবে অনন্ত দুয়ার,
শেষ হবে সকল প্রহর।
তখন ডেকে নেবে জান্নাত
শান্তির স্নিগ্ধ ছায়ায়;
নদীমালা বইবে অবিরাম
রহমতেরই মায়ায়।
সেখানে নেই মৃত্যুভয়,
নেই বিচ্ছেদের ক্ষণ;
সেখানে কেবল আনন্দধারা,
অক্ষয় অনুক্ষণ।
ফলভরা বৃক্ষ, নির্মল বাতাস,
শান্তির অনন্ত দেশ;
যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত জুড়ে
আল্লাহর রহমতের রেশ।
তবু সেই জান্নাতেরও ঊর্ধ্বে
রয়েছে এক মহাদান—
রবের সন্তুষ্টির অমৃতবাণী,
সকল পুরস্কারের প্রাণ।
যখন মহান রব বলবেন—
"আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট,
আজ থেকে আর কখনো
হব না অসন্তুষ্ট"—
তখন জান্নাতের সুখও যেন
নতুন আলোয় ভরে;
অশেষ কৃতজ্ঞতায় মুমিনেরা
নত হবে প্রেমভরে।
সেদিন বুঝবে প্রতিটি বান্দা,
ধৈর্যের ছিল ফল;
এক ফোঁটা অশ্রুও হারায়নি,
শুনেছেন দয়াময় সবই।
হে দয়াময় প্রতিপালক!
আমাদের অন্তরে জাগাও
অটল ঈমানের দীপ্তি।
আমাদের জীবনে দাও
তাকওয়ার সৌন্দর্য।
আমাদের কর্মকে করো
ইখলাসে পরিপূর্ণ।
আমাদের হৃদয়কে করো
তোমার স্মরণে সজীব।
আর আমাদের জীবনের শেষ পরিণতি করো
তোমার সন্তুষ্টির ছায়ায়,
সেই জান্নাতে,
যেখানে অনন্তকাল ধরে
বান্দা ও রব—
পারস্পরিক সন্তুষ্টির
অমলিন বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে।
আমিন।
***
রবের সন্তুষ্টি
জান্নাত মানে শুধু নয়
ছায়াঘেরা সবুজ বন,
শুধু নহরের কলতান,
অথবা সুখের স্পন্দন।
জান্নাত মানে শুধু নয়
ফলভরা অমৃত ডাল,
মুক্তার মতো প্রাসাদসারি,
অশেষ সৌন্দর্যের জাল।
তারও ঊর্ধ্বে আছে একটি
অতুল, অমেয় দান—
যার তুলনায় ম্লান হয়ে যায়
সব পুরস্কার, সব সম্মান।
সে দান হলো—রবের সন্তুষ্টি,
অসীম অনুগ্রহের আলো;
যেখানে বান্দার সকল সাধনা
পায় চিরসার্থক ফল।
যেদিন শেষ হবে হিসাব,
শেষ হবে সব অপেক্ষা,
সেদিন খুলবে রহমতের দ্বার,
মুছে যাবে দুঃখের রেখা।
দয়াময় তখন ডাকবেন
স্নেহভরা অমৃতস্বরে—
“হে আমার প্রিয় বান্দারা,
এসো আজ আমারই ঘরে।”
মুমিনেরা বলবে বিনয়ে—
“হে আমাদের মহান রব!
আপনারই দয়া ও করুণায়
পূর্ণ হয়েছে সকল লাভ।”
তখন তিনি জিজ্ঞেস করবেন—
“তোমরা কি আজ সন্তুষ্ট?”
তারা বলবে—“হে দয়াময়!
আপনিই তো সকল সৃষ্টির পুষ্ট।
আপনি দিয়েছেন যা কিছু,
ভাবনারও অতীত সে দান;
আর কী চাই আমাদের,
পূর্ণ হয়েছে সকল প্রাণ।”
তখন আবার রব বলবেন—
“এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ আছে আর;
আজ আমি তোমাদের প্রতি
চিরস্থায়ী সন্তুষ্টির উপহার।
আজ থেকে আর কখনো
অসন্তুষ্ট হব না আমি;
তোমাদের প্রতি আমার রহমত
অবিরাম, অনন্ত, স্বামী।”
সে বাণী শুনে জান্নাত জুড়ে
নেমে আসে নূরের ঢেউ;
আনন্দাশ্রু ঝরে পড়ে
যত মুমিন আছে, কেউ।
তখন তারা বুঝতে পারে—
একটি সিজদা বৃথা যায়নি,
একটি অশ্রু, একটি দোয়া
রবের দরবার হারায়নি।
রাতের তাহাজ্জুদের কান্না,
দিনের ধৈর্যের গান,
গোপন দানের প্রতিটি ক্ষণ
আজ পেলো তার সম্মান।
যে ক্ষুধার্তকে অন্ন দিয়েছিল,
যে এতিমের মাথায় হাত,
যে সত্য বলেছে বিপদের মুখে,
রেখেছে অঙ্গীকার অটুট।
যে ভুল করলে ফিরেছে তওবায়,
করেছে নিজের সংশোধন,
যে পাপ ঢাকেনি অহংকারে,
চেয়েছে প্রভুর ক্ষমা অনুক্ষণ—
সবই আজ আলোকিত হয়ে
ফুটে ওঠে মহিমায়;
একটি সৎকর্মও হারায়নি
রবের সুবিচারের ছায়ায়।
এ যে প্রতিদান তাকওয়ার,
এ যে ঈমানের জয়;
যেখানে বান্দা ও প্রতিপালক
পারস্পরিক সন্তুষ্টিময়।
হে মানুষ! মনে রেখো—
দুনিয়া ক্ষণিক সফর;
চিরস্থায়ী বাসস্থান তো
রবের জান্নাতঘর।
তাই হৃদয়ে জাগাও ঈমান,
কর্মে আনো সত্যের রঙ;
দয়া, ন্যায় আর সততার পথে
অবিচল থাকো নিরন্তর।
তাকওয়াই হোক জীবনের দীপ,
ইখলাস হোক কর্মের প্রাণ;
রবের সন্তুষ্টি লাভের আশায়
হোক প্রতিটি শ্বাস দান।
হে পরম করুণাময়!
আমাদের অন্তর নির্মল করো,
ঈমানে দৃঢ়, আমলে অবিচল,
তোমার স্মরণে উজ্জ্বল করো।
আমাদের জীবনের শেষ পরিণতি
করো তোমার সন্তুষ্টিতে;
আর স্থান দাও সেই জান্নাতে,
যেখানে চিরদিন থাকবে
রবের রহমত, রবের সন্তুষ্টি,
অবিনশ্বর শান্তির নীড়ে।
আমিন।
১৩
১৫ মন্তব্য