সহকারী অধ্যাপক
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
কাজে যখন ভালোবাসা -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
কাজে যখন ভালোবাসা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
সফলতার শিখর ডাকে, ডাকে নীল আকাশ,
স্বপ্নগুলো জেগে ওঠে নতুন দিনের আশ।
তবু শুধু জয়ের মালা নয় তো জীবনের মান,
সুখের ভেতর লুকিয়ে থাকে সফলতার গান।
যে হৃদয়ে আনন্দ জাগে কর্মের প্রতিটি ক্ষণ,
সেই হৃদয়ের পরিশ্রমে জয় করে জীবন।
ক্লান্ত পথও ফুলে ভরে, কঠিন পথও হাসে,
ভালোবাসা পথ দেখায় প্রতিটি নিশ্বাসে।
কাজ যদি হয় আপন প্রাণের গভীর অনুরাগ,
তখন আর বোঝা লাগে না শ্রমের কোনো ভাগ।
সূর্য যেমন আলো বিলায় আপন নিয়ম মেনে,
মানুষ তেমনি এগিয়ে চলে কর্মপথকে চেনে।
হাতে কলম, হাতে লাঙল, হাতে জ্ঞানের দীপ,
ভালোবাসার শক্তিতেই হয় জীবনের সিপ।
যে কৃষকটি মাঠে নামে ভোরের শিশির ভেজা,
হাসিমুখে সে ফসল তোলে—আশা তারই সাজা।
যে শিক্ষকটি পাঠশালাতে জ্বালান জ্ঞানের আলো,
ভালোবাসার পরশ পেয়ে শিক্ষার্থীরা ভালো।
যে চিকিৎসক মানুষেরই ব্যথা করেন লাঘব,
মানবসেবার আনন্দেই খুঁজে পান অনুরাগ।
সুখ মানে নয় অঢেল ধন, নয় কেবলই নাম,
সুখ মানে তো অন্তরে জাগে সৎকর্মেরই দাম।
যে মানুষটি হাসিমুখে দায়িত্ব নেয় বুকে,
সে-ই তো সুখী, সে-ই এগোয় আলোর নতুন সুখে।
সুখ মানে নয় অলস বসে স্বপ্ন দেখা শুধু,
সুখ মানে তো কর্মে থাকা, সাহস রাখা সদা।
নিজের কাজে তৃপ্তি থাকলে জাগে নতুন বল,
প্রতিটি দিন হয়ে ওঠে সম্ভাবনার ফল।
পথের শেষে ঝড় যে আসে, আসুক শতবার,
হতাশ হয়ো না কখনো, রেখো আশা আর।
ব্যর্থতা তো শেখায় মানুষ কীভাবে জিততে হয়,
ধৈর্য, শ্রম আর আত্মবিশ্বাস সফলতার জয়।
যে নদীটি পাথর ভেঙে পৌঁছে সাগরপানে,
সেও তো থামে না কোনো বাধার আহ্বানে।
মানুষ যদি তেমনি করে এগিয়ে যেতে শেখে,
সাফল্য এসে দাঁড়াবে তার নিজেরই দুয়ারে।
ভালোবাসা অদৃশ্য হলেও সবচেয়ে বড় শক্তি,
এ শক্তিতেই মানুষ গড়ে জ্ঞানের নতুন ভক্তি।
যে শিল্পীটি রঙে আঁকে প্রকৃতিরই ছবি,
ভালোবাসার টানেই তার সৃষ্টি হয় নবী।
যে লেখকটি রাত জেগে লেখেন আলোর বাণী,
মানুষ যেন মানুষ হয়—এই তো তাঁর টানি।
যে বিজ্ঞানী গবেষণায় কাটান জীবনের কাল,
মানবকল্যাণে তাঁরই জ্বলে সাফল্যের জয়জ্বল।
পড়াশোনা মুখস্থ করা শিক্ষার শেষ নয়,
জানার ভেতর আনন্দ খুঁজে মানুষ বড় হয়।
বইয়ের পাতায় শুধু নয়, জীবনের প্রতিক্ষণ,
শেখার মাঝে লুকিয়ে থাকে উন্নতিরই মন।
প্রতিটি প্রশ্ন নতুন জানার খোলা জানালাটি,
সাহস নিয়ে সামনে চলো, জ্বালো জ্ঞানের বাতি।
ভালোবেসে শিখলে তবে শিক্ষা হবে দীপ,
মানবতার কল্যাণে তা দেবে অমৃত সিপ।
কথার চেয়ে বড় যে মানুষ কর্ম দিয়ে চেনে,
ভালোবাসা থাকলে মানুষ ইতিহাসও গড়ে।
মৌমাছিটি ক্ষুদ্র হলেও থেমে থাকে না কভু,
অবিরত সে মধু আনে ফুলের আপন রূপ।
পিঁপড়েরা যে সারি বেঁধে বহে আপন ভার,
শ্রমের মাঝে লুকিয়ে থাকে সফলতার দ্বার।
প্রকৃতির এই পাঠটি যদি রাখি মনে সদা,
জীবন হবে অর্থময়, উজ্জ্বল হবে দিশা।
নিজের শক্তি চিনতে শেখো, ভয়কে করো জয়,
আত্মবিশ্বাস সঙ্গী হলে অসম্ভবও ক্ষয়।
হৃদয়জুড়ে আশা রাখো, রাখো সত্য মান,
সৎপথ ধরে চলতে শিখো প্রতিটি অবসান।
সুখের হাসি মুখে নিয়ে এগিয়ে চলো দূর,
কঠিন রাতের শেষে আসে ভোরের রঙিন নূর।
যে নিজেকে জয় করতে পারে দৃঢ় প্রাণে,
সাফল্য তার হাতছানি দেয় জীবনেরই টানে।
নিজের সুখে থেমে থেকো না কখনো একা,
অন্যের মুখে হাসি ফোটাও, বাড়াও ভালোবাসা।
যে সুখ শুধু নিজের জন্য, ক্ষণিক তারই রূপ,
ভাগ করে নিলে সেই সুখে ফুটে জীবনের ধূপ।
মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায়, এটাই সত্য বাণী,
সহানুভূতির স্পর্শেই হয় জীবনের জয়গানই।
ভালোবাসা, সততা আর কর্মের মহিমায়,
সফলতার সোনার ফসল ফলুক ধরার গায়।
তাই এসো আজ শপথ করি অন্তরেরই তলে,
ভালোবেসে কাজ করব জীবনের প্রতিক্ষণে।
লোভ নয়, হিংসা নয়, নয় কোনো অহংকার,
সততা আর নিষ্ঠাতেই খুলুক সুখের দ্বার।
সাফল্য যদি আসেই তবে আসুক আপন মনে,
সুখের বীজ যে রোপণ করে কর্মক্ষেত্রের ক্ষণে।
যে মানুষটি ভালোবাসে নিজের কর্মধারা,
সফলতার শিখর ছুঁয়ে উজ্জ্বল হয় তারা।
***
কাজে যখন ভালোবাসা
ভোরের বুকে সূর্য ওঠে সোনালি আলোর রথে,
জাগিয়ে তোলে ঘুমিয়ে থাকা জীবন শত পথে।
পাখির গানে জেগে ওঠে বনানীর প্রতিটি ডাল,
স্বপ্নগুলো ডানা মেলে ছুঁতে চায় নীল আকাশতল।
মানুষও তেমনি জন্ম নেয় অশেষ সম্ভাবনায়,
অন্তরভরা আশা নিয়ে ভবিষ্যতের প্রত্যাশায়।
কেউ গড়ে জ্ঞানের প্রাসাদ, কেউ গড়ে শিল্পের দেশ,
কেউ বা শ্রমের ঘামে লেখে জীবনের ইতিহাস।
কিন্তু প্রশ্ন জাগে মনে—
সফলতার মূল রহস্য কোথায় লুকিয়ে রয়?
কোথায় সেই অমৃতধারা,
যা মানুষের জীবন ভরায় আনন্দ আর বিজয়ের পরিচয়?
সোনা নয়, রূপা নয়, নয় খ্যাতির মুকুট,
সুখের ভেতর লুকিয়ে আছে সফলতার সূত্র।
যে হৃদয়ে কর্মের প্রতি গভীর ভালোবাসা জাগে,
সে-ই মানুষ পথ হারায় না জীবনের অনুরাগে।
যে কাজ করে আনন্দভরে, মুখে থাকে হাসি,
দুঃখ এলেও থামে না সে, ভাঙে না তার ভরসা-বাসি।
কর্ম তার কাছে পূজার মতো, সাধনারই ধ্যান,
তাই তো শেষে সফলতার বাজে বিজয়গান।
কাজ যদি হয় ভালোবাসা,
শ্রম তখন আর কষ্ট নয়।
ঘামের ফোঁটায় ফুটে ওঠে
আশার নতুন রঙিন জয়।
লাঙল হাতে কৃষক নামে শিশিরভেজা ক্ষেতে,
ফসল ফলার আনন্দ তাকে রাখে প্রাণের সাথে।
জ্বলন্ত রোদ, কালো মেঘ, ঝড়ের তীব্র ডাক,
তবুও তার চোখে থাকে স্বপ্নভরা আভাস।
শিক্ষক যখন পাঠদান করেন মমতার পরশ দিয়ে,
অজ্ঞানতার অন্ধকার সব দূরে যায় মিলিয়ে।
একটি শিশু মানুষ হলে, আলোকিত হয় দেশ,
সেই আনন্দেই শিক্ষক পান সাফল্যের পরিবেশ।
চিকিৎসক যখন ব্যথার মুখে রাখেন স্নেহের হাত,
রোগীর মুখের হাসিতেই পান জীবনের প্রভাত।
বিজ্ঞানী যখন গবেষণায় কাটান নির্ঘুম রাত,
মানবকল্যাণের স্বপ্নেই জ্বলে তাঁর দীপ্ত প্রভাত।
শিল্পী যখন তুলির আঁচড়ে আঁকেন জীবনের রূপ,
সুরকার যখন সুরে গাঁথেন হৃদয়ের অনুভূত রূপ,
কবি যখন শব্দ বুনে জাগান মানবপ্রাণ,
ভালোবাসাই তখন হয়ে ওঠে সৃষ্টির মহাগান।
সুখ মানে নয় অঢেল ধন, নয় প্রাসাদের দেয়াল,
সুখ মানে নয় বাহিরমুখী অহংকারের জয়জয়কার।
সুখ মানে শান্ত অন্তর, নির্মল বিবেকের হাসি,
সুখ মানে সত্যের পথে চলার অবিরাম প্রত্যাশী।
সুখ মানে মায়ের মুখে তৃপ্তির কোমল আলো,
সুখ মানে বাবার কপাল ঘামে ভেজা ভালো।
সুখ মানে বন্ধুর পাশে বিপদে দাঁড়িয়ে থাকা,
সুখ মানে মানুষের মুখে আশার প্রদীপ আঁকা।
যে মানুষ সুখ খুঁজে পায় কর্মের প্রতিটি ক্ষণে,
সফলতা নিজেই আসে তার জীবন-অঙ্গনে।
সে কখনো হারে না, থামে না পথের বাধায়,
আত্মবিশ্বাসের দীপ জ্বেলে এগিয়ে চলে মহিমায়।
ব্যর্থতা কোনো পরাজয় নয়,
ব্যর্থতা শেখার পাঠ।
হাজারবার যদি পড়ে যাও,
হাজারবারই হও জাগ্রত।
নদী যেমন পাথর কেটে সাগরেরই পথে যায়,
তেমনি মানুষ ধৈর্য ধরে জয়কে বুকে পায়।
ঝড়ের রাতে দীপ জ্বালানো সহজ কাজটি নয়,
তবু যে জ্বালে, সেই তো শেষে অন্ধকারকে জয়।
যে মানুষটি নিজের কাজে আনন্দ খুঁজে পায়,
হাজার ব্যর্থতার মাঝেও আশা হারায় না হায়।
কারণ সে জানে—
সুখী হৃদয় কখনো ক্লান্ত হয় না,
ভালোবাসার শক্তি কখনো পরাজিত হয় না।
***
ভোরের আলো ফুটল আজি পূর্বাকাশের বুকে,
জীবন যেন জেগে ওঠে নতুন আশার সুখে।
শিশিরভেজা ঘাসের ডগায় রোদের সোনার ছোঁয়া,
প্রকৃতি যেন বলে ওঠে—"স্বপ্ন এবার বোনা।"
পাখিরা সব ডানা মেলে নীল গগনের পানে,
নতুন দিনের গান শোনায় মধুর কলতানে।
মানুষও তাই স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করে পথে,
আশার দীপ জ্বালিয়ে রাখে অন্তরেরই রথে।
কেউ গড়ে জ্ঞানের প্রাসাদ, কেউ বিজ্ঞানলোক,
কেউ বা সেবার দীপ জ্বালিয়ে দূর করে সব শোক।
কেউ লেখে ইতিহাস আবার শ্রমের ঘামে ভিজে,
কেউ দাঁড়ায় মানবতারই মহৎ পতাকা নিয়ে।
তবু প্রশ্ন জাগে মনে—
কিসে মানুষ সত্যি জেতে?
ধন-সম্পদ, যশ-খ্যাতিতে,
নাকি সুখের অন্তরেতে?
উত্তর আসে নীরব কণ্ঠে—
"সুখ যেখানে কর্মসাথী,
সফলতা সেখানে এসে
গাঁথে বিজয়েরই মালাটি।"
যে কাজটিকে ভালোবাসো, সেটিই হোক সাধনা,
প্রতিটি ক্ষণ হয়ে উঠুক জীবনের আরাধনা।
ভালোবাসা থাকলে তাতে ক্লান্তি থাকে না,
অন্ধকারের মাঝেও মানুষ পথ হারায় না।
কৃষক নামে মাঠের বুকে ভোরের শিশির মেখে,
স্বপ্ন বোনে সোনার ধানে হাসিমুখটি রেখে।
রৌদ্র এলেও থামে না সে, ঝড়ে ভাঙে না মন,
শ্রমের মাঝে খুঁজে নেয় সে জীবনেরই ধন।
শিক্ষক যখন পাঠ দেন প্রাণ উজাড় করে,
আলোর মালা গেঁথে দেন শিক্ষার্থীর তরে।
একটি শিশুর সাফল্যে তাঁর হৃদয় ভরে যায়,
এই আনন্দেই শিক্ষক নিজের জীবন খুঁজে পায়।
চিকিৎসক যখন রোগীর মুখে ফিরিয়ে দেন হাসি,
সেই মুহূর্তেই খুঁজে পান কর্মজীবনের খুশি।
প্রকৌশলী সেতু গড়েন, বিজ্ঞানী গড়েন জ্ঞান,
মানুষ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই লেখেন নতুন গান।
সুখ মানে নয় অট্টালিকা, নয় সোনালি সিংহাসন,
সুখ মানে শান্ত হৃদয়, সৎকর্মেরই স্পন্দন।
সুখ মানে নয় অহংকারের উচ্চকিত ঘোষণা,
সুখ মানে বিনয়ভরা সুন্দর আত্মচেতনা।
সুখ মানে মায়ের মুখে তৃপ্তির কোমল হাসি,
সুখ মানে বাবার শ্রমে পরিবারেরই খুশি।
সুখ মানে বন্ধুর পাশে বিপদেরই কালে,
সুখ মানে সত্যের পথে অটল থাকা ফলে।
সুখ মানে পরের দুঃখ নিজের মতো জানা,
সুখ মানে অসহায়কে ভালোবেসে টানা।
সুখ মানে অন্তরজুড়ে মানবতার আলো,
এই আলোয় জীবন হয় নির্মল, সুন্দর, ভালো।
ঝড় না এলে নাবিক কি আর শেখে সাগরপথ?
কাঁটা ছাড়া ফুটতে পারে কোন গোলাপের রথ?
ব্যর্থতা তাই শত্রু নয়, জীবনেরই গুরু,
তারই বুকে লেখা থাকে জয়ের প্রথম সুর।
হাজারবার পড়ে গিয়েও যে উঠে দাঁড়ায় আবার,
তারই কপাল ছুঁয়ে আসে সাফল্যের উপহার।
অশ্রুবিন্দু ঝরে গিয়ে হাসির ফুল ফোটায়,
ধৈর্য যার সাথী হয়, সে-ই বিজয় পায়।
নদী যেমন পাথর কেটে সাগরেরই বুকে,
মানুষ তেমনি এগিয়ে চলে দৃঢ় সাহস-সুখে।
থেমে যাওয়া জীবন নয়, চলাই জীবনের গান,
অধ্যবসায় লিখে রাখে বিজয়েরই মান।
নিজের শক্তি চিনে নাও, ভয়কে করো জয়,
আত্মবিশ্বাস হৃদয়ে থাকলে অসম্ভবও ক্ষয়।
সাহস যার অন্তরে জাগে সত্যের আলোকধারায়,
সফলতা তার সঙ্গী হয়ে জীবনের পথচারায়।
পরাজয়কে শিক্ষা ভেবে সামনে এগিয়ে চলো,
অন্ধকারের বুক চিরে আশার প্রদীপ জ্বালো।
নিজের সুখে থেমে থেকো না, সুখ ছড়িয়ে দাও,
মানুষ হয়ে মানুষেরই পাশে এসে দাঁড়াও।
একটি হাসি, একটি কথা, একটি স্নেহস্পর্শ,
বদলে দিতে পারে কত ক্লান্ত হৃদয়ের হর্ষ।
ভালোবাসা ভাগ করলে তা কমে যায় না কভু,
বরং আলো বাড়িয়ে তোলে পৃথিবীর সব রূপ।
সত্য, ন্যায় আর সততারই হোক জীবনের পথ,
মানবতার সেবাই হোক শ্রেষ্ঠ সফল রথ।
তাই এসো আজ শপথ করি অন্তরেরই তলে—
ভালোবেসে কাজ করব জীবনের প্রতিক্ষণে।
লোভ নয়, হিংসা নয়, নয় মিথ্যার অহংকার,
সততা আর নিষ্ঠাতেই খুলবে সুখের দ্বার।
কর্ম হোক উপাসনা, চরিত্র হোক দীপ,
জ্ঞান হোক জীবনের পথে অনন্ত আলোর সীঁপ।
যে মানুষ কর্মে খুঁজে নেয় আনন্দের ঠিকানা,
সফলতা তার জীবনজুড়ে লেখে নতুন গাথা।
আজ নয়, কাল নয়, সময়েরই স্রোতে,
নিষ্ঠার ফুল ফুটবেই একদিন জীবনের ক্ষেতে।
কারণ চিরন্তন সত্য এই—
সফলতা সুখের চাবিকাঠি নয়; সুখই সফলতার চাবিকাঠি।
যে হৃদয় কর্মকে ভালোবাসে, সে-ই জয় করে পৃথিবী;
যে মন আনন্দে ভরে থাকে, তারই হাতে রচিত হয় ভবিষ্যতের মহাকাব্য।
***
সুখের আলোয় সফলতার পথ
ভোরের বুকে রাঙা রোদে জাগে সোনার গান,
আলোর ছোঁয়ায় ধুয়ে যায় সব অন্ধকারের মান।
শিশিরভেজা ঘাসের ডগায় মুক্তোর মতো হাসি,
নতুন দিনের আহ্বানে জাগে জীবন উদাসী।
নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে যায় সব পাখি,
স্বপ্ন যেন ডেকে বলে—"থেমো না আর বাকি।"
নদীর জলে সূর্য হাসে দীপ্ত সোনার রঙে,
আশার বীজ অঙ্কুরিত হয় মানুষেরই সঙ্গেই।
জন্ম নেয় প্রতিটি প্রাণ অসীম সম্ভাবনায়,
স্বপ্ন তারার আলো হয়ে জ্বলে প্রত্যাশায়।
কেউ লেখে জ্ঞানের ইতিহাস, কেউ গড়ে বিজ্ঞান,
কেউবা সেবার দীপ জ্বেলে করে মানবকল্যাণ।
কেউ গড়ে সেতু, কেউ গড়ে ঘর, কেউ গড়ে বিদ্যালয়,
কেউ কৃষিক্ষেতে শ্রম ঢেলে আনে সোনালি জয়।
কেউ সংগীতে জাগায় প্রাণ, কেউ রঙে আঁকে দেশ,
কেউবা সত্যের দীপ জ্বেলে দূর করে অবশেষ।
তবু প্রশ্ন জাগে মনে—কোথায় সাফল্যের মূল?
ধনের মাঝে, যশের মাঝে, নাকি সুখের ফুল?
উত্তর আসে নীরব বায়ু, পাহাড়, নদী, বন—
"আনন্দময় কর্মের মাঝেই জাগে জয়ের মন।"
যে হৃদয়ে ভালোবাসা কর্মের সাথে মেশে,
ব্যর্থতাও শিক্ষা হয়ে সফলতার দেশে।
যে মানুষটি হাসিমুখে দায়িত্ব নেয় কাঁধে,
সময়েরই ইতিহাসে তার নাম লেখা থাকে।
সোনা-রূপার অলংকারে দীপ্তি যতই থাক,
ভালোবাসাহীন জীবনে থাকে না কোনো ফাঁক।
সুখের আলো জ্বলে যেখানে নিষ্ঠা থাকে সাথি,
সেই পথ ধরেই একদিন আসে জয়ের গাঁথি।
আজ তাই এসো, প্রাণের ডাকে শপথ করি সবাই—
কর্ম হবে আনন্দময়, সত্য হবে ঠাঁই।
মানুষ হব, মানুষ গড়ব, জ্বালব আশার দীপ,
ভালোবাসার শক্তিতেই ফুটবে জীবনের সীপ।
সফলতা পেছন পেছন আসবে আপন তরে,
যদি সুখের আলো জ্বালাও অন্তর-আঙিনায় ঘরে।
কারণ চিরন্তন সত্য এই—জীবনের প্রতিটি ক্ষণ,
ভালোবাসায় কর্ম করলে জয়ী হয় জীবন।
৪
৪ মন্তব্য