সহকারী অধ্যাপক
১৭ জুলাই, ২০২৬ ০২:৪৪ অপরাহ্ণ
দুনিয়া মুমিনের কারাগার -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
দুনিয়া মুমিনের কারাগার
"দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার, আর কাফিরের জন্য জান্নাত (স্বরূপ)।"
— হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, সহীহ মুসলিম
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক পথে, পথিক যতই চলি,
চোখের সামনে রঙিন ছবি, মনের মাঝে কলি।
হাসির আড়াল, কান্নার ঢেউ, সুখের পিছে শোক,
আজ যে রাজা, কাল সে হবে নিঃশব্দ ধুলিলোক।
মুমিন জানে—এই জীবনটি চিরদিনের নয়,
প্রতিটি ক্ষণ পরীক্ষাক্ষেত্র, ধৈর্য ধরার জয়।
হালাল-হারামের সীমারেখা আঁকে জীবনের মান,
রবের সন্তুষ্টি লাভের আশায় সংযত প্রতিটি প্রাণ।
লোভের ডাকে সাড়া না দিয়ে সত্যকে করে বরণ,
অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়—এ তার দৃঢ় শপথধারণ।
নিষিদ্ধ সুখের ক্ষণিক মোহে হৃদয় দেয় না ঠাঁই,
আল্লাহর ভয়ে সংযম রাখে, তৃপ্তি খুঁজে তাই।
যেমন বন্দী নিয়ম মেনে কাটায় দিনের পালা,
তেমনি মুমিন নিজেকে রাখে শরীয়তের জ্বালা।
নিয়ম মানা কষ্টের হলেও আছে তাতে জয়,
এই কষ্টই জান্নাতপথের অমূল্য পরিচয়।
সিজদার ভেজা কপাল বলে—"রবই আমার সব",
দুঃখ এলে ধৈর্য ধারণ, সুখে থাকে রবের রব।
চোখের জলে দোয়া মেশে, হৃদয় থাকে নত,
আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে এগোয় অবিরত।
ঝড়ের মাঝে অটল থাকে ঈমানের সে বৃক্ষ,
বিপদ এলেও ভেঙে পড়ে না, পায় না মনে দীক্ষ।
কারণ জানে—প্রতিটি দুঃখ শেষ হবে একদিন,
ধৈর্যের পরে ফুটবেই আবার রহমতের রঙিন দিন।
দুনিয়ার সুখ মরুভূমির মরীচিকার মতো,
দেখতে যতই মোহন লাগে, থাকে না ততক্ষণ তো।
সোনার প্রাসাদ, ধনের পাহাড়, ক্ষমতার অহংকার,
মৃত্যুর ডাকে মুহূর্তেই হয় নিঃস্ব, নিরুপায় আর।
যে মানুষটি আখিরাতকে ভুলে যায় অবহেলায়,
নিজ প্রবৃত্তির ইচ্ছেমতো জীবন কাটায় খেলায়;
সে ভাবে—"এই পৃথিবীই আমার শেষ ঠিকানা",
ভোগ-বিলাসেই খুঁজে ফেরে সুখের সব মানা।
কিন্তু মৃত্যু নিঃশব্দ পায়ে আসে একদিন,
থেমে যায় সব স্বপ্ন তখন, থেমে যায় রঙিন দিন।
যা ছিল নিজের বলে মনে, থাকে না কিছুই আর,
শুধু কর্মই সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায় বিচারদ্বার।
মুমিন তবে কাঁদে না শুধু দুনিয়ার ক্ষত ভেবে,
জানে—রবের দেওয়া পরীক্ষা রহমতেরই নেবে।
প্রতিটি অশ্রু লিখে রাখেন দয়াময় মহান,
সবরের বিনিময়ে দেন জান্নাতের সম্মান।
ক্ষুধার কষ্ট, দারিদ্র্যের রাত, রোগের দীর্ঘ ব্যথা,
ঈমানদারের কাছে সেসব নয় তো বৃথা কথা।
প্রতিটি দুঃখ পাপ ঝরিয়ে হৃদয় করে পবিত্র,
রবের দিকে ফিরিয়ে আনে মানুষকে আরও নিকট।
মুমিন দেখে শিশিরবিন্দু ভোরের প্রথম আলোয়,
আল্লাহরই অপার কুদরত ফুটে ওঠে ভালোয়।
একটি ফুলের সুবাস বলে—স্রষ্টা কত মহান!
আকাশভরা নক্ষত্র বলে—তিনি দয়ার দান।
দিনের শেষে সন্ধ্যা নামে, রাতের পরে ভোর,
এভাবেই তো কষ্ট শেষে খুলে সুখের দ্বার।
ধৈর্য যদি থাকে সঙ্গে, ঈমান থাকে প্রাণে,
রহমতেরই আলো নামে আল্লাহর বিধানে।
যে নামাজে দাঁড়ায় নিয়মিত, সত্য কথা কয়,
অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে মানবসেবা হয়;
তার প্রতিটি সৎকর্ম যেন আখিরাতের বীজ,
সেই বীজেই ফুটবে পরে জান্নাতি সব লতাবীথি।
দুনিয়া হলো সফরপথের ক্ষণিক বিশ্রামঘর,
চিরনিবাস নয় এখানে, নয় তো শেষের ঘর।
আজ যে পথিক, কাল সে যাবে অনন্তেরই দেশে,
সঙ্গে যাবে ঈমান, আমল, সৎকর্ম আপন বেশে।
হে মানুষ! ভেবো না কখনো দুনিয়াই সব সুখ,
মৃত্যুর পরে খুলবে আবার অনন্ত জীবনের মুখ।
যে আজ রবের পথে চলে, সংযম রাখে প্রাণ,
সে-ই পাবে অফুরন্ত সুখ, চিরশান্তির স্থান।
এসো তবে ঈমান নিয়ে সত্যপথে চলি,
মিথ্যা, লোভ আর অন্যায় হতে দূরে থাকি চলি।
সবর, শোকর, তাওয়াক্কুলে জীবন করি ভর,
আল্লাহরই সন্তুষ্টিতে হোক অন্তর ভরপুর।
হৃদয় জুড়ে জ্বালাই আবার কুরআনেরই আলো,
রাসূলের (সা.) আদর্শ ধরে গড়ি জীবন ভালো।
ক্ষণিক সুখের মোহ ত্যাগে জাগুক নতুন প্রাণ,
আখিরাতের সফলতাই হোক জীবনের জ্ঞান।
দুনিয়া যদি কারাগারও হয় মুমিনের তরে,
এই কারাগার শেষ হবে একদিন প্রভাত-ভোরে।
খুলবে তখন রহমতের দ্বার, শেষ হবে সব ক্ষয়,
চিরজান্নাতের অনন্ত সুখ হবে মুমিনের জয়।
***
দুনিয়া মুমিনের কারাগার
দুনিয়ার এই রঙিন মেলা, ক্ষণিক সুখের গান,
চোখের পলক ফুরিয়ে গেলে শেষ হয় সব মান।
আজ যে হাসে প্রাসাদজুড়ে, কাল সে মাটির তলে,
সময় যেন নীরব স্রোতে সবকেই নিয়ে চলে।
সূর্য ডোবে, চাঁদও ফুরায়, ঝরে ফুলের হাসি,
স্থায়ী কেবল আল্লাহরই অমল চিরবাঁশি।
এই ধরাটি সফরপথের অস্থায়ী এক ঘর,
চিরনিবাস আখিরাতে—সত্য এ-ই অমর।
মুমিন জানে—জীবন মানে পরীক্ষারই পথ,
ধৈর্য, শোকর, ইখলাস দিয়ে পূর্ণ হয় সে রথ।
হালাল পথে চলার মাঝে আত্মার মহিমা,
সংযমেই ফুটে ওঠে ঈমানের প্রতিমা।
নফস যখন ডাকে তাকে নিষিদ্ধ সুখের পানে,
রবের ভয়ে ফিরিয়ে নেয় হৃদয় আপন টানে।
কষ্ট এলেও মুখে থাকে সন্তুষ্টিরই বাণী,
"আমার রবই যথেষ্ট"—এই বিশ্বাসে প্রাণী।
কারাগারে বন্দী যেমন নিয়ম মেনে রয়,
তেমনি মুমিন আল্লাহর বিধান মানাতেই পায় জয়।
স্বাধীনতা মানে নয় তো প্রবৃত্তিরই দাস,
আত্মসংযমেই লুকিয়ে থাকে প্রকৃত মুক্তির শ্বাস।
চোখকে রাখে পাপ থেকে দূরে, জিহ্বা সত্য কয়,
অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, ন্যায়ের পথেই জয়।
লোভের আগুন নেভায় সে ঈমানেরই জলে,
আল্লাহর প্রেম হৃদয় ভরে, শান্তি নামে ফলে।
বিপদ এলে মুমিন জানে—রবের পরীক্ষা এ,
প্রতিটি অশ্রু সওয়াব হয়ে জমা থাকে যে।
রোগ, দারিদ্র্য, ক্ষুধার জ্বালা, জীবনের সব ক্ষয়,
ধৈর্যের মাঝে লুকিয়ে থাকে অনন্ত সুখের জয়।
রাতের শেষে যেমন আসে উজ্জ্বল ভোরের আলো,
সবর শেষে রহমত নামে অপার সুখের ঢল।
ঝড়ের পরে নির্মল আকাশ যেমন হাসে নীল,
তেমনি কষ্ট শেষে আসে জান্নাতেরই তিল।
ধন-সম্পদ, রাজ্য-ক্ষমতা, সম্মান যত বড়,
মৃত্যুর কাছে মুহূর্তেই হয় যে সবই ঝর।
সোনার প্রাসাদ, রত্নভাণ্ডার, রঙিন সুখের ভেলা,
এক নিমেষে ভেসে যায় সব, ফুরায় জীবনের খেলা।
যে ভোগেই সুখ খুঁজে ফেরে, ভুলে রবের নাম,
সে তো শুধু ছায়া ধরে হারায় আসল ধাম।
মরীচিকার পিছে ছুটে তৃষ্ণা মেটে কই?
আখিরাতের আলো ছাড়া সত্য সুখ যে নয়।
নামাজ তার জীবনের প্রাণ, করআন পথের দীপ,
সুন্নাহ যেন দিশারী এক অন্ধকারের নীপ।
দান-সদকা, সৎচরিত্র, বিনয়, ভালোবাসা,
এসব নিয়েই গড়ে ওঠে ঈমানের ভাষা।
অসহায়ের পাশে দাঁড়ায়, রাখে না কোনো ভেদ,
মানুষ সেবায় খুঁজে পায় সে আল্লাহরই স্নেহ।
প্রতিটি ভালো কাজ যেন জান্নাতেরই বীজ,
সেই বীজে ফুটবে একদিন অনন্ত সুখের লীজ।
হে মানব! ক্ষণিক সুখে ভুলে যেয়ো না রব,
মৃত্যুর পরে খুলবে সবার কর্মফলের সব।
আজই গড়ো ঈমান দিয়ে পবিত্র জীবনখানি,
আল্লাহরই সন্তুষ্টিতে রাখো অন্তর টানি।
সবর, শোকর, তাওয়াক্কুলে দৃঢ় হোক প্রত্যয়,
কুরআনেরই আলোকধারায় কাটুক জীবনের ক্ষয়।
রাসূলের (সা.) মহাসুন্নাহ হোক চলার পথ,
সত্য, ন্যায় আর দয়ার বাণী হোক হৃদয়ের রথ।
দুনিয়া যদি কারাগার হয় ঈমানদারের তরে,
এই কারাগার শেষ হবে প্রভাতেরই ভোরে।
খুলবে তখন রহমতের দ্বার, মুছে যাবে ভয়,
চিরজান্নাতের অফুরন্ত সুখ—মুমিনেরই জয়।
***
দুনিয়া মুমিনের কারাগার
হে মানব, ক্ষণিক এই ধরায় কিসের এত গর্ব?
শিশিরবিন্দুর মতো জীবন, স্বপ্নভাঙা পর্ব।
আজ যে হাসে ফুলের বনে, কাল সে নীরব ধূলি,
মৃত্যুর ডাকে থেমে যাবে জীবনেরই দুলি।
আকাশভরা নীলের হাসি, নদীর স্রোতের গান,
সবই যেন শিক্ষা দেয়—স্থায়ী নন কোনো প্রাণ।
চিরদিনের ঘরটি কিন্তু এই দুনিয়ায় নয়,
আখিরাতের অনন্ত ভোরেই সত্যিকারের জয়।
মুমিন জানে—দুনিয়ার পথে পরীক্ষা অবিরাম,
প্রতিটি ক্ষণ রবের ডাকে জাগে ঈমানের নাম।
হালাল পথে চলার মাঝে শান্তির সুধাধারা,
সংযম যেন আলোর মশাল, নূরের দিশেহারা।
লোভের সাগর ডাকলেও সে ডোবে না সেই জলে,
রবের প্রেমে হৃদয় ভরে সত্যপথেই চলে।
মিথ্যার রঙিন প্রাসাদ ছেড়ে সত্যকে করে বরণ,
আল্লাহরই সন্তুষ্টিতে খুঁজে জীবনের শরণ।
কারাগারে বন্দী যেমন নিয়ম মেনে রয়,
তেমনি মুমিন আল্লাহর বিধান মানাতেই পায় জয়।
চোখে থাকে লজ্জার পর্দা, মুখে সত্যের বাণী,
নম্রতায় সে জিতে নেয় মানুষেরই প্রাণ।
নফস যখন কানে কানে ডাকে সুখের ছলে,
ঈমান তখন দাঁড়িয়ে থাকে পাহারাদার হয়ে।
হারাম সুখের মোহ ছেড়ে হালাল পথে হাঁটে,
জান্নাতেরই স্বপ্ন বুকে প্রতিদিন সে গাঁথে।
ঝড়ের রাতে দীপ জ্বালানো যেমন সাহসের কাজ,
তেমনি কষ্টে ধৈর্য ধরা মুমিনেরই সাজ।
রোগের বেদনা, ক্ষুধার জ্বালা, দারিদ্র্যের ক্ষণ,
সবই যেন রহমতেরই অদৃশ্য আয়োজন।
চোখের জলে ধুয়ে যায় যত অন্তরেরই মল,
সবর শেষে রহমত নামে শিশিরভেজা জল।
প্রতিটি দুঃখ সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে একদিন,
আল্লাহ দেবেন জান্নাতভরা অফুরন্ত রঙিন দিন।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, যশ—সবই ক্ষণিক ধন,
মৃত্যু এলে থাকে না আর কোনো পরিচয়চিহ্ন।
রাজপ্রাসাদ, সোনার সিংহাসন, অলংকারের ঢেউ,
এক মুঠোই মাটির নিচে মিলিয়ে যাবে ঢেউ।
মরীচিকার পিছে ছুটে কত মানুষ ক্লান্ত,
পায় না তবু অন্তরজুড়ে শান্তির নির্মল কান্তি।
আখিরাতের আলো ছাড়া নিভে যায় সব দীপ,
রবের স্মরণ ছাড়া হৃদয় থাকে অন্ধ, নিঃসঙ্গ, নীরব।
নামাজ তার প্রাণের আলো, কুরআন পথের দিশা,
সুন্নাহ তার জীবনেরই শ্রেষ্ঠতম প্রত্যাশা।
দান, সদকা, সৎচরিত্র, বিনয়, ভালোবাসা—
এসব দিয়েই গড়ে ওঠে ঈমানের ভাষা।
অসহায়ের চোখের জলে খুঁজে নেয় সে রব,
মানুষ সেবায় দেখে সে ইবাদতেরই রূপ।
ক্ষমা দিয়ে জিতে নেয় সে কঠিন হৃদয়খানি,
ভালোবাসায় ছড়িয়ে দেয় ইসলামেরই বাণী।
হে মানব, জাগো আজই, সময় বহে যায়,
মৃত্যুর আগে সৎকর্ম করো, সুযোগ ফিরে নায়।
সবর, শোকর, তাওয়াক্কুলে জীবন হোক ভরা,
আল্লাহরই সন্তুষ্টিতে কাটুক দিনধরা।
রাসূলের (সা.) মহাসুন্নাহ হোক চলার আলো,
কুরআনেরই শিক্ষায় গড়ি জীবন সত্য-ভালো।
দুনিয়ার এই কারাগার একদিন হবে শেষ,
জান্নাত হবে মুমিনের চিরশান্তির দেশ।
যে হৃদয়ে ঈমান জাগে, সে হৃদয় অমল,
দুনিয়ার সব দুঃখ তার হয় না বিফল।
কারাগারের শৃঙ্খল ভেঙে শেষ প্রভাতের ক্ষণে,
রহমতেরই জান্নাত ফুটবে মুমিনের জীবনে।
***
দুনিয়া মুমিনের কারাগার
দুনিয়ার এই রঙিন মেলা, স্বপ্নভরা গান,
চোখের পলক ফুরিয়ে গেলেই শেষ হয় সম্মান।
আজ যে হাসে সুখের নেশায়, গর্বভরা মন,
কাল সে হবে নীরব পথিক, শেষ হবে জীবন।
আকাশজোড়া নীলের হাসি, নদীর কলতান,
সবই যেন শোনায় কেবল ক্ষণিক জীবনের গান।
ফুলের হাসি, শিশিরবিন্দু, ভোরের কোমল আলো,
বলছে—"চিরস্থায়ী নও তুমি, করো আমল ভালো।"
মুমিন জানে—জীবন মানে পরীক্ষারই পথ,
সবর, শোকর, ইখলাস দিয়ে পূর্ণ হয় সে রথ।
হালাল পথে প্রতিটি পদ, ঈমান তার সাথি,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি তার জীবনেরই গাঁথি।
লোভের ডাকে সাড়া দেয় না, সত্য করে বরণ,
অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়—এ তার দৃঢ় শপথধারণ।
হারাম সুখের ক্ষণিক মোহে হৃদয় দেয় না ঠাঁই,
রবের ভয়ে সংযম রেখে শান্তি খুঁজে তাই।
কারাগারের বন্দী যেমন নিয়ম মেনে রয়,
তেমনি মুমিন শরিয়তের বিধান মানেই জয়।
চোখকে রাখে পাপ থেকে দূরে, জিহ্বায় সত্য বাণী,
নম্রতায় সে জিতে নেয় মানুষেরই প্রাণখানি।
স্বাধীনতা মানে নয় তো প্রবৃত্তিরই দাস,
আত্মসংযমেই ফুটে ওঠে প্রকৃত মুক্তির শ্বাস।
সিজদাভেজা কপাল তার সাক্ষ্য দেয় প্রতিক্ষণ—
"রবই আমার একমাত্র প্রভু, তিনিই জীবনধন।"
ঝড়ের মাঝে দীপ জ্বালানো যেমন সাহসের কাজ,
তেমনি কষ্টে ধৈর্য ধরা মুমিনেরই সাজ।
রোগের ব্যথা, ক্ষুধার জ্বালা, দারিদ্র্যের রাত,
সবই যেন রহমতেরই অদৃশ্য বারাত।
চোখের জলে ধুয়ে যায় যত অন্তরের মলিনতা,
সবর শেষে ফুটে ওঠে রহমতেরই পবিত্রতা।
প্রতিটি দুঃখ সাক্ষী হবে বিচার দিনের ক্ষণে,
আল্লাহ দেবেন জান্নাতভরা শান্তির অঙ্গনে।
সোনার প্রাসাদ, ধনের পাহাড়, যশের অহংকার,
মৃত্যুর ডাকে মুহূর্তেই হয় যে সবই ছারখার।
রাজমুকুট, অলংকার আর ক্ষমতার সে ঢেউ,
এক মুঠো মাটির নিচে হারিয়ে যায় ঢেউ।
মরীচিকার পিছে ছুটে তৃষ্ণা মেটে কই?
আখিরাতের আলো ছাড়া সত্য সুখ যে নয়।
যে রবকে ভুলে ভোগেই খোঁজে জীবনের মান,
সে তো শুধু ছায়া ধরে হারায় আসল স্থান।
নামাজ তার প্রাণের আলো, কুরআন পথের দীপ,
সুন্নাহ তার দিশারী, নূরের অপার সীমানীপ।
দান, সদকা, সৎচরিত্র, বিনয়, ভালোবাসা—
এসব দিয়েই গড়ে ওঠে ঈমানের ভাষা।
ক্ষমা দিয়ে জয় করে সে কঠিন হৃদয়খানি,
মানবসেবায় খুঁজে পায় ইবাদতেরই বাণী।
অসহায়ের মুখের হাসি তারই বড় পুরস্কার,
আল্লাহর পথে ব্যয় করাই জীবনের অহংকার।
দুনিয়া শুধু সফরপথের অল্প দিনের ঘর,
চিরনিবাস আখিরাতে—সেখানে সুখ ভর।
আজ যে পথিক, কাল সে যাবে অনন্তেরই দেশে,
সঙ্গে যাবে ঈমান, আমল, সৎকর্ম আপন বেশে।
এই পৃথিবীর প্রতিটি ক্ষণ বীজের মতো রয়,
যেমন বপন করবে মানুষ, তেমন ফলই হয়।
সৎকর্ম যদি রোপণ করো আল্লাহরই নামে,
জান্নাতি ফুল ফুটবে তবে অনন্তেরই থামে।
হে মানুষ! ক্ষণিক সুখে ভুলো না পরকাল,
মৃত্যুর পরে খুলবে সবার কর্মেরই জবাবখাতা কাল।
আজই গড়ো পবিত্র জীবন ঈমানেরই আলোয়,
রবের সন্তুষ্টি থাকুক তোমার প্রতিটি ভালোয়।
সবর, শোকর, তাওয়াক্কুলে দৃঢ় হোক প্রত্যয়,
কুরআনেরই আলোকধারায় কাটুক জীবনের ক্ষয়।
রাসূলের (সা.) মহাসুন্নাহ হোক চলার পথ,
সত্য, ন্যায় আর দয়ার বাণী হোক হৃদয়ের রথ।
দুনিয়া যদি কারাগার হয় ঈমানদারের তরে,
এই কারাগার শেষ হবে এক শুভ প্রভাতভোরে।
খুলবে তখন রহমতেরই অফুরন্ত দুয়ার,
মুছে যাবে দুঃখ-ব্যথা, থাকবে না অন্ধকার।
চিরজান্নাতের স্নিগ্ধ ছায়া ডাকবে আপন করে,
রহমতেরই নদী বইবে জান্নাতের অন্তরে।
যে ছিল ধৈর্যে অটল, ছিল সত্যের সাথি,
সে-ই পাবে রবের কাছে অফুরন্ত শান্তি।
দুনিয়ার সুখ শিশিরসম, সূর্য উঠলেই ক্ষয়,
আখিরাতের জান্নাতই মুমিনের প্রকৃত জয়।
এই জীবনের প্রতিটি দিন প্রস্তুতিরই কাল,
আল্লাহভীতি, সৎকর্ম, ধৈর্য—এগুলোই সম্বল।
এসো সবাই গড়ি জীবন কুরআনেরই তরে,
রাসূলের (সা.) আদর্শ ধরে সত্যপথের ঘরে।
দুনিয়ার এই কারাগার একদিন হবে শেষ,
জান্নাত হবে মুমিনের চিরশান্তির দেশ।
১৩
১৫ মন্তব্য