সহকারী অধ্যাপক
১৭ জুলাই, ২০২৬ ০২:৪৭ অপরাহ্ণ
ঝুঁকির ডানায় সফলতা - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
ঝুঁকির ডানায় সফলতা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
দ্রুত বদলায় পৃথিবী আজ, বদলায় দিনের রূপ,
নতুন স্বপ্ন ডাকে নিত্য, খোলে সম্ভাবনার কূপ।
যে দাঁড়িয়ে থাকে ভয়ে ভয়ে, আঁকড়ে ধরে কাল,
তারই চোখে হারায় শেষে ভবিষ্যতের জ্যোতিজাল।
সময় যেন স্রোতের নদী, বহে নিরবধি বেগে,
স্থির পাথর ক্ষয় হয়ে যায়, স্রোত যায় তাকে ভেঙে।
যে নৌকাটি পাল তোলে না, বন্দরে রয় থেমে,
সে কি জানে সমুদ্রজয়ের মহাগৌরব কেমনে?
নিরাপত্তার নরম কোণে ঘুমিয়ে থাকে প্রাণ,
অজানাকে ভয় যে পায়, হারায় তারই জ্ঞান।
ঝড়কে যারা বন্ধু ভাবে, পথের সাথি করে,
তারাই একদিন বিজয়েরই পতাকা তুলে ধরে।
ঝুঁকি মানে বেপরোয়া নয়, জ্ঞানী হৃদয় বলে,
পরিকল্পনা, সাহস, ধৈর্য—এই তিন থাকে দলে।
বিবেক যদি পথ দেখায়, লক্ষ্য থাকে ঠিক,
ছোট্ট পদে শুরু হলেও সাফল্য আসে ঠিক।
ভুলের ভয়ে থেমে গেলে ভুলই থাকে সাথি,
চলার পথে ভুল সংশোধন মানুষ করে মাতি।
ব্যর্থতা যে শেষ নয় গো, নতুন শিক্ষার দ্বার,
অভিজ্ঞতার আলোকরেখা ভবিষ্যতের হার।
যে কৃষকটি বীজ না বোনে খরার ভয়ে মাঠে,
ফসল তার উঠবে কেমন সোনার ধানের ঘাটে?
যে জেলে ভয় পায় ঢেউকে, নৌকা রাখে তীরে,
সমুদ্র কি তুলে দেবে রত্ন তারই নীড়ে?
যে ছাত্রটি প্রশ্ন করতে সংকোচে রয় চুপ,
জানার আলো কমে আসে, বাড়ে অজ্ঞানরূপ।
জিজ্ঞাসা আর অনুসন্ধান জ্ঞানের প্রথম ধাপ,
সাহসী মনই ছুঁতে পারে সাফল্যেরই চাপ।
নতুন পথে প্রথম পা-টি কাঁপবেই স্বাভাবিক,
তবু সে-ই তো জয় করে সব অসম্ভবের দিক।
ভয়কে যদি জয় না করি, কেমন করে বলো,
আলোকিত সেই ভোরের মুখ দেখব ভালোবেসে?
ইতিহাসের প্রতিটি পাতা খুলে যদি চাও,
সাহসীদের অমর কীর্তি সেখানেতে পাও।
যারা ভেঙেছে পুরোনো সব অচলতার বাঁধ,
তাদের হাতেই ফুটে উঠেছে সভ্যতারই সাধ।
আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখে উড়েছে যত প্রাণ,
বারে বারে পড়ে গিয়েও হারায়নি সম্মান।
প্রচেষ্টা আর অধ্যবসায় ধরেছে শক্ত হাত,
তাই তো আজও জ্বলজ্বলায় তাদের সোনার রাত।
বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য কিংবা কর্মের প্রতিক্ষেত্র,
ঝুঁকি ছাড়া জাগে না কোনো সৃষ্টিশীল চরিত্র।
নতুন ভাবনা, নতুন পথ, নতুন আলোর গান—
সাহসীদের হাতেই গড়ে আগামী দিনের মান।
আজ যে শিশু প্রথম লিখে কাঁপা কাঁপা হাত,
আগামী দিনের কবি হবে, গড়বে দেশের মাত।
আজ যে কিশোর স্বপ্ন বোনে অচেনা আকাশে,
আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবে বিশ্বেরই প্রকাশে।
ভয়কে যদি রাজা বানাও, মন হবে পরাজিত,
আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যাবে, হবে পথ রুদ্ধচিত্ত।
সাহস যদি হৃদয় জুড়ে জ্বালায় আশার দীপ,
অন্ধকারও সরে দাঁড়ায়, হাসে নতুন নীপ।
জীবন মানে চলার শিক্ষা, থেমে থাকার নয়,
ঝুঁকির ভেতর সম্ভাবনার অসীম পরিচয়।
সঠিক চিন্তা, সৎ উদ্দেশ্য, পরিশ্রমের ডানায়,
অসম্ভবও ধরা দেয় এক সফল অভিযানে।
শিখতে হলে প্রশ্ন করো, জানতে হলে চলো,
অজানাকে আপন করে সত্যের পথে বলো।
যে শেখে সে এগিয়ে চলে, বদলায় নিজের কাল,
জ্ঞানই তার সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি, জ্ঞানে জীবনের জয়ধ্বনি।
ব্যর্থতারও রয়েছে ভাষা, রয়েছে মধুর পাঠ,
হতাশা নয়, নতুন করে শুরু করার হাত।
প্রতিটি ক্ষত শেখায় মানুষ আরও দৃঢ় হতে,
অভিজ্ঞতার অমূল্য রত্ন সঞ্চয় করতে।
যে তরুণ আজ দক্ষ হতে শেখে নতুন কাজ,
আগামী দিনের উন্নতিতে তারই হবে সাজ।
যে উদ্যোক্তা সৎ সাহসে শুরু করে পথ,
দেশের অর্থ, মানুষের সুখ—সবই পায় রথ।
ঝুঁকি নাও, তবে জেনে নাও কোন পথে কল্যাণ,
অন্ধ আবেগ নয় কখনো, হোক প্রজ্ঞার জ্ঞান।
বিবেচনা আর দূরদৃষ্টি হোক পথচলার সাথি,
তবেই ফুটবে সাফল্যেরই সুগন্ধি ফুলপাতি।
মানুষ তুমি জেগে ওঠো, সময় দেয় ডাক,
স্বপ্নগুলো বাস্তব হবে, খুলবে নতুন ফাঁক।
আজকের ক্ষুদ্র পদক্ষেপই আগামী দিনের জয়,
সাহসীদের হাতেই লেখা মানবতার পরিচয়।
তাই তো বলি—ভয় নয় আর, জাগুক দৃঢ় প্রাণ,
পরিশ্রমে গড়ে উঠুক আলোকিত সম্মান।
পরিবর্তনের এই পৃথিবী ডাকে নিরন্তর,
ঝুঁকির ডানায় ভর করেই জয় করো অন্তর।
চল এগিয়ে, থেমো না আর, সময় অমূল্য ধন,
সাহস, সততা, কর্মনিষ্ঠা হোক জীবনের পণ।
নতুন দিনের নতুন আলো অপেক্ষাতে রয়—
ঝুঁকি নিয়ে সৎ পথে চলাই মানুষের সত্য জয়।
***
ঝুঁকির ডানায় সফলতা
দ্রুত বদলায় বিশ্বভুবন, বদলায় কালের সুর,
নিত্য নতুন স্বপ্ন ডাকে, খোলে সম্ভাবনার দ্বার।
যে কেবলই ভয়ের বাঁধনে আটকে রাখে প্রাণ,
সে-ই হারায় ভবিষ্যতের রঙিন অভিযাত্রার গান।
সময় বহে অশান্ত নদী, থেমে থাকে না ক্ষণ,
স্থির জলে জন্ম নেয় কেবল স্থবিরতার জীবন।
যে নৌকা ভাসে না কখনো অজানা সাগরপথে,
সে কী করে খুঁজে পাবে মুক্তো গভীর রথে?
পর্বত ডিঙায় সাহসীরা, আকাশ ছোঁয় যে মন,
অগ্নিপথে পা বাড়িয়ে রচে বিজয়ের জীবন।
ঝড়কে যারা আপন করে, আঁধার ভেদে যায়,
ইতিহাসের সোনার পাতায় তাদের নামই ঠাঁই।
ঝুঁকি মানে নয় উন্মত্ত, বেপরোয়া কোনো গতি,
ঝুঁকি মানে সুদূরদৃষ্টি, বিবেক, জ্ঞান, প্রগতি।
পরিকল্পনা, অধ্যবসায়, শ্রমের দৃঢ় হাত,
এই চার স্তম্ভে দাঁড়িয়ে থাকে সাফল্যেরই প্রাসাদ।
ব্যর্থতা কি শেষের কথা?—না, সে শিক্ষার আলো,
হাজার ভুলের বুকের মাঝে জয়ের বীজই ভালো।
যে পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ায়, সে-ই প্রকৃত বীর,
হারের ভেতর জয়ের রথে লিখে নতুন নকশীর।
কৃষক যদি বীজ না বোনে খরার ভয়ে কভু,
ধানের শিষে সোনার হাসি ফুটবে কোথায় তবে?
জেলে যদি ঢেউকে ভেবে রাখে নৌকা তীরে,
সমুদ্র কি ধরা দেবে রত্নভরা নীড়ে?
যে ছাত্রটি প্রশ্ন করতে সংকোচ বুকে পোষে,
জ্ঞানদীপটি নিভে যায় তার অজ্ঞানতার কোষে।
জিজ্ঞাসাই জ্ঞানের প্রথম সোপানখানি খোলে,
সাহসীরা সত্য খুঁজে অগ্রগতির দলে।
নতুন পথে প্রথম পদে কাঁপে মানবপ্রাণ,
তবু সেখানেই জাগে ধীরে বিজয়েরই গান।
অচেনা পথ ভয় দেখায়, তবু যে যায় হেসে,
তারই পায়ে ফুটে ওঠে সাফল্যেরই দেশে।
ইতিহাসের প্রতিটি পাতা সাহসীদের নাম,
তাদের ত্যাগে আলোকিত মানবসভ্যতার ধাম।
অচলতার শৃঙ্খল ভেঙে খুলেছে নবদ্বার,
তাদের হাতেই রচিত হয়েছে উন্নয়নের ভার।
বিজ্ঞান আজ যে শিখরে, শিল্প যে দীপ্তিমান,
সাহসী সব স্বপ্নবাজের অক্লান্ত অবদান।
চিন্তার ডানায় ভর করে মানুষ ছুঁয়েছে চাঁদ,
ঝুঁকি নিয়েই লিখেছে তারা বিস্ময়েরই সাধ।
কলম ধরা কাঁপা হাতে শিশুর প্রথম বর্ণ,
একদিন সে আলোকিত করবে দেশের স্বর্ণ।
কিশোর যদি স্বপ্ন বোনে সত্য, শ্রম আর জ্ঞান,
আগামী দিনের নেতৃত্বে উজ্জ্বল হবে প্রাণ।
ভয়কে যদি সিংহাসনে বসাও নিজের মনে,
জীবন তবে বন্দি হবে অন্ধকারের কোণে।
আত্মবিশ্বাস সূর্য হয়ে উঠুক অন্তরে,
অসীম শক্তি জাগুক তবে কর্মের অঙ্গনে।
জীবন মানে চলার শিক্ষা, থেমে থাকা নয়,
ঝুঁকির মাঝে সম্ভাবনার অমলিন পরিচয়।
সৎ উদ্দেশ্য, নির্মল চিত্ত, শ্রমের দীপ্তি সাথে,
অসম্ভবও ধরা দেয় দৃঢ় প্রত্যয়ের হাতে।
শেখার কোনো শেষ নেই, শেখো প্রতিক্ষণ,
জ্ঞানই মানুষ গড়ে তোলে, বদলে দেয় জীবন।
যে শেখে সে এগিয়ে যায় আলোর অভিযানে,
অজ্ঞতার অন্ধকার আর বাঁধা হতে না পারে।
ব্যর্থতারও আছে বাণী, আছে মধুর দান,
হতাশাকে জয় করেই জাগে নবপ্রাণ।
ক্ষতচিহ্নই সাক্ষ্য দেয় সংগ্রামী পথচলার,
অভিজ্ঞতাই সেরা শিক্ষক জীবনেরই ধার।
তরুণ যদি দক্ষতাতে গড়ে নিজের হাত,
দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে শত প্রভাত।
উদ্যোক্তা যদি সততা আর সাহস নিয়ে চলে,
সমৃদ্ধির ফুল ফুটে ওঠে মানুষেরই দলে।
ঝুঁকি নাও—তবে হোক তা জ্ঞানের আলোয় ভরা,
অন্ধ আবেগ নয় কখনো, হোক বিবেক ধরা।
দূরদৃষ্টি আর সংযম হোক পথের সম্বল,
তবেই মিলবে সাফল্যের অমলিন ফল।
জাগো মানুষ, সময় আজ আহ্বান জানায়,
স্বপ্নগুলো কর্মে গাঁথো, অলসতা সরায়।
আজকের ক্ষুদ্র পদক্ষেপই আগামী দিনের জয়,
সাহসীদের হাতেই লেখা মানবতার পরিচয়।
চল এগিয়ে, থেমো না আর, পথ এখনও বাকি,
ঝড়ের বুকেই জন্ম নেয় বিজয়েরই ফাঁকি।
পরিশ্রমের প্রতিটি ফোঁটা মুক্তার মতো দীপ,
আলোকিত করে জীবন, করে বিশ্ব স্নিগ্ধ নীপ।
পরিবর্তনের এই পৃথিবী ডাকে অবিরাম,
সাহসীদের পদচারণায় জাগে নতুন ভোরের নাম।
যে ঝুঁকি নেয় সত্যপথে, বিবেক যারে চালায়,
তারই কপাল সাফল্যের সোনার মুকুট পায়।
তাই বলি আজ—ভয় নয় আর, জাগুক দৃঢ় মন,
সততা হোক পথের আলো, শ্রম হোক জীবনধন।
স্বপ্ন, সাধনা, সাহস মিলে রচিত হোক পরিচয়—
ঝুঁকির ডানায় ভর করেই মানুষের সত্য জয়।
***
ঝুঁকির ডানায় সফলতা
প্রভাত আসে রাত পেরিয়ে, আঁধার ভেঙে যায়,
সংগ্রামেরই প্রতিটি ক্ষণ নব সূর্যোদয় গায়।
যে চলেছে সত্যের পথে দৃঢ় প্রত্যয় ধরে,
ভাগ্যও একদিন নতশিরে তারই পাশে দাঁড়ায় রে।
বাতাস যদি থেমে যেত, উড়ত না কোনো পাল,
বৃষ্টি যদি নামত না গো, শুকিয়ে যেত খাল।
প্রকৃতিরও শিক্ষা আছে—চলতে হবে সদা,
স্থিরতাতে মৃত্যু লুকায়, গতিতেই সম্পদ।
বীজের বুকে অরণ্যেরই অগণিত সম্ভাবনা,
স্বপ্নবুকে লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের ঠিকানা।
মাটির তলে চাপা পড়েও বীজ হারায় না মান,
সময় পেলে ভেদ করে সে সূর্যেরই দান।
লোহাখণ্ড আগুন ছুঁয়ে তবেই পায় রূপ,
পরীক্ষাহীন জীবন কভু হয় না মহারূপ।
ঘামের ফোঁটা মুক্তা হয়ে ঝরে শ্রমিকের কপালে,
সেই ঘামেই সভ্যতা গড়ে শত উন্নতির কালে।
ঈগল যখন ডানা মেলে ঝড়ের বুকের 'পরে,
ঝড়ই তখন সোপান হয়ে তাকে আকাশে ধরে।
মানুষ কেন ভয় পাবে পথের সামান্য ঢেউ?
সাহস যদি সঙ্গী থাকে হার মানাতে পারে কে?
স্বপ্ন যদি বন্দি থাকে দ্বিধার অন্ধ ঘরে,
জীবন তবে শুকিয়ে যাবে মরুভূমির তরে।
স্বপ্ন যখন কর্মে মেশে, জ্ঞানে পায় আশ্রয়,
অসম্ভবের দুর্গ ভেঙে নিশ্চিত আসে জয়।
সাহস মানে যুদ্ধ শুধু অস্ত্র হাতে নয়,
সত্য বলার দৃঢ় শক্তিও সাহসের পরিচয়।
অন্যায় দেখে নীরব থাকা দুর্বলতার লক্ষণ,
ন্যায়ের ডাকে সাড়া দেওয়াই মানুষেরই লক্ষণ।
শিক্ষালয়ে প্রথম পাঠ—শিখি প্রশ্ন করা,
প্রশ্নহীন মন কখনো পায় না জ্ঞানের ধারা।
অনুসন্ধান, কৌতূহল আর নিরলস অধ্যবসায়,
মানবজীবন উন্নতিরই অমর সেতু গড়ায়।
যে উদ্যোক্তা ব্যর্থতাকে শিক্ষক বলে মানে,
নতুন করে শুরু করে শত প্রতিকূল টানে।
হিসাব কষে, শিক্ষা নিয়ে, এগিয়ে চলে ধীর,
শেষে তারই সাফল্যে মাতে জনপদ অধীর।
বিশ্ব যতই পাল্টাক না কেন, নীতি যেন রয়,
সততারই দৃঢ় ভিত্তি দীর্ঘস্থায়ী জয়।
অন্যায় পথে ক্ষণিক লাভ মরীচিকার হাসি,
সত্যপথে কণ্টক থাক, তবু সেখানেই ভাসি।
ঝুঁকি নাও, তবে হোক তা বিবেকেরই আলোয়,
অন্ধকারে নয় কখনো লোভের মিথ্যা ছলায়।
পরিকল্পনা, জ্ঞান ও শ্রম হোক পথের পাথেয়,
এই তিনেতে গড়ে ওঠে জীবনেরই মহিমায়।
তরুণ তুমি জেগে ওঠো, সময় ডাকে আজ,
তোমার হাতে গড়ে উঠুক আগামী দিনের সাজ।
বইয়ের পাতায়, গবেষণায়, শিল্পে কিংবা গানে,
নতুন পৃথিবী জন্ম নিক তোমারই অবদানে।
কর্মই হোক পরিচয় তোমার, সততাই হোক মান,
মানবসেবায় উৎসর্গিত হোক জীবনের গান।
নিজের জয়ে সীমাবদ্ধ নয় মহৎ মানুষের মন,
অন্যের সুখে খুঁজে নেয় সে আপন অর্জন।
আকাশ যত দূরেই থাক, ডানা যদি মেলে,
অসম্ভবও নত হয় দৃঢ় সংকল্পের ফলে।
হাজার বাধা, হাজার কাঁটা, হাজার অন্ধকার—
অদম্য প্রাণের জয়ধ্বনি করে সবই পার।
তাই আজও সময় বলে—থেমো না পথিক,
চলার মাঝেই খুঁজে পাবে সাফল্যের দিক।
ভয়কে পিছে ফেলে রেখে এগিয়ে যাও নির্ভয়,
ঝুঁকির ডানায় ভর করেই মানুষ পায় বিজয়।
***
ঝুঁকির ডানায় সফলতা
জাগো তরুণ, জাগো আজি, দিগন্ত ডাকে দূর,
জ্ঞান–শ্রম–সাহসের আলোয় হোক জীবনের সুর।
যে জাতি শুধু অতীত গেয়ে বর্তমানকে ভোলে,
ভবিষ্যতের সুবর্ণ দ্বার খুলে না তার তলে।
পরিবর্তনের রথের চাকা থেমে থাকে না কভু,
সময়েরই কঠিন পাঠে জাগে নব প্রভু।
যে নিজেকে বদলাতে জানে সত্যের মহিমায়,
সাফল্যের দীপ জ্বলে তার কর্মময় প্রাঙ্গণায়।
নদী শেখায়—চলতে হবে, সাগর পেতে চায়;
বৃক্ষ শেখায়—ফল পেতে হলে ঝড়ও সইতে হয়।
মেঘ শেখায়—নিজেকে বিলিয়ে জীবন জাগে ধরা,
সূর্য শেখায়—অন্ধকার ভেদে আলো ছড়াও সারা।
কুঁড়ি যদি ভয়ে থাকে, ফুটবে কেমন ফুল?
স্বপ্ন যদি ঘুমিয়ে থাকে, হবে জীবন ভুল।
ডানা মেলে আকাশ ছোঁয় যে দুরন্ত অভিযাত্রী,
তারই নামে রচিত হয় আগামী দিনের গাথা।
কর্মশালায় হাতুড়ির ঘায়ে গড়ে ওঠে ইস্পাত,
শ্রমের আগুনেই দীপ্ত হয় মানুষেরই প্রভাত।
পরীক্ষা ছাড়া প্রতিভা কভু পায় না পূর্ণ রূপ,
সংগ্রামেরই আগুনে জ্বলে মহিমার অনুপম ধূপ।
ভয়কে যারা সিঁড়ি করে জয়ের পথে চলে,
তারাই লেখে বিজয়গাথা পৃথিবীরই তলে।
হতাশা নয়, আশার বীজ বুনে প্রতিটি প্রাণ,
অটল বিশ্বাসেই রচিত হয় উন্নতির অভিযান।
বইয়ের পাতা খুলে যারা জ্ঞানের দীপ জ্বালে,
তারাই পরে দেশ গড়ে দেয় প্রজ্ঞার অমৃত ঢালে।
গবেষণার নীরব ঘরে, কারখানার ধ্বনি,
শ্রমের ঘামে জেগে ওঠে সভ্যতারই বাণী।
উদ্যোক্তার প্রথম পুঁজি অর্থ নয় যে ভাই,
সাহস, সততা, আত্মবিশ্বাস—এই তিন সাথি চাই।
বারবার যদি পড়েও যায়, উঠে দাঁড়ায় হেসে,
ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে নামটি লেখা শেষে।
যে শিক্ষকটি প্রশ্ন শেখায়, জাগায় মুক্ত মন,
তারই হাতে আলোকিত হয় আগামী প্রজন্ম।
যে শিক্ষার্থী স্বপ্ন দেখে মানবকল্যাণে,
তারই চোখে ভবিষ্যতের দীপ্তি জ্বলে প্রাণে।
প্রযুক্তির এই নবযুগে জ্ঞানই শ্রেষ্ঠ বল,
অলসতার অন্ধকারে নিভে যায় সব ফল।
শিখতে হবে প্রতিক্ষণে, জানতে হবে নিত্য,
পরিবর্তনের সঙ্গে চলাই জীবনের সত্য।
শ্রমিক, কৃষক, বিজ্ঞানী আর শিল্পীরই গান,
সবার ঘামে গড়ে ওঠে উন্নত বাংলাদেশের প্রাণ।
প্রত্যেকে যদি নিজের কাজে উৎকর্ষ আনে আজ,
সমৃদ্ধিরই রঙে রাঙা হবে দেশের সাজ।
ঝুঁকি নাও, তবে হোক তা নৈতিকতার পথে,
লোভের ছায়া যেন না ঢাকে বিবেকেরই রথে।
সততারই মূলধনে গড়ো আগামী কাল,
মিথ্যার প্রাসাদ ভেঙে পড়ে, সত্য থাকে অটল।
হে মানব, মনে রেখো সদা—সময় অমূল্য ধন,
একটি ক্ষণও বৃথা গেলে ফেরে না সে ক্ষণ।
আজকের শ্রম, আজকের সাধন, আজকের সৎ প্রয়াস,
আগামী দিনের সাফল্যে রাখে চিরবিশ্বাস।
এসো সবাই হাত ধরি আজ উন্নয়নের তরে,
জ্ঞান, বিজ্ঞান, মানবতায় এগিয়ে যাই ঘরে ঘরে।
স্বপ্ন হোক কর্মে গাঁথা, সাহস হোক পরিচয়,
ঝুঁকির ডানায় ভর করেই মানুষ পায় বিজয়।
১৩
১৫ মন্তব্য