সহকারী অধ্যাপক
১৭ জুলাই, ২০২৬ ০২:৫২ অপরাহ্ণ
শিক্ষার শিকড় তিতা, ফল তার মধুময় - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
শিক্ষার শিকড় তিতা, ফল তার মধুময়
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
জ্ঞান যেন ভোরের আলো, আঁধার ভাঙার গান,
শিক্ষা যেন জীবনভরা সত্যের অভিযাত্রার প্রাণ।
শিকড় তার মাটির নিচে, কঠিন, গভীর, নীরব,
ফুলের হাসি ফুটে পরে, হয় সে জীবনগর্ব।
প্রথম পথে ক্লান্তি থাকে, থাকে অশ্রুর রেখা,
বারবার ভুল, বারবার শেখা—এভাবেই হয় দেখা।
কখনো বইয়ের পাতায় ঘুম, কখনো মনে ভয়,
তবু যারা থামে না আর, জয় তাদেরই হয়।
অক্ষর যখন প্রথম আসে কচি দুটি চোখে,
কাঁপা হাতে আঁকা বর্ণ হাসে শুভ আলোর শোকে।
‘অ’ থেকে ‘জ্ঞ’—ছোট্ট পথে কত যে সাধনা,
একদিন সেই বর্ণমালাই গড়ে জীবনের ঠিকানা।
শিক্ষা মানে কেবল নয় পরীক্ষার ফলাফল,
শিক্ষা মানে মানুষ হওয়া, হৃদয় করা উজ্জ্বল।
শিক্ষা শেখায় সত্য কথা, শেখায় ন্যায়ের পথ,
মানুষ যেন মানুষেরই পাশে থাকে অবিরত।
যে শেখে সে জানে কত বিস্ময়ে ভরা ধরা,
একটি প্রশ্ন খুলে দেয় শত প্রশ্নের ধারা।
জ্ঞান কখনো থেমে থাকে না একটি সীমার মাঝে,
নতুন ভোরের নতুন আলো প্রতিদিনই সাজে।
তিতা লাগে ভোরের ঘুম ছেড়ে ওঠার ক্ষণে,
তিতা লাগে রাত জেগে পড়া ক্লান্ত দুটি নয়নে।
তিতা লাগে ব্যর্থতার সেই প্রথম আঘাত,
তবু সেখানেই লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের প্রভাত।
যে ছাত্র আজ নীরব মনে লিখছে খাতার পাতা,
আগামী দিনে সেই-ই হবে দেশের সেরা নেতা।
যে আজ কঠিন অঙ্ক কষে ঘামে ভিজায় বুক,
কাল সে গড়বে সেতু, জাহাজ, বিজ্ঞানের সুখ।
যে মেয়ে আজ স্বপ্ন নিয়ে বইকে করে সাথি,
আগামী দিনের চিকিৎসক সে, আলোর দীপশিখাটি।
যে তরুণ আজ গবেষণাতে কাটায় দিনের পর,
তারই হাতে জেগে উঠবে উন্নয়নের ঘর।
শিক্ষা মানুষ শেখায় কেবল নিজের জন্য নয়,
অন্যের সুখে হাসতে শেখায়, দুঃখে পাশে রয়।
জ্ঞান যেখানে জাগ্রত থাকে, ঘুচে যায় অন্ধকার,
মানবতার সূর্য তখন ছড়িয়ে দেয় অপার।
জ্ঞানী মানুষ বিনয়ী হয়, অহংকারে নয়,
যতই শেখে, ততই বোঝে—শেখার শেষ না হয়।
বিশাল সাগর সামনে রেখে বলে নতশিরে,
"যা জেনেছি অতি সামান্য, শেখার বাকি ঘিরে।"
শিক্ষা মানে শৃঙ্খলারই দৃঢ় সোনার বাঁধন,
সময়মতো কাজের অভ্যাস, চরিত্রের সাধন।
সততা আর পরিশ্রমের মিলিত সুন্দর ফুল,
এসব গুণেই মানুষ পায় জীবনের আসল মূল।
অলসতা যে নীরব শত্রু, কেড়ে নেয় সব জয়,
পরিশ্রমের প্রতিটি ফোঁটা সফলতার বীজ বয়।
যে ঘামে ভেজায় আপন কপাল, হার মানে না কভু,
তারই হাতে ফুটে ওঠে জীবনের শুভ প্রভু।
শিক্ষা হলো মুক্ত বাতাস, মুক্ত নীল আকাশ,
শিক্ষাহীন জীবন যেন দিকহারা সর্বনাশ।
বিদ্যা দেয় বিবেকবোধ, দেয় চিন্তার ডানা,
অজানাকে জানতে শেখায়, খুলে দেয় ঠিকানা।
গ্রন্থাগারের নীরব ঘরে কত যে স্বপ্ন জাগে,
একটি বইয়ের একটি বাণী বদলে দেয় অনুরাগে।
একটি সত্য, একটি জ্ঞান, একটি মহৎ বোধ,
মানুষকে দেয় মহীয়ান এক আলোকিত রূপ।
পৃথিবীর যত উন্নতি আর সভ্যতার জয়,
জ্ঞানী মানুষের সাধনাতেই সম্ভব হয়েছে হয়।
কলম ধরেই মানুষ লিখেছে ইতিহাসের গান,
জ্ঞানেই গড়া প্রতিটি সেতু, প্রতিটি বিজ্ঞান।
শিক্ষা শেখায় সহমর্মিতা, শেখায় ভালোবাসা,
শেখায় মিলেমিশে গড়তে সুখের নতুন বাসা।
বর্ণ, ভাষা, ধর্ম ভেদে নয় কোনো বিভাজন,
মানুষ সবার আগে মানুষ—এই হোক উপলব্ধি-ধ্বনি।
জ্ঞান যদি হয় চরিত্রহীন, সে তো ভয়ংকর,
নৈতিকতার আলো ছাড়া সবই হয় নিরর্থক ঘর।
তাই শিক্ষার সঙ্গে চাই শুদ্ধ বিবেকবোধ,
তবেই গড়ে সত্যিকারের আলোকিত সমাজ।
মায়ের মুখের প্রথম বাণী, বাবার স্নেহছায়া,
শিক্ষকেরই সুমধুর ডাক—জীবন গড়ার মায়া।
তাঁদের ঋণ শোধ হয় না কোনো কালের শেষে,
তাঁদের শিক্ষা দীপ হয়ে জ্বলে হৃদয়ের দেশে।
আজ যে শিশু হাতে বই নিয়ে হাঁটে পথের ধারে,
আগামী দিনের স্বপ্নগুলো তারই চোখের তারে।
তাকে দাও জ্ঞানের আলো, দাও উদার মন,
সে-ই গড়বে আগামীর এই সোনার বাংলাদেশ-ভুবন।
শিক্ষা কেবল চাকরি নয়, শিক্ষা জীবনের দীপ,
শিক্ষা মানে সত্যের পথে দৃঢ় বিশ্বাসের নীড়।
শিক্ষা মানে সৃষ্টিশীলতা, নতুন ভাবনার ডানা,
শিক্ষা মানে বিশ্বজয়ের অদম্য প্রেরণা।
যতদিন মানুষ শিখবে নতুন, ততদিন সে বড়,
জ্ঞানচর্চাতেই প্রসারিত হয় জীবনেরই ঘর।
যে শেখাকে ভালোবেসে এগিয়ে চলে সদা,
তার জীবনেই ফুটে ওঠে সাফল্যের কদমফুল।
তাই এসো আজ শপথ করি—
অলসতার পথ ছেড়ে,
জ্ঞান-সাধনার দীপ জ্বালাব
দেশের প্রতিটি ঘরে।
তিতা যদি লাগে আজকে
শিক্ষার প্রথম দিন,
আগামীকাল মধু হয়ে
ফিরে আসবে সেই ঋণ।
শিকড় যত গভীর হবে,
বৃক্ষ হবে তত মহান;
জ্ঞান যত হবে গভীরতর,
উজ্জ্বল হবে মানবপ্রাণ।
জীবন ক্ষণিক, জ্ঞান অমর,
আলো তার অনন্ত;
শিক্ষিত হৃদয় গড়ে তোলে
সভ্যতারই কান্ত।
তাই বই হোক নিত্যসাথি,
কলম হোক শক্তি,
জ্ঞান হোক মানবতার আলো,
শিক্ষাই হোক মুক্তি।
শেষে বলি, মনে রেখো—
শিক্ষা কোনো বোঝা নয়;
এ যে মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ,
অমর গৌরবময়।
শিকড় যদি তিতা লাগে,
হতাশ হয়ো না ভাই;
মিষ্টি ফলের আশাতেই তো
সাধনার পথচলা চাই।
জ্ঞান যেখানে দীপ জ্বালে,
সেখানে ভয় হারায়;
শিক্ষিত হৃদয়, সৎ চরিত্র—
মানবজীবন সাজায়।
শিক্ষার শিকড় তিতা হলেও, ফল তার চিরমধুর।
অধ্যবসায়ের প্রতিটি পদক্ষেপই একদিন সাফল্যের সোনালি ফসল হয়ে ফিরে আসে।
***
শিক্ষার শিকড় তিতা, ফল তার অমৃতময়
শিক্ষা, জ্ঞান, সাধনা ও মানবোন্নয়ন নিয়ে একটি উচ্চাঙ্গ কাব্য
বাণী
"শিক্ষার শিকড় তিতা হলেও, এর ফল মিষ্টি।"
জ্ঞান যেন প্রভাতের প্রথম সোনালি আলোর রেখা,
অজ্ঞানতার ঘন অন্ধকার ভেঙে দেয় সে একা।
শিক্ষা যেন জীবনের পথে অনন্ত আলোকধারা,
মানবমনে জাগায় নিত্য সত্য-সুন্দরের ইশারা।
মাটির গভীর অন্ধকারে শিকড় থাকে নীরব,
ঝড়-বৃষ্টি সব সয়ে তবু থাকে অটল, দৃঢ়, স্থির।
চোখে পড়ে না তার সংগ্রাম, শোনে না কেউ বাণী,
তবু তারই শক্তি পেয়ে বৃক্ষ পায় মহিমাখানি।
তেমনি শিক্ষার প্রথম ধাপ কঠিন, তিক্ত, কণ্টকাকীর্ণ,
অধ্যবসায়, ধৈর্য, শ্রমে হয় সে ধীরে ধীরে সুদৃঢ়।
কখনো ব্যর্থতা আসে, কখনো নামে ক্লান্তি,
তবু অবিচল প্রাণের কাছে হার মানে সব ভ্রান্তি।
অক্ষরের সঙ্গে প্রথম পরিচয়—শিশুমনের গান,
মায়ের মুখের স্নেহমাখা বর্ণমালার টান।
কাঁপা হাতে লেখা প্রথম অক্ষর, প্রথম স্বপ্নবীজ,
সেই বীজই একদিন হয়ে ওঠে জ্ঞানের মহাবৃক্ষ।
শিক্ষা মানে মুখস্থ নয়, কেবল পরীক্ষার জয় নয়,
শিক্ষা মানে সত্যকে জানা, মিথ্যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো হয়।
শিক্ষা মানে নৈতিক সাহস, বিবেকের দীপ্তি,
মানুষ হয়ে মানুষের তরে উৎসর্গিত ভক্তি।
যে শেখে, সে জানে—জানার পথের নেই তো কোনো শেষ,
প্রতিটি উত্তরের ভেতর লুকিয়ে থাকে নতুন পরিবেশ।
প্রতিটি প্রশ্ন আহ্বান জানায় আরও বিস্তৃত জ্ঞানে,
মানবসভ্যতা এগিয়ে চলে সেই অমর অভিযানে।
ভোরের ঘুম ত্যাগের মাঝে তিতকুটে যে স্বাদ,
রাত জেগে বই পড়ারও আছে নীরব সাধ।
শত ব্যর্থতা, শত বাধা, শত অশ্রুর দাগ,
এসব দিয়েই নির্মিত হয় সাফল্যের অনুরাগ।
আজ যে ছাত্র দীপ জ্বেলে লিখছে খাতার পাতা,
আগামী দিনের বিজ্ঞানী সে, আলোকিত রাষ্ট্রনেতা।
আজ যে কন্যা স্বপ্ন বুকে বইকে করে সাথি,
আগামী দিনের চিকিৎসক, মানবতার বাতি।
আজ যে তরুণ গবেষণায় কাটায় নির্ঘুম রাত,
তারই হাতে ফুটবে একদিন নতুন সভ্যতার প্রভাত।
আজ যে কৃষক শেখে বিজ্ঞান, ফলায় সোনার ধান,
শিক্ষার শক্তি ছড়িয়ে পড়ে মাঠে-ঘাটে, প্রাণে প্রাণ।
জ্ঞান মানুষকে দেয় না শুধু জীবিকার উপায়,
জ্ঞান শেখায় মানবধর্ম, সত্যের পরিচয়।
জ্ঞান শেখায় ক্ষমা করতে, দুঃখীর পাশে দাঁড়াতে,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে সত্যপথে চলতে।
জ্ঞানী মানুষ নম্র থাকে, অহংকারে নয়,
যতই শেখে, ততই বুঝে—শেখার শেষ না হয়।
অসীম জ্ঞানের সাগরপাড়ে দাঁড়িয়ে বলে মন,
"আজও আমি পথিক শুধু, শেষ হয়নি গমন।"
শিক্ষা হলো চরিত্রগঠন, শৃঙ্খলারই নাম,
সততা তার মূলভিত্তি, পরিশ্রম তার ধাম।
সময়কে যে সম্মান করে, দায়িত্ব পালন করে,
তারই জীবনে সাফল্যের সূর্য হাসে ভোরে।
অলসতা এক নীরব শত্রু, স্বপ্ন কেড়ে নেয়,
পরিশ্রমের প্রতিটি বিন্দু আশার প্রদীপ জ্বায়।
ঘামের ফোঁটা মুক্তার মতো ঝরে শ্রমের ক্ষেতে,
সেই ঘামই একদিন সোনা হয়ে ফিরে আসে হাতে।
গ্রন্থাগারের নীরব কোণে কত শত প্রাণ,
বইয়ের পাতায় লুকিয়ে থাকে যুগযুগান্তের জ্ঞান।
একটি বাক্য, একটি চিন্তা, একটি শুভ বোধ,
মানুষকে দেয় মহীয়ান এক অনন্ত রূপ।
পৃথিবীর যত উন্নয়ন, সভ্যতার ইতিহাস,
জ্ঞানীদেরই নিরলস সাধনায় পেয়েছে নতুন শ্বাস।
কলমের নিবে লেখা হয়েছে মুক্তির অমর গান,
বিজ্ঞানের দীপে আলোকিত হয়েছে বিশ্বপ্রাণ।
শিক্ষা কেবল চাকরি নয়, শিক্ষা জীবনের দীপ,
শিক্ষা মানে আত্মজয়, সত্যের পবিত্র নীড়।
শিক্ষা মানে মুক্তচিন্তা, সৃষ্টিশীলতার ডানা,
শিক্ষাই মানুষকে দেখায় বিশ্বজয়ের ঠিকানা।
তাই এসো আজ শপথ করি—
অজ্ঞতার সব দ্বার ভাঙি;
জ্ঞান, ন্যায় আর মানবতার
দীপ জ্বালাব ঘরে ঘরে।
শিকড় যত গভীর হবে,
বৃক্ষ ততই মহীয়ান;
সাধনা যত গভীর হবে,
উজ্জ্বল হবে মানবপ্রাণ।
তিতা যদি লাগে আজ
পড়ার প্রথম প্রহর,
আগামী দিনে সেই সাধনাই
ফলবে সুধাময় প্রহর।
শেষে বলি—
শিক্ষা মানুষের শ্রেষ্ঠ অলংকার,
জ্ঞান তার চিরন্তন সম্পদ,
চরিত্র তার সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়।
***
শিক্ষার শিকড় তিতা, ফল তার অমৃতময়
মহাকাব্য
প্রথম সর্গ : জ্ঞানের আহ্বান
বাণী
"শিক্ষার শিকড় তিতা হলেও, এর ফল মিষ্টি।"
যেদিন মানুষ প্রথম দেখল
পূর্বাকাশে আলোর হাসি,
সেদিন থেকেই জাগল মনে
জানার অদম্য পিয়াসি।
প্রশ্ন জাগে নদীর জলে,
প্রশ্ন জাগে নীল আকাশে,
প্রশ্ন জাগে শিশুর মনে
মায়ের স্নেহভরা ভাষায় ভাসে।
কে দিল সূর্য আলোর মশাল?
কে দিল চাঁদের রূপ?
কে সাজাল এই বিশ্বভুবন
অসীম সৌন্দর্যের রূপ?
সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে
মানুষ হলো পথিক,
জ্ঞান-অন্বেষার দীপ জ্বেলে
চলল অনন্ত অভিযাত্রিক।
অক্ষর তখন এল ধীরে
শিশুর কচি প্রাণে,
প্রথম বর্ণ ফুটল যেন
শিউলি-ভেজা ভোরের টানে।
'অ' লিখিতে কাঁপে যে হাত,
সেই হাত একদিন,
ইতিহাসের পৃষ্ঠায় লেখে
সভ্যতার অমর ঋণ।
প্রথম পাঠের প্রথম দিনে
কঠিন লাগে ভার,
বইয়ের পাতা পাহাড়সম,
মনে জমে অন্ধকার।
মুখস্থ করতে ক্লান্ত লাগে,
অঙ্কে আসে ভয়,
তবু যারা থেমে না গিয়ে
চলতে শেখে—জয় তাদেরই হয়।
শিক্ষার শিকড় গভীর মাটির
অদৃশ্য কঠিন তলে,
ঝড়-তুফানের শত আঘাত
নীরবে সহে চলে।
শিকড় দেখে না কেউ কখনো,
দেখে কেবল ফুল,
অথচ শিকড় শক্ত না হলে
ভেঙে পড়ে সব মূল।
তেমনি জ্ঞানের প্রথম সাধনা
তিক্ত লাগে খুব,
কিন্তু তারই শক্তি ধরে
জীবন পায় শুভরূপ।
ভোরের ঘুম ত্যাগের মাঝে
অলসতার কান্না,
রাতের প্রদীপ জ্বেলে জাগা
সফলতার প্রার্থনা।
কত ব্যর্থ পরীক্ষা আসে,
কত ভুলের দাগ,
সেই ভুলগুলোই শেখায় মানুষ—
কীভাবে জয়ের রাগ।
একটি বই খুলে দেয় যেন
হাজার দুয়ার একসাথে,
একটি সত্য আলোকিত করে
অগণিত জীবনের পথে।
গ্রন্থাগারের নীরব ঘরে
ঘুমিয়ে থাকে কাল,
যে তাকে জাগাতে জানে,
তারই ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।
কলম শুধু কালি নয়,
কলম শক্তির নাম,
কলম গড়ে স্বাধীনতা,
কলম সভ্যতার ধাম।
যে শিক্ষকটি নীরব মনে
শিখিয়ে যান প্রতিদিন,
তাঁরই হাতে গড়ে ওঠে
দেশের আগামী দিন।
মায়ের মুখের প্রথম বর্ণ,
বাবার প্রথম বাণী,
শিক্ষকের সেই আশীর্বাদে
জীবন পায় মহিমাখানি।
জ্ঞান শেখায় বিনয় হতে,
অহংকার নয়,
যতই শেখো, ততই বুঝবে—
শেখার শেষ না হয়।
জ্ঞান শেখায় সত্য বলতে,
অন্যায়ের প্রতিবাদ,
জ্ঞান শেখায় মানুষ হতে,
জাগাতে মানবসাধ।
শিক্ষা শুধু চাকরি নয়,
শিক্ষা জীবনবোধ,
শিক্ষা মানে বিবেক জাগা,
শিক্ষা মানে শুভবোধ।
শিক্ষা মানে আলো জ্বালা
অন্ধকারের বুকে,
শিক্ষা মানে ভালোবাসা
মানুষ মানুষের সুখে।
আজ যে শিশু বই হাতে নেয়,
আগামী দিনের দীপ,
তারই চোখে জ্বলছে নীরব
স্বপ্নের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ।
তাকে দাও না জ্ঞানের আলো,
দাও না সত্যবাণী,
তাহলেই এই দেশ ভরবে
আলোকিত প্রাণে প্রাণী।
তিতা যদি লাগে আজ
অধ্যবসায়ের পথ,
কাল সে-ই হবে সোনার ফসল,
সাফল্যের রথ।
মনে রেখো—
মাটির নিচে শিকড় যত
নীরব থেকে বাড়ে,
ততই সবুজ বৃক্ষ পরে
ফুলে ফলে সেজে ওঠে।
তেমনি মানুষের জীবনও
জ্ঞানসাধনার ধারা,
আজকের ত্যাগ, আগামী দিনের
অমৃত-সাফল্য সারা।
১৩
১৫ মন্তব্য