সহকারী শিক্ষক
১৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:৪৯ অপরাহ্ণ
মেসির পরে লামিনে ইয়ামাল হবেন সেরা তারকা
মেসির পরে লামিনে ইয়ামাল হবেন সেরা তারকা!
১৭ জুলাই, ১৯৯৪। ফুটবল ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন। যুক্তরাষ্ট্রের রোজ বোল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও ইতালি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট, অতিরিক্ত ৩০ মিনিট—কোথাও কোনো গোল নেই। অথচ মাঠে ছিলেন রোমারিও, বেবেতো, দুঙ্গার মতো তারকা। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৩–২ ব্যবধানে জিতে ব্রাজিল জিতে নেয় তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ।
সেই শিরোপার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল আবারও ফাইনালে উঠেছিল, যদিও ফ্রান্সের কাছে হেরে যায়। এরপর ২০০২ সালে রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনহো, রিভালদো, কাফু ও রবার্তো কার্লোসদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ব্রাজিল আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০০৬ সালেও দলটি ছিল তারকাখচিত, কিন্তু শিরোপা জেতা হয়নি।
সময়ের নিয়মে একে একে বিদায় নেন সেই কিংবদন্তিরা। ব্রাজিলের সেই স্বর্ণযুগ ধীরে ধীরে শেষ হতে থাকে।
অন্যদিকে ফুটবল বিশ্বে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে ওঠেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনা থেকে আর্জেন্টিনা—সবখানেই তিনি নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেন এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
আজ মেসির ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের দিকে পৃথিবী তাকিয়ে আছে। ঠিক যেমন একসময় রোনালদোদের শেষ সময়ে মেসির উত্থান হয়েছিল, তেমনি আজ অনেকের আশা—লামিনে ইয়ামাল ভবিষ্যতের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। তিনি মেসি হবেন না, কারণ মেসি একটাই। তবে তিনি নিজের পরিচয়ে নতুন ইতিহাস লিখতে পারেন।
ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই—কিংবদন্তিরা বিদায় নেন, কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া অনুপ্রেরণা নতুন প্রজন্মকে জন্ম দেয়। রোনালদো, রোনালদিনহো কিংবা মেসির শূন্যস্থান হয়তো কখনো পূরণ হবে না, কিন্তু ফুটবল কখনো থেমে থাকে না। নতুন নক্ষত্র আসে, নতুন গল্প লেখা হয়। আর আমরা, ফুটবলপ্রেমীরা, সেই নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায় থাকি।
১৩
১৫ মন্তব্য