সহকারী শিক্ষক
১৭ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৫৮ অপরাহ্ণ
ছেলেবেলার প্রিয় কবিতা কাজলাদিদি
ছেলেবেলার প্রিয় কবিতা কাজলাদিদি
ছোটবেলায়, যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম—সম্ভবত চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলাম—তখনই প্রথম পড়েছিলাম 'কাজলাদিদি' কবিতাটি। কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী-এর লেখা এই কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম আবেগঘন সৃষ্টি।
কবিতায় একটি ছোট্ট মেয়ের হৃদয়ের আকুলতা ফুটে উঠেছে। তার প্রিয় কাজলাদিদি চিরদিনের জন্য তাকে ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু ছোট্ট মেয়েটি মৃত্যুর অর্থ বোঝে না। তাই সে প্রতিদিন দিদির অপেক্ষায় থাকে। বারবার মায়ের কাছে জানতে চায়—দিদি কোথায় গেল, কেন আর ফিরে আসে না? মা কোনো উত্তর দিতে পারেন না; শুধু আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে নীরবে কাঁদেন।
কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তিতে ছড়িয়ে আছে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আকুল আর্তি। পুকুরধারে, লেবুগাছের তলে, জোনাকিভরা রাতে, ফুলের গন্ধে—সবখানেই ছোট্ট মেয়েটি খুঁজে বেড়ায় তার দিদিকে। সেই হৃদয়স্পর্শী আহ্বান আজও কানে বাজে—
"পুকুরধারে, লেবুর তলে,
থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না,
একলা জেগে রই—
মাগো, আমার কোলের কাছে
কাজলাদিদি কই?"
দিদি আর ডাকে না, আর গল্প শোনায় না। মা শুধু আঁচল দিয়ে মুখ লুকিয়ে কাঁদেন। তবু ছোট্ট মেয়েটির বিশ্বাস—একদিন হয়তো কাজলাদিদি ফিরে আসবে। এই অসীম অপেক্ষা, না-পাওয়ার বেদনা আর শিশুমনের সরল ভালোবাসাই কবিতাটিকে করেছে চিরকালীন এবং হৃদয়বিদারক।
১৩
১৫ মন্তব্য