Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ জুলাই, ২০২৬ ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

আলো ছড়ানোর শিক্ষা: ম্যান্ডেলার জীবন থেকে তরুণেরা যা শিখতে পারে


​আজ ১৮ জুলাই, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে নেলসন ম্যান্ডেলা আন্তর্জাতিক দিবস। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এই মহানায়ক কেবল একটি দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না; তিনি ছিলেন সমগ্র পৃথিবীর শান্তি, সমতা ও মানবতার এক জীবন্ত প্রতীক। একজন মানুষ তাঁর আদর্শের জন্য জীবনের দীর্ঘ ২৭টি বছর অন্ধকার কারাপ্রকোষ্ঠে কাটিয়েও কীভাবে অপরাজেয় থাকতে পারেন, ম্যান্ডেলার জীবন তারই এক অনন্য উদাহরণ। আজকের দিনে তাঁর এই কালজয়ী জীবন আমাদের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের জন্য রেখে গেছে গভীর কিছু শিক্ষণীয় পাঠ।

​ম্যান্ডেলা সবসময় বিশ্বাস করতেন যে সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা। তাঁর মতে, শিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি হলো অন্ধকার ও কুসংস্কার দূর করে বিশ্বকে বদলে দেওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই দর্শনকে ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে শুধু দক্ষই করে না, বরং একজন সংবেদনশীল ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, যা সমাজ গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।

​এই মহান নেতার জীবন থেকে আমাদের আরেকটি বড় শেখার বিষয় হলো ক্ষমা এবং সহনশীলতা। দীর্ঘ সময় অন্যায়ভাবে বন্দি থাকার পরও যখন তিনি মুক্তি পেয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট হন, তখন তিনি প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি। তিনি তাঁর চিরশত্রুদের বুকে টেনে নিয়েছিলেন এবং সবাইকে সাথে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন নতুন রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বিশ্বকে শিখিয়েছেন যে, প্রতিশোধ মানুষকে হিংস্র করে, আর ক্ষমা মানুষকে করে তোলে মহান। আজকের দিনে সহনশীলতার এই শিক্ষা সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনে শান্তি বজায় রাখতে দারুণভাবে পথ দেখাতে পারে।

​একই সাথে তাঁর জীবন আমাদের শেখায় ধৈর্য এবং লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকার মন্ত্র। জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও তিনি তাঁর সংগ্রাম থেকে পিছিয়ে যাননি। আমাদের তরুণদেরও জীবনে ছোটখাটো ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে, ম্যান্ডেলার মতো ধৈর্য ধরে লক্ষ্য পানে এগিয়ে যাওয়ার সাহস রাখতে হবে। মানুষে মানুষে বর্ণ, ধর্ম বা অর্থনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে সমান মর্যাদা দেওয়া এবং ক্লাসরুম থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে সমতার চর্চা করাই হোক আজকের দিনের মূল চেতনা।

​নেলসন ম্যান্ডেলা মানুষের অধিকারের জন্য জীবনের দীর্ঘ ৬৭টি বছর উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর এই ত্যাগকে সম্মান জানিয়ে আজকের দিনে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের প্রতি একটি আহ্বান জানানো হয়—তা হলো, অন্তত ৬৭ মিনিট সময় নিজের সমাজ বা আশেপাশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা। তা হতে পারে কোনো সহপাঠীকে পড়া বুঝিয়ে দেওয়া, একটি গাছ লাগানো, কিংবা নিজ উদ্যোগে চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা। ম্যান্ডেলা আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ চিরকাল তরুণদের পথ দেখাবে। আসুন, আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে একজন মানবিক ও আলো ছড়ানো মানুষ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করি।

মন্তব্য করুন